খুলনা | মঙ্গলবার | ২৩ অক্টোবর ২০১৮ | ৮ কার্তিক ১৪২৫ |

Shomoyer Khobor

স্বাধীনতার সাধ

এস আর ফারুক (এ্যাডভোকেট) | প্রকাশিত ২৬ মার্চ, ২০১৭ ০২:১৭:০০

স্বাধীনতার সাধ

দেশের জনগণের প্রতিটি মানুষের স্বাধীনতার সাধ গ্রহণ, একটি মৌলিক অধিকার, সমহারে সে সাধ গ্রহণ করতে পারছে কিনা, আজ সেটা বড় প্রশ্ন। আমি বাংলাদেশী জোর দিয়ে স্বদেশ প্রেমিকরা বলতে আতকে উঠছে। সর্বস্তরের দুর্নীতি, ধনী আরও ধনী হচ্ছে, গরীব আরও গরীব হচ্ছে মধ্য শ্রেণী নিঃশেষিত হচ্ছে। শ্রেণীর চলমান এ প্রক্রিয়া ভবিষ্যৎ জনগণকে ভাবিয়ে তুলছে।
১৭৫৭ সালে বাংলার স্বাধীনতা বৃটিশ দ্বারা অস্তমিত হয়। দীর্ঘ প্রায় দুইশত বৎসর স¦াধীনতার জন্য সংগ্রাম চলাকালীন দ্বিতীয় মহাযুদ্ধ শুরু হয়। যুদ্ধের মূল কারণ ছিল প্রযুক্তিতে যারা উন্নত তারা বিশ্ব বাজারে তাদের উৎপাদিত পণ্য বিক্রয় করবে। বৃটিশ কলোনীতে কোন ভিন দেশের পণ্য বিক্রয়ের সুযোগ ছিল না। কিন্তু বৃটিশ শক্তিবলে অর্ধ পৃথিবী দখল করে ব্যবসা-বাণিজ্য শাসন করে। পণ্য জাহাজ ভেড়ার কোন অনুমতি ছিল না। জার্মান অধিপতি হিটলার সিদ্ধান্ত নেয় বৃটিশের কেন্দ্র দুর্বল করলে, বৃটিশ উপনিবেশগুলো জাতিগত আন্দোলন শুরু করলে বৃটিশ তাদের ধরে রাখতে পারবে না, উপনিবেশগুলি স্বাধীন হয়ে পড়লে, প্রযুক্তিতে যারা উন্নত তার বিশ্ব বাজারে তাদের পণ্য বিক্রয় করতে পারবে। দ্বিতীয় মহাযুদ্ধ শেষ হলে বৃটিশ ভারতকে দুইটি ভাগ করে চলে যায়। একটা ইন্ডিয়া অপরটা পাকিস্তান। আমরা তদানিন্তন পূর্ব পাকিস্তানের অন্তর্ভুক্ত হই।
পাকিস্তান শাসন করত পশ্চিম পাকিস্তানীরা। তারা শোষণ শাসনের মাধ্যমে এদেশ শাসন করত, এমনকি ভাষার অমর্যাদা করে। বাংলা ভাষা প্রতিষ্ঠার দাবিতে ১৯৫২ সনে ২১ ফেব্র“য়ারি বাঙালিরা জীবন দেয়। উন্নতির সিংহভাগ পশ্চিম পাকিস্তানে হত। শাসন ভারের সাধ বাঙালিরা পায়নি। ১৯৭০ সনে জাতীয় পরিষদের নির্বাচন হয়। আওয়ামী লীগ সংখ্যা গরিষ্ঠ আসন লাভ করে কিন্তু শাসন ক্ষমতা না দেওয়ায় বাংলাদেশীরা সশস্ত্র স্বাধীনতা যুদ্ধ শুরু করে। লক্ষ কোটি শহিদের বিনিময়ে লক্ষ লক্ষ মা-বোনের ইজ্জতের বিনিময়ে আমরা মহান স্বাধীনতা লাভ করি। পাকিস্তান আমলে বাংলাদেশীদের আন্দোলন ছিল মূলতঃ গণতন্ত্রের মাধ্যমে সরকার প্রতিষ্ঠা করা। নির্বাচনে বিজয় হয়েছিল ৬ (ছয়) দফাকে ভিত্তি করে। ছয়দফা ছিল পাকিস্তান শাসক গোষ্ঠির কাছে, আমাদের দাবি, পাকিস্তান সরকার সামরিক শক্তি দ্বারা বাংলাদেশ দখল করে শাসন করার সিদ্ধান্ত নেয়। আমরা পাকিস্তানদের বিতাড়িত করার জন্য সশস্ত্র সংগ্রামে লিপ্ত হই। দখলদারদের বিতাড়িত করার জন্য সংগ্রাম ছিল দখলদারদের বিতাড়িত করে দেশ দখলমুক্ত করে স্বাধীনতা প্রতিষ্ঠা করা। মুক্তিযুদ্ধের চেতনা বাস্তবায়নের জন্য, জাতির সামনে যদি কোন কর্মসূচি প্রণয়ন করে দীর্ঘ মেয়াদী পরিকল্পনার মধ্যদিয়ে দেশ পরিচালিত হলে বাংলাদেশের বর্তমান অবস্থা থেকে আরো বেশী উন্নতি হত। চেতনাগুলি থরে থরে সাজিয়ে সুপরিকল্পিতভাবে বাস্তবায়ন করতে পারলে বিশ্বময় বাংলাদেশ হত একটা মডেল দেশ।
বিদ্রোহ, আন্দোলন, সংগ্রাম, বিপ্লব শব্দগুলির ভিন্ন ভিন্ন অর্থে ব্যবহার হয়। বিদ্রোহ, আন্দোলন, সংগ্রাম একটা ঘটনার মাধ্যমে সৃষ্টি হয়। সমাধান হয়ে গেলে শেষ হয়ে যায়। আমাদের দেশে আদর্শগত বিপ্লব প্রয়োজন। কারন আজ দেশের সর্বত্র দুর্নীতিতে ভরে গেছে, রাষ্ট্র যন্ত্রগুলি নিয়ন্ত্রণহীন লাগাম টানার কেউ নাই। সরকারি অফিসগুলির একই অবস্থা, রাজনৈতিক নেতা-কর্মীদের নিয়ন্ত্রণ করার কেউ নেই। দেশের ব্যাংক সেক্টর, উন্নয়নের সেক্টর সব জায়গায় দুর্নীতি বিদ্যমান। দেশের টাকা বিদেশে পাচার, সর্বত্র হত্যা, গুম ও জুলুম নির্যাতন সমাজে নিত্য নৈমিত্তিক ব্যাপার। সরকারের জবাবদিহিতার কোন বালাই নেই। মেধাবী ছাত্ররা যোগ্যতার ভিত্তিতে চাকুরি না পাওয়ায় দেশ মেধাহীন হয়ে পড়েছে।
সরকারি-বেসরকারি কর্মকর্তাদের বড় বড় বাড়িগুলি কেমন করে হয়। লক্ষ কোটি টাকা কিভাবে ব্যাংকে আসে সবাই জানে কিন্তু প্রতিকার করার কেউ নেই।
দেশের জনগণ প্রতিবাদের সাহস হারিয়ে ফেলছে। প্রতিবাদ করতে গেলে গুম হওয়ার সম্ভাবনা আছে। এক শ্রেণীর মানুষ ধর্মের অপব্যাখ্যা দিয়ে জঙ্গি সেজে মানুষ খুন করছে। স্বাধীনতার সাধ প্রকৃতপক্ষে সকল নাগরিক সমানভাবে ভোগ করতে পারছে না। দেশের অধিকাংশ মানুষ চিকিৎসা সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে, হাসপাতালগুলির কর্মকর্তাদের দুর্নীতির কারণে। স্বদেশ প্রেমের দারুন অভাব, দেশের জনগণের সমান অধিকার তখনই পাবে যখন জবাবদিহি সরকার গঠন হবে। গণতন্ত্র সৃষ্টি হয় সবার সমান অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য কিন্তু এখন ব্যবহার হয় জনগণের প্রতিনিধিদের বিশেষ সুবিধা দেওয়ার জন্য সঠিক গণতন্ত্র দেশকে সামনের দিক নিয়ে যায়। দুর্নীতি দেশ এবং জনগণকে কুরেকুরে খাচ্ছে। সরকার যদি দুর্নীতি দূর করতে পারে তবে দেশ কয়েক বৎসরের মধ্যে উন্নতির শিখরে উঠবে। সে কারণে সরকারকে দুর্নীতি দূর করার জন্য শক্তিশালী নিরপেক্ষ একটি টিম গঠন করে দ্রুত শাস্তির ব্যবস্থা করা। জাতির পানি সমস্যা, বিদ্যুৎ সমস্যাসহ নানাবিধ সমস্যায় জর্জরিত সমস্যাগুলি চিহ্নিত করে দ্রুত সমাধানের পথ বাহির করতে পারলে দেশের জনগণ স্বাধীনতার সাধ সমানভাবে গ্রহণ করতে পারবে।
আমরা দেখতে চাই ক্ষুদা, দারিদ্র মুক্ত, বেকার, মাদক মুক্ত শক্তিশালী বাংলাদেশ।
(লেখক : সাবেক সভাপতি, খুলনা জেলা আইনজীবী সমিতি)


পাঠকের মন্তব্য (০)

লগইন করুন




আরো সংবাদ

বদলে যাবে মংলা বন্দর

বদলে যাবে মংলা বন্দর

০৩ জুলাই, ২০১৮ ০২:০১













ব্রেকিং নিউজ





যশোরে সাংবাদিক নোভার  আত্মহত্যা

যশোরে সাংবাদিক নোভার  আত্মহত্যা

২৩ অক্টোবর, ২০১৮ ০০:৫৬