খুলনা | রবিবার | ২৩ সেপ্টেম্বর ২০১৮ | ৭ আশ্বিন ১৪২৫ |

Shomoyer Khobor

এবার সরকারি প্রাইমারি স্কুল শিক্ষকের মৃত্যু

দু’টি কারণে খুলনায় জিবিএস ভাইরাসে  আক্রান্ত রোগীরা সেবা পাচ্ছেন না 

বশির হোসেন | প্রকাশিত ১৩ জুলাই, ২০১৮ ০২:৩০:০০

একাধারে কিছুদিন জ্বর বা ডায়রিয়া সেরে ওঠার পর হঠাৎ পা অবশ। এরপর ধীরে ধীরে সারা শরীর অবশ হয়ে যাওয়া। এভাবেই গুইলেন বারি সিন্ড্রোম বা জিবিএস ভাইরাসে আক্রান্ত হচ্ছে মানুষ। অত্যন্ত ব্যয়বহুল এ রোগে খুলনায় আক্রান্তের সংখ্যা বেড়েই চলছে। এদিকে নগরীর দৌলতপুরের কবি ফররুক একাডেমী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক মনিরুল ইসলাম এ ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে চিকিৎসাধীন অবস্থায় গতকাল বৃহস্পতিবার ইন্তেকাল করেছেন। অন্যদিকে চিকিৎসক থাকলেও খুলনার কোন হাসপাতালে পর্যাপ্ত আইসিইউ সেবা ও সরকারি ফিজিওথেরাপি সেন্টার না থাকায় এ সেবা পাচ্ছে না রোগীরা। 
সংশ্লি¬ষ্ট বিভিন্ন সূত্রে পাওয়া তথ্য মতে, গত ছয় মাসে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মেডিসিন এর বিভিন্ন ওয়ার্ডে এই রোগে আক্রান্ত হয়ে ভর্তি হয়েছেন অর্ধশতাধিক রোগী। প্রথমে মেডিসিন ইউনিটে ভর্তি হলেও পরে তা নিউরোলোজি বিভাগে স্থানান্তর করা হয়। তবে প্রায় সকল রোগীকেই চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালসহ ঢাকার বিভিন্ন হাসপাতালে যেতে হয়েছে। গত মাসে সোনাডাঙ্গা এলাকার গোবরচাকায় স্কুল শিক্ষিকা মনিকা রানী এ রোগে আক্রান্ত হলেও দীর্ঘ চিকিৎসার পর সুস্থ হন তিনি। এছাড়া সোনাডাঙ্গায় কলেজ ছাত্র ও খালিশপুরে এ রোগে দুইজন আক্রান্ত হয়েছে। খুলনায় আক্রান্ত হয়ে ঢাকায় মৃত্যু হয়েছে আরও চার জনের। খুমেক হাসপাতালে চলতি সপ্তাহে চিকিৎসা নিয়েছেন কংকা রানী। 
রোগের পূর্ব লক্ষণ : গুইলেন বারি সিন্ড্রম বা জিবিএস ভাইরাসে যে কেউ আক্রান্ত হতে পারে। এটি একটি ভাইরাস হলেও অন্যান্য ভাইরাস এর মত সংক্রামক নয়। এটি তাই একজনের শরীর থেকে অন্যের শরীরে ছড়িয়ে পড়ার সম্ভাবনা নেই। বেশির ভাগ ক্ষেত্রে দেখা গেছে কয়েকদিন ডায়রিয়া থেকে ওঠার পর হঠাৎ এ ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছে মানুষ। এছাড়া ধারাবাহিক জ্বরে আক্রান্তের পরে ঠিক হয়ে যাওয়ার পরেও আক্রান্ত হওয়ার খবর রয়েছে। 
বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা জানান, শরীরে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা ব্যাপক হারে হ্রাস পেলে গুইলেন বারি সিন্ড্রোম (জিবিএস) ভাইরাস আক্রমণ করতে পারে।  প্রথমে জ্বর জ্বর অনুভব হয় এবং পা অবশ হয়ে যায় এরপর সারা শরীর অবশ হয়ে যায়। বাইরে দেখে প্যারালাইসড মনে হয়। 
চিকিৎসা ব্যবস্থা : এ রোগে আক্রান্ত হয়ে প্রায় ২০ ভাগ রোগী সারা জীবনের জন্য পঙ্গুত্ববরণ করেন। তবে সুচিকিৎসা ও যথাযথ ফিজিও থেরাপি পেলে ৮০ ভাগ মানুষ আবার আগের স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে আসে। দুই ভাবে এ রোগের চিকিৎসা হয়। দুই পদ্ধতিতেই এর চিকিৎসা পাঁচ দিনের বেশি  না হলেও পুরোপুরি ঠিক হতে অন্তত ছয় মাস লেগে যায়। চিকিৎসার বাইরে এ রোগের পুনর্বাসনে ফিজিও থেরাপি একমাত্র মাধ্যম। ইঙ্কজাঙ্কশন এর মাধ্যমে এ রোগের চিকিৎসায় পাঁচ দিনে খরচ হয় ১৩ থেকে ১৫ লক্ষ টাকা। আর শরীরে সম্পূর্ণ ব¬াড সেল পাল্টাতে ৪ দিনে খরচ হয় ৪ থেকে ৫ লক্ষ টাকা। এর পর ফিজিও থেরাপীর মাধ্যমে সারা শরীরের কার্য ক্ষমতা ধীরে ধীরে ফিরে আসে।
খুলনায় সেবা না পাওয়ার কারণ : জিবিএস আক্রান্তের শ^াসনালী ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার ফলে। রোগী স্বাভাবিক শ্বাস প্রশ্বাস নিতে পারে না। ফলে আইসিইউতে কৃত্তিম শ্বাস প্রশাসের ব্যবস্থা করতে হয়। অনেক সময় ভেন্টিলেটরের ব্যবস্থা করতে হয়। 
এদিকে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্বতন্ত্র আইসিইউ বিভাগ খোলা হলেও নানা টালবাহানায় এখনও চালু হচ্ছে না। সরকারি হাসপাতালগুলোর মধ্যে শহিদ আবু নাসের বিশেষায়িত হাসপাতালে আইসিইউ বিভাগ থাকলেও সরাসরি ভর্তি না হতে পারায় সাধারণ মানুষ ধরা ছোঁয়ার বাইরে রয়েছে। তাই জিবিএস ভাইরাসের চিকিৎসায় সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ আইসিইউ সেবা না থাকায় খুলনার মানুষ এ চিকিৎসা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। এছাড়া খুলনায় সরকারি পর্যায়ে কোন ফিজিও থেরাপি সেন্টার না থাকায় এ রোগে আক্রান্ত রোগীদের খুলনায় পুনর্বাসন করাও সম্ভব হচ্ছে না। অথচ এসব চালু হলে অত্যন্ত ব্যয়বহুল এ রোগের চিকিৎসা ব্যয় অন্তত অর্ধেকে নেমে আসতো বলে মনে করেন খুলনার দু’জন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক।
খুলনা মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক ডাঃ আব্দুল আহাদ বলেন, গুইলেন বারি সিন্ড্রোম একটি ভাইরাস প্রথমে পা থেকে শুরু করে আস্তে আস্তে উপরে ওঠে সারা শরীর অবশ হয়। এক পর্যায়ে শ্বাস প্রশ্বাসে কষ্ট হয়ে রোগী মারা যায়। ইউমোনোগ¬ুমিন ইঞ্জেকশন প্রয়োজন হয় যা প্রতিটি ১ লক্ষ টাকার উপরে। এ ইঞ্জেকশন এর সাথে ফিজিও থেরাপি এ রোগের বড় চিকিৎসা। ব্যাপকভাবে সচেতনতা সৃষ্টি করে আক্রান্ত হওয়ার সাথে সাথে যদি নিউরোলজি বিশেষজ্ঞদের কাছে গেলে অনেকাংশ ভালো হওয়া সম্ভব।


পাঠকের মন্তব্য (০)

লগইন করুন




আরো সংবাদ














ব্রেকিং নিউজ








খুলনায় বিসিবি’র চারদিনের ম্যাচ ড্র

খুলনায় বিসিবি’র চারদিনের ম্যাচ ড্র

২৩ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ০১:২৩

আবারও ব্যার্থ আশরাফুল

আবারও ব্যার্থ আশরাফুল

২৩ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ০১:২৩