খুলনা | বুধবার | ২৬ সেপ্টেম্বর ২০১৮ | ১১ আশ্বিন ১৪২৫ |

Shomoyer Khobor

খুবিতে যথাযথ মর্যাদায় জাতীয় শোক দিবস পালিত

বঙ্গবন্ধু, মুক্তিযুদ্ধ ও বাংলাদেশ সম্পর্কে প্রকৃত ইতিহাস তরুণ প্রজন্মের কাছে তুলে ধরতে পারিনি : উপাচার্য

খুবি প্রতিনিধি | প্রকাশিত ১৬ অগাস্ট, ২০১৮ ০১:১৬:০০

বঙ্গবন্ধু, মুক্তিযুদ্ধ ও বাংলাদেশ সম্পর্কে প্রকৃত ইতিহাস তরুণ প্রজন্মের কাছে তুলে ধরতে পারিনি : উপাচার্য

জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৪৩তম শাহাদাৎবার্ষিকী ও জাতীয় শোক দিবস উপলক্ষে খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ে যথাযথ মর্যাদায় বিভিন্ন কর্মসূচি পালিত হয়। সকাল সাড়ে ৮টায় কর্মসূচির শুরুতে কালোব্যাজ ধারণ করা হয়। শহিদ তাজউদ্দিন আহমেদ প্রশাসনিক ভবনের সামনে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. মোহাম্মদ ফায়েক উজ্জামান জাতীয় পতাকা অর্ধনমিত এবং ট্রেজারার প্রফেসর সাধন রঞ্জন ঘোষ কালো পতাকা উত্তোলন করেন। পরে উপাচার্যের নেতৃত্বে একটি শোকর‌্যালি প্রশাসন ভবন থেকে শুরু হয়ে অদম্য বাংলায় গিয়ে শেষ হয়। সেখানে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতিকৃতিতে পুষ্পমাল্য অর্পণ করা হয়। এরপর খুলনা বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতি, স্বাধীনতা শিক্ষক পরিষদ, বঙ্গবন্ধু পরিষদ খুবি শাখা, অফিসার্স কল্যাণ পরিষদ, কর্মচারীরা, বিভিন্ন ডিসিপ্লিন, ছাত্রদের বিভিন্ন সংগঠন বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে পুষ্পমাল্য অর্পণ করে। শ্রদ্ধাঞ্জলি অর্পনের পর উপাচার্য আইন ডিসিপ্লিন কর্তৃক ১৫ আগস্ট উপলক্ষে প্রকাশিত স্মরণিকা ‘অগ্নিগিরির অস্তাচলে’ এর মোড়ক উন্মোচন করেন। পরে তিনি আচার্য্য জগদ্বীশ চন্দ্র বসু একাডেমিক ভবনে ২য় তলায় বঙ্গবন্ধুর ওপর আলোকচিত্র প্রদর্শনীর উদ্বোধন করেন। সকাল ১০টায় একই ভবনের মিলনায়তনে জাতির জনক বঙ্গবন্ধুর ওপর আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়।   
জাতীয় শোক দিবস পালন কমিটির সভাপতি ফরেস্ট্রি এন্ড উড টেকনোলজি ডিসিপ্লিনের প্রফেসর ড. মাহমুদ হোসেনের সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তৃতা করেন উপাচার্য প্রফেসর ড. মোহাম্মদ ফায়েক উজ্জামান। তিনি তাঁর বক্তব্যে বলেন শিক্ষার্থীদের নিরাপদ সড়ক আন্দোলন ও কোটা সংস্কার আন্দোলনের মতো যৌক্তিক আন্দোলনের মধ্যেও কিছু কিছু শিক্ষার্থী ১৫ আগস্টের শোক দিবস এবং বর্তমান প্রধানমন্ত্রীকে নিয়ে ফেসবুকে যে সমস্ত মন্তব্য করেছে তা অত্যন্ত দুঃখজনক। কেন না অপঘাত বা অপমৃত্যু কারও কাম্য হতে পারে না। প্রধানমন্ত্রী সব সময়ই এসব ঘটনায় নিন্দা জানান এবং স্বজন হারার বেদনা সবচেয়ে বেশি তিনি অনুভব করেন সে কথা বলে থাকেন। তাই ফেসবুকে যারা অপ্রত্যাশিত মন্তব্য করেন সেই নতুন প্রজন্ম হয় আমাদের মুক্তিযুদ্ধ, বঙ্গবন্ধুর অবদান এবং ১৫ আগস্ট সম্পর্কে জানে না, অথবা একাত্তরে মুক্তিযুদ্ধের বিরোধীতা করেছিল সেই সমস্ত পরিবারের সন্তান বলে উল্লেখ করেন। 
তিনি বলেন, আমাদের দুর্ভাগ্য এখনো আমরা তরুণ প্রজন্মকে বঙ্গবন্ধু, মুক্তিযুদ্ধ এবং বাংলাদেশ সম্পর্কে তাদের সবার মধ্যে প্রকৃত ইতিহাস তুলে ধরে তাদের মনন গঠন করতে পারিনি। তিনি হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙালি, জাতির জনক বঙ্গবন্ধুর জীবনের বিভিন্ন দিক ও ঘটনা তুলে ধরে বলেন ১৯৪৭ সাল থেকে ধীরে ধীরে তিনি আন্দোলন সংগ্রামের মাধ্যমে দীর্ঘ পথ পরিক্রমায় স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশের জন্য যে অসীম ত্যাগ স্বীকার করেছেন, জীবন উৎসর্গ করেছেন, যিনি বাঙালিকে তার নিজের জীবনের চেয়েও ভালো বেসেছেন, যিনি এই মাটি ও মানুষকে একান্তভাবে চিনেছিলেন, এদেশের মানুষের অর্থনৈতিক মুক্তির জন্য সর্বদা কাজ করেছিলেন, যিনি বিশ্ব নেতা হিসেবে সারা দুনিয়ায় বিরল সম্মান ও শ্রদ্ধা পেয়েছিলেন তাঁকে সপরিবারে নির্মম, নৃশংসভাবে পঁচাত্তরের ১৫ আগস্ট হত্যার পর বিশ্ববাসীর কাছে আমরা খুনি জাতি হিসেবে চিহ্নিত হয়েছি। তিনি বলেন বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে কোনো বিতর্ক হতে পারে না। তাঁকে নিয়ে বিতর্ক যতো কম হবে ততই ভালো তা না হলে দেশে কোনোদিন রাজনৈতিক ঐক্যমত্য বা আপোষ হবে না।  
অনুষ্ঠানে মুখ্য আলোচক হিসেবে বক্তব্য রাখেন সাবেক পররাষ্ট্র সচিব, মুক্তিযোদ্ধা ও কলাম লেখক মহিউদ্দিন আহমদ। আলোচনা অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তৃতা করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রেজারার প্রফেসর সাধন রঞ্জন ঘোষ। আলোচনায় অংশ নেন ছাত্র বিষয়ক পরিচালক প্রফেসর শরীফ হাসান লিমন, প্রভাষক পুণম চক্রবর্তী, উপ-রেজিস্ট্রার দীপক চন্দ্র মন্ডল এবং শিক্ষার্থী রূপক কুমার সাহা ও মিতা দাস। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন সহযোগী অধ্যাপক ড. মোঃ দুলাল হোসেন এবং প্রভাষক নিশাত তারান্নুম। পরে বাদ যোহর বিশ্ববিদ্যালয় মসজিদে জাতির জনক ও তাঁর পরিবাবের সদস্যদের রুহের মাগফিরাত কামনা করে দোয়া করা হয়। 


পাঠকের মন্তব্য (০)

লগইন করুন




আরো সংবাদ














ব্রেকিং নিউজ












তৃতীয় ফাইনাল নাকি স্বপ্ন ভঙ্গ

তৃতীয় ফাইনাল নাকি স্বপ্ন ভঙ্গ

২৬ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ০০:৫৫