খুলনা | মঙ্গলবার | ২৩ জানুয়ারী ২০১৮ | ১০ মাঘ ১৪২৪ |

Shomoyer Khobor

সাতক্ষীরায় এনসিটিবি’র অনুমোদনহীন বইয়ে বাজার সয়লাব : শিক্ষক সমিতির মোটা অংকের অর্থ বাণিজ্য!

রুহুল কুদ্দুস, সাতক্ষীরা | প্রকাশিত ২০ ফেব্রুয়ারী, ২০১৭ ০২:৩০:০০

সাতক্ষীরা শিক্ষক সমিতির নেতৃবৃন্দের বিরুদ্ধে মোটা অংকের আর্থিক সুবিধা নিয়ে জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ডের (এনসিটিবি’র) অনুমোদনহীন বই বাজারজাত করতে চুক্তিবদ্ধ হওয়ার অভিযোগ উঠেছে। বর্তমানে অনুমোদনহীন এ সমস্ত বই সাতক্ষীরার বাজারে সয়লাব হয়ে গেছে।  
সমিতির একাধিক নেতৃবৃন্দ জানান, ২০১৭ সালে সাতক্ষীরা সদর ও আশাশুনি উপজেলার সকল মাধ্যমিক স্কুলে শিক্ষক সমিতি এনসিটিবি’র অনুমোদনহীন একটি কোম্পানির ৬ষ্ঠ থেকে ৯ম শ্রেণী পর্যন্ত ৮টি ইংরেজি ও বাংলা গ্রামার বই পড়ানোর জন্য নির্ধারণ করে দিয়েছেন। স্কুলগুলো যেহেতু শিক্ষক সমিতি নিয়ন্ত্রণ করে সে কারণে বইগুলোর কোন গুণগতমান না থাকলেও শিক্ষকরা তা শিক্ষার্থীদের পড়াতে বাধ্য হচ্ছেন। অভিযোগ উঠেছে, সাতক্ষীরা সদর উপজেলা শিক্ষক সমিতি ও আশাশুনি উপজেলা শিক্ষক সমিতি মোটা অংকের আর্থিক সুবিধা নিয়ে এনসিটিবি’র অনুমোদনহীন এসব নিম্নমানের বই স্কুলে পড়ানোর জন্য নির্দেশনা দিয়েছেন। বইগুলোর মধ্যে রয়েছে, শৈলী বাংলা ব্যাকরণ ও রচনা, ভাষা প্রদীপ বাংলা ব্যাকরণ ও রচনা, সেতু বাংলা ব্যাকরণ ও রচনা, ফায়াদ বাংলা ব্যাকরণ ও রচনা, বেসিক ইংরেজি গ্রামার, ফায়াদ ইংরেজি গ্রামার ও ইজি প্রোটেনিশাল গ্রামার। আর এনসিটিবি’র অনুমোদনহীন ঢাকাস্থ বাংলা বাজারের ফায়াদ বুক ডিপো নামে এই কোম্পানির সাথে চুক্তিবদ্ধ হয়েছেন সাতক্ষীরার পপুলার লাইব্রেরির মালিক জেলা পুস্তক প্রকাশক সমিতির সাধারণ সম্পাদক শফিউল্লাহ ভূঁইয়া সাগর।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক শিক্ষক নেতা জানান, শিক্ষক সমিতির নির্ধারিত বই যদি স্কুলে পড়ানো না হয় তাহলে সমিতিকে ওই স্কুলের ৪০ হাজার টাকা জরিমানা দিতে হবে ।
সদর উপজেলার ব্রহ্মরাজপুর জি,জি,কে,এইচ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ৬ষ্ঠ শ্রেণীর শিক্ষার্থী তাপস সরকার ও রাকেশ মন্ডল বুকলিস্ট নিয়ে শহরের একটি দোকানে বই কিনতে আসে। এই বুক লিস্টকে দিয়েছে জিজ্ঞেস করলে তারা জানায়, স্কুলের প্রধান শিক্ষক সমিতির দেয়া এই বুকলিস্ট তাদের দিয়েছেন ।
সদর উপজেলার লাবসা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ও শিক্ষক সমিতির সাবেক সহ-সভাপতি শফিকুল ইসলাম জানান, সমিতির নির্ধারণ করা বই না পড়ানোর কারনে ২/৩ বছর আগে আমাকে ২১ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছিল। তিনি আরো জানান, বর্তমানে আমি আমার স্কুলের শিক্ষার্থীদের সমিতির বই চালানোর ব্যাপারে কোন নির্দেশনা দেইনি। তুজুলপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আবুল কাশেম জানান, সমিতির নির্ধারণ করা সব সহায়ক বই নয়, কিছু বই তিনি চালান।  
সাতক্ষীরা সদর উপজেলা শিক্ষক সমিতির সভাপতি রেজাউল ইসলাম এ সব অভিযোগ অস্বীকার করে জানান, সদর উপজেলা শিক্ষক সমিতির পক্ষ থেকে কোন বই ধরানো হয়নি এবং রেজুলেশন করে কোন জরিমানার ব্যবস্থাও করা হয়নি।
আশাশুনি উপজেলা শিক্ষক সমিতির ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক গোলাম কিবরিয়া জানান, কিছু বাংলা ও ইংরেজি ব্যাকরণ বই আমাদের উপজেলা শিক্ষক সমিতির সভাপতি নীলকন্ঠ সোম যাচাই বাছাই করে শিক্ষকদের চালানোর জন্য নির্দেশনা দিয়েছেন। এ ব্যাপারে আমি কিছুই জানিনা। আর সমিতির সভাপতি নীলকন্ঠ সোম কিছু ইংরেজি ও বাংলা ব্যাকরণ বই শিক্ষকদের চালানোর নির্দেশনা দিয়েছেন স্বীকার করে জানান, যার যার সামর্থ্য অনুযায়ী চালাবে। কাউকে কোন প্রকার চাপ সৃষ্টি করা হবে না।
সাতক্ষীরার পপুলার লাইব্রেরির মালিক ও জেলা পুস্তক প্রকাশক সমিতির সাধারণ সম্পাদক শফিউল্লাহ ভূঁইয়া সাগর জানান, একটি স্বার্থন্বেষী মহল আমার নামে অপপ্রচার চালাচ্ছে। এ ধরনের কোন কাজের সাথে আমার সম্পৃক্ততা নেই।
জেলা পুস্তক প্রকাশক সমিতির সভাপতি শরিফুল ইসলাম জানান, কিছু দুর্নীতিগ্রস্ত লোকের জন্য আমাদের পুস্তক প্রকাশক সমিতির ভাবমূর্তি নষ্ট হচ্ছে। যারাই এ সমস্ত অনিয়ম-দুর্নীতির সাথে জড়িত তাদের আইনের আওতায় এনে বিচারের দাবি জানান তিনি।
এ ব্যাপারে জানার জন্য জেলা শিক্ষা অফিসার ফরিদুল ইসলামের ব্যবহৃত ০১৮১৬-৯১৩৫৭৮ নম্বারে বার বার রিং করা হলেও তিনি তার মোবাইল ফোন রিসিভ করেননি।

 

 


পাঠকের মন্তব্য (০)

লগইন করুন




আরো সংবাদ


এইচএসসি পরীক্ষা  ২ এপ্রিল শুরু

এইচএসসি পরীক্ষা  ২ এপ্রিল শুরু

১৬ জানুয়ারী, ২০১৮ ০০:১৫








পরিমার্জিত হলো মাধ্যমিকের ১১ পাঠ্যবই

পরিমার্জিত হলো মাধ্যমিকের ১১ পাঠ্যবই

১২ সেপ্টেম্বর, ২০১৭ ২৩:৫৯




ব্রেকিং নিউজ