খুলনা | বুধবার | ২১ নভেম্বর ২০১৮ | ৭ অগ্রাহায়ণ ১৪২৫ |

বন্যা ঠেকাতে এখনই উদ্যোগ নিতে হবে

০৭ জুলাই, ২০১৮ ০০:১০:০০

বন্যা ঠেকাতে এখনই উদ্যোগ নিতে হবে


শরণখোলার সাউথখালীতে পানি উন্নয়ন বোর্ডের ৩৫/১ পোল্ডারের প্রায় দেড় কিলোমিটার এলাকার বিভিন্ন পয়েন্টের ভেড়ীবাঁধ নদীগর্ভে বিলিন হয়ে গেছে। এছাড়া দক্ষিণ পশ্চিমাঞ্চলের কয়রা, সাতক্ষীরার শ্যামনগর ও আশাশুনি এলাকায় পানি উন্নয়ন বোর্ডের ভেড়ীবাঁধ ভেঙে ইতোমধ্যে বিস্তীর্ন এলাকা প্লাবিত হয়েছে। এসব এলাকায় জোয়ারের পানি বিভিন্ন গ্রামে প্রবেশ করে আমনের বীজতলা, মাছের ঘের ও ঘরবাড়ি তলিয়ে গেছে। অনেক স্থানে ভেড়ীবাঁধের অবস্থা অত্যন্ত নাজুক। এতে বন্যার আতংকে রয়েছে এলাকাবাসী। এদিকে ভারি বর্ষণ ও ভারত থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে তিস্তা, ধরলা ও সানিয়াজান নদীর পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় লালমনিরহাটের ৫ উপজেলায় বন্যা দেখা দিয়েছে। ভারত গজল ডোবা ব্যারাজের অধিকাংশ গেট খুলে দেয়ায় এ অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। বন্যার পানিতে নদীর তীরবর্তী এলাকাগুলোর প্রায় ২০ হাজার মানুষ বন্দী হয়ে পড়েছে। দেশের বৃহত্তম সেচ প্রকল্প তিস্তা ব্যারাজের বিপদসীমার ২ সেঃমিঃ নিচ দিয়ে পানি প্রবাহিত হচ্ছে। গণমাধ্যমে ইতোমধ্যে এমন তথ্য এসেছে। বিষয়টি উদ্বেগজনক।
এখন আষাঢ় মাস। বৃষ্টি, ঝড়, বন্যা খুব স্বাভাবিক এই মৌসুমে। আর ঝড়, বন্যা, জলোচ্ছ্বাস বাংলাদেশের মানুষের জন্য নতুন কিছু নয়। এ ধরনের প্রাকৃতিক বিপর্যয় মোকাবিলা করেই বাংলাদেশের মানুষ নিজেদের টিকিয়ে রেখে আসছে। বিশেষ করে উপকূলীয় অঞ্চলের মানুষদের জীবনধারায় এ ধরনের পরিস্থিতি মোকাবিলা করা নিয়মিত বিষয়। তবে তা যদি প্রাকৃতিক কারণে হয় তাহলে করোরই কিছু বলার থাকে না। তবে যদি কোন কর্তপক্ষের গাফিলতিতে এ বিপর্যয় নেমে আসে তবে তা মেনে নেয়া যায় না। পাশাপাশি কোনো ব্যক্তি বা দেশ যদি নিজেদের রক্ষা করতে বাঁধ খুলে দিয়ে বন্যায় অন্য একটি দেশ ভেসে যাওয়ার পথ উন্মুক্ত করার প্রয়াস নেয় তখন তা মেনে নেয়া কঠিন। অথচ প্রতিবছর বর্ষা মৌসুমে ভারত নিজের দেশের বন্যা ঠেকাতে আটকে রাখা বাঁধের গেট খুলে দেয় এবং বাংলাদেশ অসময়ে বন্যাকবলিত হয়। অভিযোগ উঠেছে, দেশের একটি অঞ্চল এভাবে বন্যাকবলিত হলেও কারো পক্ষ থেকে কোনো ধরনের ত্রাণ বা সহায়তা মেলেনি। দায়িত্বশীল কোনো মহল থেকে কোনো খোঁজও করা হয়নি। এটি নিশ্চয়ই অমানবিক আচরণ। এছাড়া শঙ্কা রয়েছে, পরিস্থিতি হয়তো আরো নাজুক হয়ে উঠতে পারে। সে ক্ষেত্রে তিস্তা ব্যারাজ রক্ষার্থে পাউবো ‘ফ্লাড বাইপাস’ কেটে দিতে পারে। এ বাঁধ কেটে দিলে গোটা লালমনিরহাট জেলার লক্ষাধিক পরিবার পানিবন্দী হয়ে পড়বে। এতে কোটি কোটি টাকার সম্পদ ক্ষতি হবে।
লালমনিরহাটে বন্যাকবলিত মানুষদের অনেকেই নিজ বাড়িঘর ছেড়ে নিরাপদ আশ্রয়ে চলে যেতে বাধ্য হয়েছেন। অনেকেরই ফসলের জমি তলিয়ে গেছে বন্যার পানিতে। সে সঙ্গে ভেসে গেছে ফসলও। বন্যার পানি নেমে গেলেও এদের নতুন করে জীবন যুদ্ধে নামতে হবে। পাশাপাশি দক্ষিন-পশ্চিমাঞ্চলের বন্যার আশংকাও আমাদের জন্য উদ্বেগের কারণ।  আমরা চাই, বন্যা ও বন্যাকবলিত মানুষদের রক্ষায় দায়িত্বশীল মহল সব ধরনের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিক অতি দ্রুত। কারণ পুরো বিষয়টির সঙ্গেই গোটা অঞ্চলের মানুষের অস্তিত্ব রক্ষার প্রশ্ন জড়িত।
 


পাঠকের মন্তব্য (০)

লগইন করুন




আরো সংবাদ

সিরাতুন্নবী (সাঃ) আজ

সিরাতুন্নবী (সাঃ) আজ

২১ নভেম্বর, ২০১৮ ০০:১০







দখলমুক্ত হোক খুলনার সড়ক মহাসড়ক

দখলমুক্ত হোক খুলনার সড়ক মহাসড়ক

১১ নভেম্বর, ২০১৮ ০০:১০



ভেজাল থেকে পরিত্রান চায় মানুষ

ভেজাল থেকে পরিত্রান চায় মানুষ

০৮ নভেম্বর, ২০১৮ ০০:১০



ব্রেকিং নিউজ






পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সাঃ) আজ

পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সাঃ) আজ

২১ নভেম্বর, ২০১৮ ০১:২৩


নগরীতে মাদ্রাসা ছাত্র নিখোঁজ

নগরীতে মাদ্রাসা ছাত্র নিখোঁজ

২১ নভেম্বর, ২০১৮ ০১:২০