খুলনা | বুধবার | ২৬ ফেব্রুয়ারী ২০২০ | ১৩ ফাল্গুন ১৪২৬ |

Shomoyer Khobor

৫৬ জন চিকিৎসকসহ ৫২০টি পদ শূন্য

জনবল সংকটে মহানগরসহ খুলনার ৯ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে কাক্সিক্ষত সেবা মিলছে না

বশির হোসেন  | প্রকাশিত ২১ ডিসেম্বর, ২০১৯ ০১:১৫:০০

চরম জনবল সংকটের কারণে মহানগরসহ খুলনার নয় উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে কাক্সিক্ষত সেবা পাচ্ছে না সাধারণ মানুষ। সম্প্রতি এসব হাসপাতালে ২১১ জন কর্মচারী বিভিন্ন পদে অস্থায়ীভাবে নিয়োগ পেলেও এক হাজার ৭৪৫টি পদের মধ্যে ৫২০টিই শূন্য। অর্থাৎ এক হাজার ২৩৯ জন লোক দিয়ে চলছে  নগর এবং উপজেলা পর্যায়ের এসব হাসপাতাল ও ক্লিনিক।
খুলনা সিভিল সার্জন অফিসের পরিসংখ্যান বিভাগ জানায়, সিভিল সার্জনের দপ্তর, খুলনা জেনারেল হাসপাতাল, টিবি ক্লিনিক, আইডি হাসপাতাল, খালিশপুর আরবান, টুটপাড়া আরবান, স্কুল হেলথ ক্লিনিক এবং জেলার নয়টি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে বর্তমানে চিকিৎসক ও চতুর্থ শ্রেণীর কর্মচারী মিলে সর্বমোট ৫২০টি পদ শূন্য রয়েছে। চিকিৎসক সংকটের চিত্র তুলে ধরে সূত্রটি জানায়, জেলায় জুনিয়র কনসালটেন্ট (কার্ডিওলজি), জুনিয়র কনসালটেন্ট (চক্ষু) এবং জুনিয়র কনসালটেন্টের (চর্ম ও যৌন) নয়টি করে পদ থাকলেও একটি পদেও জনবল নেই। অর্থাৎ ২৭টি পদই শূন্য। জুনিয়র কনসালটেন্ট (ইএনটি) এবং অর্থোপেডিক্স বিভাগেও নয় উপজেলায় ১৮ জনের মধ্যে কর্মরত রয়েছেন মাত্র একজন করে। নয়টি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নয়জন আবাসিক মেডিকেল অফিসারের মধ্যে কর্মরত আছেন মাত্র দু’জন। চিকিৎসকদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি সংকট রয়েছে সহকারী সার্জন/এমও/ইএমও পদে। এ পদে জেলায় সর্বমোট মঞ্জুরিকৃত পদসংখ্যা ৫৪টি। কিন্তু কর্মরত আছেন মাত্র ৫ জন। অর্থাৎ ৪৯টি পদই শূন্য। জেলায় প্রথম শ্রেণীর ৩২৩টি পদের মধ্যে ১১৭টিতে লোকবল আছে। অর্থাৎ চিকিৎসকসহ ২০৬টি পদই এখন শূন্য। তবে নার্সিং সুপারভাইজার, সিনিয়র স্টাফ নার্স, মিডওয়াইফসহ দ্বিতীয় শ্রেণীর পদগুলোতে সংকট খুবই কম। দ্বিতীয় শ্রেণীর ৩৯৫টি পদের মধ্যে ৩৬৮টিতে জরবল রয়েছে। অর্থাৎ শূন্য রয়েছে মাত্র ২৭টি পদ।
সদ্য অবসরে যাওয়া খুলনার সিভিল সার্জন এস এম আব্দুর রাজ্জাক জানান, তার স্থলে নতুন কেউ এখনও দায়িত্ব পাননি। তবে জেলার প্রধান সমস্যাই চিকিৎসক সংকট। এছাড়া ৪র্থ শ্রেণীর কর্মচারী সংকটের ফলে হাসপাতালগুলো পরিচ্ছন্ন রাখা দুষ্কর হয়ে পড়েছে। তিনি বলেন, নতুন স্বাস্থ্যমন্ত্রী যেহেতু দায়িত্ব নিয়েছেন এখন সারাদেশে সাত হাজার ডাক্তার নিয়োগের যে প্রক্রিয়া চলছে সেটি বাস্তবায়ন হলে চিকিৎসক সংকট দূর হবে। সম্প্রতি ২১১ জন জনবল বিভিন্ন উপজেলায় ভাগ করে দেয়া হয়েছে। এতে সংকট অনেকটা কেটেছে। আবারও সরকারিভাবে জনবল নিয়োগের প্রক্রিয়া চলছে, ফলে অচীরেই সংকট কেটে যাবে।


পাঠকের মন্তব্য (০)

লগইন করুন




আরো সংবাদ














ব্রেকিং নিউজ