খুলনা | মঙ্গলবার | ১৩ নভেম্বর ২০১৮ | ২৯ কার্তিক ১৪২৫ |

Shomoyer Khobor

থামলো বেলজিয়ামের সোনালী যাত্রা

বিশ্বকাপে ফের ফরাসী বিপ্লব দ্বিতীয়বার ফাইনালে ফ্রান্স

ক্রীড়া প্রতিবেদক | প্রকাশিত ১২ জুলাই, ২০১৮ ০০:৫২:০০

পারলো না বেলজিয়াম। রেড ডেভিলদের সোনালী প্রজন্ম দেশটিকে কোনো আনন্দের মুহূর্ত এনে দিতে পারলো না বিশ্বকাপে। আরো একবার বিশ্বকাপের সেমিফাইনাল থেকে বিদায় নিতে হলো ইউরোপের দেশটিকে। সাধারণ কর্নার। সেন্টার ব্যাক নিবে পাওয়ার হেড। গোলের মুখ খুললেও খুলতে পারে তাতে। পুরনো কোচিং ম্যানুয়াল। সেই পুরনো কৌশলে পাওয়া গোলেই বেলজিয়ামকে ১-০ ব্যবধানে হারিয়ে ফাইনালে ফ্রান্স। বেলজিয়ামের সোনালী প্রজন্মের যাত্রাটা থামল সেমিফাইনালেই। কিলিয়ান এমবাপ্পে, আন্তোয়ান গ্রিয়েজমানদের সোনালী প্রজন্ম ১৯৯৮, ২০০৬ সালের পর তৃতীয়বার ফাইনালে নিয়ে গেল ফরাসীদের। বেলজিয়ামের রণকৌশল দারুণ টেকটিক্সে ভোঁতা বানাল তারা। লেলিনের দেশে তাই ফরাসী বিপ্লব। এর সমাপ্তি শিরোপায় হলেই পূর্ণতা পাবে এটা।
৫১ মিনিটে জয় সূচক একমাত্র গোলটি স্যামুয়েল উমতিতির। কর্নার থেকে গ্রিয়েজমানের গোলমুখে বাড়ানো বলে পাওয়ার হেড বার্সার এই সেন্টারব্যাকের। ফেলইনির মাথা ছুঁয়ে বল জালে। সেন্ট পিটার্সবার্গ স্টেডিয়ামে তখন নীল ঢেউ। ৫৫ মিনিটে এমবাপ্পের বেকহিলে গোলরক্ষককে একা পেয়েও মিস করেন জিরদ। নইলে দ্বিগুণ হতে পারত ব্যবধান। এই জিরদের ব্যর্থতাতেই বিরতির আগে আক্রমণগুলো মুখ থুবড়ে পড়ছিল ফ্রান্সের। এমবাপ্পে পুরো খেলাতেই ছিলেন অসাধারণ। বেলজিয়ান রক্ষণ নাচিয়ে ছেড়েছেন রীতিমত। জিরদ ব্যর্থ না হলে পূর্ণতা পেত সেগুলো।
৬৪ মিনিটে গোল ফেরানোর সুযোগ পেয়েছিলেন ফেলাইনি। কিন্তু তাঁর হেড যায় বাইরে দিয়ে। গোল শোধে মরিয়া বেলজিয়াম বাড়ায় আক্রমণের ধার। ৮১ মিনিটে বক্সের বাইরে থেকে নেয়া উইটজেলের বুলেট শটে দারুণ সেভ লরিসের। উল্টো ইনজুরি টাইমে গ্রিয়েজমান নষ্ট করেন দারুণ সুযোগ।
এক ঝাঁক আক্রমণাত্মক ফুটবলার দু’দলেই। তবে বিরতির আগে ফ্রান্সের তুলনায় দাপট বেশি ছিল বেলজিয়ামেরই। হ্যাজার্ড, লুকাকুদের ৬০ শতাংশ বল পজেশনই সে কথা বলছে। গ্রিয়েজমান, এমবাপ্পেদের খেলায় ফরাসী সৌরভ না থাকলেও ৩৯ মিনিটে এমবাপ্পের পাসে পাভার্ড একা পেয়ে গিয়েছিলেন গোলরক্ষক থিবো কর্তোয়াকে। অ্যালেক্স উইটসেল আটকাতে পারেননি পাভার্ডকে। কিন্তু তাঁর শট বুট দিয়ে অসাধারণ দৃঢ়তায় ঠেকান কর্তোয়া। বিরতির আগে সেরা সুযোগ নষ্ট ফ্রান্সের। এছাড়া অলিভিয়ের জিরদ নিজের ছায়া হয়ে থাকায় ফ্রান্সের আক্রমণগুলো পড়ছিল মুখ থুবড়ে।
১৫ ও ১৭তম মিনিটে দু’টো সুযোগ নষ্ট করেন বেলজিয়াম অধিনায়ক এডেন হ্যাজার্ড। ১৫তম মিনিটে কেভিন ডে ব্র“ইনের পাসে ডি-বক্স থেকে নেয়া তাঁর কোনাকুনি শট যায় পোস্টের বাইরে দিয়ে। ১৭তম মিনিটে ডিফেন্ডার রাফায়েল ভারানের মাথা লেগে বেলজিয়ান অধিনায়কের শট যায় ক্রসবারের উপর দিয়ে যায়। ২২তম মিনিটে দুর্দান্ত সেভে ফ্রান্সকে বাঁচান হুগো লরি। কর্নার থেকে বল পেয়ে ডি-বক্স থেকে টবি আল্ডারভাইরেল্ডের বুলেট গতির শট ডানে ঝাঁপিয়ে ঠেকান ফরাসী অধিনায়ক।
দ্বিতীয়ার্ধের শুরু থেকেই গোলের জন্য মরিয়া হয়ে খেলতে ফ্রান্স। ৫১ মিনিটে বেলজিকদের দুর্গ ভাঙেন বার্সেলোনার রক্ষণভাগের সেনানি সামুয়েল উমতিতি। গ্রিজম্যানের করা কর্নার থেকে দারুণ হেডে গোল করে ফ্রান্সকে এক গোলে এগিয়ে দেন। গোল খেয়ে যেন মরিয়া হয়ে ওঠে বেলজিয়াম। অফ ফর্মের মুসা দেম্বেলের পরিবর্তে মার্টেনসকে নামান কোচ। ডান পাশ থেকে তার দেয়া ক্রসে ৬৫ মিনিটে ফেলাইনির হেড একটুর জন্য গোলের দেখা পায়নি। গোলমুখে মার্টেনসের একের পর এক ক্রস দেখা পায়নি যোগ্য কোনো সতীর্থের। ৮১ মিনিটে ভিটসেলের দূরপাল্লার বুলেট শট দুর্দান্ত ভঙ্গিমায় পাঞ্চ করে ফ্রান্সকে ম্যাচে টিকিয়ে রাখেন লরিস। ম্যাচের অতিরিক্ত সময়ে ব্যবধান বাড়ানোর সুযোগ পেলেও তলিসো এবং গ্রিজম্যান সুযোগ নষ্ট করেন। ফলে ১-০ ব্যবধানে জিতেই ২০০৬ সালের পর আবারো ফাইনালে পা রাখলো ফ্রান্স। বিরতির পর মাথা গরম করে হলুদ কার্ডও দেখেন শৈশবে ফ্রান্সের সমর্থন করা হ্যাজার্ড। শেষ পর্যন্ত হ্যাজার্ডদের বুক ভেঙে ফাইনালে ফ্রান্সই। ফরাসী সোনালী প্রজন্ম থামতে চাইবে শিরোপা জিতেই।
 


পাঠকের মন্তব্য (০)

লগইন করুন




আরো সংবাদ

মুশফিক ঝলকে টাইগারদের দিন  

মুশফিক ঝলকে টাইগারদের দিন  

১৩ নভেম্বর, ২০১৮ ০০:৪৯









অন্যরকম রেডর্কের দিন বাংলাদেশের

অন্যরকম রেডর্কের দিন বাংলাদেশের

১২ নভেম্বর, ২০১৮ ০১:০০




ব্রেকিং নিউজ

খুলনায় ৫ জনের মনোনয়নপত্র সংগ্রহ

খুলনায় ৫ জনের মনোনয়নপত্র সংগ্রহ

১৩ নভেম্বর, ২০১৮ ০১:০২