খুলনা | বুধবার | ২৬ সেপ্টেম্বর ২০১৮ | ১১ আশ্বিন ১৪২৫ |

Shomoyer Khobor

ভিডিও ফুটেজ দেখে দুই নার্সকে বরখাস্ত : তদন্ত কমিটি গঠন 

দিনভর নাটকীয়তার পর মণিরামপুর হাসপাতালের ডেলিভারি রুম থেকে প্রসূতি ও নবজাতক গায়েব! 

মণিরামপুর প্রতিনিধি  | প্রকাশিত ১৬ অগাস্ট, ২০১৮ ০১:০৬:০০

দিনভর নাটকীয়তার পর মণিরামপুর হাসপাতালের ডেলিভারি রুম থেকে প্রসূতি ও নবজাতক গায়েব! 

মণিরামপুর হাসপাতালে কর্তব্যরত নার্স ও আয়ার দিনভর নাটকীয়তার পর হাসপাতালের ডেলিভারি রুম থেকে এক প্রসূতি ও নবজাতক গায়েব হয়ে গেছে। এর আগে প্রসূতি মায়ের সন্তান প্রসবের পর নবজাতককে বালতির মধ্যে ফেলে রাখা হয়। অভিযোগ উঠেছে, নার্স ও আয়ার যোগসাজসে অসুস্থ মা পালিয়ে গেছে। আর ওই নবজাতকে তারা গায়েব করে সবকিছু বেমালুম চেপে যাওয়ার চেষ্টা করে। কিন্তু হাসপাতালের ওয়ার্ডে ভর্তি থাকা রোগীদের প্রতিবাদ ও সিসি ক্যামেরায় ধারণকৃত ভিডিও ফুটেজে তাদের সব কর্মকান্ড ধরা পড়ে। গত মঙ্গলবার দিনভর এ ঘটনা ঘটলেও রাত সাড়ে ১০টার দিকে ঘটনাটি কর্তৃপক্ষের নজরে এলে হাসপাতালে তোড়পাড় সৃষ্টি হয়। উক্ত ঘটনায় গতকাল বুধবার ৩ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠনসহ জড়িত দুই নার্সকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন হাসপাতাল প্রধান ডাঃ আব্দুল গফ্ফার। 
সরেজমিন গত মঙ্গলবার রাত পৌনে ১১টার দিকে হাসপাতালে গেলে সালেহা খাতুন, নাছিমা ও রাহিলাসহ মহিলা ওয়ার্ডে ভর্তি একাধিক প্রত্যক্ষদর্শী রোগী জানান, বেলা ১১টার দিকে নার্স হ্যাপী রায় পলিথিন হাতে এক মহিলাকে সাথে নিয়ে ডেলিভারি রুমে যায়। একটানা প্রায় বিকেল ৩টা পর্যন্ত তারা সেখানে অবস্থান করে। দীর্ঘক্ষণ ওই রুমের ভিতরে কি হচ্ছে তা দেখার জন্য কয়েকবার চেষ্টা করেন তারা। কিন্তু প্রতিবারই তাদেরকে তাড়িয়ে দেয় নার্স হ্যাপী রায়। এরই এক ফাঁকে তারা দেখতে পায় এক নবজাতককে অক্সিজেন দিয়ে টেবিলের উপর ফেলে রাখা হয়েছে। এর মধ্যে দুধ নিয়ে ছোটাছুটি করেন ওই নার্স ও আয়া। বিকেল সাড়ে ৩টার পর নার্সসহ ওই মহিলা বেরিয়ে যায়। দীর্ঘক্ষণ মাসহ নার্সরা নবজাতকের কোন খোঁজ-খবর না নেয়ায় তাদের সন্দেহ হয়। রাত ৭টার দিকে ডেলিভারি রুমে গিয়ে তারা নবজাতকের খোঁজ করতে থাকেন। এক পর্যায়ে বালতির ভিতর থেকে ওই নবজাতককে উদ্ধার করেন তারা। পরে নবজাতককে তার মায়ের কাছে দেয়ার কথা বলে আয়া কাকলি, নার্স ঝরণা ও হ্যাপী রায় উদ্ধারকারি রোগীদের সাথে বাক-বিতন্ডায় জড়িয়ে পড়েন। এক পর্যায় দুই নার্স ও আয়া ওই নবজাতককে কেড়ে নিয়ে যায়। পরে আর ওই নবজাতকের হদিস মেলেনি। ওয়ার্ডের রোগীসহ অনেকের ধারণা কোন কুমারি মাকে অবৈধভাবে ডেলিভারি করিয়েছেন নার্স ও আয়া। যে কারনে নবজাতকের মা আর ফিরে আসেনি। নার্স হ্যাপী রায়, ঝরণা ও আয়া কাকলিকে জিজ্ঞাসাবাদ করলে নবজাতকের মায়ের পরিচয়সহ পুরো রহস্য উন্মোচিত হবে বলে তারা দাবি করেন।
১৬নং ওয়ার্ডের প্রসূতি রোগী নাসরিন জানান, ঝরণা নামের নার্স তার কাছ থেকে কয়েকবার দুধ নিয়ে গেছে। জানতে চাইলে নার্স ঝরণা জানান, নবজাতককে বাঁচাতে তিনি কয়েকবার দুধ পান করিয়েছেন। অভিযোগ উঠেছে ওই সময় নার্স ঝরণার ডিউটি ছিল না। তবে কেন তিনি এ সময় ছিলেন জানতে চাইলে বলেন, তার এক নিঃসন্তান আত্মীয় বাচ্চা চাইছিল। আয়া কাকলি ফোন করে বাচ্চা নেয়ার জন্য ডাকলে সেখানে তিনি আসেন। এ ব্যাপারে আয়া কাকলি সব কিছু অস্বীকার করে বলেন, নবজাতককে হাসপাতালে পেয়ে নার্স ঝরণাকে খবর দেয়া হয়। মুঠোফোনে নার্স হ্যাপীর কাছে এ বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি উত্তেজিত হয়ে বলেন, না জেনে-শুনে কোন কথা বলবেন না। তিনি নবজাতককে হাসপাতালের ডেলিভারি রুমে পাওয়া গেছে বলেই সংযোগটি বিচ্ছিন্ন করে দেন। কিন্তু বিপত্তি ঘটে রাত ৮টার পর নাজমা নামের নার্স ডিউটিতে এলে। তিনি ডেলিভারি রুমে এক নবজাতক পড়ে আছে জানতে পেরে তাৎক্ষণিক জরুরী বিভাগে দায়িত্বরত চিকিৎসক রাজীব কুমার পাল ও হাসপাতাল প্রধান ডাঃ আব্দুল গফ্ফারকে অবহিত করেন। 
চিকিৎসক রাজীব কুমার পাল বলেন, রাত ৮.২০ মিনিটে তখনকার দায়িত্বরত নার্স নাজমা বিষয়টি তাকে অবহিত করেন। জানতে চাইলে মণিরামপুর হাসপাতালের প্রধান ডাঃ আব্দুল গফ্ফার ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, এ ধরনের ক্রাইম মেনে নেয়া যায় না। এ ঘটনায় অভিযুক্ত নার্স হ্যাপী রায় ও ঝরণা রানীকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এছাড়া ডাঃ রাজীব কুমার পালকে প্রধান করে সিনিয়র নার্স নাজমা ও প্রধান অফিস সহকারী গণেশ মন্ডলকে সদস্য করে ৩ সদস্য বিশিষ্ট তদন্ত কমিটি গঠন করে আগামী ৭ দিনের মধ্যে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দেয়া হয়েছে। এরপর দোষীদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেয়ার সুপারিশ করা হবে। একটি সূত্র জানায় অভিযুক্তদের যাবতীয় কর্মকান্ড হাসপাতালে থাকা সিসি ক্যামেরায় ভিডিও ফুটেজে ধরা পড়েছে। জানতে চাইলে যশোর সিভিল সার্জন ডাঃ দিলীপ কুমার রায় বলেন, ইতোমধ্যে বিভাগীয় প্রধান নার্স নাছিমা খাতুনকে তলব করা হয়েছে। তাকে দিয়ে তদন্তের পাশাপশি হাসপাতালের প্রধান ডাঃ আব্দুল গফ্ফারকে আগামী শনিবারের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দেয়া হয়েছে বলে তিনি জানান।


পাঠকের মন্তব্য (০)

লগইন করুন




আরো সংবাদ














ব্রেকিং নিউজ












তৃতীয় ফাইনাল নাকি স্বপ্ন ভঙ্গ

তৃতীয় ফাইনাল নাকি স্বপ্ন ভঙ্গ

২৬ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ০০:৫৫