
নজরুল ইসলাম লিখন, রূপগঞ্জ:
রূপগঞ্জ ও আশপাশে মানুষের বাসা, গ্যারেজ, বহুতল ভবনেও পদ্মগোখরা, ˆখয়াপানশ ও রাজকেউটের মতো বিষধর সাপ পাওয়া যাচ্ছে| এ নিয়ে মানুষের মাঝে আতঙ্কও বাড়ছে। গত ৩ বছরে উপজেলার বিভিন্ন স্থান থেকে ২৫২টি সাপ উদ্ধার করেছে।
কাশেম মিয়া বলেন, গেল সপ্তাহে বাড়ির পুকুর থেকে সাড়ে ৩ হাত লম্বা জাতী সাপ মারলাম। জায়দালের ঘর থেকে কিছু দিন আগে ৪ হাত লম্বা গোখরা সাপ মারলাম। এছাড়াও নগরপাড়া বালুর সড়কে প্রতিনিয়তই বিভিন্ন প্রজাতির সাপ মারা হচ্ছে। এ নিয়ে গোটা এলাকায় আতঙ্ক বিরাজ করছে।
তেতলাব খালপার এলাকার আল আমিন বলেন, “রাতে দেখি দুটি সাপ বাড়িতে ঢুকতে চেষ্টা করছে। এসময় আমি ‘সাপ সাপ’ বলে চিৎকার করলে আশপাশের সবাই ছুটে আসে| চার হাত লমবা একটি সাপ মারতে পারলেও অন্যটি চলে যায়।”
শান্তিনগর এলাকার গৃহবধূ আছিয়া আক্তার বলেন, ‘রাতে টয়লেটে যেতেও ভয় লাগে। কয়েক দিন আগে রান্নাঘরে একটি সাপ দেখা যায়| এরপর থেকে সন্তানদের একা কোথাও যেতে দিচ্ছি না।
তিনি বলেন, ‘আগে বছরে দু-একবার সাপ দেখতাম, এখন প্রায় প্রতিদিনই খবর শুনছি। এলাকাবাসীর মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করছে।
গত ১ জুলাই একটি বাড়ির ফ্লোর ভেঙে ২টি পদ্মগোখরা, ৭টি বাচ্চা ও ১৮টি ডিম উদ্ধারের কথা জানান আমজাদ। সাপের আতঙ্কে ভাড়াটেরা ওই বাসাই ছেড়ে যান।
কৃষি কর্মকর্তা আফরোজা সুলতানা বলেন, কয়েক বছর আগে চন্দ্রবোড়া বা রাসেলস ভাইপার বিভিন্ন জেলায় আতঙ্ক ˆতরি করেছিল| মানুষ জলাশয় ভরাট করে ফেলছে। এতে সাপের বাসস্থানের সংকট ˆতরি হচ্ছে। সাপের গর্তে বৃষ্টির পানি ঢুকলে সাপ আশ্রয়ের জন্য শুকনা স্থান বা উঁচু স্থানে যাচ্ছে। ভবনের গেটের সঙ্গে বাগানবিলাসের মতো লতানো গাছগুলো বেয়েও সাপ বহুতল ভবনে ঢুকে যাচ্ছে। পাশাপাশি দুই বাড়ির মাঝখানের জায়গায় অনেকে খাবার ফেলেন। সেখানে ইঁদুরের আনাগোনা বাড়ে। ইঁদুর খাওয়ার জন্য সাপ সেখানে যায়, পরে বাসার ভেতরে ঢুকে পড়ে।
সাপের কামড় গ্রামাঞ্চলেই বেশি ঘটে| বিভিন্ন মেডিকেল কলেজ হাসপাতালসহ মোট ১১টি প্রতিষ্ঠানের এক যৌথ জরিপের বলছে, সাপের দ্বারা আক্রান্ত ব্যক্তিদের ৯৫ শতাংশ গ্রাম, বিশেষত চরের অধিবাসী। এসব ঘটনা ২৪ শতাংশই ঘটাচ্ছে বিষধর সাপ।
ডাঃ তানসিব জুবায়ের নাদিম বলেন, বিষধর সাপে কামড় দিলে কামড়ের জায়গায় তীব্র ব্যথা ও ফোলা ভাব হয়। জায়গাটি লালচে, নীলচে বা কালচে হয়ে যায়। রক্তপাত বা ফোসকা পড়ে। কোবরা ও ক্রেইটের বিষে চোখের পাতা ঝুলে পড়ে, দৃষ্টি ঝাপসা হয়ে যায় এবং গিলতে, কথা বলতে বা শ্বাস নিতে কষ্ট হয়। রাসেলস ভাইপার সাপের বিষে মাড়ি, প্রস্রাব, বমি বা মল দিয়ে রক্ত আসে| রক্তচাপ কমে যাওয়া, কিডনির সমস্যা ও শরীর ফুলে যাওয়ার মতো সমস্যা হয়।
সাপের কামড় এড়াতে মানুষকেও রাতে চলাচলের সময় সচেতন থাকার পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। বাড়ির আশপাশে ঝোপঝাড় পরিষ্কার রাখতে হবে।
পরিবেশ রক্ষায় সাপের গুরুত্ব তুলে ধরে উপজেলা প্রাণী সম্পদ কর্মকর্তা সজল কুমার দাস বলেন, সাপ ক্ষতিকর পোকামাকড় ও ইঁদুর খেয়ে ফসলের উৎপাদন বাড়ায়। ক্যানসার, স্ট্রোক, উচ্চ রক্তচাপ, ব্যথানাশক ওষুধসহ নানা অ্যান্টিভেনম ˆতরি হয় সাপের বিষ থেকে। অথচ বিষ আছে এবং ছোবল মারতে পারে ভেবে মানুষ সাপ দেখামাত্র মেরে ফেলে। তাই সাপ চিনতে হবে, সাপ নিয়ে কুসংস্কার দূর করতে হবে। সাপে কামড় দিলে সঙ্গে সঙ্গে হাসপাতালে যেতে হবে।