খুলনা | সোমবার | ২৩ এপ্রিল ২০১৮ | ১০ বৈশাখ ১৪২৫ |

চন্দ্র ও সূর্যগ্রহণ আল্লাহর নিদর্শন

০৩ মার্চ, ২০১৭ ০১:৩১:০০

আল্লাহর অসংখ্য নিদর্শনের মধ্যে চন্দ্র ও সূর্যের গ্রহণও একেকটি নিদর্শন। রাসুল (সা.) বলেছেন, ‘চন্দ্র এবং সূর্য এ দুইটি আল্লাহর নিদর্শনের অন্যতম। কারও জন্ম বা মৃত্যুর কারণে এদের গ্রহণ হয় না। তাই তোমরা যখন প্রথম গ্রহণ দেখতে পাও, তখন আল্লাহকে স্মরণ করো।’ (বোখারি : ৪৮১৮)। অন্য বর্ণনায় রাসুল (সা.) বলেছেন, ‘চন্দ্র ও সূর্যগ্রহণ কারও জন্ম বা মৃত্যুর কারণে লাগে না, বরং এ দুইটি আল্লাহর নিদর্শন, যা দ্বারা আল্লাহ তাঁর বান্দাকে সতর্ক করেন। অতএব তোমরা যখন গ্রহণ লাগতে দেখ, আল্লাহর জিকিরে মশগুল হও যতক্ষণ তা আলোকিত না হয়ে যায়।’ (মুসলিম : ১৯৭২)।

সূর্য ও চন্দ্র গ্রহণকালে যে নফল সালাত আদায় করা হয়, তাকে সালাতুল কুসুফ ও খুসুফ বলা হয়। সূর্য ও চন্দ্রগ্রহণ আল্লাহর অপার কুদরতের অন্যতম নিদর্শন। এ গ্রহণ শুরু হলে আল্লাহর প্রতি গভীর আনুগত্য ও ভীতি সহকারে এর ক্ষতি থেকে বাঁচার উদ্দেশ্যে জামাতসহ দুই রাকাত সালাত দীর্ঘ কেরাত ও কিয়ামসহ আদায় করতে হয় এবং শেষে খুতবা দিতে হয়। আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রা.) বলেন, রাসুলুল্লাহ (সা.) এর সময়ে একবার সূর্যগ্রহণ হলে আল্লাহর রাসুল (সা.) সালাত আদায় করেন এবং লোকেরাও তাঁর সঙ্গে সালাত আদায় করে। প্রথমে তিনি সালাতে দাঁড়ালেন এবং সূরা বাকারার মতো দীর্ঘ কেরাত করলেন। অতঃপর দীর্ঘ রুকু করলেন। ... পরিশেষে সালাম ফেরালেন। এরই মধ্যে সূর্য উজ্জ্বল হয়ে গেল। অতঃপর সালাত শেষে দাঁড়িয়ে তিনি খুতবা দিলেন এবং হামদ ও সানা শেষে বললেন, ‘সূর্য ও চন্দ্র আল্লাহর নিদর্শনগুলোর মধ্যে দুইটি বিশেষ নিদর্শন। কারও মৃত্যু বা জন্মের কারণে এ গ্রহণ হয় না। যখন তোমরা ওই গ্রহণ দেখবে, তখন আল্লাহকে ডাকবে, তাকবির দেবে, সালাত আদায় করবে ও সদকা করবে। ... আল্লাহর কসম! আমি যা জানি, তা যদি তোমরা জানতে, তাহলে তোমরা অল্প হাসতে ও অধিক ক্রন্দন করতে।’ অন্য বর্ণনায় এসেছে, এর মাধ্যমে আল্লাহ স্বীয় বান্দাদের ভয় দেখিয়ে থাকেন। অতএব যখন তোমরা সূর্যগ্রহণ দেখবে, তখন ভীত হয়ে আল্লাহর জিকির, দোয়া ও ইস্তেগফারে রত হবে।
‘কুসুফ’ ও ‘খুসুফ’-এর সালাত আদায়ের মাধ্যমে সূর্য ও চন্দ্রগ্রহণের ক্ষতিকর প্রভাব  থেকে আল্লাহর কাছে পানাহ চাওয়া হয়। এ সালাতের অন্যতম উদ্দেশ্য হলো, আল্লাহর এসব সৃষ্টিকে পূজা না করা এবং ভয় না করা। আল্লাহ বলেন, ‘তোমরা সূর্যকে সিজদা করো না, চন্দ্রকেও না। বরং সিজদা করো আল্লাহকে, যিনি এগুলো সৃষ্টি করেছেন। যদি তোমরা সত্যিকার অর্থে তাঁরই ইবাদত করে থাক।’ (হা-মিম সাজদাহ : ৪১/৩৭)।
কেউ যদি চন্দ্র বা সূর্যগ্রহণ দেখে, তার উচিত হবে রাসুল (সা.) এর সুন্নাহ অনুযায়ী কাজ করা ও বেশি বেশি করে সেসময় আল্লাহকে স্মরণ করা। চন্দ্র, সূর্য বা অন্য কোনো সৃষ্ট বস্তু অদৃশ্যভাবে কারও উপকার বা ক্ষতি করার ক্ষমতা রাখেÑ এ ধরনের বিশ্বাস রাখা তাওহিদের পরিপন্থী। কোরআন ও সুন্নাহ অনুযায়ী সূর্য এবং চন্দ্রগ্রহণের কোনো প্রভাব গর্ভবতী মা বা তার গর্ভের ভ্রƒণের ওপর পড়ে না। গর্ভবতী মা কোনো কিছু কাটলে, ছিঁড়লে বাচ্চা ঠোঁট কাটা জন্মাবে, কোনো কিছু ভাঙলে, বাঁকা করলে সন্তান বিকলাঙ্গ হয়ে জন্ম নেবেÑ এ ধরনের যত কথা প্রচলিত আছে, তা সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন ও মিথ্যা, যার সঙ্গে কোরআন ও সুন্নাহর কোনো সম্পর্ক নেই।
এ ব্যাপারে বিজ্ঞানের বক্তব্য হলো, সূর্য ও চন্দ্রগ্রহণের সময় চন্দ্র, সূর্য ও পৃথিবী একই সরলরেখায় চলে আসে। ফলে সূর্য ও চন্দ্রের আকর্ষণী শক্তি বেশিমাত্রায় পৃথিবীর ওপরে পতিত হয়। এর প্রচ- টানে অন্য কোনো গ্রহ থেকে পাথর বা কোনো মহাজাগতিক বস্তু পৃথিবীর দিকে ধেয়ে এলে পৃথিবী ধ্বংসের একটা কারণও হতে পারে। ১৯০৮ সালের ৩০ জুন ১২ মেগাটন টিএনটি ক্ষমতাসম্পন্ন ১৫০ ফুট দৈর্ঘ্যরে একটি বিশালাকার জ্বলন্ত পাথর (মিটিওরাইট) রাশিয়ার সাইবেরিয়ার জঙ্গলে পতিত হয়ে ৪০ মাইল ব্যাসসম্পন্ন ধ্বংসগোলক সৃষ্টি করেছিল। আগুনের লেলিহান শিখায় লাখ লাখ গাছপালা পুড়ে ছাই হয়ে গিয়েছিল।

লেখক : সহযোগী অধ্যাপক, ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় কুষ্টিয়া

বার পঠিত

পাঠকের মন্তব্য (০)

লগইন করুন




আরো সংবাদ

পবিত্র শবে বরাত ১ মে রাতে

পবিত্র শবে বরাত ১ মে রাতে

১৮ এপ্রিল, ২০১৮ ০০:০৩

মুহাম্মদ (সা.) শ্রেষ্ঠ ও শেষ নবী

মুহাম্মদ (সা.) শ্রেষ্ঠ ও শেষ নবী

১৫ এপ্রিল, ২০১৮ ১৭:১৬




চাঁদ দেখা যায়নি, জমাদিউস  সানি শুরু কাল

চাঁদ দেখা যায়নি, জমাদিউস  সানি শুরু কাল

১৭ ফেব্রুয়ারী, ২০১৮ ০০:১০

ইসলামে জ্ঞানার্জন ও জ্ঞানীর মর্যাদা

ইসলামে জ্ঞানার্জন ও জ্ঞানীর মর্যাদা

০৩ ফেব্রুয়ারী, ২০১৮ ১৭:৫৮

একাত্মবাদকে হৃদয়ে আঁকড়ে ধরতে হবে

একাত্মবাদকে হৃদয়ে আঁকড়ে ধরতে হবে

২০ জানুয়ারী, ২০১৮ ১৩:৩১



আখেরাতের জন্য প্রস্তুতি নিতে হবে

আখেরাতের জন্য প্রস্তুতি নিতে হবে

০৬ জানুয়ারী, ২০১৮ ১৩:২৩



ব্রেকিং নিউজ