খুলনা | বুধবার | ২১ নভেম্বর ২০১৮ | ৭ অগ্রাহায়ণ ১৪২৫ |

ওষুধ বিক্রয় প্রতিনিধিদের দৌরাত্ম থামান

১৩ জুলাই, ২০১৮ ০০:১০:০০

ওষুধ বিক্রয় প্রতিনিধিদের দৌরাত্ম থামান


চিকিৎসাসেবা এখন অনেকটাই বাণিজ্যে পরিনত হয়েছে। সুষ্ঠু ও সঠিক চিকিৎসা পাওয়াটা যেন ভাগ্যের ব্যাপার। খাদ্যে ভোজাল বাড়ছে, নিত্য প্রয়োজনীয় প্রায় সব পণ্যেই ভেজালের অস্তিত্ব রয়েছে। এমনকি শিশুখাদ্যও রেহাই পাচ্ছে না। ফলে অসুস্থ মানুষের সংখ্যাও বাড়ছে উদ্বেগজনক হারে। আর এ বিষয়টি পুঁজি করে দেশের আনাচে-কানাচে যত্রতত্র গড়ে উঠছে চিকিৎসালয়। বাড়ছে ওষুধ কোম্পানিও। সব কোম্পানির ওষুধই যে জনস্বাস্থ্যকর তা নয়। পাশাপাশি অসুস্থ মানুষও কারো কারো ব্যবসায়িক পুঁজি। যে কারণে নিজের কোম্পানির ওষুধ বাজারজাত করতে অনেকেই বেছে নিচ্ছেন নানা পদ্ধতি।
ওষুধ বিক্রয় প্রতিনিধিদের কাজই হচ্ছে, নিয়োগপ্রাপ্ত কোম্পানির ওষুধকে বাজারে পরিচিত করে তোলা, বিক্রি বাড়িয়ে কোম্পানিকে একটি লাভজনক অবস্থায় দাঁড় করিয়ে দেয়া। গত বৃহস্পতিবার সময়ের খবরে প্রকাশিত একটি ছবিতে দেখা গেছে খুলনার শহিদ শেখ আবু নাসের বিশেষায়িত হাসপাতালে রোগী ডাক্তার দেখিয়ে বেরোনোর সাথে সাথে বিভিন্ন ওষুধ বিক্রয় প্রতিনিধিরা এসে ঘিরে ধরছেন। উদ্দেশ্য তাদের কোম্পানির ওষুধ ডাক্তার লিখেছে কিনা তা দেখা। এছাড়া রোগী সার আগেই তাদের অসংখ্য মোটরসাইকেলে হাসপাতাল কম্পাউন্ডে চলাচলের পরিবেশ থাকে না। সেই সঙ্গে চিকিৎসক চেম্বারে বসার সঙ্গে সঙ্গে বিক্রয় প্রতিনিধিরা তাদের রুমে ভিড় করে। অথচ যাদের জন্য চিকিৎসকদের কর্মক্ষেত্রে উপস্থিত হওয়া সেই রোগীদের লাইনে দাঁড়িয়ে অপেক্ষা করতে হয় দীর্ঘক্ষণ। বিক্রয় প্রতিনিধিদের কাজ শেষ হলে তবেই শুরু হয় রোগীদের চিকিৎসাসেবা কার্যক্রম-এমন তথ্য তুলে ধরা হয়েছে।
মূলত রোগীর স্বাস্থ্য সমস্যা সম্পর্কে নিশ্চিত হয়েই একজন চিকিৎসক রোগীকে তার করণীয় সম্পর্কে পরামর্শ দেবেন এবং প্রয়োজনীয় ওষুধ সেবন করতে বলবেন, এটিই নিয়ম। কিন্তু অভিযোগ রয়েছে, চিকিৎসকদের অনেকে বিক্রয় প্রতিনিধিদের সঙ্গে একটি আপস রফায় এসে প্রয়োজন না থাকলেও রোগীর পরামর্শপত্রে বাড়তি ওষুধের নাম লিখে দেন। এতে বিক্রয় প্রতিনিধি, সংশ্লি¬ষ্ট ওষুধ কোম্পানি লাভবান তো হয়ই, চিকিৎসকও বিশেষ কিছু সুবিধা পেয়ে থাকেন। এ ধরনের অভিযোগ শুধু এ হাসপাতালকে ঘিরেই নয়। সারাদেশের প্রায় সব চিকিৎসালয় সম্পর্কেই রয়েছে। অথচ এমনটি হওয়ার কথা নয়। যারা চিকিৎসাসেবায় নিজেদের নিয়োজিত করেন তাদের মূল লক্ষ্যই হচ্ছে নিজেদের স্বার্থ রক্ষা না করে রোগীকে সর্বতোভাবে সুস্থ করে তুলবেন, তাতে যত কঠিন পরিস্থিতিই তৈরি হোক না কেন। কিন্তু বর্তমানে এ ধরনের নিবেদিত প্রাণ চিকিৎসকের অভাব অত্যন্ত প্রকট। অধিকাংশ ক্ষেত্রে অর্থ লোভটাই প্রকট-এমন অভিযোগ রয়েছে জোরালোভাবে। এটি যে একেবারে অসত্য তা-ও নয়।
বিক্রয় প্রতিনিধিরা কেন হাসপাতালে এসে সরাসরি চিকিৎসকের সঙ্গে বৈঠকে বসবেন, এটা তাদের এক্তিয়ারভুক্ত কিনা এমন প্রশ্ন উঠা স্বাভাবিক। কারণ তারা তাদের ওষুধ বিক্রির জন্য বিভিন্ন ওষুধের দোকানে যোগাযোগ করার কথা। রোগী কোনো কোম্পানির ওষুধ সেবনে সুস্থ হলে দিন দিন তা বাজার ধরতে সক্ষম হবে-এটিই রীতি ও নীতি হওয়ার কথা। কিন্তু বাস্তবে এর দেখা মেলা ভার।
সরকারি-বেসরকারি হাসপাতাল কম্পাউন্ড হোক রোগী ও চিকিৎসকের মিলনস্থল। যেখানে রোগী নিশ্চিন্তে তার শারীরিক সমস্যার কথা বলবেন আর চিকিৎসক সুস্থ হয়ে উঠার জন্য সঠিক ও প্রকৃত পরামর্শটি প্রদান করবেন। এখানে ওষুধ বিক্রয় প্রতিনিধিদের উপস্থিতি মানেই হাসপাতাল বাণিজ্যিক কেন্দ্রে পরিণত করা। এটা নিশ্চয়ই কারো কাম্য হতে পারে না। আমরা চাই, চিকিৎসা চলুক স্বাভাবিক গতিতে। যেখানে চিকিৎসক আর রোগীই হবে মূল উপাদান।
 


পাঠকের মন্তব্য (০)

লগইন করুন




আরো সংবাদ

সিরাতুন্নবী (সাঃ) আজ

সিরাতুন্নবী (সাঃ) আজ

২১ নভেম্বর, ২০১৮ ০০:১০







দখলমুক্ত হোক খুলনার সড়ক মহাসড়ক

দখলমুক্ত হোক খুলনার সড়ক মহাসড়ক

১১ নভেম্বর, ২০১৮ ০০:১০



ভেজাল থেকে পরিত্রান চায় মানুষ

ভেজাল থেকে পরিত্রান চায় মানুষ

০৮ নভেম্বর, ২০১৮ ০০:১০



ব্রেকিং নিউজ






পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সাঃ) আজ

পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সাঃ) আজ

২১ নভেম্বর, ২০১৮ ০১:২৩


নগরীতে মাদ্রাসা ছাত্র নিখোঁজ

নগরীতে মাদ্রাসা ছাত্র নিখোঁজ

২১ নভেম্বর, ২০১৮ ০১:২০