খুলনা | বৃহস্পতিবার | ১৩ ডিসেম্বর ২০১৮ | ২৯ অগ্রাহায়ণ ১৪২৫ |

Shomoyer Khobor

শিল্পকলা ভবনে নিম্নমানের নির্মাণ সামগ্রী ব্যবহারের অভিযোগ : কর্তৃপক্ষের ‘না’

নিজস্ব প্রতিবেদক | প্রকাশিত ২২ জুলাই, ২০১৮ ০২:৩০:০০

জেলা শিল্পকলা একাডেমী কমপ্লেক্স ভবনে নিম্নমানের নির্মাণ সামগ্রী ব্যবহারের অভিযোগ উঠেছে। এ অভিযোগের প্রতিবাদ করেছেন সাংস্কৃতিক কর্মীরা। পরিদর্শন করেছেন খুলনা-২ আসনের সংসদ সদস্য আলহাজ্ব মিজানুর রহমান মিজান ও নব-নির্বাচিত মেয়র তালুকদার আব্দুল খালেক। তবে ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান ও সরকারি তদারকী কর্তৃপক্ষ বলছেন, “না,  এ ধরনের অভিযোগ সঠিক নয়।”
গত ১২ জুলাই দুপুরে জেলা শিল্পকলার নির্মাণাধীন ভবনের সামনে মানববন্ধন করেন স্থানীয় সংস্কৃতি কর্মীরা। তাদের অভিযোগ, শিল্পকলা একাডেমির নির্মাণাধীন ভবনে খুবই নিম্নমানের নির্মাণ সামগ্রী ব্যবহার করা হয়েছে। যে কারণে কাজ সম্পন্ন হওয়ার আগেই ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠছে ভবনটি। অবিলম্বে এ কাজ বন্ধ রেখে কাজটি সঠিকভাবে সম্পন্ন করতে একটি তদন্ত কমিটি ও তদারকি কমিটি গঠন করার দাবি জানিয়েছেন তারা।
একাধিক আন্দোলনকারীর অভিযোগ, তদারকির অভাবে শিল্পকলা একাডেমী ভবন নির্মাণের শেষদিকে নিম্নমানের ইট, বালু, সিমেন্ট ও পাথর দিয়ে দায়সারা কাজ করা হচ্ছে।
আব্বাস উদ্দিন একাডেমির সাধারণ সম্পাদক এনামুল হক বাচ্চু তার ফেসবুকে লিখেছেন- “হালকা বৃষ্টি খুলনায়! এতেই ডুবে যাচ্ছে খুলনার স্বপ্ন, খুলনাবাসীর স্বপ্নের শিল্পকলা একাডেমির মূল অডিটোরিয়ামের ছাদ দিয়ে এখনই পানি পড়ছে! আর সেই ভাঙা ইট দিয়েই চলছে শিল্পকলা একাডেমির মূল ভবনের কাজ! খুলনার সর্বস্তরের মানুষের মনে হয় আবার রাস্তায় নামতে হবে? মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত প্রকল্পের এই অবস্থা হলে আমরা কার কার কাছে যাব? খুঁটির জোরটা কোথায়?”
জেলা আওয়ামী লীগের সাংস্কৃতিক সম্পাদক মোকলেসুর রহমান বাবলু জানান, শিল্পকলার ভবন নির্মাণে চরম অনিয়ম হচ্ছে। নবনির্মিত ভবন উদ্বোধনের আগেই ভেঙে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। সামান্য বৃষ্টিতে ছাদ চুঁইয়ে পানি পড়েছিল। এ ধরনের অনিয়ম মেনে নেয়া যায় না।
সংশ্লিষ্ট সূত্রমতে, নগরীর শেরে বাংলা রোডের পুরাতন নার্সিং ইনস্টিটিউটের স্থলে শিল্পকলা একাডেমির আধুনিক কমপ্লেক্স নির্মাণের পরিকল্পনা নেয় সরকার। ২০১১ সালের ৫ মার্চ খালিশপুর প্রভাতী স্কুল ময়দানের জনসভায় অন্য প্রকল্পের সাথে খুলনায় শিল্পকলা একাডেমী নির্মাণ করার ঘোষণা দেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ২০১৬ সালের ১০ জুন ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান বিসিটিএই ইলোরা জেভি, বেনেজীর কনস্ট্রকশন ও আজাদ কনস্ট্রাকশন যৌথভাবে শিল্পকলা একাডেমির নির্মাণ কাজ পায়। শেরে বাংলা রোডে ৮১ শতক জমির ওপর দৃষ্টিনন্দন আধুনিক সুযোগ-সুবিধা সম্পন্ন শিল্পকলা একাডেমী নির্মাণের কাজ ইতিমধ্যে ৮০-৮৫ শতাংশ সম্পন্ন হয়েছে। ১২ কোটি ৭ লাখ ৪০ হাজার ২১৯ টাকা ব্যয় ধরে এ নির্মাণ কাজ শুরু হয়; তবে চারতলা কমপ্লেক্স নির্মাণে ৩০ কোটি টাকা ব্যয় হবে। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের সাথে চুক্তি অনুযায়ী ১৮ মাস সময়ে (২০১৭ সালের ডিসেম্বর মাসে) শিল্পকলা একাডেমির কাজ সম্পন্ন হওয়ার কথা ছিল। ২০১৭ সালের ডিসেম্বর মাসের মধ্যে কাজ শেষ করতে না পারায় ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান বিসিটিএই ইলোরা জেভি গণপূর্ত বিভাগে সময় বৃদ্ধি করে নেয়।
ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের অংশীদার মোঃ কামরুল ইসলাম সাচ্চু বলেন, “আপনারা যেখানে শুনছেন তেমনটি নয়। কোন নি¤œমানের সামগ্রী এখানে ব্যবহার করা হয়নি। অভ্যন্তরীণ বিষয়টা ভিন্ন।” কি বিষয় সে সম্পর্কে মন্তব্য করতে নারাজ তিনি। তিনি জানান, বড় ঢালাইয়ে কিছু সমস্যা হতে পারে। সেসব স্থানে ট্রিটমেন্ট দিয়েছি। ঠিক হয়ে গেছে বলে দাবি তার।গণপূর্ত বিভাগ খুলনার এক্সইএন মোঃ জাকির হোসেন বলেন, কিছু ইটে আপত্তি দিলে ওরা পরিবর্তন করে দিয়েছে। ঢাকার স্থপতি সরেজমিনে পরিদর্শন করেছেন। কিছু দরজা-জানালা ও আনুষাঙ্গিক ডিজাইন পরিবর্তন করেছেন।
ভবনটির নকশাকারী ও তদারক ঢাকার ডেপুটি চীফ আর্কিটেকচার আশিফুর রহমান ভূঁইয়ান বললেন, “আমি নিজেই ভবনটির তদারকি করছি। প্রতি সপ্তাহে খুলনায় গিয়ে দেখছি, প্রয়োজনীয় সংশোধনী দিচ্ছি। সেখানে তো নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহারের সুযোগ নেই। আমার অগোচরে কিছু হয়েছে কি না, খতিয়ে দেখবো।”
খুলনা-২ আসনের সংসদ সদস্য আলহাজ্ব মিজানুর রহমান মিজান বললেন, “সরেজমিনে গিয়ে তো তেমন কিছুই দেখতে পেলাম না; আমার সাথে পিডব্লিউডি’র ইঞ্জিনিয়াররাও ছিলেন। তাদের বলেছি পরীক্ষা করতে। কাজের অগ্রগতিতে আমি পুরোপুরি সন্তুষ্ট।”
 


পাঠকের মন্তব্য (০)

লগইন করুন




আরো সংবাদ

বিজয়ের মাস ডিসেম্বর

বিজয়ের মাস ডিসেম্বর

১৩ ডিসেম্বর, ২০১৮ ০১:০০













ব্রেকিং নিউজ

বিজয়ের মাস ডিসেম্বর

বিজয়ের মাস ডিসেম্বর

১৩ ডিসেম্বর, ২০১৮ ০১:০০