খুলনা | মঙ্গলবার | ২৩ অক্টোবর ২০১৮ | ৮ কার্তিক ১৪২৫ |

Shomoyer Khobor

তিন যুগ পর জাতীয় পার্টির সাথে হাজী বাড়ির সম্পর্ক ছিন্ন!

নিজস্ব প্রতিবেদক | প্রকাশিত ১৬ মার্চ, ২০১৭ ০২:২০:০০

পশ্চিম বানিয়াখামারস্থ হাজী বাড়ি। ধন-সম্পদ, জনবল ও রাজনৈতিক কারণে প্রভাবশালী। পাকিস্তান জামানার শুরুতেই মুসলিম লীগ (কাইয়ুম খান) এর রাজনীতির সাথে যুক্ত ছিল। বাংলাদেশের স্বাধীনতার পর আব্দুস সবুর খানের নেতৃত্বাধীন মুসলিম লীগের সাথে সম্পৃক্ত ছিল বানিয়াখামারের হাজী বাড়ি। খান-এ-সবুরের মৃত্যুর ৩ বছর পর জাতীয় পার্টির সাথে সম্পৃক্ত হয় এই পরিবার। পার্টির সুখে-দুঃখে ছিল তিন যুগ। গত সোমবার থেকে জাপার সাথে সম্পর্ক ছিন্ন করেছে এ পরিবার। কারণ একটাই, জাপার এক সময়কার সাধারণ সম্পাদক শেখ আবুল কাশেম হত্যা মামলার আসামিকে দলে যোগদান করানোর পর খুলনার মেয়র প্রার্থী হিসেবে ঘোষণা।
১৯৮২ সালের ২৪ মার্চ দেশে দ্বিতীয় দফা সামরিক শাসন জারী হয়। সেনাবাহিনীর প্রধান জেঃ এরশাদ রাষ্ট্র ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত হন, পরোক্ষভাবে। পরবর্তীতে নিজেকে রাষ্ট্রপতি ঘোষণা করে সেনা ছাউনিতে বসে রাজনৈতিক দল গঠন করেন। দলের নামকরণ হয় জাতীয় পার্টি। তার আগে নতুন বাংলা জন যুবসংহতির মাধ্যমে খুলনায় এ দলের যাত্রা। পৌরসভার কমিশনার শেখ আবুল কাশেম ৮৪ সাল থেকেই যুবসংহতির সাথে সম্পৃক্ত হন। ৮৬ সালের পর নগর জাতীয় পার্টির সাধারণ সম্পাদক এবং চেম্বার অব কমার্সের সভাপতি নির্বাচিত হন। পাশপাশি তার সহোদর শেখ আবুল হোসেন জাপায় যোগ দেন। ৮৮ সালে খুলনা-১ আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। তাদের প্রভাবে জাপার রাজনীতির সাথে সম্পৃক্ত হন বিএল কলেজ ছাত্র সংসদের জিএস আলী রেজা বাবু ও পৌর কর্পোরেশনের ডেপুটি মেয়র ইখতিয়ার উদ্দিন বাবলু। ব্যবসায়ী নেতা আলমগীর হোসেন, সিদ্দিকুর রহমানসহ কয়েকজনও এই দলের সাথে সম্পৃক্ত হন। ক্ষমতাসীন থাকাকালে ইউপি, উপজেলা, পৌরসভা ও জাতীয় নির্বাচনে হাজী বাড়ির ভূমিকা ছিল ইতিবাচক। ১৯৯০ সালে জেঃ এরশাদ ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর হয়রানীর শিকার হতে হয় এ পরিবারকে। এমন একটি সংকট সময়ে দলীয় কর্মীদের হামলা-মামলা থেকে রক্ষা করার জন্য এই পরিবার আশ্রয় দেয়। ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর খুলনার ৬টি সংসদীয় আসন, সিটি কর্পোরেশন, জেলা পরিষদ এমনকি ইউনিয়ন পরিষদেও জাতীয় পার্টির প্রতিনিধিত্ব ছিল না। সর্বশেষ সিটি কর্পোরেশনের নির্বাচনে জাপা মনোনীত প্রার্থী শফিকুল ইসলাম মধু মেয়র পদে তিন হাজার সত্তর ভোট পেয়ে জামানত হারান। কেসিসি নির্বাচনের পর জেলা ও নগর জাপার পৃথক পৃথক সম্মেলনে গতিশীল নেতৃত্ব দায়িত্বপ্রাপ্ত হয়। আগামী জাতীয় নির্বাচনের প্রস্তুতি হিসেবে খুলনা থেকে ৬টি আসনের প্রার্থী তালিকা খসড়া করা হয়েছে। এখনো কেন্দ্রে পাঠানো হয়নি। তার মধ্যে স্বেচ্ছাসেবক দল থেকে জাতীয় পার্টিতে যোগদানকারী এস এম মুশফিকুর রহমানকে কেন্দ্র করে দলের অভ্যন্তরে হ-য-ব-র-ল সৃষ্টি হয়েছে। নগরের বড় একটি অংশ এই সিদ্ধান্তকে মেনে নিচ্ছে না। ইতিমধ্যেই নগর কমিটির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক পদত্যাগের ঘোষণা দিয়েছেন।
দলের সূত্র জানায়, ১৯৯৫ সালের ২৫ এপ্রিল বেসিক ব্যাংকের সামনে নগর জাপার সাধারণ সম্পাদক শেখ আবুল কাশেম নিহত হন। এই মামলার আসামিকে জাপার মেয়র প্রার্থী হিসেবে ঘোষণা করায় হাজী পরিবারের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। যার ফলশ্র“তিতে এই পরিবারের অধিকাংশ সদস্য জাপার সাথে সম্পর্ক ছিন্ন করেছে। জাপা ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর মৃত শেখ আবুল খায়েরের পুত্র আসাদুজ্জামান লিটু, মনিরুজ্জামান এলু ও এরশাদুজ্জামান ডলার বিভিন্ন অঙ্গসংগঠনের দায়িত্বে আসেন। একপর্যায়ে আসাদুজ্জামান লিটুও দল ত্যাগ করে। জাপা ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর গত ২৭ বছরে হাজী পরিবারই নগর নেতৃত্বের হাল ধরে আছেন।
প্রসঙ্গক্রমে নগর জাপার সদ্য পদত্যাগকারী সভাপতি শেখ আবুল হোসেন গতকাল বুধবার তার বাসভবনে সময়ের খবর প্রতিনিধিকে বলেন, চিহ্নিত সন্ত্রাসী দলের মেয়র পদে মনোনয়ন দানে স্থানীয় কর্মীদের নৈতিবাচক প্রভাব পড়েছে। তাছাড়া জাপার জন্মলগ্ন থেকে জড়িত আবুল কাশেম হত্যা মামলার আসামিকে খুলনায় প্রার্থী হওয়ার বিষয়টি কোনোক্রমেই মেনে নেওয়া যায় না। সে কারণেই তিন যুগ পর জাপার সাথে সম্পর্ক ছিন্ন করতে বাধ্য হয়েছি। তিনি বলেন, বিরোধী দলে থেকে নানা হামলা-মামলার শিকার হয়েও দল ত্যাগ করিনি। বিএনপি ও আ’লীগের পক্ষ থেকে তাদের সাথে সম্পৃক্ত হওয়ার প্রস্তাব আসলেও আপাততঃ ভিন্ন রাজনীতি করার চিন্তা করছি না বলে তিনি গণমাধ্যমকে জানান। উল্লে¬খ্য ১৯৮৪ সালে হাজী পরিবারের দুই সন্তান শেখ আবুল হোসেন ও শেখ আবুল কাশেম পৌরসভার কমিশনার নির্বাচিত হন।

বার পঠিত

পাঠকের মন্তব্য (০)

লগইন করুন




আরো সংবাদ


নির্বাচনী ট্রেনে আওয়ামী লীগ

নির্বাচনী ট্রেনে আওয়ামী লীগ

০৭ অক্টোবর, ২০১৮ ০১:৩০









খুলনা-৪ আসনে নৌকার মাঝি কে?

খুলনা-৪ আসনে নৌকার মাঝি কে?

০১ অগাস্ট, ২০১৮ ০২:৩০



ব্রেকিং নিউজ





যশোরে সাংবাদিক নোভার  আত্মহত্যা

যশোরে সাংবাদিক নোভার  আত্মহত্যা

২৩ অক্টোবর, ২০১৮ ০০:৫৬