খুলনা | শনিবার | ১৮ জানুয়ারী ২০২০ | ৫ মাঘ ১৪২৬ |

Shomoyer Khobor

জমি অধিগ্রহণসহ নির্মাণ কাজে  নতুন করে সংযুক্তির প্রস্তাব 

খুলনার নতুন কারাগার চালু হতে আরও দু’বছর 

সোহাগ দেওয়ান  | প্রকাশিত ২৬ ডিসেম্বর, ২০১৯ ০১:১৫:০০

দেখতে দেখতে আরও একটি বছর চলে যাচ্ছে। এ বছরও সম্পন্ন হলো না খুলনার নতুন কারাগারের নির্মাণ কাজ। চলতি বছরের জুন পরবর্তীতে ডিসেম্বরে কাজ সম্পন্ন হওয়ার কথা ছিল। তবে বৃহৎ এ কারাগারের নির্মাণ কাজের সাথে নতুন করে আরও কিছু কাজ যুক্ত হতে যাচ্ছে। তাছাড়া জেলখানার এরিয়ার সামনে থাকা ব্যক্তিগত মালিকানাধীন জমি অধিগ্রহণেও প্রস্তাব এসেছে। ইতোমধ্যে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের প্রতিনিধি দল এ সকল বিষয়ে সরেজমিনে পরিদর্শন করে গেছেন। বর্তমানে খুলনা জেলা কারাগারে ধারণ ক্ষমতার চেয়ে প্রায় তিনগুণ আসামি কারাবন্দি থাকেন। কারা কর্তৃপক্ষ ও কারাবন্দিদের এ সমস্যা থেকে রেহাই পেতে আরও দু’বছর অপেক্ষা করতে হচ্ছে।   
খুলনার গণপূর্ত বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, নির্মাণাধীন জেলা কারাগারের সামনের ভাগে প্রায় ৩ একর জমি নতুন করে অধিগ্রহণের প্রস্তাবনা দিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। কারাগারের সামনে ব্যক্তিগত মালিকানাধীন জমি অনিরাপদ। ভবিষ্যতে বিভিন্ন ধরনের স্থাপনা গড়ে উঠে কারাগারের নিরাপত্তা বিঘœ ঘটাতে পারে। তাছাড়া কারা অভ্যন্তরে নির্মাণাধীন ৪ তলা হাসপাতালটি ৫ তলা করণের প্রস্তাব রয়েছে। কারারক্ষীদের বাসভবন আরও সম্প্রসারণ, দর্শনার্থীদের স্থান ও ভবনের বর্ধিতকরণসহ বেশ কিছু প্রস্তাবনা রয়েছে।   
গণপূর্ত বিভাগ আরও জানায়, ২০০৮ সালে খুলনায় নতুন জেলা কারাগার নির্মাণ প্রকল্প গ্রহণ করা হয়। ২০১১ সালে প্রকল্পটি জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় তা অনুমোদন হয়। এরপর স্থান পরিবর্তন, জমি অধিগ্রহণসহ সকল প্রক্রিয়া শেষে দক্ষিণাঞ্চলের সবচেয়ে আধুনিক কারাগার নির্মাণ কাজ শুরু করা হয়। বাইপাস সড়কের পাশে ডুমুরিয়া উপজেলার চক মথুরাবাদের হাসানখালী মৌজায় ৫৬ একর জমির ওপর ২৫১ কোটি টাকা ব্যয়ে ২ হাজার বন্দী ধারণ ক্ষমতাসম্পন্ন এ কারাগারের নির্মাণ কাজ এখনো চলছে। মেয়াদ অনুযায়ী ২০১৯ সালের জুন মাসের মধ্যে সকল কাজ শেষ করার কথা। তাছাড়া খুলনার নতুন এই কারাগারটি গড়ে তোলা হচ্ছে সংশোধনাগার হিসেবে। এখানে নির্মাণ করা হবে ছোট-বড় ৫২টি ভবন। বিচারাধীন ও সাজাপ্রাপ্ত বন্দিদের পৃথক স্থান, মা ও শিশুদের জন্য পৃথক ব্যবস্থাসহ নারীদের ১০ শয্যার একটি হাসপাতাল, মোটিভেশন সেন্টার ও পুরুষ বন্দিদের জন্য ৫০ শয্যার হাসপাতাল থাকছে। আরো থাকবে বন্দিদের জন্য স্কুল, আধুনিক লাইব্রেরি, ডাইনিং রুম, সেলুন, লন্ড্রি ইত্যাদি। এছাড়া কারাগারে শিশুদের জন্য থাকবে পৃথক ওয়ার্ড ও ডে-কেয়ার সেন্টার। সেখানে শিশুদের জন্য লেখাপড়া, খেলাধুলা, বিনোদন ও সাংস্কৃতিক চর্চার ব্যবস্থা থাকবে। শিশুসহ মা বন্দিদের জন্যও থাকবে আলাদা ১টি ওয়ার্ড। কারাগারে পুরুষ ও নারী বন্দিদের হস্তশিল্প প্রশিক্ষণের জন্য আলাদা ওয়ার্কশেড, বিনোদন কেন্দ্র ও নামাজের ঘর থাকবে। তবে এখন আরও কিছু কাজ সম্প্রসারণের প্রস্তাবনা এসেছে। 
খুলনা জেলা কারাগার সূত্রে জানা গেছে, প্রতিদিনই ধারণ ক্ষমতার চেয়ে প্রায় তিনগুণ কারাবন্দি থাকছেন পুরাতন এ কারাগারে। কারাগারের বিভিন্ন ভবনের কক্ষে আটোসাটো করে থাকছেন বন্দিরা। কারা কর্তৃপক্ষ সব কিছু সামাল দেয়ার চেষ্টা করলেও বন্দিরা নানা অসুবিধায় রয়েছেন বলে জানা গেছে। ১৯১২ সালে নগরীর ভৈরব নদীর তীরে নির্মাণ করা হয় ৬০৮ জন ধারণ ক্ষমতাসম্পন্ন জেলা কারাগার। বর্তমানে এ কারাগারে নারী-পুরুষ মিলিয়ে বন্দির সংখ্যা প্রায় ১ হাজার ৮শ’। 
খুলনা জেলা কারাগারের জেলার জান্নাতুল ফরহাদ সময়ের খবরকে জানান, ১ হাজার ৫১৬ জন কারাবন্দি রয়েছেন। দণ্ডপ্রাপ্ত তিনশ’ বন্দি ছাড়া বাকীরা সবাই বিভিন্ন বিচারাধীন মামলায় কারাগারে আছেন। 
গণপূর্ত বিভাগ খুলনার নির্বাহী প্রকৌশলী লতিফুল ইসলাম সময়ের খবরকে জানান, চলতি বছরের নির্মাণ কাজ প্রায় শেষ হওয়ার কথা থাকলেও নতুন করে নানা প্রস্তাবনা আসায় তা সম্ভব হচ্ছে না। তিনি আরও জানান, নতুন কারাগারে আরও ৩ একর জমি অধিগ্রহণের প্রস্তাব রয়েছে। তাছাড়া বিভিন্ন ভবনের সম্প্রসারণের প্রস্তাবনাও আছে। মন্ত্রণালয় থেকে একটি প্রতিনিধিদল এ বিষয়ে সরেজমিনে পরিদর্শন করেছেন। আগামী ৬ মাসের মধ্যে প্রস্তাবনা বিষয়ে সিদ্ধান্ত হয়ে পরবর্তী দেড় বছরের মধ্যে তা বাস্তবায়নের সম্ভাবনা রয়েছে। অর্থাৎ আগামী দু’বছর পর নতুন এ কারাগারে নির্মাণ কাজ সম্পন্ন হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। 


পাঠকের মন্তব্য (০)

লগইন করুন




আরো সংবাদ














ব্রেকিং নিউজ