খুলনা | বুধবার | ২৬ ফেব্রুয়ারী ২০২০ | ১৩ ফাল্গুন ১৪২৬ |

Shomoyer Khobor

এসব প্রতিষ্ঠান দেশের চিকিৎসা ব্যবস্থা ও চিকিৎসকদের উপর সাধারণ মানুষকে নিরুৎসাহিত করে : বিএমএ সম্পাদক 

খুলনার স্বাস্থ্য প্রশাসনকে অন্ধকারে রেখে ভারতীয় হাসপাতালের রমরমা ব্যবসা 

বশির হোসেন | প্রকাশিত ২০ ডিসেম্বর, ২০১৯ ০১:১০:০০

খুলনার স্বাস্থ্য প্রশাসনকে অন্ধকারে রেখে ভারতীয় হাসপাতালের রমরমা ব্যবসা 

খুলনায় স্বাস্থ্য প্রশাসনকে সম্পূর্ণ অন্ধকারে রেখে ভারতীয় হাসপাতালগুলো তাদের রমরমা চিকিৎসা বাণিজ্য চালিয়ে যাচ্ছে। রোগীদের অনলাইনের মাধ্যমে ভারতীয় হাসপাতালগুলোর চিকিৎসা সেবা প্রদান, সেখানকার হাসপাতালগুলোতে রোগীদের সিরিয়ালমহ আনুসাঙ্গিক বিষয় তারাই নিয়ন্ত্রণ করছে। অথচ তারা খুলনার স্বাস্থ্য সংশ্লিষ্ট কোন দপ্তর থেকে কোন অনুমতি নেয়নি বা অবগতও করেনি। খুলনার সিভিল সার্জন বলছেন, দেশের প্রচলিত স্বাস্থ্য আইনে কোনভাবেই এসব প্রতিষ্ঠানকে অনুমতি দেয়া হয়নি। আর বিএমএ নেতারা বলছেন, এতে দেশের প্রচলিত স্বাস্থ্য ব্যবস্থাকে বৃদ্ধাঙ্গুল দেখানো হয়েছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, খুলনায় ইতোমধ্যে দক্ষিণ ভারতের শহর বেঙ্গালুরু এবং পশ্চিমবঙ্গের কয়েকটি হাসপাতাল তাদের তথ্য ও চিকিৎসা কেন্দ্র খুলেছে। এর মধ্যে নগরীর মুজগুন্নী মহাসড়কে দক্ষিণ ভারতের শহর বেঙ্গালুরুতে অবস্থিত মনিপাল হাসপাতালের চিকিৎসা ও পরামর্শ কেন্দ্র খোলা হয়েছে। খুলনাসহ দেশের আরও চারটি শহরে তাদের শাখা রয়েছে। প্রতিষ্ঠানটির কান্ট্রি ম্যানেজার খালিদ হোসেন বলেন, দক্ষিণ ভারতের ঐতিহ্যবাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল তাদের। যারা ভারতীয় এই হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে তাদের কাছে আসেন কেবল তাদেরই তারা সেবা দিয়ে থাকেন। তারা মোবাইলে কনসালটেন্ট, চিকিৎসকের সিরিয়াল দেয়া, এয়ারপোর্ট থেকে রিসিভ ও হোটেল থেকে শুরু করে সব ধরনের সেবা দিয়ে থাকেন।
নগরীর সামসুর রহমান রোডে রয়েছে পশ্চিম বঙ্গের কলকাতার আমরি হাসপাতালের কনসালটেশন ও পরামর্শ কেন্দ্র। এখানেও একই ধরনের সেবার কথা বলেছে প্রতিষ্ঠান সংশ্লিষ্টরা। তাদের দাবি কলকাতায় এই হাসপাতালে পৃথিবীর বিভিন্ন দেশের মানুষ চিকিৎসা করাতে আসে। এই হাসপাতালের বাংলাদেশের কান্ট্রি ম্যানেজার নির্ঝর ঘোষ যিনি একজন ভারতীয়। তিনি সম্প্রতি খুলনায় এক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে তাদের হাসপাতালের কার্যক্রম শুরু করেন। 
নগরীর মজিদ স্মরণী রোডে ডাঃ লাল প্যাথ ল্যাব নামে একটি প্রতিষ্ঠান রয়েছে যারা বাংলাদেশে বসে ভারতের ডায়াগনস্টিক সেন্টারের ব্যবসা করছে। এ ক্ষেত্রে তারা রোগীদের বিভিন্ন পরীক্ষা নীরিক্ষার নমুনা সংগ্রহ করে ভারতে পাঠায় এবং সেখান থেকে রিপোর্ট নিয়ে আবার রোগীদের দেয়। ডায়াগনস্টিক সেন্টারের ব্যবসা করলেও তারা বাংলাদেশের প্রচলিত ডায়াগনস্টিক সেন্টারের আইনে নিবন্ধিত নয়।
এ ব্যাপারে সদ্য বিদায়ী সিভিল সার্জন ডাঃ এস এম আব্দুর রাজ্জাক এ প্রতিবেদককে বলেন, আইন অনুযায়ী ভারতের কোন হাসপাতাল তাদের সেবা কার্যক্রম এ দেশে চালাতে পারে না। এটা সম্পূর্ণ বেআইনি। তারা সিভিল সার্জন অফিস বা কোন স্বাস্থ্য দপ্তরের সাথে যোগাযোগ করেনি। চিকিৎসা সেবাকে তারা ব্যবসায় বানিয়েছে। এ রকম প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেয়া দরকার।
বিএমএ’র খুলনার সাধারণ সম্পাদক ডাঃ মেহেদী নেওয়াজ বলেন, এসব প্রতিষ্ঠান দেশের চিকিৎসা ব্যবস্থা ও চিকিৎসকদের উপর সাধারণ মানুষকে নিরুৎসাহিত করে। তিনি আইন না মেনে এসব প্রতিষ্ঠান করায় স্বাস্থ্য প্রশাসনকে ব্যবস্থা নেয়ার অনুরোধ জানান। তিনি আরও বলেন, কোন অনুমতি ছাড়াই অন্য দেশের হাসপাতাল ও ডায়াগনস্টিক সেন্টার অন্যায়ভাবে তাদের ব্যবসা চালাবে এটা কোন নিয়ম হতে পারে না।


পাঠকের মন্তব্য (০)

লগইন করুন




আরো সংবাদ














ব্রেকিং নিউজ