খুলনা | রবিবার | ১৯ জানুয়ারী ২০২০ | ৬ মাঘ ১৪২৬ |

Shomoyer Khobor

আ’লীগের কতজন রণাঙ্গনের যোদ্ধা ছিলেন, প্রশ্ন ফখরুলের

‘এনআরসি রাষ্ট্রের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব স্থিতিশীলতার ওপর চাপ সৃষ্টি করবে’

খবর প্রতিবেদন  | প্রকাশিত ১৬ ডিসেম্বর, ২০১৯ ০০:৪৭:০০


ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের কতজন রণাঙ্গনের যোদ্ধা ছিলেন তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি আ’লীগের নেতা-কর্মীদের কাছে এর হিসাব চেয়েছেন। রবিবার বিকেলে সুপ্রিম কোর্ট মিলনায়তনে শহিদ বুদ্ধিজীবী দিবস উপলক্ষে আলোচনা সভায় ফখরুল এই প্রশ্ন রাখেন।
বিএনপি’র মহাসচিব বলেন, ‘বাংলাদেশ ছিল স্বাধীন মত প্রকাশের দেশ, কিন্তু আজকে আমাদের এই দেশকে বর্তমান শাসকগোষ্ঠী ধ্বংস করে ফেলেছে। আমি স্মরণ করিয়ে দিতে চাই এই গণতন্ত্র কাদের হাতে হত্যা হয়েছে? যারা আজ দাবি করে স্বাধীনতা যুদ্ধের একমাত্র ধারক-বাহক (আওয়ামী লীগ) তাদের হাতে গণতন্ত্র হত্যা হয়েছে। তারাই ১৯৭২ সাল থেকে ১৯৭৫ সাল পর্যন্ত যখন দেশ শাসন করেছে তখন একে একে গণতান্ত্রিক সকল প্রতিষ্ঠানগুলোকে ধ্বংস করে দিয়ে সর্বশেষ একদলীয় শাসন ব্যবস্থা বাকশাল প্রবর্তন করেছেন। এদেশের মানুষ এত সহজেই এটা ভুলে যায়নি।’
রোহিঙ্গা ইস্যুতে সরকারের সমালোচনা করে ফখরুল বলেন, ‘আজকে লক্ষ্য করে দেখেন রোহিঙ্গারা এসেছে বাংলাদেশে, সেই রোহিঙ্গা নিয়ে বাংলাদেশ একবারও উচ্চারণ হয়নি যে রোহিঙ্গারা মিয়ানমারের কোনো হত্যার শিকার হয়েছেন। মিয়ানমার গণহত্যা করেছে এই সরকার কোথাও যে বলেছে বলে আমি শুনিনি। গাম্বিয়া আফ্রিকার একটি ছোট দেশ, তারা আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতে মামলা করেছে যে রোহিঙ্গারা গণহত্যার শিকার হয়েছে। আর আমাদের বাংলাদেশের সরকার বলছে তারা নাকি সাহায্য করার জন্য সেখানে গেছে। কিন্তু বাস্তবতা হচ্ছে ওখানকার আন্তর্জাতিক আদালতে যারা কাজ করছেন তারা বলছেন, বাংলাদেশ এখানে আগে কোন এ্যাপ্লাই করে নাই, তাই তাদেরকে কাজ করার মতো আর কোনো সুযোগ নেই।’
ভারতের এনআরসি সম্পর্কে ফখরুল বলেন, ‘আমরা প্রথম থেকে বলে আসছি এই এনআরসি বিষয়টিতে আমাদের সরকারের মনোযোগ দেয়া উচিত। তাদের ভারতের সাথে কথা বলা উচিত। কারণ, এখানে আমাদের স্বার্থ আছে। আজকে বার বার বলা হচ্ছে, বাংলাদেশিরা বেআইনিভাবে ভারতে প্রবেশ করছে, এটা একটা মারাত্মক কথা। তার মানে এনআরসি করে তারা বলছে কাউকে থাকতে দেয়া হবে না। তাদের মন্ত্রীরা বার বার ঘোষণা দিচ্ছেন সেইসব মানুষকে বাংলাদেশে পাঠিয়ে দেয়া হবে, একটাকেও রাখা হবে না। আমাদের নাগরিক না অথচ বাংলাদেশি বলে তারা ফেরত পাঠিয়ে দিবেন এবং সেটা আমাদের ওপর লক্ষ লক্ষ মানুষের আরেকটি চাপ আসবে। এটাতো আমাদের রাষ্ট্রের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব, স্থিতিশীলতা সকল কিছুর ওপর চাপ সৃষ্টি করবে। সেসব বিষয়ে এ সরকারের কোনো কথা নেই।’
মির্জা ফখরুল বলেন, ‘এই সরকার নির্বাচন ব্যবস্থাকে ধ্বংস করে দিয়েছে। এদেশে আর কখনো সুষ্ঠুভাবে নির্বাচন হবে কি না আমি জানি না। আমরা জানি এখন ৯ শতাংশ, ৮ শতাংশ এমনকি ৭ শতাংশ ভোটার ভোট দিতে যায় না। কারণ ভোট ব্যবস্থার ওপর তাদের আস্থা চলে গেছে।’ ‘মানুষের শেষ আশ্রয়স্থল এবং আস্থা হলো এই বিচার বিভাগের প্রতি। মানুষ যেখানে গেলে মনে করে আমরা একটু আশ্রয় পাব। কিন্তু দুর্ভাগ্য সেখানে আমাদের দেশের সাবেক তিনবারের প্রধানমন্ত্রী, যিনি একটি নির্বাচনেও জীবনে পরাজিত হননি তাকে একটি মিথ্যা মামলা দিয়ে বেআইনিভাবে তার প্রাপ্য যে জামিন সে জামিন থেকে বঞ্চিত করে আটকে রাখা হয়েছে। সব চেয়ে হতাশ ও দুর্ভাগ্য হলো এদেশের মানুষ যখন দেখে সর্বোচ্চ আদালত থেকে সে হুকুম আসছে।’ সূত্র ঢাকাটাইমস অনলাইন। 


পাঠকের মন্তব্য (০)

লগইন করুন




আরো সংবাদ








বগুড়ার এমপি আব্দুল  মান্নান আর নেই

বগুড়ার এমপি আব্দুল  মান্নান আর নেই

১৯ জানুয়ারী, ২০২০ ০০:০০






ব্রেকিং নিউজ

শহিদ জিয়ার ৮৪তম জন্মবার্ষিকী আজ

শহিদ জিয়ার ৮৪তম জন্মবার্ষিকী আজ

১৯ জানুয়ারী, ২০২০ ০১:০২