খুলনা | বুধবার | ২৬ সেপ্টেম্বর ২০১৮ | ১১ আশ্বিন ১৪২৫ |

Shomoyer Khobor

ফুলবাড়ীগেট-কুয়েট-তেলিগাতি সড়ক  পুনঃনির্মাণের দুই বছরের মধ্যে চলাচল অনুপযোগী 

ফুলবাড়ীগেট প্রতিনিধি  | প্রকাশিত ১৪ অগাস্ট, ২০১৮ ০১:১৮:০০

ফুলবাড়ীগেট-কুয়েট-তেলিগাতি সড়ক  পুনঃনির্মাণের দুই বছরের মধ্যে চলাচল অনুপযোগী 


নগরীর শিক্ষা জোন খ্যাত ফুলবাড়ীগেট-কুয়েট-তেলিগাতি গুরুত্বপূর্ণ সড়কটি কার্পেটিং এবং খোয়া উঠে বড় বড় গর্তে পরিণত হয়ে বেহাল দশায় পরিণত হয়েছে। পুনঃনির্মাণের দুই বছর না যেতে বড় বড় গর্তে সৃষ্টি হয়ে বর্তমানে চলাচলের প্রায় অনুপযোগী হয়ে জনদুর্ভোগের সৃষ্টি হয়েছে।
১৯৮৬ সালে কেডিএ কর্তৃপক্ষ জমি অধিগ্রহণ করে ১৯৮৭/৮৮ সালে সড়ক নির্মাণ করে। দীর্ঘ ৩৩ বছর পরে গত ২০১৬ সালের মাঝামাঝি সময়ে এলজিইডির তত্ত্ব¡াবধানে সড়কটির কুয়েট মেইনগেট থেকে তেলিগাতি পাকার মাথা পর্যন্ত রাস্তার পুনঃনির্মাণ কাজ করেন আলমগীর নামে জনৈক ব্যক্তি। পুনঃনির্মাণ কাজ করার সময় ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান রাস্তা খুঁড়ে রাস্তার নিচ থেকে সলিংয়ের ইট তুলে ফেলে ধুলা-বালু ভরাট করে নামমাত্র কম্পেকশন করে। সলিংয়ে বিছানো পুরাতন ইট ভেঙে রাস্তায় ব্যবহার করা হয়। তখন স্থানীয় বাসিন্দারা কাজ বন্ধ করে দিলে কয়েকদিন পর পুনরায় কাজ শুরু করে। কিছুদিন পর বর্ষার মধ্যে শুরু করে সড়কের কার্পেটিংয়ের কাজ। স্থানীয়রা অভিযোগ করে বলেন, সড়কটির পুনঃনির্মাণ কাজে অনিয়ম ও নিম্নমানের মালামালসহ বিভিন্ন অনিয়মের মধ্যে সড়কের কার্পেটিংয়ে সঠিক মাত্রার বিটুমিন না দেওয়ায় এবং কার্পেটিং এর থিথনেছ সঠিক মাত্রায় না দেওয়ায় বছর না যেতে সড়কটিতে খানা-খন্দে পরিণত হয়। স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, এলাকাবাসী এবং বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে গত ২০১৭ সালের ১৭ সেপ্টেম্বর খুলনা জেলা প্রশাসক ও এলজিইডি’র প্রধান প্রকৌশলীসহ বিভিন্ন দপ্তরে স্মারকলিপি প্রদান করেন। সড়কের অনিয়মের বিষয়ে তুলে ধরে বিভিন্ন পত্র-পত্রিকায় সংবাদ প্রকাশিত হয়। স্থানীয় জনপ্রতিনিধি মোঃ আরিফ হোসেন বলেন, রাস্তাটি নির্মাণে চরম অনিয়ম দুর্নীতি এবং অব্যবস্থার মধ্যে পুনঃনির্মাণ কাজ হওয়ায় গুরুত্বপূর্ণ সড়কটির আজ এই বেহাল দশায় পরিণত হয়েছে। সড়কের কয়েকটি স্থান জরুরী ভিত্তিতে সংস্কার না করলে যে কোন মুহূর্তে সড়কের যানবাহন চলাচল বন্ধ হয়ে যাবে। তিনি আরো বলেন রাস্তা নির্মাণের এক বছরের মধ্যে আন্দোলন করে কোন রকম সংস্কার করা হয়। দুই বছরের মধ্যে সড়কের অধিকাংশ স্থানের কার্পের্টি এবং খোয়া উঠে বড় বড় গর্তে পরিণত হয়ে চলাচলে সম্পূর্ণ অনুপযোগী হয়ে পড়েছে।
সরেজমিনে দেখা গেছে, ফুলবাড়ীগেট থেকে কুয়েট মেইনগেট পর্র্যন্ত সড়কের কার্পের্টিং এবং কংক্রিট উঠে শত ত খানা-খন্দে পরিণত হয়েছে। এছাড়া কুয়েট মেইনগেট থেকে খানাবাড়ী নারিকেল তলা পর্র্যন্ত এবং ল্যাবরেটরী স্কুল মোড় থেকে পাকার মাথা পর্র্যন্ত রাস্তার বিভিন্ন স্থানের কার্পেটিং এবং খোয়া উঠে বড় বড় গর্তে পরিণত হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে এই অবস্থা বিরাজ করলেও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ এগিয়ে না আশায় বর্ষা মৌসুমে সড়কের অবস্থা বেহাল দশায় পরিণত হয়েছে। বিশেষ করে কুয়েট মেইনগেট সংলগ্ন, কুয়েট ব্যাংক সংলগ্ন, খানাবাড়ী নারিকেল তলা এবং টিটিসি সংলগ্নের কয়েকটি স্থান জরুরী ভিত্তিতে সংস্কার না করা হলে সড়কটির যোগাযোগ ব্যবস্থা যে কোন সময়ে বন্ধ হয়ে যেতে পারে। জনগুরুত্বপূর্ণ সড়কটি দ্রুত সময়ে সংস্কারে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান এগিয়ে আসবে এমনটি আশা করেছেন স্থানীয় মেম্বর ও এলাকাবাসী করেছেন।
গুরুত্বপূর্ণ এই সড়কটি খুূলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ^বিদ্যালয় (কুয়েট), নির্মাণ কাজ চলা হাইটেক পার্ক, শিক্ষক প্রশিক্ষণ মহাবিদ্যালয়, উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষক প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউট, গভ. ল্যাবরেটরি হাইস্কুল, কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র, মহিলা কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে, খানাবাড়ী মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়, খানজাহান আলী বিএম কলেজসহ এই অঞ্চলের বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও কয়েকটি গ্রামের হাজার হাজার মানুষের যাতায়াতের একমাত্র মাধ্যম যা বর্তমানে বাইপাস সড়কের লিং রোর্ডটির বর্তমান অবস্থায় এলাকাবাসী ক্ষোভ প্রকাশ করেছে।
 


পাঠকের মন্তব্য (০)

লগইন করুন




আরো সংবাদ














ব্রেকিং নিউজ












তৃতীয় ফাইনাল নাকি স্বপ্ন ভঙ্গ

তৃতীয় ফাইনাল নাকি স্বপ্ন ভঙ্গ

২৬ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ০০:৫৫