খুলনা | রবিবার | ১৯ জানুয়ারী ২০২০ | ৬ মাঘ ১৪২৬ |

Shomoyer Khobor

বীরশ্রেষ্ঠ রুহুল আমীন আমাদের গর্ব

মোঃ আবদুর রহমান | প্রকাশিত ১৬ ডিসেম্বর, ২০১৯ ০১:১৬:০০


বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের একজন বীর সেনানী মোহাম্মদ রুহুল আমীন। মুক্তিযুদ্ধে অসামান্য বীরত্বের জন্য এই শহিদ মুক্তিযোদ্ধাকে বীরশ্রেষ্ঠ উপাধিতে ভূষিত করা হয়। মহান মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসে খুলনার রূপসা নদীতে আত্মঘাতী বিমান হামলা একটা হৃদয় বিদারক ঘটনা হিসেবে চিহ্নিত হয়ে আছে। আর এর সাথে যুক্ত থেকে অসীম সাহসিকতার সাথে আত্মবির্সজন দিয়ে একজন মৃত্যুঞ্জয়ী মানুষ হিসেবে নিজেকে সুপ্রতিষ্ঠিত করেছেন মোহাম্মদ রুহুল আমীন। তিনি বাঙালি জাতির  অহঙ্কার। তাঁকে বীরশ্রেষ্ঠ উপাধি প্রদান করতে পেরে সমগ্র জাতি গর্বিত। 
মোহাম্মদ রুহুল আমীন ১৯৩৪ সালে নোয়াখালী জেলার সোনাইমুড়ি উপজেলার দেওটি ইউনিয়নের  বাগপাঁচরা গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পিতার নাম আজহার পাটোয়ারী এবং মা’র নাম জুলেখা খাতুন। চার বোন ও তিন ভাইয়ের মধ্যে মোহাম্মদ রুহুল আমীন ছিলেন প্রথম। ভাই সামসুল হক ও মুজিবুল হক। আর বোন সালেহা বেগম, রুচিয়া বেগম, আয়েরা বেগম ও জাহানারা বেগম। ভাইবোনদের মধ্যে ছোট ভাই মুজিবুল হক ও বোন জাহানারা বেগম বর্তমানে বেঁচে আছেন। অন্যরা মারা গেছেন। বাগপাঁচরা প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পড়াশোনা শেষ করে তিনি আমিশাপাড়া উচ্চ বিদ্যালয়ে ভর্তি হন। এখান থেকে এস এস সি পাস করার পরই তিনি ১৯৫৩ সালে জুনিয়র মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ার হিসেবে তৎকালীন পাকিস্তানী নৌ বাহিনীতে যোগদান করেন।
এরপর মোহাম্মদ রুহুল আমীন করাচির নিকটবর্তী আরব সাগরের মধ্যে অবস্থিত মানোরা দ্বীপে পাকিস্তান নেভাল জাহাজ (পিএনএস) বাহাদুরে প্রাথমিক প্রশিক্ষণ গ্রহণ করেন। তারপর তিনি পিএনএস কারসাজে যোগদান করেন। পরবর্তীতে তিনি পিএনএস  বাবর, পি এন এস খাইবার ও পিএনএস তুঘরিলে দক্ষতার সাথে দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৫৮ সালে তাঁর পেশাগত প্রশিক্ষণ শেষ হয়। ১৯৬৫ সালে মেকানিশিয়ান কোর্সের জন্য তিনি নির্বাচিত হন। পিএনএস কারসাজে কোর্স সমাপ্ত করার পর আর্টিফিসার পদে নিযুক্ত হন। ১৯৬৮ সালে তিনি চট্টগ্রাম পিএনএস বখতিয়ার নৌ-ঘাঁটিতে বদলি হয়ে যান। ১৯৭১ সালের এপ্রিল মাস পর্যন্ত মোহাম্মদ রুহুল আমীন এখানেই কর্মরত ছিলেন। তারপর এ নৌঘাঁটি থেকে পালিয়ে যান। বাড়িতে গিয়ে ছাত্র, যুবক, সামরিক ও আধা সামরিক বাহিনীর লোকদের মুক্তিযুদ্ধের প্রশিক্ষণ দেন। এর কিছুদিন পর ভারতের ত্রিপুরা সীমান্ত অতিক্রম করে আগরতলা সেক্টর প্রধান কোয়ার্টারে যান ২নং সেক্টরে যোগদান করেন। মেজর শফিউল্লাহর নেতৃত্বে ২নং সেক্টরের অধীনে থেকে তিনি ১৯৭১ সালের সেপ্টেম্বর মাস পর্যন্ত মুক্তিযুদ্ধে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করেন এবং স্থলযুদ্ধে বিভিন্ন অপারেশনে যোগ দেন। 
উইকিপিডিয়া থেকে জানা যায়, ১৯৭১ সালের সেপ্টেম্বর মাসে বাংলাদেশ নৌবাহিনী গঠনের উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়। এ উদ্দেশ্যে নৌবাহিনীর সদস্যদের যাঁরা বিভিন্ন সেক্টর ও সাব-সেক্টরে থেকে মুক্তিযুদ্ধ করছিলেন তাঁদেরকে সেপ্টেম্বর মাসে আগরতলায় একত্রিত করা হয় এবং গঠন করা হয় ১০নং সেক্টর। ইঞ্জিনরুম আর্টিফিসার মোহাম্মদ রুহুল আমীন নৌবাহিনীর সদস্যদের সংগে আগরতলায় একত্রিত হয়ে কলকাতায় আসেন এবং ১০নং নৌ সেক্টরে যোগ দেন। পরবর্তীতে অবস্থার প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশের নিজস্ব একটা নৌবাহিনী তৈরির পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়। ভারতীয় নৌবাহিনীর ক্যাপ্টেন মনীন্দ্রনাথ সামন্তের সার্বিক তত্ত্বাবধানে বিভিন্ন সেক্টর ও সাব-সেক্টর থেকে নৌবাহিনীর সদস্যদের একত্রিত করার ব্যবস্থা করা হয়। আর এ উদ্যোগের ফলে বাংলাদেশ নৌবাহিনী গঠিত হলে কলকাতায় চলে আসে। তখন ভারত সরকার বাংলাদেশ সশস্ত্র বাহিনীকে কলকাতা বন্দরে গার্ডেন রিচ ডক ইয়ার্ডে দু’টি গানবোট উপহার হিসেবে প্রদান করেন। অক্টোবরের মধ্যে গানবোট দু’টি অভিযানের জন্য প্রস্তুত হয়ে ওঠে। প্রথমে এ গানবোট দু’টির নাম ছিল ‘অজয়’ ও ‘অক্ষয়’। ভারত সরকার কর্তৃক সংস্কারের পর এ গানবোট দু’টির নতুন নাম দেয়া হয় ‘পদ্মা’ ও ‘পলাশ’। গানবোট দু’টি মাইন বহন, জলসীমায় মাইন স্থাপন এবং ৪০/৬০ কিলো মিটার লক্ষে বিধ্বংসী কামান ব্যবহারের উপযোগি হয়ে ওঠে। প্রবাসী বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে জাহাজ দু’টি গ্রহণ করেন পাকিস্তানী নৌ বাহিনীর বাঙালি বিদ্রোহী সৈনিকরা। এদের সংগে সি ২পি ক্যাম্পে প্রশিক্ষণ পাওয়া নৌ-কমান্ডের কয়েকজনও উপস্থিত ছিলেন। 
প্রত্যেক জাহাজে দু’টি করে ৭শ’ অশ্বশক্তির জার্মানম্যান ইঞ্জিন বসানো হয়েছিল। এরপর গানবোট দু’টিতে অন্যান্য অস্ত্র ও গোলাবারুদ গ্রহণ করার জন্য তাকে আই এন এস নেতাজি সুভাষ নৌ ঘাঁটির জেটিতে স্থানান্তর করা হয়। এখানে ভারত সরকারের মাধ্যমে বিপুল পরিমাণে কামানের গোলা, ক্ষুদ্র অস্ত্র ও গোলাবারুদ সংগৃহীত হয়। জাহাজ দু’টির গতিবেগ ছিল ১৫ নাটিক্যাল মাইল। ‘পদ্মার’ কমান্ডিং অফিসার নিযুক্ত হন ভারতীয় নৌ বাহিনীর লেঃ কমান্ডার সুনীল কুমার মিত্র এবং ‘পলাশের’ লেঃ কমান্ডার রায় চৌধুরী। আর ‘পানভেলের’ অধিনায়ক ছিলেন ক্যাপ্টেন মনীন্দ্র নাথ সামন্ত। ‘পদ্মা’ ও ‘পলাশের’ ৫২ জন নাবিকের মধ্যে বেশ কয়েকজন নেয়া হয়েছিল সি ২পি ক্যাম্পে প্রশিক্ষণ প্রাপ্ত নৌ-কমান্ডের মধ্য থেকে। রুহুল আমীন গানবোট ‘পলাশের’ প্রধান ইঞ্জিন রুমে আর্টিফিসার হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন।
কলকাতার হলদিয়া সমুদ্র বন্দর থেকে ১৯৭১ সালের ৭ ডিসেম্বর মুক্তিবাহিনীর গানবোট ‘পদ্মা’ ও ‘পলাশ’ এবং ভারতীয় মিত্র বাহিনীর গানবোট ‘পানভেল’ মোংলা বন্দর, হিরণ পয়েন্ট এবং খুলনা শহরস্থ তিতুমীর নৌঘাঁটি দখলের উদ্দেশ্যে রওনা হয়। একটানা দু’দিন চলার পর জাহাজ তিনটি ৯ ডিসেম্বর সকাল ৮টার দিকে রায়মঙ্গল নদী অতিক্রম করে তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানের জলসীমায় প্রবেশ করে। এ সময় মুক্তিকামী বীর সেনাদের মধ্যে বিজয়ের উল্লাসে আনন্দ ও সাহসিকতা যেন আরো বেড়ে যায়। শত্র“দের প্রতি নজর রেখে খুব সতর্কতার সাথে সুন্দরবনের অচেনা-অজানা জলসীমার পথ ধরে ওই দিন বিকেলে আকরাম পয়েন্ট নামক স্থানে ‘পদ্মা’, ‘পলাশ’ ও ‘পানভেল’ এই জাহাজ ৩টি নোঙ্গর করে। ১৯৭১ সালের ১০ ডিসেম্বর কনকনে শীতে ভোর ৪টার দিকে নৌ-কমান্ডার ক্যাপ্টেন মনীন্দ্র নাথ সামন্তের নির্দেশে সেখান থেকে নোঙ্গর তুলে জাহাজ ৩টি মোংলার উদ্দেশ্যে রওনা করে। সবার মনে প্রত্যাশা পাকিস্তানী বাহিনীকে পরাজিত করে খুলনার আকাশে স্বাধীনতার পতাকা উড়াবে। সকাল সাড়ে ৭টা নাগাদ বিনা বাধায় তারা মোংলা বন্দর শত্র“ মুক্ত করে। সামান্য প্রতিরোধের মুখে পাকিস্তানি বাহিনী পালিয়ে যায়। এবার রণতরী ৩টি সহযোদ্ধারা নৌঘাঁটি তিতুমীর দখলের উদ্দেশ্যে খুলনা অভিমুখে যাত্রা শুরু করেন। নৌ-কমান্ডরের নির্দেশে প্রথমে ভারতীয় নৌযুদ্ধ জাহাজ আই এন এস ‘পানভেল’, মাঝে মুক্তিবাহিনীর যুদ্ধ জাহাজ ‘পলাশ’ এবং শেষে ‘পদ্মা’। পশুর নদী অতিক্রম করে জাহাজ তিনটি খুলনা অভিমুখে রওনা হয়।  
ওই দিন দুপুর ১২টার দিকে গানবোট ৩টি খুলনার রূপসা নদীর পাড়ে শিপইয়ার্ডের কাছাকাছি এসে পৌঁছে। তখন উল্লেখিত ৩টি গানবোটের ওপর দিয়ে ৩টি জঙ্গি বিমান উড়তে দেখা যায়। শত্র“র বিমান অনুধাবন করে ‘পদ্মা’ও ‘পলাশ’ থেকে গুলি করার অনুমতি চাওয়া হয়। কিন্তু পানভেলে অবস্থান করা ক্যাপ্টেন মনীন্দ্র নাথ সামন্ত ভারতীয় বিমান মনে করে গুলিবর্ষণ থেকে বিরত থাকার নির্দেশ দেন। এর কিছুক্ষণ পরে সবাইকে অবাক করে দিয়ে বিমানগুলো নিচে নেমে এসে অতর্কিত গুলি বর্ষণ শুরু করলে প্রথমে গানবোট ‘পদ্মা’এর ইঞ্জিন বিকল হয়ে নদীর চরে আটকা পড়ে। আহত ও নিহত হয় জাহাজের অনেক নৌ সেনা। ‘পদ্মা’র পরিণতিতে ‘পলাশে’র অধিনায়ক লেঃ কমান্ডার রায় চৌধুরী সকল নাবিকদের জাহাজ ত্যাগের নির্দেশ দেন। কিন্তু বীর মুক্তিযোদ্ধা মোহাম্মদ রুহুল আমীন এ আদেশে ক্ষিপ্ত হন। তিনি উপস্থিত সকল নৌ সেনাদের যুদ্ধ বন্ধ না করার আহ্বান জানান। জাহাজে অবস্থানরত ক্রুদের তিনি বিমানের দিকে গুলি চালাবার নির্দেশ দিয়ে আবার প্রজ্জ্বলিত জাহাজের ইঞ্জিন রুমে চলে যান। কিন্তু অধিনায়কের আদেশ অমান্য করে বিমানগুলোকে চ্যালেঞ্জ করা হয়নি। বিমানগুলো উপর্যুপরি বোমা বর্ষণ করে ‘পলাশে’র ইঞ্জিনরুম ধ্বংস করে দেয়। গুরুতর আহত হন তিনি। কিন্তু অসীম সাহসী মোহাম্মদ রুহুল আমীন তারপরও গানবোট ‘পলাশ’কে সচল রাখার জন্য প্রাণপণে চেষ্টা করতে থাকেন। চেষ্টা তার ব্যর্থ হলো। অবশেষে পলাশের ধ্বংসাবশেষ পিছে ফেলেই আহত রুহুল আমীন ঝাঁপিয়ে পড়েন রূপসা নদীর বুকে। প্রাণশক্তিতে ভরপুর বীর মুক্তিযোদ্ধা মোহাম্মদ রুহুল আমীন গুরুতর আহত অবস্থায়ও সাঁতার কেটে রূপসার পাড়ে ওঠতে সক্ষম হন। এ সময় একদল রাজাকার এই বীর সন্তানকে বেয়োনেট দিয়েই খুঁচিয়ে খুঁচিয়ে হত্যা করে রূপসার পাড়ে। তাঁর বিকৃত মৃতদেহ বেশ কিছুদিন সেখানে পড়ে ছিলো অযতেœ-অবহেলায়। পরে স্থানীয় জনসাধারণ মোহাম্মদ রুহুল আমিনের লাশটি উদ্ধার করে জানাজা শেষে খুলনা জেলার রূপসা উপজেলার বাগমারা গ্রামে রূপসা নদীর তীরে কবর দেয়। 
তখন ভারতীয় মিত্রবাহিনীর যুদ্ধ জাহাজ আই এন এস ‘পানভেল’ দ্রুত পেছনে ফিরে রূপসা নদী দিয়ে মোংলা হয়ে ভারতে ফিরে যায়। তখন যুদ্ধাহত কিছু সংখ্যক মুক্তি সেনাকে ‘পানভেলে’ তুলে নিয়ে পশ্চিমবঙ্গে চিকিৎসার জন্য নিয়ে যায়। এ সময় শিপইয়ার্ড থেকে পাকিস্তানী সেনা বাহিনী, বিএমসি এবং দাদা ম্যাচ ফ্যাক্টরী থেকে রাজাকাররা যুদ্ধ জাহাজগুলো লক্ষ্য করে এলোপাতাড়ি গুলি ছুঁড়ে। মুক্তিবাহিনী ও মিত্রবাহিনীর সকল পরিকল্পনা নস্যাৎ হয়ে যায়। পদ্মার অধিনায়ক লেঃ সুনীল কুমার মিত্রসহ ২১ জন নাবিক প্রাণ বাঁচাতে রূপসা নদীতে ঝাঁপ দিয়ে তীরে ওঠেন এবং পাকিস্তানী সেনাদের হাতে ধরা পড়েন। তাঁদের খুলনা কেন্দ্রীয় কারাগারে রাখা হয়। দেশ স্বাধীন হলে তাঁরা মুক্তি পান। এ অভিযানে রুহুল আমীনের সহযোগিতায় ছিলেন মোঃ আফজাল মিয়া, দৌলত হোসেন মোল্লা, মোঃ জালাল উদ্দিন, মোঃ ইসহাক, আবু তাহের, আতাউল হক, আব্দুল কুদ্দুস, রুহুল আমীন তালুকদার, মুজিবুল হক, আব্দুল মতিন, মোঃ রফিকউল্লা, সিরাজুল মাওলা, কামাল উদ্দিন, রফিকুল ইসলাম, বশির আহমদ, সামসুদ্দিন সামু, মানিক চন্দ্র, গোলাম রব্বানী, সিরাজুল ইসলাম প্রমুখসহ মোট ৫৬ জন নাবিক ও নৌ কমান্ডো। এদের মধ্যে বেশ কয়েকজন ভারতীয় জঙ্গি বিমানের বোমার আঘাতে আহত ও নিহত হন। রুহুল আমীন ছাড়াও নিহতদের মধ্যে ছিলেন মোঃ মহিবউল্লাহ, রফিকুল ইসলাম, দৌলত হোসেন মোল্লা প্রমুখ। মহিবউল্লাহ  এবং রফিকুল ইসলাম জাহাজেই মৃত্যুবরণ করেন। ১৯৭১ সালের ১৭ ডিসেম্বর খুলনা শত্র“মুক্ত হলে ধ্বংসপ্রাপ্ত গানবোট থেকে মহিবউল্লাহর মরদেহ উদ্ধার করা হয়। তাঁকেও রূপসা নদীর পূর্ব তীরে  রুহুল আমীনের কবরের পাশে দাফন করা হয়। পরবর্তীতে তাঁকে বীর বিক্রম উপাধিতে ভূষিত করা হয়। 
বীর মুক্তিযোদ্ধা মোহাম্মদ রুহুল আমীন এর বীরত্ব ও দেশপ্রেম চির ভাস্বর। মুক্তিযুদ্ধে তাঁর এ সাহসী ভূমিকার জন্য ১৯৭৩ সালের ১৫ ডিসেম্বর বাংলাদেশ সরকার তাঁকে ‘বীরশ্রেষ্ঠ’ উপাধিতে ভূষিত করেন। তাঁকে এ সর্বোচ্চ খেতাব প্রদান কতে পারায় সমগ্র জাতি গর্বিত। মুক্তিযোদ্ধা শহিদ মোহাম্মদ রুহুল আমীন মুক্তিযুদ্ধের সময় রেখে যান প্রিয়তমা স্ত্রী, তিনটি কন্যা ও দু’টি পুত্র সন্তান। ছেলে মোহাম্মদ আলী বাহার ও শওকত আলী। আর মেয়ে নূরজাহান বেগম (নার্গিস), রিজিয়া বেগম ও ফাতেমা বেগম। তাঁর স্ত্রী জাকিয়া খাতুন ও বড় ছেলে মোহাম্মদ আলী বাহার মারা গেছেন। আর শওকত আলী এক সময় অর্থনৈতিক দৈন্যদশায় দিন পার করেছেন। তবে বর্তমান সরকার শওকত আলীকে প্রতি মাসে ৩৫ হাজার টাকা করে ভাতার ব্যবস্থা করেছে। মোহাম্মদ রুহুল আমীন বাঙালির গর্ব। আমরা তাঁকে কোন দিন ভুলবো না। আমাদের হৃদয়ে তিনি বেঁচে থাকবেন চিরকাল। 
লেখক : উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা উপজেলা কৃষি অফিস রূপসা, খুলনা।
 


পাঠকের মন্তব্য (০)

লগইন করুন




আরো সংবাদ

বিজয় দিবস ও আজকের মূল্যায়ন

বিজয় দিবস ও আজকের মূল্যায়ন

১৬ ডিসেম্বর, ২০১৯ ০১:২১





আমি বিজয়ের কথা বলছি

আমি বিজয়ের কথা বলছি

১৬ ডিসেম্বর, ২০১৯ ০১:১০

বাঙালির বিজয়

বাঙালির বিজয়

১৬ ডিসেম্বর, ২০১৯ ০১:০৯

এনেছি বিজয়ের বাংলাদেশ

এনেছি বিজয়ের বাংলাদেশ

১৬ ডিসেম্বর, ২০১৯ ০১:০৬

বিজয় মানে

বিজয় মানে

১৬ ডিসেম্বর, ২০১৯ ০১:০৬

পরিচয়হীনা

পরিচয়হীনা

১৬ ডিসেম্বর, ২০১৯ ০১:০৪

এসো হে বিজয় দিবস

এসো হে বিজয় দিবস

১৬ ডিসেম্বর, ২০১৯ ০১:০৩

মুক্তিযোদ্ধা

মুক্তিযোদ্ধা

১৬ ডিসেম্বর, ২০১৯ ০১:০৩


ব্রেকিং নিউজ

শহিদ জিয়ার ৮৪তম জন্মবার্ষিকী আজ

শহিদ জিয়ার ৮৪তম জন্মবার্ষিকী আজ

১৯ জানুয়ারী, ২০২০ ০১:০২