মনে পড়ে রানা মনে পড়ে সেতু


ক্রিকেটের দুই নক্ষত্রকে হারানোর আরও একটি বছর পার করছে বাংলাদেশ। প্রস্ফুটিত হওয়ায় আগেই হারিয়ে গেছে ক্রিকেটের দুই নক্ষত্র মানজারুল ইসলাম রানা ও সাজ্জাদুল হাসান সেতু। এই দুই ক্রিকেটারকে হারানোর ১০ বছর পার হচ্ছে আজ। ২০০৭ সালের আজকের দিনে সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারান তারা।
মানজারুল ইসলাম রানা এদেশের প্রতিভাবান ক্রিকেটারদের একজন ছিলেন। ৬টি টেস্ট খেলা এই ক্রিকেটার যখন পৃথিবির মায়া ছেড়ে চলে যান, তখনও খুব বেশী টেস্ট ম্যাচ খেলা হয়নি বাংলাদেশের। আজ বাংলাদেশ খেলছে শততম টেস্ট ম্যাচ। শততম টেস্ট ম্যাচ নিয়ে নানা আয়োজন, নানা বিশে¬ষণ। কিন্তু সেসবের কোথাও নেই লিকলিকে কালো বর্ণের সেই ছেলেটি। অথচ আজকের এই শততম টেস্টে হয়তো বাংলাদেশ দলের সাথেই থাকতে পারতেন তিনি। বাংলাদেশের ক্রিকেটকে অনেক উপরে নেয়ার স্বপ্ন ছিলো রানার মধ্যে। রানা না থাকলেও বাংলাদেশের ক্রিকেট কিন্তু আজ রানার স্বপ্ন দেখা পথেই। শততম টেস্ট ম্যাচ খেলছে বাংলাদেশ। ওয়ানডে ক্রিকেটে বাংলাদেশকে আজ বিশ্ব ক্রিকেট সমীহ করে।
১৬ মার্চ বাংলাদেশের ক্রিকেট আলাদা করেই মনেই রাখে। মাঠের ক্রিকেটে রানাই যেন ফিরে আসেন এই দিন দলের ছায়া খেলোয়াড় হয়ে। অদৃশ্য থেকেই অনুপ্রেরণা আর উৎসাহ যোগান সতীর্থ ক্রিকেটারদের। ২০০৭ সালের যেদিন রানা দুর্ঘটনায় মৃত্যুবরণ করেন তখন ওয়েস্ট ইন্ডিজে বিশ্বকাপ খেলছিলো বাংলাদেশ দল। পরদিন রানার মৃত্যুশোককে শক্তিতে পরিণত করে ভারতের বিপক্ষে জয় পায় বাংলাদেশ। এরপর যখনই এই দিনে বাংলাদেশ ক্রিকেট দল মাঠে নামে, একেবারে হতাশ হতে হয় না। রানাই হয়তো ওপার থেকে বাংলাদেশের হয়ে খেলে থাকেন।
২০০৭ সালের এই দিনে মানজার রানা যখন পরপারে, পরদিন মাঠে নামে বাংলাদেশ। ওই দিন মাঠে নামা কোনো ক্রিকেটারের মনে হয়নি মানজারুল মাঠে নেই। ছিলেন দলের ছায়াসঙ্গী হয়ে। আধুনিক যুগের খেলায় কোনো ক্যামেরায় হয়তো তিনি ধরা পড়েননি। কিন্তু প্রতিটি ক্রিকেটারের সঙ্গে মাঠেই ছিলেন, বিশ্বাস ছিলো পোর্ট অব স্পেনে মাঠে নামা ক্রিকেটারদের। ভারতকে হারিয়ে বাংলাদেশ সেদিন প্রমাণ করেছিলেন তার আধ্যাত্মিক উপস্থিতি।
আজ শ্রীলঙ্কার পি সারা ওভাল স্টেডিয়ামে নিজেদের শততম টেস্ট ম্যাচে খেলছে বাংলাদেশ। এ ম্যাচকে স্মরণীয় করে রাখতে নানা আয়োজন করেছে বিসিবি। আর মাঠের ক্রিকেটকে স্মরণীয় করে রাখতে হবে মুশফিকদের। আজও কি অনুপ্রেরণা হতে পারেন না মানজারুল রানা?
১৯৮৪ সালের ৪ জানুয়ারি খুলনায় জন্মগ্রহণ করা মানজারুল ইসলাম রানার বাংলাদেশ দলে টেস্ট অভিষেক ঘটে ২০০৪ সালের ১৯ ফেব্র“য়ারি জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে। তার আগে ঘটে ওয়ানডে অভিষেক। দেশের হয়ে ৬টি টেস্ট আর ২৫টি ওয়ানডে ম্যাচ খেলা খুলনার ছেলে রানা ও ৫০টি প্রথম শ্রেণীর ম্যাচ খেলা সেতু আজও আমাদের উপলব্ধিতে।
মানজারুল ইসলাম রানাকে ভোলেনি খুলনাবাসী। ভোলেনি এদেশের ক্রিকেট। আজও ভুলবে না। সেদিনের মতো আজও শ্রীলঙ্কায় দলের ছায়াসঙ্গী হয়ে থাকুন না রানা। আজও অনুপ্রেরণা হয়ে উঠুন রানা।
রানা-সেতু স্মরণে মিলাদ : রানা ও সেতুর এই মৃত্যুবার্ষিকীর দিনটিকে প্রতি বছরই বিশেষভাবে স্মরণ করে তাদেরই হাতে গড়া সংগঠন খুলনা জেলা খেলোয়াড় কল্যাণ সমিতি। আজও বাদ আছর খুলনা জেলা স্টেডিয়ামে সংগঠনটি তাদের স্মরণে মিলাদ মাহফিলের আয়োজন করেছে।

 


footer logo

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত।

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি।