খুলনা | শনিবার | ১৫ ডিসেম্বর ২০১৮ | ১ পৌষ ১৪২৫ |

Shomoyer Khobor

বিদায়ী অর্থ বছরে পাটক্রয়ের লক্ষ্যমাত্রা অর্জন হয়নি

খুলনার নয় পাটকলে তিনশ’ কোটি টাকার পণ্য অবিক্রিত

মোহাম্মদ মিলন   | প্রকাশিত ১৮ জুলাই, ২০১৮ ০২:৩০:০০


খুলনা অঞ্চলের রাষ্ট্রায়ত্ত নয়টি পাটকলে উৎপাদিত প্রায় ৩শ’ কোটি টাকার পাটজাত পণ্য মজুদ রয়েছে। এসব পণ্য সময়মতো বিক্রি করতে না পেরে আর্থিক সংকটে পড়েছে পাটকলগুলো। আন্তর্জাতিক বাজারে পাটপণ্যের চাহিদা কমে যাওয়া এবং সিনথেটিক পণ্যের চাহিদা বৃদ্ধি পাওয়ায় এ অবস্থা। ফলে শ্রমিকদের মজুরি প্রদান এবং কাঁচাপাট ক্রয়ে হিমসিম খাচ্ছে কর্তৃপক্ষ। এদিকে খুলনা পাটকলগুলোতে অর্থ সংকটের কারণে বিদায়ী অর্থ বছরে পাটক্রয়ের লক্ষ্যমাত্রা অর্জন সম্ভব হয়নি। তবে দ্রুত মজুদ থাকা পণ্য রপ্তানি হবে বলে আশাবাদী বিজেএমসির কর্মকর্তারা।  
বাংলাদেশ জুট মিলস কর্পোরেশন (বিজেএমসি) সূত্রে জানা গেছে, খালিশপুর, আটরা-গিলাতলা ও যশোরের অভয়নগর শিল্পাঞ্চলে রাষ্ট্রায়ত্ত ৯টি পাটকল রয়েছে। যার অধিকাংশই ষাটের দশকে স্থাপন করা হয়। এর মধ্যে ক্রিসেন্ট, প্লাটিনাম, দৌলতপুর, প্পিলস (খালিশপুর), স্টার, ইস্টার্ণ, আলিম, কার্পেটিং এবং যশোর জুট ইন্ডাস্ট্রি (জেজেআই) জুটমিল প্রতিষ্ঠিত হয়। ১৯৭২ সালে এসব পাটকল বিজেএমসি’র আওতায় আনা হয়। এ ৯টি পাটকলে ৫ হাজার ১০৯টি তাঁত স্থাপন করা হয়। তবে এর মধ্যে অসংখ্য তাঁত অকেজো হয়ে পড়েছে। আর যা চালু রয়েছে তা বাজেটের চেয়েও কম।  বিজেএমসির পক্ষ থেকে এসব পাটকলে দৈনিক ৩ হাজার ৬৪৮ টি তাঁত চালু রাখার বাজেট দেয়া হয়েছে। কিন্তু চলছে ২ হাজার ৬০৭ টি তাঁত। এসব পাটকলে স্যাকিং (মোটা বস্তা), হেসিয়ান (পাতলা চট), সিবিসি (কার্পেট বেকিং ক্লথ) এবং ইয়ার্ন (সুতা) চার ধরনের পণ্য উৎপাদন হচ্ছে। উৎপাদিত এসব পণ্য সিরিয়া, ইরাক, ইরান, সুদান, মিসরসহ বিভিন্ন দেশে রফতানি করা হয়। কিন্তু বিশ্ববাজারে চাহিদা কমে যাওয়া এবং নতুন বাজার সৃষ্টি করতে না পারার কারণে গত ১১ জুলাই পর্যন্ত খুলনা অঞ্চলের ৯টি পাটকলে ৩২ হাজার ৪৩০ মেট্রিকটন উৎপাদিত পাট পণ্য অবিক্রিত অবস্থা পড়ে রয়েছে। যার মুল্য অনুমানিক ৩শ’ কোটি টাকা।  
সূত্রটি জানায়, চলতি ২০১৭-২০১৮ অর্থ বছরে পাটক্রয়ের লক্ষ্যমাত্রা ছিলো ৮ লাখ ৩৫ হাজার ২৫২ কুইন্টাল। এর মধ্যে গত ৩০ জুন পর্যন্ত পাট ক্রয়ে করা হয়েছে ৫ লাখ ২৩ হাজার ২৬৭। যা লক্ষ্যমাত্রার ৬৩ শতাংশ। ফলে পাট পণ্যের উৎপাদন কমেছে। এছাড়া চলতি (২০১৮-২০১৯) অর্থ বছরে পাটক্রয়ের লক্ষ্যমাত্রা দেয়া হয়েছে ৮ লাখ ৪৭ হাজার ৬৯০ কুইন্টাল। গত অর্থ বছরে ক্রয় করা পাট মিলিয়ে ১১ জুলাই পর্যন্ত মিলগুলোতে পাট রয়েছে ২ হাজার ১৪৭ কুইন্টাল। যা আরো এক মাস চলবে। এদিকে মিলগুলোতে কমেছে উৎপাদনও। টার্গেট অনুযায়ী উৎপাদন হচ্ছে না। মিলগুলোতে দৈনিক উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ২৭২ মেট্রিকটনের বিপরীতে ১৮৯ থেকে ১৯০ মেট্রিকটন উৎপাদন হচ্ছে। 
বাংলাদেশ রাষ্ট্রায়ত্ত জুটমিল সিবিএ-ননসিবিএ পরিষদের কার্যকরী আহ্বায়ক ও ক্রিসেন্ট জুট মিলের সিবিএ সাধারণ সম্পাদক মোঃ সোহরাব হোসেন বলেন, বিজেএমসির বিপনণ বিভাগের কর্মকর্তাদের অদক্ষতার কারণে রপ্তানি হচ্ছে না। সৃষ্টি হচ্ছে না বিশ্বে নতুন বাজার। যে কারণে বাড়ছে উৎপাদিত পণ্যের মজুদ। এর খেসারত দিতে হচ্ছে শ্রমিকদের। পাটকলগুলোতে বর্তমানে ৩ থেকে ৪ সপ্তাহের মজুরি বকেয়া রয়েছে। একই সাথে অবসরপ্রাপ্ত শ্রমিক, কর্মচারী ও কর্মকর্তাদের বকেয়া পাওনা পরিশোধ করতে পারছে না। অর্থ কষ্টে অর্ধাহারে অনাহারে দিন পার করছে এসব শ্রমিক পরিবার। নতুন নতুন বাজার সৃষ্টি করতে পারলে উৎপাদিত পাটজাত পণ্য অবিক্রিত থাকবে না। একই সাথে এসব পণ্য বিক্রি করতে পারলে পাটকলগুলোতে অর্থ সংকট কমে যাবে। তিনি পাটকলগুলোর পুরাতন যন্ত্রপাতি সংস্কারের দাবি জানিয়েছেন। 
পাটিনাম জুট মিলের প্রকল্প প্রধান মোঃ মুজিবর রহমান মলিক জানান, পাটপণ্যের চাহিদা কমে যাওয়ায় উৎপাদিত পণ্যের মজুদ বাড়ছে। বর্তমানে মিলে প্রায় ৬০ কোটি টাকা মূল্যের পাটপণ্য মজুদ রয়েছে। 
পাটকল সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বিগত সময়ে পাট রপ্তানির লক্ষ্যে ভারত, আফ্রিকা ও অস্ট্রেলিয়াসহ ৫টি দেশে বিজেএমসির নিজস্ব অফিস ছিল। কিন্তু এখন এসব দেশে একটি অফিসও নেই। ফলে নতুন বাজার সৃষ্টি হচ্ছে না। নতুন নতুন বাজার সৃষ্টি করতে পারলে উৎপাদিত পাটজাত পণ্য আর অবিক্রিত থাকবে না।  
বিজেএমসির আঞ্চলিক সমন্বয়কারী শেখ রহমত উলাহ জানান, মজুদকৃত পণ্য অচিরেই বিক্রি করা সম্ভব হবে। সম্প্রতি বিদেশী বায়ারদের সাথে আলোচনা করা হয়েছে। চলতি মাসে সিরিয়ায় ৩৬ কোটি টাকা মূল্যের ১০ হাজার বেল পাটপণ্য রপ্তানী হওয়ার কথা রয়েছে। এর মধ্যে ১৮ হাজার টাকা মূল্যের ৫ হাজার বেল পাটপণ্য খুলনা থেকে রপ্তানি হবে। এরপর আরো ১০ হাজার বেল পাট একই দেশে রপ্তানি হবে। এছাড়া আগস্ট নাগাদ সুদানে ১ লাখ ৫০ হাজার বেল পাট রপ্তানি হবে। যার মূল্য প্রায় সাড়ে ৪শ’ কোটি টাকা। ফলে মজুদকৃত পণ্য আর থাকবে না। তিনি বলেন, আফ্রিকার আমাদের দেশের জন্য বড় একটি বাজার। এই বাজারকে ধরে রাখতে পারলে পণ্য মজুদ থাকবে না।
 

বার পঠিত

পাঠকের মন্তব্য (০)

লগইন করুন




আরো সংবাদ














ব্রেকিং নিউজ