খুলনা | মঙ্গলবার | ২১ জানুয়ারী ২০২০ | ৮ মাঘ ১৪২৬ |

শিরোনাম :

Shomoyer Khobor

অজ্ঞাত লাশ সনাক্তকরণে ফিঙ্গার প্রিন্ট সিস্টেম 

পিবিআই’র উদ্যোগে পাঁচ মাসে ৩৮ জেলায় ৭৬ খুলনায় ৪ মৃত ব্যক্তির পরিচয় মিলেছে

সোহাগ দেওয়ান | প্রকাশিত ২৩ ডিসেম্বর, ২০১৯ ০১:১০:০০

হত্যাকান্ড, সড়ক দুর্ঘনাসহ নানা কারনে দেশের বিভিন্ন স্থানে সাধারণ মানুষের মৃত্যু হয়। অধিকাংশ ক্ষেত্রে এ সকল মৃত ব্যক্তিদের পরিচয় না পাওয়ায় অজ্ঞাত হিসেবেই বেসরকারি সংস্থা আঞ্জুমান মফিদুলের মাধ্যমে দাফন বা শেষকৃত্য সম্পন্ন হয়। কিন্তু প্রযুক্তিগত উন্নয়নের কারনে বর্তমানে দেশে অজ্ঞাত লাশের পরিচয় পেতে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীকে তেমনটা বেগ পেতে হচ্ছেনা। ‘ফিঙ্গার প্রিন্ট আইডেন্টিফিকেশন এন্ড ভেরিফিকেশন’ নামের এ সিস্টেমের মাধ্যমে এখন অজ্ঞাত মৃত মানুষের পরিচয় পাওয়া সহজ হচ্ছে। পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)’র উদ্যোগে গত পাঁচ মাসে খুলনার ৪জনসহ দেশের ৩৮টি জেলায় ৭৬টি অজ্ঞাত লাশের পরিচয় মিলেছে। এ কারনে আগের মতো অজ্ঞাত হিসেবেই অস্বাভাবিকভাবে মৃত্যুবরণকারী মানুষের শেষকৃত্য হওয়ার পরিমাণ অনেক কমেছে। 
পিবিআই’র প্রধান কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, দেশের ৩৮টি জেলায় মোট ৪১পি পিবিআই’র ইউনিট রয়েছে। ‘ফিঙ্গার প্রিন্ট আইডেন্টিফিকেশন এন্ড ভেরিফিকেশন’ নামের এ সিস্টেমটি খুবই কার্যকর একটি পদ্ধতি। যে কোন ধরণের অস্বাভাবিক মৃত্যুর ঘটনা ঘটলে পিবিআই সেখানে উপস্থিত হয়ে মৃত মানুষের ফিঙ্গার প্রিন্ট সংগ্রহ করেন। সিস্টেমটি চালুর পর থেকে গত ৫ মাসে ৩৮টি জেলায় ৭৬টি অজ্ঞাত মৃত ব্যক্তির পরিচয় সনাক্ত করা হয়েছে।  
পিবিআই’র খুলনা কার্যালয় সুত্র জানায়, খুলনায় ৪টি মৃতদেহের পরিচয় সনাক্ত করা হয়েছে। এর মধ্যে গত ৭ মার্চ সকাল সোয়া ১০টার দিকে নগরীর শেরে বাংলা রোডে ড্রেনের পাশে বস্তাবন্দি অবস্থায় একটি মৃতদেহের বুকের ওপরের অংশ উদ্ধার করে পুলিশ। এর কিছুক্ষণ পর ফারাজীপাড়া লেনের ২৬/১ ও আনোয়ারা মঞ্জিলের সামনের ড্রেনের পাশে বস্তাবন্দি অবস্থায় মাথা ও দু’হাতের কনুই থেকে নিচের অংশ উদ্ধার করা হয়। এরপর ফারাজীপাড়া মেইন রোডের জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রকের কার্যালয়ের দেয়ালের পার্শ্বের ও পারিজাত ক্লিনিকের প্রবেশের রাস্তার ড্রেনে পাশে বস্তাবন্দি অবস্থায় বুকের নিচ থেকে কোমরের উপরের অংশ ও নারী ভুড়ি উদ্ধার করা হয়। কিছুক্ষণ পর-পর পৃথক পৃথক স্থানে বস্তাবন্দি অবস্থায় লাশের টুকরো উদ্ধারের ঘটনাটি অল্প সময়ের মধ্যেই খুলনা নগরীতে ব্যাপকভাবে আতঙ্ক সৃষ্টি করে। ওই মৃতদেহের ফিঙ্গার প্রিন্ট সংগ্রহের মাধ্যমে দ্রুত সময়ের মধ্যেই তার পরিচয় সনাক্ত করা হয়। তিনি ছিলেন সাতক্ষীরা সদরের ওমরাপাড়ার আব্দুল হামিদের ছেলে হাবিবুর ইট-ভাটায় ঠিকাদারী সরদার হিসেবে কাজ করতেন। গত ২৫ সেপ্টেম্বর নগরীর লবণচরা থানা এলাকার রূপসা ব্রিজ রোডের পার্শ্বে একজন মৃত ব্যক্তির দেহ উদ্ধার করে পুলিশ। পরবর্তীতে পিবিআই তার ফিঙ্গার প্রিন্ট সংগ্রহ করে পরিচয় সনাক্ত করেন। তিনি ছিলেন যশোরের অভয়নগর উপজেলার শ্রীধরপুরের গোবিন্দ চন্দ্র বিশ্বাসের ছেলে ত্রীজিত বিশ্বাস। গত ৩১ আগস্ট নগরীর দৌলতপুর থানধীন ভৈরব নদে গলাকাটা অবস্থায় একজন মৃত যুবকের লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। পিবিআই তার ফিঙ্গার প্রিন্ট সংগ্রহের পর পরিচয় সনাক্ত করেন। ওই যুবকের নাম ছিলো জনি মিয়া। সে দৌলতপুর ২নং ওয়ার্ডের মোঃ মোস্তফা ফরাজীর ছেলে। এছাড়া গত ৯ সেপ্টেম্বর রূপসা নদীতে একজন ব্যক্তির মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়। তার ফিঙ্গার প্রিন্ট সংগ্রহের মাধ্যমে পরিচয় সনাক্ত করে পিবিআই। তিনি ছিলেন নগরীর সদর থানাধীন ২৭নং ওয়ার্ডের প্রশান্ত কুমার চক্রবর্তীর পুত্র (লন্ডন প্রবাসী) দেবাশিষ চক্রবর্তী।
পিবিআই খুলনার পুলিশ সুপার মোহাম্মদ আনিসুর রহমান সময়ের খবরকে জানান, যে কোন ধরনের অস্বাভাবিক মৃত্যু সংবাদ পেলে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন সংস্থাটির ইউনিট। মৃত মানুষের পরিচয় পাওয়া না গেলে তাদের ফিঙ্গার প্রিন্ট সংগ্রহ করে দ্রুত সময়ের মধ্যে ঢাকাস্থ প্রধান কার্যালয়ে পাঠানো হয়। এরপর সেখান থেকে পরীক্ষার শেষে অজ্ঞাত মৃত ব্যক্তির পরিচয়সহ বিস্তারিত আমাদের কাছে প্রেরণ করে হেড কোয়াটার্স। 
 


পাঠকের মন্তব্য (০)

লগইন করুন




আরো সংবাদ



৫১ বোতল ফেন্সিডিলসহ  একজন গ্রেফতার

৫১ বোতল ফেন্সিডিলসহ  একজন গ্রেফতার

২১ জানুয়ারী, ২০২০ ০০:৫২











ব্রেকিং নিউজ



৫১ বোতল ফেন্সিডিলসহ  একজন গ্রেফতার

৫১ বোতল ফেন্সিডিলসহ  একজন গ্রেফতার

২১ জানুয়ারী, ২০২০ ০০:৫২







খসড়া তালিকায় ভোটার  ১০ কোটি ৯৬ লাখ

খসড়া তালিকায় ভোটার  ১০ কোটি ৯৬ লাখ

২১ জানুয়ারী, ২০২০ ০০:৪০