খুলনা | শুক্রবার | ১৭ অগাস্ট ২০১৮ | ২ ভাদ্র ১৪২৫ |

Shomoyer Khobor

নগরীর পোস্ট অফিসগুলোতে সঞ্চয়পত্র কেনার হিড়িক

এস এম আমিনুল ইসলাম   | প্রকাশিত ২৩ জুলাই, ২০১৮ ০১:৫৭:০০


স্বামী অনেক আগেই মারা গেছেন। পাঁচ জনের সংসার। অর্থ উপার্জনের অন্য কোন পথও খোলা নেই। সন্তানদের লেখা-পড়াসহ পুরো সংসার পরিচালনায় এখন অনেক খরচ। ব্যবসায় বিনিয়োগ করেও অনেক সময় লোকসানের সম্মুখিন হতে হচ্ছে। আর আজ-কাল টাকা-পয়সার লেনদেনের ক্ষেত্রেও কাউকে বিশ্বাস করা যায় না। তাই আস্থ’া ও বিশ্বাসের জায়গা হিসেবে পোস্ট অফিসই ভালো। ব্যাংক থেকে পোস্ট অফিসে মুনাফাও অনেক বেশি। এসব কথা চিন্তা করেই সঞ্চয়পত্র ক্রয় করেছি। কথাগুলো বলছিলেন খুলনা জিপিওতে পরিবার সঞ্চয়পত্রের মুনাফা তুলতে আসা দৌলতপুরের বাসিন্দা স্বর্ণা আক্তার (৪০)। 
জিপিওতে ২২ লাখ টাকার পরিবার সঞ্চয়পত্র ক্রয় করতে আসা খালিশপুরের বাসিন্দা আলেয়া বেগম (৫০) বলেন, এখন কাজ করার জন্য শারীরিক সামর্থ্য নেই। জমি বিক্রি ও সারা জীবনের জমাকৃত টাকা একসাথে করে পরিবার সঞ্চয়পত্র কিনেছি। কারও উপর নির্ভরশীল বা মুখাপেক্ষী হয়ে থাকতে চাই না। আর পোস্ট অফিসে টাকা খোয়া যাওয়ারও সম্ভাবনা নেই। ফলে প্রতি মাসে চিন্তামুক্ত ও সুন্দরভাবেই সঞ্চয়পত্রের মুনাফার টাকায় সংসার চলে যাবে। 
খুলনা জিপিওতে আসা শুধু স্বর্ণা আক্তার ও আলেয়া বেগম নয়, নগরীতে এমন অন্তত ৩৮টি পোস্ট অফিস রয়েছে। এসব পোস্ট অফিসে প্রতিদিন অসংখ্য মানুষ বিভিন্ন প্রকার সঞ্চয়পত্র ক্রয় ও মুনাফা উত্তোলনের জন্য এসে ভীড় জমাচ্ছে। শেয়ার বাজারে ধস, ব্যাংকে সুদ কম ও ব্যবসায়ে লোকসানের সম্ভাবনা থেকে বাঁচতে সঞ্চয়পত্র ক্রয়ে আগ্রহী হচ্ছে এসব মানুষ। ফলে এসব মানুষকে সেবা দিতে অনেকটা হিমশিম খাচ্ছে পোস্ট অফিসের দায়িত্বরত কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। অনেক সময়ে সঞ্চয়পত্র ফটোকপি করে গ্রাহকদের সরবরাহ করা হচ্ছে।
পোস্ট অফিস সূত্রে জানা গেছে, চলতি বছরের গত জুন মাসে খুলনার দৌলতপুর সাব পোস্ট }} ২ পাতার ৪ কলাম
অফিস, বিএল কলেজ সাব পোস্ট অফিস, খুলনা জিপিও ও খুলনা সিটি এইচ ও এই চারটি পোস্ট অফিসে ৬০ কোটি ৩৫ লাখ ২ হাজার টাকার বিভিন্ন প্রকার সঞ্চয়পত্র বিক্রি হয়েছে। এর মধ্যে ৬৬ লাখ ৩২ হাজার টাকার পাঁচ বছর মেয়াদী বাংলাদেশ সঞ্চয়পত্র, ১৫ কোটি ৮২ লাখ টাকার ৩ মাস অন্তর মুনাফা ভিক্তিক সঞ্চয়পত্র, ৩৯ কোটি ১৬ লাখ ২০ হাজার টাকার পরিবার সঞ্চয়পত্র এবং ৪ কোটি ৭০ লাখ ৫০ হাজার টাকার পেনশনার সঞ্চয়পত্র বিক্রি হয়েছে। এছাড়া খুলনা সদর, শিপইয়ার্ড, বিআইটি, শিরোমনি, জাহানাবাদ ক্যান্টনমেন্ট, সোনালী জুট মিলস্, আটরা শিল্প এলাকা ও খুলনা ইউনিভার্সিটিসহ আরও ৩৪টি পোস্ট অফিস রয়েছে। এসব অফিসেও প্রতিদিন কোটি কোটি টাকার পাঁচ বছর মেয়াদী বাংলাদেশ সঞ্চয়পত্র, ৩ মাস অন্তর মুনাফা ভিক্তিক সঞ্চয়পত্র, পরিবার সঞ্চয়পত্র এবং পেনশনার সঞ্চয়পত্র বিক্রি হচ্ছে। 
তিন মাস অন্তর মুনাফা ভিক্তিক সঞ্চয়পত্র ক্রয়কারী মোজাহারুল ও মাহমুদুল আলম বলেন, পোস্ট অফিস খোদ সরকারি প্রতিষ্ঠান। এখানে টাকা লোকসান ও খোয়া যাওয়ার সম্ভাবনা নেই। ফলে মানুষ এখানে টাকা রেখে নিরাপদে থাকছে। এছাড়া বিভিন্ন প্রকল্পে ব্যাংক থেকে পোস্ট অফিসে সুদের পরিমাণ বেশি। ফলে প্রতিমাসে নির্দিষ্ট সময়ে মুনাফা তুলতে ভীড়ে একটু ভোগান্তি হলেও অনেক মানুষ খুশি।
খুলনা জিপিও-এর পোস্ট মাস্টার জেনারেল মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম এ প্রতিবেদককে বলেন, প্রথমত পোস্ট অফিস সরকারী প্রতিষ্ঠান। তাই পোস্ট অফিসের প্রতি মানুষের আস্থা অনেক বেশি। আস্থার জায়গা থেকে মানুষ সঞ্চয়পত্র ক্রয় করছেন। এছাড়া শেয়ার বাজারে ধস, ব্যাংকে সুদ কম ও বিভিন্ন ব্যবসায়ে লোকসানের সম্ভাবনা, বিনিয়োগের উপযুক্ত ক্ষেত্র না থাকার কারনেও মানুষ সঞ্চয়পত্র ক্রয় করছেন। বিভিন্ন প্রকল্পে আওতায় সঞ্চয়পত্র ক্রয়ে অনেক সুযোগ-সুবিধা রয়েছে। তিনি আরও বলেন, মানুষ পরিবার সঞ্চয়পত্রের দিকে বেশি ঝুকছে। বিশেষ করে অধিকাংশ নারীরা পরিবার সঞ্চয়পত্র ক্রয়ে আগ্রহী। এছাড়া ৬৫ বছর বয়সী পুরুষরাও পরিবার সঞ্চয়পত্র ক্রয় করছেন। এতে সরকারের কাছে প্রতিদিন শত শত কোটি টাকা জমা হাচ্ছ। সঞ্চয়পত্র বিক্রি হওয়া বাবদ এসব অর্থ পোস্ট অফিসগুলো বাংলাদেশ ব্যাংকে জমা রাখচ্ছে। সরকার এসব টাকা বিভিন্ন ক্ষেত্রে ব্যবহারের সুযোগ পাচ্ছে।


পাঠকের মন্তব্য (০)

লগইন করুন




আরো সংবাদ














ব্রেকিং নিউজ











ফাইনালে বাংলাদেশের মেয়েরা

ফাইনালে বাংলাদেশের মেয়েরা

১৭ অগাস্ট, ২০১৮ ০১:০২