খুলনা | বৃহস্পতিবার | ১৮ অক্টোবর ২০১৮ | ৩ কার্তিক ১৪২৫ |

Shomoyer Khobor

আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা দিন দিন বাড়ছে

টাইফয়েড ও ম্যালেরিয়ার ভ্যাক্সিন সংকট নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে খুলনায়

বশির হোসেন | প্রকাশিত ২৬ জুলাই, ২০১৮ ০২:৩০:০০

গত এক সপ্তাহে জ্বর নিয়ে খুলনা মেডিকেল কলেজ (খুমেক) হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে শতাধিক রোগী। এর মধ্যে অন্তত ২৫ শতাংশ রোগী টাইফয়েড এবং ম্যালেরিয়ায় আক্রান্ত। শরীরের জয়েন্টে ব্যথা, মাথার চুল পড়ে যাওয়াসহ নানা ধরনের শারীরিক ক্ষতির সম্মুখিন হওয়া এসব জ্বরের তেমন কোন কার্যকর ভ্যক্সিন বাজারে নেই। নামী দামী  কোম্পানেগুলোর ভ্যাক্সিন বাজারে না থাকায় রোগীদের সাথে সাথে খোদ ডাক্তারাও উদ্বিগ্ন । মেডিসিন এর চিকিৎসকরা বলছেন, বাজারে মানসম্মত ভ্যাক্সিন-এর সরবরাহ নেই। ফলে রোগীরা টাইফয়েড-এর ভ্যাক্সিন না পাওয়ায় এ রোগ থেকে মুক্তি পাচ্ছে না।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, গত ১ সপ্তাহে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মেডিসিনের ৫টি ওয়ার্ডে শুধু জ্বর নিয়ে শতাধিক রোগী ভর্তি হয়েছে। এর মধ্যে অন্তত ২৫ শতাংশ টাইফয়েড ও ম্যালেরিয়া জ্বরে আক্রান্ত আক্রান্ত। দীর্ঘদিন বাজারে টাইফয়েডের ভ্যাক্সিন না থাকার ফলে এ জ্বরে আক্রান্তের সংখ্যা বাড়ছে বলে মনে করেন চিকিৎসকরা। ফলে প্রতিরোধকের বাইরে প্রতিশোধক নির্ভর হয়ে পড়েছে চিকিৎসা ব্যবস্থা।
জানা গেছে, দীর্ঘদিন খুলনার বাজারে টাইফয়েডের ভ্যাক্সিন সংকট চলছে। অথচ টাইফয়েডের অনুমোদিত ভ্যাক্সিন আমদানি, এর বাজারজাত ও চিকিৎসা নিয়ে স্পষ্ট ধারণা নেই খুলনার চিকৎসকদের মধ্যে। সরকারি হাসপাতালগুলোসহ টিকা প্রদানকারী সরকারি ও বেসরকারি সংস্থাগুলো টাইফয়েডের টিকা নিয়ে রয়েছে অন্ধকারে। এমতাবস্থায় টাইফয়েডের ঝুঁকি থেকে শিশুদের বাঁচতে এর ভ্যাক্সিন সহজলভ্য করার দাবি জানিয়েছেন সচেতন অভিভাবকরা। বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক সূত্রে জানা যায়, টাইফয়েড সংক্রমণের উচ্চ মাত্রার ঝুঁকিতে রয়েছে শিশুরা। টাইফয়েড জ্বরের কারণ সালমোনেলা টাইফি ব্যাকটেরিয়া। এই ব্যকটেরিয়ায় সংক্রমিত ব্যক্তি দীর্ঘস্থায়ী জ্বর, মাথাব্যথা, বমিভাব, ক্ষুধামন্দা এবং কোষ্ঠকাঠিন্যে ভোগে। এই সালমোনেলা টাইফি ব্যকটেরিয়া অত্যন্ত সংক্রামক এবং দূষিত খাবার ও পানির মাধ্যমে ছড়ায়। অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ ও বিশুদ্ধ পানির অভাব রয়েছে এমন পরিবেশে এই রোগ ছড়ানোর সম্ভাবনা বেশি। সংক্রমণ ঠেকাতে টাইফয়েডের তিনটি টিকার অনুমোদন দেয়া হয়েছে। খুলনায় সর্বমোট তিনটি ভ্যাক্সিন এর বাজারজাত থাকলেও বর্তমানে ড্যাসপয়েড ছাড়া অন্য কোন ভ্যাক্সিন পাওয়া যাচ্ছে না। 
খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মেডিকেল অফিসার ডাঃ সুমন রায় এ প্রতিবেদককে বলেন, টাইফয়েড অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি রোগ। এতে শিশুরা বেশি ঝুঁকিতে থাকে। সালমোনেলা টাইফি ব্যাকটেরিয়া অত্যন্ত সংক্রামক এবং দূষিত খাবার ও পানির মাধ্যমে এ রোগ ছড়ায়। এ রোগের যে সকল ভ্যাক্সিন রয়েছে তার মধ্যে দেশী উৎপাদিত ভ্যাক্সিন এর তুলনায় বিদেশী আমদানী করা ভ্যাক্সিনগুলোর মান ভালো। দীর্ঘদিন ভ্যাক্সিন বাজারে না থাকায় এ রোগে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা বাড়তে পারে।


পাঠকের মন্তব্য (০)

লগইন করুন




আরো সংবাদ










শারদীয় দুর্গোৎসবের  আজ মহানবমী

শারদীয় দুর্গোৎসবের  আজ মহানবমী

১৮ অক্টোবর, ২০১৮ ০০:৪৯




ব্রেকিং নিউজ











শারদীয় দুর্গোৎসবের  আজ মহানবমী

শারদীয় দুর্গোৎসবের  আজ মহানবমী

১৮ অক্টোবর, ২০১৮ ০০:৪৯