খুলনা | শনিবার | ১৮ জানুয়ারী ২০২০ | ৫ মাঘ ১৪২৬ |

Shomoyer Khobor

মজুরি কমিশন বাস্তবায়নসহ ১১ দফা দাবিতে

কাঁথা-বালিশ নিয়ে দিন-রাত অনশনে খুলনার রাষ্ট্রায়ত্ত পাটকলের শ্রমিকরা

নিজস্ব প্রতিবেদক  | প্রকাশিত ১১ ডিসেম্বর, ২০১৯ ০১:০০:০০

কাঁথা-বালিশ নিয়ে দিন-রাত আমরণ অনশনে বসেছেন খুলনা অঞ্চলের রাষ্ট্রায়ত্ত পাটকলের শ্রমিকরা। দাবি আদায়ে গতকাল মঙ্গলবার বিকেল ৩টা থেকে নিজ নিজ মিলগেটের সামনের সড়কে তাঁরা অনশন কর্মসূচি পালন করছেন। শ্রমিকদের ওই কর্মসূচিতে অংশ নেন তাঁদের পরিবারের সদস্যরাও। দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত কর্মসূচি থেকে না ফেরার ঘোষণাও দিয়েছেন তারা।
বকেয়া মজুরি পরিশোধ, মজুরি কমিশন বাস্তবায়নসহ ১১ দফা দাবিতে ওই কর্মসূচি পালন করছেন তাঁরা। ওই কর্মসূচির ডাক দিয়েছে রাষ্ট্রায়ত্ব পাটকল সিবিএ-নন সিবিএ সংগ্রাম পরিষদ। 
সংগ্রাম পরিষদের নেতারা জানান, পূর্বঘোষিত কর্মসূচিতে খুলনা অঞ্চলের রাষ্ট্রায়ত্ত ৯টি পাটকলের মধ্যে ৮টি অংশ নিচ্ছে। শুধু যশোরের জেজেআই আন্দোলনের অন্যান্য কর্মসূচির সঙ্গে যুক্ত থাকলেও অনশন কর্মসূচিতে অংশ  নেয়নি। সকাল থেকে কর্মসূচি শুরু হওয়ার কথা থাকলেও খুলনা মহানগর ও জেলা আ’লীগের সম্মেলনের কারণে কর্মসূচি শুরুর সময় নির্ধারণ করা হয় দুপুর থেকে। 
এর আগে গত রবিবার খুলনা অঞ্চলের রাষ্ট্রায়ত্ত পাটকলের শ্রমিকরা ওই আমরণ অনশন কর্মসূচি সফল করতে শপথ নিয়েছিলেন। নিজ নিজ মিল গেটে অনুষ্ঠিত সভা থেকে শ্রমিকরা দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত ওই কর্মসূচি সফল করতে প্রতিজ্ঞাবদ্ধ হন। এসময় খুলনা শিল্পাঞ্চলের পাটকলগুলোর গেটে এক আবেগঘন পরিবেশের সৃষ্টি হয়েছিল।  
রাষ্ট্রায়ত্ত পাটকল সিবিএ-নন সিবিএ সংগ্রাম পরিষদের যুগ্ম-আহ্বায়ক মোঃ মুরাদ হোসেন বলেন, সোমবার রাত থেকেই অনশনের জন্য প্যান্ডেল প্রস্তুতির কাজ শুরু হয়। মঙ্গলবার দুপুর থেকে প্যান্ডেলের ভেতরে শ্রমিকরা আসতে শুরু করে। কানাই কানাই পূর্ণ হয়। শ্রমিকরা অনেকেই প্যান্ডেলের ভিতরে থাকতে পারছেন না। কাঁথা বালিশ নিয়ে তারা এখানে রাত-যাপন করবেন। দিন-রাত শ্রমিকরা অনশনে থাকবেন। দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চলবে। 
খুলনা অঞ্চলে মোট রাষ্ট্রায়ত্ত ৯টি পাটকল রয়েছে। এর মধ্যে খুলনায় রয়েছে সাতটি ও যশোরে রয়েছে দু’টি। খুলনায় থাকা পাটকলগুলো হলো ক্রিসেন্ট জুট মিল, খালিশপুর জুট মিল, দৌলতপুর জুট মিল, প্লাটিনাম জুট মিল, স্টার জুট মিল, আলিম জুট মিল ও ইস্টার্ন জুট মিল। আর যশোরের দু’টি জুট মিল হলো-কার্পেটিং ও  জেজেআই। 
মহানগরীর খালিশপুরে অবস্থিত চারটি পাটকল। দেশের সবচেয়ে বড় ক্রিসেন্ট জুট মিলের শ্রমিকরা অবস্থান নেন মিলের সামনের বিআইডিসি সড়কে। প্রায় অর্ধেকটা জুড়ে কাপড় টানিয়ে প্যান্ডেল তৈরি করে অনশনে বসেছেন। বাকী সড়কও শ্রমিকরা আটকে রেখেছে। এরপরই রয়েছে প্লাটিনাম জুট মিল। ওই জুট মিলের শ্রমিকরা পুরো সড়ক জুড়েই অনশনের স্থল তৈরি করেন। ফলে সড়কটি বন্ধ হয়ে গেছে। চলাচল করতে পারছে না কোন যানবাহন। এছাড়া ওই এলাকায় থাকা খালিশপুর ও দৌলতপুর জুট মিলের শ্রমিকরা অবস্থান নিয়েছেন নিজ নিজ মিল গেটে। দুপুর থেকেই কাঁথা-বালিশ নিয়ে শ্রমিকরা অনশনস্থালে আসতে শুরু করে। আশ্রয় নেন প্যান্ডেলের অভ্যন্তরে। প্যান্ডেলের ভেতরেই থাকবেন রাতেও। সেখানেই আদায় করেন নামাজ। 
ক্রিসেন্ট জুট মিলের শ্রমিকদের অনশনস্থলে কথা হয় শ্রমিক আব্দুর রহমান ও মোঃ জুয়েলের সাথে। তারা বলেন, শ্রমিকদের মূল দাবি মজুরি নিয়ে নয়। শ্রমিকরা মূলতঃ আন্দোলন করছেন মজুরি কমিশন বাস্তবায়ন, পাটকলে পাবলিক-প্রাইভেট পার্টনারশিপ (পিপিপি) প্রক্রিয়া বাতিল ও পাটখাতে পযাপ্ত অর্থ বরাদ্দ দেওয়ার দাবিতে। ওই দাবিগুলো আদায় হলেই তাঁরা অনশন কর্মসূচি প্রত্যাহার করবেন। রাষ্ট্রায়ত্ত ওই পাটকলগুলো বিভিন্ন সমস্যা জর্জরিত থাকায় প্রভাব পড়ে শ্রমিকদের ওপর। মিলগুলোর আর্থিক অবস্থা ভালো না থাকা ও উৎপাদিত পণ্য বিক্রি করতে না পারার কারণে শ্রমিকদের মজুরিও ঠিক মতো পরিশোধ হয় না। এসব কারণে শ্রমিকরা বিভিন্ন সময় আন্দোলন সংগ্রাম করে আসছেন। সর্বশেষ নভেম্বরের শেষ দিক থেকে ১১ দফা দাবিতে নতুন করে আন্দোলন শুরু করেছেন শ্রমিকরা। ছয় দিনের কর্মসূচির সর্বশেষ কর্মসূচি হলো আমরণ অনশন করা। একই দাবি আদায়ে স্টার জুট মিলের প্রধান ফটকের সামনে অনশন কর্মসূচি পালন করেছে শ্রমিকরা। 
আমাদের ফুলবাড়ীগেট প্রতিনিধি জানিয়েছেন, আটরা শিল্প এলাকার আলিম ও ইস্টার্ন জুট মিলের শ্রমিক কর্মচারীরা তাদের পোষ্যদের নিয়ে গতকাল দুপুর ২টায় ইস্টার্ন জুট মিল ১নং গেটে আমরণ গণ-অনশন কর্মসূচিতে অংশ নেন। ইস্টার্ন জুট মিল সিবিএ ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মোঃ আকছার আলীর সভাপতিত্বে আলিম জুট মিলের মোঃ আমিরুল ইসলাম ও ইস্টার্ন জুট মিলের মোঃ সিরাজুল ইসলামের পরিচালনায় বক্তৃতা করেন আলমগীর হোসেন, আঃ হক মহলদার, হাফেজ আঃ সালাম, আমিরুল ইসলাম, ইজদান আলী, মোজাম্মেল হক, হাসান শরীফ, আঃ রব মোল্লা আঃ রশিদ, আঃ মজিদ মোল্লা, শেখ জাকারিয়া, সর্দার আনোয়ার হোসেন, মেহেদি হাসান বিল্লাল, মনিরুল ইসলাম আকুঞ্জি, শেখ শামিমুল ইসলাম, ইদ্রিস আলী অনশন চলাকালে সন্ধায় আন্দোলনরত শ্রমিক কর্মচারীদের ন্যায় সঙ্গত দাবির পক্ষে সংহতি প্রকাশ করে বক্তব্য রাখেন আটরা গিলাতলা ইউপি চেয়ারম্যান শেখ মনিরুল ইসলাম।


পাঠকের মন্তব্য (০)

লগইন করুন




আরো সংবাদ














ব্রেকিং নিউজ