
আহমেদ আকবর, সিলেট:
গাজীপুরের শ্রীপুরে হুমায়ুন কবীর নামে এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে কবিরাজি চিকিৎসার আড়ালে প্রতারণা, ভুয়া পরিচয় ব্যবহার এবং জাতীয় পরিচয়পত্রের তথ্য নিয়ে অসঙ্গতির অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়ভাবে তিনি ‘সূফী গুরু হোসাইন’ নামেও পরিচিত বলে অভিযোগ রয়েছে।
ভুক্তভোগী ও স্থানীয়দের অভিযোগ, বিভিন্ন রোগের চিকিৎসা, তাবিজ-কবচসহ নানা ধরনের কবিরাজি সেবা দেওয়ার কথা বলে ওই ব্যক্তি একাধিক ব্যক্তির কাছ থেকে বিভিন্ন অঙ্কের টাকা নিয়েছেন। টাকা নেওয়ার পর প্রতিশ্রুত সেবা না দিয়ে বিভিন্ন অজুহাতে সময়ক্ষেপণ করার অভিযোগও করেছেন কয়েকজন ভুক্তভোগী।
অভিযোগের অন্যতম গুরুতর বিষয় হলো—তার জাতীয় পরিচয়পত্রের পরিচয় ও তথ্য নিয়ে অসঙ্গতি এবং জালিয়াতির অভিযোগ। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের কাছে কিছু নথি ও তথ্য রয়েছে বলে জানা গেছে। তবে এসব নথি ও তথ্যের সত্যতা এখনো স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি। তাই বিষয়টি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে যাচাই করা প্রয়োজন।
এদিকে এসব অভিযোগের বিষয়ে হুমায়ুন কবীরের বক্তব্য জানতে যোগাযোগ করা হলে তিনি আপত্তিকর ভাষায় কথা বলেছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। এ সংক্রান্ত কথোপকথনের কিছু স্ক্রিনশট সংরক্ষিত রয়েছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন। তবে স্ক্রিনশটগুলোর সত্যতা ও প্রেক্ষাপটও যথাযথভাবে যাচাই করা প্রয়োজন।
স্থানীয়দের দাবি, দীর্ঘদিন ধরে কবিরাজি চিকিৎসা ও বিভিন্ন সেবার কথা বলে মানুষের কাছ থেকে আর্থিক লেনদেন করে আসছেন ওই ব্যক্তি। একই ব্যক্তির কাছ থেকে একাধিকবার টাকা নেওয়ার ঘটনাও ঘটেছে বলে কয়েকজন অভিযোগ করেছেন।
তবে হুমায়ুন কবীরের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের বিষয়ে তার বক্তব্যও গুরুত্বপূর্ণ। জাতীয় পরিচয়পত্রের তথ্য নিয়ে অসঙ্গতি, প্রতারণা এবং টাকা নেওয়ার অভিযোগের সত্যতা নির্ধারণে সংশ্লিষ্ট আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও কর্তৃপক্ষের তদন্ত প্রয়োজন।
ভুক্তভোগীদের কাছে থাকা টাকা লেনদেনের প্রমাণ, কথোপকথনের রেকর্ড, নথিপত্র এবং জাতীয় পরিচয়পত্র-সংক্রান্ত তথ্য যাচাই করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
অভিযোগগুলোর বিষয়ে হুমায়ুন কবীরের সুনির্দিষ্ট বক্তব্য পাওয়া গেলে এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তদন্ত বা বক্তব্য পাওয়া গেলে তা প্রতিবেদনে পরবর্তীতে সংযোজন করা হবে।