
সময়ের খবর ডেস্ক:
দীর্ঘ ১৬ বছরের অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে আবারও বিশ্ব ফুটবলের শীর্ষে উঠেছে স্পেন। ২০১০ সালে দক্ষিণ আফ্রিকা বিশ্বকাপে প্রথমবারের মতো বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হওয়ার পর অনেক উত্থান-পতনের মধ্য দিয়ে যেতে হয়েছে লা রোজাকে। অবশেষে ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের ফাইনালে শক্তিশালী আর্জেন্টিনাকে ১-০ গোলে হারিয়ে দ্বিতীয়বারের মতো বিশ্বকাপের শিরোপা জিতে ইতিহাসের নতুন অধ্যায় রচনা করেছে স্পেন।
যুক্তরাষ্ট্রের নিউ জার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত ফাইনালটি ছিল অত্যন্ত প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ।
নির্ধারিত ৯০ মিনিটে কোনো দলই গোলের দেখা পায়নি। ম্যাচজুড়ে বল দখল, আক্রমণ এবং সুযোগ তৈরিতে স্পেন ছিল এগিয়ে, তবে আর্জেন্টিনার দৃঢ় রক্ষণ তাদের বারবার হতাশ করে। শেষ পর্যন্ত অতিরিক্ত সময়ের ১০৬তম মিনিটে বদলি খেলোয়াড় ফেরান তোরেস দুর্দান্ত এক বাঁ-পায়ের শটে জালের দেখা পেয়ে স্পেনকে কাঙ্ক্ষিত গোল এনে দেন। সেই একমাত্র গোলেই নির্ধারিত হয় বিশ্বকাপের ভাগ্য।
এই শিরোপা শুধু একটি ট্রফি নয়, বরং স্পেনের ফুটবলের পুনর্জন্মের প্রতীক। ২০১০ সালের পর ২০১৪, ২০১৮ ও ২০২২ বিশ্বকাপে প্রত্যাশা পূরণ করতে পারেনি দলটি। কিন্তু নতুন প্রজন্মের প্রতিভাবান ফুটবলারদের নিয়ে গড়া দলটি ধীরে ধীরে নিজেদের শক্তি প্রমাণ করে। ইউরো ২০২৪ জয়ের ধারাবাহিকতা ধরে রেখে এবার বিশ্বকাপও জিতে আন্তর্জাতিক ফুটবলে নিজেদের আধিপত্য প্রতিষ্ঠা করল স্পেন।
পুরো টুর্নামেন্টজুড়ে স্পেন ছিল দুর্দান্ত ছন্দে। নকআউট পর্বে তারা অস্ট্রিয়া, পর্তুগাল, বেলজিয়াম ও ফ্রান্সকে হারিয়ে ফাইনালে ওঠে। এরপর শিরোপা নির্ধারণী ম্যাচে বর্তমান চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনাকে পরাজিত করে ১৬ বছরের অপেক্ষার অবসান ঘটায়।
এই জয়ের মাধ্যমে স্পেন দ্বিতীয়বারের মতো বিশ্বকাপ জয়ের কীর্তি গড়ল। পাশাপাশি পুরুষ ও নারী—উভয় বিভাগেই একই সময়ে বিশ্বচ্যাম্পিয়ন থাকার বিরল গৌরবও অর্জন করেছে দেশটি।
১৬ বছরের দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর বিশ্বকাপ ট্রফি আবারও স্পেনের হাতে। নতুন প্রজন্মের তারকাদের নেতৃত্বে লা রোজা প্রমাণ করেছে, বিশ্ব ফুটবলের অন্যতম শক্তি হিসেবে তারা আবারও নিজেদের আসন ফিরে পেয়েছে।