
আহমেদ আকবর, সিলেট:
সিলেট-ঢাকা মহাসড়কের সিলেট অংশ—হবিগঞ্জের মাধবপুর থেকে সিলেট পর্যন্ত—রীতিমতো মৃত্যুফাঁদে পরিণত হয়েছে। মহাসড়কের প্রায় ১৩০ কিলোমিটার অংশে প্রায় প্রতিদিনই ঘটছে দুর্ঘটনা। গত ১৫ দিনে এই অংশে পৃথক সড়ক দুর্ঘটনায় অন্তত ১৯ জন নিহত হয়েছেন।
সবশেষ শনিবার দুপুরে মহাসড়কের ওসমানীনগর উপজেলার ব্রাহ্মণগ্রাম এলাকায় তেলবাহী ট্রাক ও সিএনজিচালিত অটোরিকশার মুখোমুখি সংঘর্ষে একই পরিবারের মা-বাবা ও মেয়েসহ চারজন নিহত হন।
এর আগে ১০ আগস্ট সকালে হবিগঞ্জের নবীগঞ্জে বাস ও পিকআপের মুখোমুখি সংঘর্ষে তিনজন নিহত হন। সকাল ৬টা ১০ মিনিটের দিকে উপজেলার রুকুনপুর বাজারের দক্ষিণ পাশে বড়চর এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। নিহতদের মধ্যে একজন ঘটনাস্থলেই মারা যান। অপর দুজন সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় দুপুরে মারা যান।
৯ আগস্ট ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের হবিগঞ্জের মাধবপুর উপজেলার বেজুরা এলাকায় ত্রিমুখী সংঘর্ষে দুইজন নিহত হন।
এ ছাড়া ৭ আগস্ট ওসমানীনগর উপজেলার কাশিকাপন এলাকায় দুটি যাত্রীবাহী বাসের মুখোমুখি সংঘর্ষে ১০ জন নিহত হন। এসব দুর্ঘটনার পর ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
দীর্ঘদিন ধরে সংস্কারকাজ চলা এই মহাসড়কের বিভিন্ন অংশের অবস্থা বর্তমানে নাজুক। কোথাও কোথাও সড়কে বড় বড় গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। বর্ষায় টানা বৃষ্টির কারণে সড়কের বিভিন্ন অংশ আরও ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে।
এর সঙ্গে চালকদের বেপরোয়া গতি, ঝুঁকিপূর্ণ ওভারটেকিং এবং সড়ক দখল করে গড়ে ওঠা বাজারসহ নানা কারণে দুর্ঘটনার ঝুঁকি আরও বেড়েছে।
ঢাকা-সিলেট মহাসড়কে এখন দুর্ঘটনা যেন নিয়মিত ঘটনায় পরিণত হয়েছে। বাড়ছে মৃত্যুর মিছিল।
শেরপুর হাইওয়ে থানা-পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, গত ফেব্রুয়ারি থেকে জুলাই—এই ছয় মাসে সিলেটের মহাসড়কগুলোতে ১৮৫টি দুর্ঘটনায় ১১৭ জন নিহত এবং ১০৯ জন গুরুতর আহত হয়েছেন।
শেরপুর হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আনিসুর রহমান বলেন, মূলত চালকদের বেপরোয়া গতি ও বিপজ্জনকভাবে ওভারটেকিংয়ের কারণে ঢাকা-সিলেট মহাসড়কে ভয়াবহ দুর্ঘটনাগুলো ঘটছে।
তিনি বলেন, দীর্ঘ যাত্রার কারণে এই অঞ্চলে এসে চালকদের মধ্যে একদিকে যেমন ক্লান্তি আসে, অন্যদিকে দ্রুত গন্তব্যে পৌঁছানোর তাড়াও থাকে। এ কারণে ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের শেরপুর থেকে সিলেট অংশের কয়েকটি এলাকা দুর্ঘটনাপ্রবণ হয়ে উঠেছে।
ওসি আনিসুর রহমান আরও বলেন, মহাসড়কের ছয় লেনের কাজ সম্পন্ন হলে দুর্ঘটনা অনেকটাই কমে আসবে বলে আশা করা হচ্ছে।