খুলনা | শুক্রবার | ১৭ অগাস্ট ২০১৮ | ২ ভাদ্র ১৪২৫ |

Shomoyer Khobor

কুষ্টিয়ায় আদালত প্রাঙ্গণে হামলায়  মাহমুদুর রহমান রক্তাক্ত  গাড়ি ভাঙচুর

খবর প্রতিবেদন | প্রকাশিত ২৩ জুলাই, ২০১৮ ০০:০৭:০০


কুষ্টিয়ায় ‘দৈনিক আমার দেশ’ পত্রিকার ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক মাহমুদুর রহমানের ওপর হামলা হয়েছে। মানহানির মামলায় জামিন নিয়ে বের হওয়ার পর আদালত প্রাঙ্গণেই তাঁর গাড়িতে হামলা ও ভাঙচুর করা হয়। ওই সময় লাঠি ও ইটপাটকেলের আঘাতে আহত হন মাহমুদুর রহমান। গতকাল রবিবার বিকেল সাড়ে চারটার দিকে এ ঘটনা ঘটে। পরে কয়েকজন আইনজীবীর সহযোগিতায় মাহমুদুর রহমান গাড়ি থেকে বের হন। বিকেল ৫টার দিকে আদালত প্রাঙ্গণ থেকে এ্যাম্বুলেন্সে করে মাহমুদুর রহমান ও তাঁর সহযোগীরা ঢাকার উদ্দেশ্যে রওয়ানা দেন।
গতকাল বেলা সাড়ে ১১টায় ঢাকা থেকে কুষ্টিয়া গিয়ে আদালতে মানহানির মামলায় জামিন আবেদন করেন মাহমুদুর রহমান। জ্যেষ্ঠ বিচারিক হাকিমের আদালতের বিচারক শুনানি শেষে ১০ হাজার টাকার মুচলেকায় দুপুর ১২টার দিকে তাঁর জামিন মঞ্জুর করেন। জামিন শেষে আদালত থেকে বের হওয়ার সময় হামলাকারীরা ঘিরে ধরার চেষ্টা করলে মাহমুদুর রহমান হামলার আশঙ্কায় আদালত ভবনেই অবস্থান নেন। ওই সময় ওই ভবনের সব গেটে অবস্থান নিয়ে বিভিন্ন শ্লোগান দিতে থাকে হামলাকারীরা। বেশ কয়েক ঘণ্টা আদালত ভবনে অবরুদ্ধ হয়ে পড়েন মাহমুদুর রহমান। ওই সময় তাঁর সঙ্গে কুষ্টিয়া জেলা বিএনপি সভাপতি সৈয়দ মেহেদী আহমেদ রুমীসহ কয়েকজন আইনজীবী উপস্থিত ছিলেন। এক পর্যায়ে আদালতের এজলাসে আশ্রয় নেন মাহমুদুর রহমান। দীর্ঘ সময় একই পরিবেশ বিরাজ করায় তিনি আদালতকে বিষয়টি জানান এবং লিখিতভাবে পুলিশী নিরাপত্তার জন্য আবেদন করেন। দীর্ঘ ৪ ঘন্টা ১৫ মিনিট পর মাহমুদুর রহমান বের হয়ে একটি প্রাইভেটকার যোগে রওনা হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে হামলা শুরু হয়। হামলাকারীরা প্রথমে গাড়িটির সব কাঁচ ভেঙে ফেলে। পরে ভাঙা কাঁচের ভেতর দিয়ে লাঠি ও ইট পাটকেল দিয়ে আঘাত করা হয়। ওই আঘাতে আহত হন মাহমুদুর রহমান।
গাড়ি ভাঙচুরের সময় হামলাকারীরা ‘জয় বাংলা’ শ্লোগান দিচ্ছিল। ওই সময় হামলাকারীরা বঙ্গবন্ধুকে কটূক্তি করার জন্য মাহমুদুর রহমানের বিরুদ্ধে বিভিন্ন শ্লোগান ও গালিগালাজ করতে থাকে। ঘটনার সময় পুরো আদালত প্রাঙ্গণে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। হামলার পর পুলিশের উদ্দেশ্য মাহমুদুর রহমান বলেন, ‘পুলিশ পাহারা দিয়ে আমার ওপর হামলা করালো। মরে যাব তবুও আমার সংগ্রাম চলবে।’
এ ব্যাপারে সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নাসির উদ্দিন আহমেদ কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি। ঘটনার পরে তাঁর সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগ করা হলেও তিনি কোনো মন্তব্য করতে চাননি। এ বিষয়ে কুষ্টিয়া জেলা ছাত্রলীগ সভাপতি ইয়াসির আরাফাত তুষার বলেন, “আমি এই মামলার বাদী হিসেবে আজ (রবিবার) কোর্টে গিয়েছি। এ সময় কেউ যদি কোনো অপ্রীতিকর ঘটনার শিকার হন তার জন্য তো আমি দায়ী নই। এই মামলার বিবাদীর উপর কে বা কারা হামলা করেছে সেটাও আমি জানি না।”
এদিকে কুষ্টিয়ায় আদালত ভবনে ছাত্রলীগের হামলায় রক্তাক্ত মাহমুদুর রহমান ঢাকার পথে রওয়ানা হন। তিনি কুষ্টিয়া থেকে সড়কপথে এ্যাম্বুলেন্সযোগে যশোর পৌঁছান। পরে সেখান থেকে বিমানযোগে ঢাকায় ফেরেন। বিমানবন্দরবন্দর থেকে মাহমুদুর রহমানকে সরাসরি নিয়ে যাওয়া হয় ইউনাইটেড হাসপাতালে। সেখানেই চিকিৎসা নেবেন তিনি।
উল্লেখ্য ২০১৭ সালের ১০ জানুয়ারি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এবং তাঁর নাতনি টিউলিপকে নিয়ে কটূক্তি করার অভিযোগে কুষ্টিয়া জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি ইয়াসিন  আরাফাত তুষার কুষ্টিয়ায় মানহানির মামলা দায়ের করেন।
মাহমুদুর রহমানের ওপর হামলার প্রতিবাদে নিন্দা ও উদ্বেগ প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়ন (বিএফইউজে) ও ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের (ডিইউজে) একাংশ। বিএফইউজের (একাংশ) সভাপতি রুহুল আমীন গাজী, মহাসচিব এম আবদুল্লাহ, ডিইউজের (একাংশ) সভাপতি কাদের গনি চৌধুরী ও সাধারণ সম্পাদক মোঃ শহীদুল ইসলাম এক বিবৃতিতে হামলাকারীদের শাস্তি দাবি করেন।
 


পাঠকের মন্তব্য (০)

লগইন করুন




আরো সংবাদ








চিরনিদ্রায় গোলাম সারওয়ার

চিরনিদ্রায় গোলাম সারওয়ার

১৭ অগাস্ট, ২০১৮ ০০:০৮



আমীর খসরুকে  দুদকে তলব 

আমীর খসরুকে  দুদকে তলব 

১৭ অগাস্ট, ২০১৮ ০০:০২



ব্রেকিং নিউজ











ফাইনালে বাংলাদেশের মেয়েরা

ফাইনালে বাংলাদেশের মেয়েরা

১৭ অগাস্ট, ২০১৮ ০১:০২