খুলনা | শনিবার | ১৮ অগাস্ট ২০১৮ | ২ ভাদ্র ১৪২৫ |

মধ্যরাতে বন্ধ বড়পুকুরিয়া বিদ্যুৎকেন্দ্র!

২২৭ কোটি টাকার কয়লা গায়েবে তোলপাড় ফেঁসে যেতে পারেন খনি কর্মকর্তারা

২৩ জুলাই, ২০১৮ ০০:১১:০০


বড়পুকুরিয়া কয়লাখনি থেকে ২২৭ কোটি টাকার কয়লা গায়েব হয়ে যাওয়ার ঘটনায় তোলপাড় শুরু হয়েছে জ্বালানি বিভাগে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এক-দুই বছরে এই বিপুল পরিমাণ কয়লা সরিয়ে ফেলা সম্ভব নয়। খনির সাবেক ও বর্তমান কর্মকর্তাদের অনেকেই এরসঙ্গে জড়িত বলে ধারণা করছেন তারা। এ ঘটনায় খনির কর্মকর্তারা ফেঁসে যেতে পারেন বলেও তাদের ধারণা। এদিকে, কয়লার অভাবে বড়পুকুরিয়া বিদ্যুৎকেন্দ্রটি বন্ধ করার প্রস্তুতি নিচ্ছে বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (পিডিবি)। রবিবার (২২ জুলাই) রাত ১২টার পর বিদ্যুৎকেন্দ্রটি বন্ধ করে দেওয়া হবে বলে জানান পিডিবির সদস্য (বিতরণ) সাঈদ আহমেদ।
জানা গেছে, বড়পুকুরিয়া খনিতে কয়লা মজুদের পরিমাণ কাগজে-কলমে রয়েছে একলাখ ৪০ হাজার টন। এর আগে ২০০৫ সালের কয়লা মজুদ এবং বিক্রির হিসাব পর্যালোচনা করে এই হিসাব দাঁড় করিয়েছে খনি কর্তৃপক্ষ। এই হিসাবই পিডিবিকে মৌখিকভাবে প্রতিষ্ঠানটি জানিয়েছিল। কিন্তু খনি থেকে উত্তোলনের পর মজুদাগারের সব কয়লা জড়ো করে গেছে, সেখানে সর্বোচ্চ ১০ হাজার টনের মতো কয়লা রয়েছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ২০০৫ সাল থেকে উত্তোলন, বিক্রি ও মজুদ হিসাব করে কাগজে কলমে এক লাখ ৪০ হাজার টন কয়লা দেখানো হয়েছে। অথচ এখন এই মজুদের পরিমাণ ১০ হাজার টন। বাকি এক লাখ ৩০ হাজার টন কয়লা  কোথায় গেল, এই নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
বড়পুকুরিয়া খনি সংশ্লিষ্টরা জানান, এই খনি থেকে খোলা বাজারে কয়লা বিক্রি করা হয়। এই বিক্রিতে একটি মহল বেশি পরিমাণ কয়লা বিক্রি করে খাতায় কম হিসাব দেখাতে পারে। আবার কয়লা না তুলেও চীনা কোম্পানি অতিরিক্ত  উত্তোলন দেখিয়ে বেশি অর্থ নিয়ে যেতে পারে। তবে, সবকিছুই তদন্ত শেষে জানা যাবে বলে সংশ্লিষ্টরা জানান।
প্রসঙ্গত, গত সপ্তাহে খনির শিফট পরিবর্তনের সময় বিদ্যুৎকেন্দ্রটি কয়লা সংকটে পড়ায় বিষয়টি সবার নজরে আসে। পিডিবির সদস্য সাঈদ আহমেদই কয়লা খনি পরিদর্শনের গিয়ে মাত্র ১০ হাজার টন কয়লা মজুদ পান।  ওই সময় তিনি বলেন, ‘এক সপ্তাহের মধ্যেই কয়লার অভাবে বিদ্যুৎকেন্দ্র বন্ধ হয়ে যাবে। ওই সময়  কয়লা গায়েবের বিষয়টি খতিয়ে দেখতে একটি তদন্ত কমিটিও গঠন করা হয়।’
সাঈদ আহমেদ বলেন, ‘আমরা কেন্দ্র বন্ধ করার প্রস্তুতি নিচ্ছি। রবিবার রাত ১২টার পর বন্ধ হয়ে যেতে পারে। কিছু কয়লা বিদ্যুৎকেন্দ্রে সংরক্ষিত থাকে। যা ব্যবহার করে ফেলতে হয়। এখন সেগুলোই ব্যবহার করা হচ্ছে।’
কয়লা গায়েবের বিষয়ে গঠিত তদন্ত কমিটির এক সদস্য নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, ‘এক-দুই বছরের মধ্যে এই বিপুল পরিমাণ কয়লা সরিয়ে ফেলা সম্ভব নয়। ফলে এত কয়লা গায়েব হওয়া নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। আদৌ এই পরিমাণ কয়লা উত্তোলন করা হয়েছিল? না উত্তোলন না করেই কাগজে এই হিসাব দেখিয়ে টাকা উঠানো হয়েছে, তা এখন খতিয়ে দেখা হচ্ছে। যদি খনি কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত হয়, তাহলে ফেঁসে যাবেন খনি কর্মকর্তারাই।’
তবে এ বিষয়ে বড়পুকুরিয়ার সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক হাবিব উদ্দিন আহমেদ বলেন, ‘২০০৫ সাল থেকে এ পর্যন্ত এককোটি ২০ লাখ মেট্রিক টন কয়লা উত্তোলন করা হয়। সেই কয়লা রাখা হতো খোলা আকাশে নিচে। এই পদ্ধতিতে রোদে শুকিয়ে, পানিতে ধুয়ে, বাতাসে উড়ে, মাটিতে মিশে অনেক কয়লা নষ্ট হয়েছে।’
এই বিষয়ে রবিবার সচিবালয়ে বিদ্যুৎ জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ বলেন, ‘বড়পুকুরিয়ার কয়লা নিয়ে যে অভিযোগ উঠেছে, তা তদন্তের জন্য কমিটি করা হয়েছে। কমিটিকে সময় বেঁধে দেওয়া হয়েছে। সাতদিনের মধ্যে প্রতিবেদন পাওয়া যাবে। যদি অভিযোগ সত্য প্রমাণিত হয়, আর কেউ দোষী প্রমাণিত হয়ন, তাহলে শাস্তি পাবেন।’
জানতে চাইলে পেট্রোবাংলার চেয়ারম্যান আবুল মনসুর মো. ফয়জুল্লাহ বলেন, ‘তদন্ত প্রতিবেদন হাতে পেলেই বোঝা যাবে কী হয়েছে। আমি তদন্ত কমিটিকে তিন দিনের সময় দিয়েছি।’ সিস্টেম লসের বিষয়ে তিনি বলেন, ‘এ কথা আগে বলেনি কেন? পরিদর্শনের পর ধরা পড়ার পর এই কথা বললে হবে? এটি তো গ্যাস না, যে উড়ে যাবে!’
প্রসঙ্গত, বিপুল পরিমাণ কয়লা গায়েবের ঘটনা  জানাজানির পর বৃহস্পতিবার (১৯ জুলাই) রাতেই খনি কর্তৃপক্ষের ব্যবস্থাপনা পরিচালক প্রকৌশলী হাবিব উদ্দিন আহমেদকে পেট্রোবাংলার চেয়ারম্যানের দফতরে সংযুক্ত করা হয়। শুক্রবার ব্যবস্থাপনা পরিচালক ছাড়া দুই জনকে প্রত্যাহার এবং দুই জনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়। একই সঙ্গে অভিযোগ তদন্তে তিন সদস্যের একটি কমিটিও গঠন করা হয়। তিন সদস্যের তদন্ত কমিটিতে আহ্বায়ক করা হয়েছে কয়লা খনি কোম্পানিটির নিয়ন্ত্রণকারী প্রতিষ্ঠান পেট্রোবাংলার পরিচালক (মাইন অপারেশন) কামরুজ্জামানকে। সূত্র : বাংলা ট্রিবিউন


পাঠকের মন্তব্য (০)

লগইন করুন




আরো সংবাদ














ব্রেকিং নিউজ