খুলনা | রবিবার | ১৯ জানুয়ারী ২০২০ | ৬ মাঘ ১৪২৬ |

Shomoyer Khobor

মজুরি কমিশন বাস্তবায়নে আন্তঃমন্ত্রণালয় সভা আজ 

উৎপাদনে ফিরেছে খুলনা অঞ্চলের রাষ্ট্রায়ত্ত পাটকল শ্রমিকরা : অনশন স্থগিত 

নিজস্ব প্রতিবেদক | প্রকাশিত ১৫ ডিসেম্বর, ২০১৯ ০১:০৫:০০

খুলনা অঞ্চলের রাষ্ট্রায়ত্ত পাটকলের শ্রমিকদের আমরণ অনশন কর্মসূচি তিন দিনের জন্য স্থগিত করা হয়েছে। অনশন কর্মসূচি স্থগিতের পর খুলনার খালিশপুরের বিআইডিসি সড়ক থেকে অনশনরত সব শ্রমিক ঘরে ফিরে গেছেন। এর মধ্যে দাবি আদায় না হলে আগামী ১৭ ডিসেম্বর সকাল থেকে আবারও অনশনে বসবেন শ্রমিকরা। শ্রম ও কর্মসংস্থান প্র্রতিমন্ত্রী বেগম মন্নুজান সুফিয়ান এমপির আশ্বাসের প্রেক্ষিতে এ কর্মসূচি স্থগিত করা হয়েছে। শুক্রবার রাত ১টার পর থেকে একে একে খুলনার বিভিন্ন পাটকলের শ্রমিকরা ঘরে ফিরে যান। তবে প্যান্ডেল ও স্টেজ সব ঠিক থাকবে বলে জানিয়েছেন পাটকল শ্রমিক নেতারা।  
এদিকে মঙ্গলবার শুরু হওয়া অনশনের চারদিন পর গতকাল শনিবার সকাল থেকে খালিশপুর, দৌলতপুর ও প্লাটিনাম জুট মিলের উৎপাদনে গেছেন শ্রমিকরা। কিন্তু সিদ্ধান্তহীনতায় ক্রিসেন্ট জুট মিলের শ্রমিকরা তা করেননি। ওই মিলের শ্রমিকরা দুপুর আড়াইটার দিকে উৎপাদন কাজ শুরু করেন। একে একে সকল পাটকল উৎপাদনে গিয়েছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লি¬ষ্টরা।  
শুক্রবার রাতে খুলনা বিভাগীয় শ্রম অধিদপ্তরের কাযালয়ে খুলনা অঞ্চলের রাষ্ট্রায়ত্ত পাটকলের শ্রমিক নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করেন শ্রম প্রতিমন্ত্রী। ওই সভায় তিনি জানান, জাতীয় মজুরী কমিশন ২০১৫ বাস্তবায়নে বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয় আজ রবিবার বেলা ১১টায় আন্তঃমন্ত্রণালয় সভা এবং বিকেল তিনটায় বাংলাদেশ পাটকল কর্পোরেশন (বিজেএমসি)’র সভাকক্ষে শ্রমিক নেতাদের সাথে সভার আহ্বান করা হয়েছে। ওই সভা থেকে ভালো ফলাফল আসতে পারে জানিয়ে প্রতিমন্ত্রী শ্রমিক নেতাদের অনশন তুলে নিয়ে ঘরে ফিরে যেতে বলেন। তাছাড়া ওই বৈঠকে শহিদ বুদ্ধিজীবী দিবস ও স্বাধীনতা দিবসকে সামনে রেখে অনশন তুলে নেওয়ার কথা বলা হয়। 
এদিকে মন্ত্রীর আশ্বাসের প্রেক্ষিতে আগামী ১৭ ডিসেম্বর পর্যন্ত অনশন স্থগিত করেছেন শ্রমিকরা। ওই সিদ্ধান্ত নিয়ে গভীর রাত পর্যন্ত শ্রমিকদের সঙ্গে শ্রমিক নেতাদের দফায় দফায় আলোচনা চলে। এ সময় নেতারা চাইলেও শ্রমিকরা অনশন ভঙ্গ করতে নারাজ ছিলেন। অবশেষে রাত সোয়া একটার দিকে প্রথমে খালিশপুর জুট মিলের শ্রমিকরা অনশনস্থল ত্যাগ করেন। পরে দেড়টার দিকে প্ল¬াটিনাম, স্টার ও দৌলতপুর জুট মিলের শ্রমিকরা বাড়ি ফিরতে শুরু করেন। ওই তিন পাটকলের শ্রমিকরা একই জায়গায় অবস্থান করছিলেন। রাত আড়াইটার দিকে শ্রমিকদের বুঝিয়ে ঘরে ফেরাতে সক্ষম হন ক্রিসেন্ট জুট মিলের নেতারা। এর মধ্যদিয়ে রাত ৩টার মধ্যে খালিশপুরের বিআইডিসি সড়কে রাষ্ট্রায়ত্ত পাঁচটি পাটকলের শ্রমিকদের অনশনস্থল ফাঁকা হয়ে যায়। 
প্ল¬াটিনাম জুট মিলের সিবিএ সভাপতি শাহানা শারমিন বলেন, রবিবার ঢাকায় সভা অনুষ্ঠিত হবে। সভায় দাবি বাস্তবায়ন না হলে ১৭ ডিসেম্বর থেকে আবারো অনশন পালন করা হবে। 
খালিশপুর শিল্পাঞ্চল এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, শ্রমিকদের অনশনস্থলের ওপরের ত্রিপলের ছাউনি আগের মতোই আছে। শুধু খুলে ফেলা হয়েছে পাশের শামিয়ানা। ফলে ছাউনির নিচ দিয়ে ভ্যান, রিকশা, ইজিবাইকসহ ছোট ছোট বাহনগুলো চলাচল করতে পারছে। এর আগে সড়কের ওপর অনশনের কারণে খালিশপুর জুট মিলের সামনে থেকে বিআইডিসি সড়কের প্লাটিনাম জুট মিলের গেট পর্যন্ত যান চলাচল বন্ধ হয়ে গিয়েছিল।
প্লাটিনাম জুট মিলের শ্রমিকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, যেহেতু অনশন কর্মসূচি প্রথম ভঙ্গ করেছে ওই জুট মিলের শ্রমিকরা এ কারণে তাঁদের ওপর পাশের ক্রিসেন্ট জুট মিলের শ্রমিকদের ক্ষোভ বেশি। সকালে ওই মিল থেকে মিছিল নিয়ে শ্রমিকরা প্লাটিনাম জুট মিলের শ্রমিকদের ধাওয়া করে। 
শ্রমিকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, শ্রমিকদের এখন মাত্র একটিই দাবি আর তা হলো মজুরি কমিশন বাস্তবায়ন। যে কোনো মূল্যে যেন মজুরি কমিশন বাস্তবায়ন হয়। ওই দাবিতে যে কোনো সময় অনশন করতে প্রস্তুত আছেন তাঁরা। শ্রমিকরা বলছেন, এর আগে বিভিন্ন সময় বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করেও প্রশাসনকে খুব বেশি নাড়া দেওয়া যায়নি। সেক্ষেত্রে আমরণ অনশন কর্মসূচি অনেক ভালো ফল দিয়েছে। এ কারণে তাঁরা শত কষ্ট হলেও আবার অনশন কর্মসূচি পালন করবেন। 
মজুরি কমিশন বাস্তবায়ন, পাটকলে পাবলিক-প্রাইভেট পার্টনারশিপ (পিপিপি) ব্যবস্থা বাতিল, পাটখাতে পর্যাপ্ত অর্থ বরাদ্দ দেওয়াসহ ১১ দফা দাবিতে আমরণ অনশন কর্মসূচি পালন করছিলেন খুলনা অঞ্চলের রাষ্ট্রায়ত্ত পাটকলের শ্রমিকরা। গত ১০ ডিসেম্বর বিকেল ৩টা থেকে বসা ওই শ্রমিকদের আন্দোলনে যোগ দেননি শুধু যশোরের কার্পেটিং জুট মিলের শ্রমিকরা। টানা অনশন কর্মসূচি পালন করায় বিভিন্ন মিলের প্রায় ২০০ শ্রমিক অসুস্থ হয়ে পড়েন। গুরুতর অসুস্থ হয়ে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় আব্দুস সাত্তার নামের এক শ্রমিক মারা যান।
ওই আন্দোলনের ডাক দিয়েছিল রাষ্ট্রায়ত্ত পাটকল সিবিএ-নন সিবিএ সংগ্রাম পরিষদ। ওই পরিষদের যুগ্ম আহ্বায়ক খলিলুর রহমান বলেন, শ্রম প্রতিমন্ত্রীর আশ্বাসের প্রেক্ষিতে তিন দিনের জন্য অনশন কর্মসূচি স্থগিত করা হয়েছে। আজ রবিবারের আলোচনা ফলপ্রসু না হলে ১৭ ডিসেম্বর থেকে শ্রমিকরা আবারও অনশনে বসবেন। শ্রমিকরা অনশনস্থল ত্যাগ করলেও প্যান্ডেল খোলা হচ্ছে না। 
বিজেএমসির খুলনা আঞ্চলিক কার্যালয়ের সমন্বয়কারী মোঃ বনিজ উদ্দিন মিঞা বলেন, গতকাল সকাল থেকে শ্রমিকরা উৎপাদনে যোগ দিয়েছেন। দু’একটি পাটকলে একটু দেরিতে উৎপাদনে যায়। একে একে সবগুলো পাটকল চালু হয়েছে। বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে।   
 


পাঠকের মন্তব্য (০)

লগইন করুন




আরো সংবাদ

শহিদ জিয়ার ৮৪তম জন্মবার্ষিকী আজ

শহিদ জিয়ার ৮৪তম জন্মবার্ষিকী আজ

১৯ জানুয়ারী, ২০২০ ০১:০২













ব্রেকিং নিউজ

শহিদ জিয়ার ৮৪তম জন্মবার্ষিকী আজ

শহিদ জিয়ার ৮৪তম জন্মবার্ষিকী আজ

১৯ জানুয়ারী, ২০২০ ০১:০২