খুলনা | বৃহস্পতিবার | ১৫ নভেম্বর ২০১৮ | ১ অগ্রাহায়ণ ১৪২৫ |

Shomoyer Khobor

বাংলাভাষা কেন এখনো উচ্চস্তরে ঠাঁই পায়নি?

এনায়েত আলী বিশ্বাস | প্রকাশিত ২১ ফেব্রুয়ারী, ২০১৭ ০১:১১:০০

বাংলাভাষা কেন এখনো উচ্চস্তরে ঠাঁই পায়নি?

১৯৫২ থেকে ২০১৭ পঁয়ষট্টিটি বছর পেরিয়ে গেছে ইতোমধ্যে পদ্মা-মেঘনা দিয়ে অনেক জল গড়িয়ে গেছে। যে পদ্মার বুকে পাড়ি জমাতে ঝানু মাঝির বুক কাঁপতো একদিন। সেই পদ্মা এখন মরা খালে রূপ নিয়েছে। অসংখ্য ছোট ছোট দ্বীপে এখন মানুষের বাস। তেমনি যে আশা আর উদ্দীপনা নিয়ে ১৯৫২ সালের ২১ ফেব্র“য়ারিতে ঢাকার রাজপথে বাংলাভাষাকে মায়ের ভাষা, রাষ্ট্রভাষা করার দাবীতে পাকিস্তানী হানাদার বাহিনীর বুলেটের আঘাতে প্রাণ দিয়েছিল সালাম, রফিক, বরকত, জব্বারের মত তরুণ তাজা প্রাণ। তাদের রক্তের বিনিময়ে বাংলাভাষা আজ রাষ্ট্র ভাষা। শুধু বাংলাদেশে নয়, বাংলাভাষা আজ আন্তর্জাতিক ভাষার মর্যাদা পেয়েছে। ২১ ফেব্র“য়ারির শহীদ দিবস সারা বিশ্বে শহীদ দিবস হিসেবে পালিত হয়। এটা বাঙ্গালীর গর্ব গৌরবের বিষয়। দেশ আজ স্বাধীন। পূর্বপাকিস্তান থেকে এখন স্বাধীন ও সার্বভৌম বাংলাদেশ। সেও ছয়চল্লিশ বছর হয়ে গেল। তলাবিহীন ঝুড়ি এখন মধ্যম আয়ের গেশে পরিণত হতে চলেছে। মাথা পিছু আয় বৃদ্ধি পেয়েছে। শিক্ষার হারও বেড়েছে। পদ্মা, সেতুসহ দেশের সার্বিক উন্নয়নও ঘটেছে। কিন্তু উন্নতি হয়নি বাংলাভাষার। সর্বস্তরে এখনো বাংলাভাষা চালু হয়নি। বিশেষ করে উচ্চ আদালত উচ্চ গবেষণার ক্ষেত্রে বাংলা মিডিয়ামের পরিবর্তে ইংরেজী মিডিয়াম স্কুলে ব্যাপক বিস্তার ঘটেছে শহর থেকে উপজেলা পর্যন্ত। শিক্ষিত ব্যক্তিরা তাদের ভবিষ্যত বংশধরদের বাংলা ভার পরিবর্তে ইংরেজি ভাষায় শিক্ষিত করে তুলতে কিল্ডার গার্টেন স্কুলে ভর্তি করাচ্ছে। শুধু তাই নয় এসব কেজি স্কুলে বাঙালী সংস্কৃতির পরিবর্তে বিদেশী সংস্কৃতিকে শিক্ষা দেওয়া হচ্ছে। যা স্বাধীন দেশে মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বিশ্বাসী জনপদে কোনভাবেই উচিত নয়। অথচ তাই হচ্ছে। কেন হচ্ছে তার সঠিক কারণ এ পর্যন্ত কেন করেননি। করা উচিত ছিল না। তাহলে বাংলা ভাষাকে নিয়ে ছিনিমিনি খেলার প্রবণতা কমতো। কিন্তু কেউ এমন স্বাধীন বাংলাভাষা রাষ্ট্রভাষা  এটুকুই যথেষ্ট। কিন্তু খতিয়ে দেখেননি রাষ্ট্রভাষা হলেও প্রথম থেকেই এর বিরুদ্ধে একটা গোষ্ঠী তৎপর ছিল। তাদের তৎপরতা যে কমেনি অবস্থাদৃষ্ট তাই প্রতীয়মান হয়। সমাজের উঁচু স্তরে সর্বত্র এখনো বাংলা চালু হযনি সেটা যেমন ঠিক তেমনি লেখাও লড়ার ক্ষেত্রে বানান নিয়ে বিভ্রান্তির কমতি নেই। শহরে বন্দরে গ্রামগঞ্জের সেদিকে-ই তাকাইলা কেন। সাইনবোর্ড বিলবোর্ড, দোনাপাটের বানান নাম লেখায় বানান দেখলে বাংলাভাষার দৈন্য দশা স্পষ্ট হয়ে ওঠে। অবস্থাদৃষ্টে মনে হয় দেখার কেউ নেই। সব দু’চারজন আচেন তারা বললেও কেউ ভ্রুক্ষেপ করেন না।এ ক্ষেত্রে সাইনবোর্ড লেখকদের অনেকেই দোষারোপ করে থাকেন। কিন্তু যারা সাইন বোর্ড লেখাতে দেন ভুলটা তাদেরই। এ ক্ষেত্রে অনেক প্রতিষ্ঠিত লেখককে দেখা গেছে বাংলা বানান নিয়ে তাদের নত্ব যত্ব বোধ নেই। পৃথিবীর অন্য কোন ভাষার ক্ষেত্রে ্এমন হেলা ফেলা নেই। অবশ্য বাংলা বানানের ক্ষেত্রে কোন সর্বজনগ্রাহ্য রীতিও নেই। যার যেমন ইচ্ছা লিখছি। বাংলা একাডেমী প্রকাশিত বাংলা বানানের নিয়ম প্রকাশ করেন ১৯৯২ সালে। সে বানানের প্রতি শ্রদ্ধা রেখে নরেন বিশ্বাস বর্তমান সংস্কারনে বানান সংশোধন করেছেন। তবে খোদ বাংলা একাডেমী সংক্ষিপ্ত বাংলা অভিধানে শ্রেণী বানান ওই একই প্রতিষ্ঠান কর্তৃ প্রকাশিত ব্যবহারিক অভিধানে শ্রেণি করা হয়েছে। অবশ্য বিকল্প হিসেবে শ্রেণী বানানও রাখা হয়েছে। বানান অভিধানে দেশি বানান ব্যবহারিক বাংলা অভিধানে হয়ে গেছে দেশী। কোনটা লিখবো আর কোনটা সঠিক হকে তা কেন জোর করে বলা যাচ্ছে না। বিভ্রান্তির ধুম্রজাল সৃষ্টি না করে সঠিক বানানটা লেখা উচিত। বাংলা ভাষার অভিধান হিসেবে অনেকেই বাংলা একাডেমীকে মনে করে থাকেন। অথর্ব এই প্রতিষ্ঠানের মুদ্রণ ও ইলেকট্রনিক্স মাধ্যমগুলো বানান যা ইচ্ছে তাই করছে। শুধু মাধ্যম গুলো নয় বাংলা একাডেমী  সম্প্রতি অরুনাভ সরকারের একটি বইয়ে যে বানান রীতির পক্ষে সুদৃঢ় অভিমত ব্যক্ত করা হয়েছে তাহ ঐ প্রতিষ্ঠান থেকে  প্রকাশিত অভিধানের সঙ্গে অনেক ক্ষেত্রেই সঙ্গতিপূর্ণ নয়। বিষ্ময় লাগে অনেকে ভাষার  মতো বানানকেও  সতত প্রবহমান। পরিবর্তনশীল মনে করেন বলেই আজরেক এই সমস্যা। দেশের পত্রিকাগুলো একএকটি এক এক রকম বানানরীতি অনুস্মরণ করে থাকে। কেউ লেখেন  ফোন কেউ লেখেন কেউ লেখেন ফোনও। আবার কেউ লেখেন একই পত্রিকায় আবার দেকা যায় দু’ধরনের বানান, কেউ লেখেন সঙ্গীত, কেউ লেখেন সংগীত, আশঙ্কা, আশংকা, বন্দি, বন্দী এমনি নানা ধরনের বানান রীতি চলছে বাংলায়। একই সার্বজনীন বানান রীতি এখনো চালু করা সম্ভব হয়নি। এর কারণ আমরা  সবাই বাংলা ভাষায় কথা বলি। অথচ এই বলা এক এক অঞ্চলে এক এক রকম। আঞ্চলিক ভাষায় একেক অঞ্চলের মানুষ এক কথাকে এক এক ভাবে উচ্চারণ করে থাকেন। সেখানে বলার ক্ষেত্রে তেমন অসুবিধা না থাকলেও অসুবিধা দেখা দেয় লেখার ক্ষেত্রে। আর বলার চেয়ে যেখানে লেখার বিষয়টাকে অধিকমাত্রায় গুরুত্বপূর্ণ দেয়া হয়। তাই লেখ্য বিষয়টা সবসময় গুরুত্ব পায়। যেমন খোদ বাংলা একাডেমীর নাম লেখার পদ্ধতি নিয়ে দ্বিমত আছে। একাডেমী বানান অ্যাকাডেমী লেখা উচিত। অথচ বিষয়টা নিয়ে এ পর্যন্ত কেউ ২য় চিন্তাই করেনি। যারা বানান শুদ্ধ করবে সেখানেই যদি ভুল আসন গেড়ে বসে থাকে তাহলে তাদের কাছ থেকে আর কতখানি আশা করা যায়? অবশ্য এ প্রসঙ্গে অনেকে বলেন, বেশ কিছু ভুল বানান দীর্ঘদিন চলে আসায় সবাই তাকে নির্ভুল হিসেবে মেনে নিয়েছে। এটা ঠিক নয়। ভুল চিরদিন ভুল। তাকে বর্জন করা উচিত। কিন্তু আমাদের দেশে হচ্ছে তার বিপরীত হয়। শুধু বানান নয়;  শব্দ চয়নেও বহু ভুল আছে। এ ক্ষেত্রে একটা উদাহরণে বুঝা যায়। যেমন সভা সমিতিতে বক্তারা বিশেষ করে রাজনৈতিক নেতারা প্রায় সময় জনগণকে আপামর বলে সম্বোধন করেন। এটা একটা গালি বাচক শব্দ। এর অর্থ পাপিষ্ঠ পর্যন্ত সকলে। ভাগ্যিস এর অর্থ বেশিরভাগ মানুষ জানেননা। বুঝলে নেতাদের কপালে দুঃখ ছিল।
বাংলা ভাষার উন্নতি বা অবনতি যাই ঘটে থাকুক না কেন; এ ব্যাপারে সচেতনতার একান্ত অভাব রয়েছে। সরকারকে সচেষ্ট হতে হবে। সরকারই পারে অনেক সমস্যার সমাধান করতে। এক্ষেত্রে বর্তমান মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বিশ্বাসী আওয়ামী লীগ সরকারই পারে বাংলা ভাষার দৈন্য দশা ঘুচিয়ে দেশের অভ্যন্তরে সর্বস্তরে বাংলাকে প্রতিষ্ঠিত করতে। সেক্ষেত্রে বঙ্গবন্ধু তনয়া প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার যুগান্তকারী অন্যান্য পদক্ষেপে বাংলা ভাষার সর্বত্র ব্যবহার নিশ্চিত করার মত দৃঢ় ঘোষণাকে জনগণ কামনা করছেন।

 


পাঠকের মন্তব্য (০)

লগইন করুন




আরো সংবাদ

বদলে যাবে মংলা বন্দর

বদলে যাবে মংলা বন্দর

০৩ জুলাই, ২০১৮ ০২:০১













ব্রেকিং নিউজ