খুলনা | মঙ্গলবার | ২৫ সেপ্টেম্বর ২০১৮ | ১০ আশ্বিন ১৪২৫ |

Shomoyer Khobor

২০৫০ সালকে টার্গেট করে সরকারের মহাপরিকল্পনা

বদলে যাবে মংলা বন্দর

মাহমুদ হাসান, মংলা  | প্রকাশিত ০৩ জুলাই, ২০১৮ ০২:০১:০০

দেশের বৃহত্তম মংলা সমুদ্র বন্দরকে বাণিজ্যিকভাবে সাধারণ মানুষের কল্যাণে কাজে লাগানোর জন্য অনেক পরিকল্পনা রয়েছে সরকারের। তার মধ্যে অর্থনৈতিক অঞ্চল, ইপিজেড, বিমান বন্দর, রেল লাইন ও পদ্মাসেতুসহ দক্ষিণাঞ্চল তথা সবকিছুই এই মংলা বন্দরকে ঘিরে হচ্ছে। নেপাল, ভুটান ও ভারতের সাথে যোগাযোগ ব্যবস্থা বাড়ানো গেলে মংলা বন্দরের গুরুত্ব আরও বেড়ে যাবে। প্রধানমন্ত্রী এই দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের উন্নয়নের ব্যাপারে খুবই আগ্রহী। আর প্রধানমন্ত্রীর প্রতিশ্র“তিকে বাস্তবায়ন করার জন্যই দ্রুত এগিয়ে যাচ্ছে মংলা বন্দরসহ দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের উন্নয়ন। বর্তমান সরকারের গৃহিত বিভিন্ন উন্নয়ন মূলক প্রকল্পগুলোর কর্মকান্ড ইতিমধ্যে শুরু হয়েছে। এ অঞ্চলের উন্নয়ের মূল চালিকা শক্তি ও মহাপরিকল্পনা পদ্মা সেতুর কাজও ইতিমধ্যে অনেকটা এগিয়েছে। সেই সাথে খুলনা-মংলা অঞ্চলের উন্নয়ন প্রকল্পের মধ্যে মংলা বন্দর আধুনিকায়নে কাজ চলমান। মংলা-ঘষিয়াখালী চ্যানেল এখন সচল। খানজাহান (রাঃ) বিমান বন্দর ও মংলা-খুলনা রেল লাইনের কাজ তাও শুরু হতে যাচ্ছে। ১৩শ’ ২০ মেগাওয়াট তাপ বিদ্যুৎকেন্দ্রের কাজও চলমান। শুধু মংলা বন্দরকে ঘিরে সাইলো, ইপিজেড, উপকূলীয় ভেড়ীবাঁধ নির্মাণ, পর্যটক কেন্দ্র ও অর্থনৈতিক কর্মকান্ড চলছে। এ এগুলো সম্পন্ন হলে মংলা বন্দর হবে দেশের শ্রেষ্ঠ সমুদ্র বন্দর। ফলে মংলা বন্দরের গতি দ্বিগুণ বেড়ে যাবে, আয় হবে আগের তুলনায় তিন গুণ।
মংলা বন্দর সূত্রে জানা যায়, ১৯৫০ সালের ১ ডিসেম্বর মংলা বন্দরের গোড়াপত্তন শুরু হয়। বন্দরটি খুলনা হতে ৪৮ কিঃ মিঃ দক্ষিণে এবং বঙ্গোপসাগর হতে ১৩১ কিঃ মিঃ উজানে অবস্থিত। প্রথমে এই বন্দর গড়ে ওঠে চালনা থেকে ১৮ কিলোমিটার উত্তর-পশ্চিমে। ১৯৫০ সালের ১১ ডিসেম্বর বন্দরটি বিদেশি একটি জাহাজ নোঙরের মাধ্যমে প্রথম এর নামকরণ করা হয় চালনা বন্দর। কিন্তু সমুদ্রগামী জাহাজ নোঙরের ক্ষেত্রে মংলা অধিকতর সুবিধাজনক বিধায় ১৯৫৪ সালে বন্দরটি মংলায় স্থানান্ত্রিরিত করা হয়। মংলা বন্দর দীর্ঘদিন ধরে চালনা নামেই পরিচিত হতে থাকে। কিন্তু তৎকালীন বাগেরহাট জেলার রামপাল উপজেলার শেহালাবুনিয়া মৌজায় পশুর ও মংলা নদীর সঙ্গমস্থলে এই বন্দরের অবস্থান।
বন্দর কর্তৃপক্ষ সূত্রে আরো জানা যায়, এ বন্দর দিয়ে রপ্তানিকৃত পণ্য সামগ্রী হচ্ছে-পাট ও পাটজাত দ্রব্য, চিংড়ি মাছ, ক্লে টাইলস্্, চামড়া ও অন্যান্য সাধারণ পণ্য। বর্তমানে আমদানিকৃত পণ্য-খাদ্যশস্য,সার, ক্লিংকার, মেশিনারী, গাড়ি, এলপি গ্যাস, কয়লা, লাইম স্টোন, পামঅয়েল, কাঠের লগ, পাথর ও অন্যান্য সাধারণ পণ্য। বর্তমান সরকার }} ৮ম বর্ষপূর্তি সংখ্যা : ২ পাতার ৪ কলাম
ক্ষমতায় আসার পর প্রধান চ্যালেঞ্জ ছিল মৃতপ্রায় বন্দরটিকে যে কোন উপায়ে সচল রাখা এবং এর কার্যকর ব্যবহার বৃদ্ধি করা। এ লক্ষে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর প্রতিশ্র“তি অনুযায়ী ১২টি উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হয়। যার ফলে ড্রেজিং, কার্গো হ্যান্ডলিং যন্ত্রপাতি, লাইটেড বয়া, কিছু জলযান সংগ্রহ, ইয়ার্ড নির্মাণ ও ওয়ান স্টপ সার্ভিস চালু করা হয়েছে। 
বন্দর কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান কমোডর একেএম ফারুক হাসান বলেন, ২০০৯ সালের পর থেকে লোকসানী প্রতিষ্ঠান হতে বন্দরটি ধীরে ধীরে পুনরায় লাভজনক প্রতিষ্ঠানে রূপান্তরিত হয়। এ বন্দরে বর্তমানে ৬টি নিজস্ব জেটি, ব্যক্তি মালিকানাধীন ৭টি জেটি এবং ২২টি এ্যাংকোরেজ এর মাধ্যমে মোট ৩৫টি জাহাজ একসাথে হ্যান্ডেলিং করা সম্ভব। ৪টি ট্রানজিট শেড, ২টি ওয়ার হাউজ, ৪টি কন্টেইনার ইয়ার্ড, ২টি কার পার্কিং ইয়ার্ড এর মাধ্যমে মংলা বন্দরে বার্ষিক ১শ’ লক্ষ মেট্রিক টন কার্গো এবং ৭০ হাজার টিইউজ কন্টেইনার এবং ২০ হাজারেও বেশী গাড়ি হ্যান্ডলিং এর সক্ষমতা রয়েছে। তবে এ বন্দরকে ঘিরে কিছু সমস্যা আছে, তা সমাধান করার চেষ্টাও করা হচ্ছে। যেমন,পশুর চ্যানেলের বিভিন্ন স্থানে ১৪২.৭৬ লক্ষ ঘনমিটার ড্রেজিং, ভিটিএমআইএস প্রবর্তন, রুজভেল্ট জেটির উন্নয়ন ও সম্প্রসারণ, ১টি অয়েল স্পিল ক্লিনআপ ভেসেল সংগ্রহ, ১টি টাগ বোট সংগ্রহ, ২টি অসম্পূর্ণ জেটি নির্মাণ এবং মংলা বন্দরের জন্য একটি মাস্টার প্লান প্রণয়ন করা হবে। এছাড়া অনুমোদন প্রক্রিয়াধীন প্রকল্পের অধীনে ১৩.৩৬ লক্ষ ঘনমিটার ক্যাপিটাল ড্রেজিং, ১টি ট্রেলিং সাকশান হপার ড্রেজার সংগ্রহ, ৬০টিরও অধিক আধুনিক যন্ত্রপাতিসহ ৬টি কন্টেইনার টার্মিনাল, ২টি কন্টেইনার ইয়ার্ড, ২টি কন্টেইনার ডেলিভারী ইয়ার্ড, ১টি কন্টেইনার হ্যান্ডলিং ইয়ার্ড, ১টি মাল্টিস্টোরিড কার ইয়ার্ড, মংলা বন্দরের প্রধান সড়ক ৬ লেন ও বাইপাস সড়ক ৪ লেনে উন্নীতকরণ, ১টি সার্ভিস ভেসেল জেটি, এমপিএ টাওয়ার ও বিনোদন সুবিধাদিসহ বন্দর আবাসিক ভবন নির্মান, বন্দর ভবন সম্প্রসারণ মেকানিক্যাল ওয়ার্কসপ. ইকুপমেন্ট ইয়ার্ড ও শেড যন্ত্রপাতিসহ এমটি পুল নির্মাণ, স্লিপওয়েসহ মেরিন ওয়ার্কসপ কমপ্লেক্স নির্মাণ, বন্দরের সংরক্ষিত এলাকা সম্প্রসারণ, দ্বিগরাজের রেলক্রসিং ও ওভারপাস নির্মাণ, ৫টি বিভিন্ন ধরনের জলযান সংগ্রহ, রাস্তা এবং চিত্ত বিনোদন সুবিধাসহ নদীর বাঁধ নির্মাণ ইত্যাদি কাজ সম্পন্ন করা হবে। আর এগুলো সম্পুন্ন হলে মংলা বন্দর হবে দেশের আধুনিক ও শ্রেষ্ঠ বন্দরে রুপান্তিত।
বন্দর চেয়ারম্যান আরো বলেন, দেশী-বিদেশীদের ব্যবসা সামাল দিতে এ মংলা বন্দরের অনেক সক্ষমতার সুবিধায় রয়েছে। বর্তমানে বছরে কমপক্ষে ১৫শ’ জাহাজ, ১ কোটি মেঃ টনঃ মালামাল, ১ লক্ষ টিইউজ কন্টেইনার এবং ২০ হাজারেরও বেশী গাড়ি হ্যান্ডিলিং এর ক্ষমতা রয়েছে। পারিপার্শি¦ক উন্নয়ন ও বন্দর ব্যাবহার বৃদ্ধির সাথে সামঞ্জস্য রেখে মংলা বন্দরের সক্ষমতা আরো বাড়োতে হবে। 
মংলা বন্দর কর্তৃপক্ষের সহকারী পরিকল্পনা প্রধান শেখ মাসুদ উল্লাহ জানান,২০৫০ সাল পর্যন্ত প্রক্ষেপণ বিবেচনায় বন্দরের সক্ষমতা বহুগুণে বৃদ্ধি করা প্রয়োজন। উদাহরণ স্বরুপ, বর্তমানে জাহাজ হ্যান্ডলিং এর সক্ষমতা বছরে ১৫শ’টি, সাধারণ কার্গো সক্ষমতা ১ কোটি মেঃ টন, কন্টেইনার ১ লক্ষ টিইউজ, গাড়ি ২০ হাজার। এ ক্ষেত্রে ২০২৫ সালে প্রয়োজন হবে তার দ্বিগুন অর্থাৎ জাহাজ হ্যান্ডলিং ৩ হাজার, সাধারণ কার্গো ৪ কোটি মেঃ টন, কন্টেইনার ৮ লক্ষ টিইউজ, গাড়ি ৩০ হাজার। এ লক্ষে স্বল্প, মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে সরকার। আর এ পরিকল্পনাগুলো বাস্তবায়িত হলে মংলা বন্দরের রুপ পাল্টে যাবে। যার ফলশ্র“তিতে এখনই দেখা যাচ্ছে, গত বছরগুলোর তুলনায় মালামাল হ্যান্ডলিংয়ের কাজ অনেক গুণ বেড়ে গেছে। ২০১৭-১৮ অর্থ বছরের মে ২০১৮ পর্যন্ত  মংলা  বন্দরে ৯২.৪৪ লক্ষ মেট্রিক টন মালামাল ও ৩৮৯২৯  টিইউজ কন্টেইনার, ১৫৪৮০টি গাড়ি এবং ২৪৬.০৪ কোটি টাকা রাজস্ব অর্জিত হয়েছে, যা এর আগে কখনই হয়নী। পার্শ্ববর্তী অনেক দেশ এ বন্দর ব্যাবহার করার জন্য আগ্রহ প্রকাশ করেছে। সরকারের ভিশন-২০২১ সামনে রেখে মংলা বন্দরের উন্নয়নে চীন সরকারের সাথে ৩ হাজার কোটি টাকার একটি বৃহৎ প্রকল্প স্বাক্ষরিত হয়েছে গত বছরের ১৪ অক্টোবর। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও চীনা রাষ্ট্রপতি শি জিনপিংয়ের উপস্থিতিতে এ সমঝোতা চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে। এছাড়াও ইতোমধ্যে ৬ হাজার ২৫৬ কোটি টাকা সহায়তাও করছে ভারত সরকার। 
ব্যবসায়ীদের মংলা বন্দর ব্যবহার বৃদ্ধির লক্ষে সরকার নানামুখী উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। এর মধ্যে পদ্মা সেতু নির্মাণ, খুলনা-মংলা  পর্যন্ত রেললাইন স্থাপন, খানজাহান আলী বিমান বন্দর নির্মাণ, মংলা বন্দরের সন্নিকটে রামপালে বাংলাদেশ ও ভারতের যৌথ উদ্যোগে ১৩২০ মেগাওয়াট সম্পন্ন কয়লা ভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ, মংলা  বন্দর এলাকায় ভারত-বাংলাদেশ যৌথ উদ্যোগে বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল গড়ে তোলা এবং মংলা ইপিজেড সম্প্রসারণসহ নানা উন্নয়নমুখী কাজ হাতে নেয়া হয়েছে। এসব কাজ আগামী ২০২০-২১ সালের মধ্যে সমাপ্ত হবে বলে ধারণা বন্দর কর্তৃপক্ষের। পদ্মা সেতুর নির্মাণ কাজ সম্পন্ন হলে ঢাকা ও ঢাকার আশপাশে আমদানি-রপ্তানি পণ্য বিশেষ করে গার্মেন্টস সামগ্রী মংলা বন্দরের মাধ্যমে পরিবাহিত হওয়ার সহজ সুযোগ সৃষ্টি হবে। রামপাল কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপিত হলে বিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্য প্রতি বছর কমপক্ষে ৪৫ লক্ষ মেঃ টন কয়লা বিদেশ হতে মংলা বন্দরের মাধ্যমে আমদানি করা হবে। মংলা বন্দর এলাকায় ভারত বাংলাদেশ যৌথ উদ্যোগে বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল স্থাপন করা হলে বন্দরে নতুন নতুন পণ্য আমদানি-রপ্তানির দ্বার উন্মোচিত হবে এবং ২০১৮ সালের পর ব্যাবসায়ীদের মংলা বন্দরের ব্যবহার করার বহুগুণে চাহিদা বৃিদ্ধ পাবে বলে ব্যবসায়ীদের অভিমত।
এ বিষয় মংলা বন্দর ব্যবহারকারী স্টিভিডরস মেসার্স নুরু এন্ড সন্স’র ম্যানেজিং ডিরেক্টর এবং শিপিং এজেন্ট এইচ এম দুলাল জানান, এ মংলা বন্দর আর আগের মংলা বন্দর নয়। ২০০৯ সালের মৃত্যু প্রায় মংলা বন্দর এখন লাভ জনক প্রতিষ্ঠানে পরিণত হয়েছে। বন্দর ব্যবহারকারীদের কাজের পরিধি বেড়েছে, শ্রমিকদের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা হয়েছে। এ বন্দরে এক সময় শ্রমিক কাজের অভাবে মংলা ছেড়ে চলে গেছে আর এখন অনেক সময় কাজের জন্য শ্রমিক পাওয়া যায় না, শ্রমিকরা কাজ করতে করতে হাঁপিয়ে উঠছে। মংলা বন্দরে একের একের জাহাজ আসছে যা অন্য বছরের তুলনায় রেকর্ড গড়ে তুলছে মংলা বন্দর।
মংলা-রামপাল বাগেরহাট-৩ আসনের সাবেক সংসদ ও খুলনা সিটি কর্পেরেশনের মেয়র আলহাজ্ব তালুকদার আব্দুল খালেক  বলেন, গত সরকারের সাথে চুক্তি ছিল দেশে আমদানি ও রপ্তানিকৃত মালামাল চট্টগ্রাম ৬০% এবং মংলা বন্দরে যাবে ৪০% মাল। কিন্তু তা কখনই বাস্তবায়ীত হয়নি। ২০০৯ সালে বর্তমান সরকার ক্ষমতায় আসার পর তা বাস্তবায়ন করেছে। যার ফলেই এ বন্দর এখন অনেক উন্নয়ন সাধিত হয়েছে। উন্নয়নে অনেক ধাপ এগিয়েছে কিন্তু এ বন্দরের কিছু চ্যালেঞ্জ রয়েছে। যেমন, ক্যাপিটাল ড্রেজিং এর মাধ্যমে ১৪৫ কিঃমিঃ চ্যানেলের নাব্যতা বৃদ্ধি ও সংরক্ষণ। নিরাপদ ও দুষণমুক্ত পরিবেশ বান্ধব চ্যানেল নিশ্চিতকরণ। দক্ষিণ পশ্চিমাঞ্চলের উন্নয়ন কার্যক্রমের সাথে সামঞ্জস্য রেখে ভবিষ্যৎ চাহিদা পূরণের জন্য বন্দরের সক্ষমতা বৃদ্ধি। পুরাতন সহায়ক জলযান প্রতিস্থাপন এবং প্রয়োজন অনুযায়ী নতুন জলযান সংগ্রহ। মেরামত সুবিধা সৃষ্টি করা। দক্ষ ও পর্যাপ্ত জনবল সৃষ্টি করাই হচ্ছে এ বন্দরের জন্য চ্যালেঞ্জ। 
এদিকে বন্দর চেয়ারম্যান ফারুক হাসান আরো বলেন, আর এ চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় বর্তমান সরকারের পক্ষ থেকে কিছু প্রকল্প হাতে নেয়া হয়েছে। চ্যানেলের বিভিন্ন স্থানে ড্রেজিং পরিচালনা, নিঃসৃত তেল অপসারণকারী জলযান সংগ্রহ, পর্যাপ্ত সংখ্যক চ্যানেল বয়া সংগ্রহ, ভেসেল ট্রাফিক ম্যানেজমেন্ট ইনফরমেশন সিস্টেম (ভিটিএমআইএস) স্থাপন, খুলনাস্থ রুজভেল্ট জেটির অবকাঠামো উন্নয়ন, টাগবোট সংগ্রহ ও স্ট্রাটেজিক মাস্টার প্লান প্রণয়ন করা। এছাড়াও পিপিপি’র আওতায় ২টি জেটি নির্মাণ, জিটুজি ভিত্তিতে চায়না অর্থায়নে আধুনিক যন্ত্রপাতিসহ ২টি কন্টেইনার টার্মিনাল, কন্টেইনার ইয়ার্ড, কন্টেইনার ডেলিভারী ইয়ার্ড, বহুতল কার ইয়ার্ড, ডুবন্ত রেক অপসারণ ও ১টি ট্রেলিং সাকশান হপার ড্রেজার সংগ্রহ করা। ভারতীয় এলওসি-৩ এর অধিনে আনুসঙ্গিক সুবিধাদিসহ আরও ২টি কন্টেইনার টার্মিনাল, এমপিএ টাওয়ারসহ অন্যান্য সুউচ্চ আবাসিক ভবন, মেরামত সুবিধাদি বৃদ্ধিকরণ, জলযান সংগ্রহ, রেল ক্রসিং ওভারপাস নির্মাণ ইত্যাদি। সারফেস ওয়াটার ট্রিটমেন্ট প্লান্ট স্থাপন, আধুনিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, মোবাইল হারবার ক্রেনসহ অন্যান্য সরঞ্জাম সংগ্রহ এবং অবকাঠামো উন্নয়ন করাই হচ্ছে এ বন্দরকে ডিজিটাল ও শ্রেষ্ট বন্দরে রুপান্তিত করার মূল চাবিকাঠী। পরিকল্পিত প্রকল্পসমূহ সংশ্লিষ্ট সকলের সহযোগিতায় বাস্তবায়িত হলে মংলা বন্দরের ভবিষ্যৎ চাহিদা পূরণের জন্য প্রয়োজনীয় সক্ষমতা অর্জন করা সম্ভব হবে এ বন্দরের। 
 

বার পঠিত

পাঠকের মন্তব্য (০)

লগইন করুন




আরো সংবাদ














ব্রেকিং নিউজ