খুলনা | শুক্রবার | ২১ সেপ্টেম্বর ২০১৮ | ৫ আশ্বিন ১৪২৫ |

Shomoyer Khobor

পূর্ণাঙ্গ খুলনা জেলা স্টেডিয়ামকে ঘিরে প্রত্যাশায় বুক বাঁধছে দক্ষিণ অঞ্চলের মানুষ

আব্দুল্লাহ এম রুবেল  | প্রকাশিত ০৩ জুলাই, ২০১৮ ০২:০০:০০

এক স্টেডিয়াম ঘিরে অনেক প্রত্যাশা খুলনাসহ দক্ষিণাঞ্চল বাসীর। ক্রিকেটে শেখ আবু নাসের স্টেডিয়ামের পর খুলনা জেলা স্টেডিয়াম ঘিরে এই প্রত্যাশা। চার বছর অপেক্ষার অবসান শেষে পূর্ণাঙ্গ জেলা স্টেডিয়াম পেতে যাচ্ছে খুলনাবাসী। সর্বশেষ সংস্কার অনুযায়ী গ্যালারির একটি অংশ বাদে স্টেডিয়াম নির্মিত হচ্ছে। এখন সর্বশেষ চলছে মাঠ সংস্কারের কাজ। তবে খুলনার ক্রীড়া সংগঠকদের আশা খুব শিগগিরই গ্যালারির বাকি অংশ নির্মাণের জন্য বরাদ্দ পাবে স্টেডিয়ামটি। সেই সাথে তৈরি হবে মিডিয়া ভবন। আউটার স্টেডিয়ামের জন্য পরিকল্পনা রয়েছে সুইমিংপুলের। সব মিলে পূর্ণাঙ্গ স্টেডিয়াম। পূর্ণাঙ্গ স্টেডিয়াম নির্মিত হলে এই অঞ্চলের মানুষ ক্রিকেটের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক মানের ফুটবলেরও স্বাদ পাবে। বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লীগ ফুটবলের নিয়মিত আসর বসবে এখানে। আন্তর্জাতিক ফুটবল আসরও এই অঞ্চলে থাকবে বলে প্রত্যাশা খুলনাবাসীর। সেই সাথে শেখ আবু নাসের স্টেডিয়ামে ক্রিকেটের কোন বড় আসরের ভিন্ন ভিন্ন দলের অনুশীলন এমন কি প্রস্তুতি ম্যাচও হতে পারে এখানে। আবার এই স্টেডিয়াম ঘিরে এই অঞ্চলের পর্যটন শিল্পও বাড়বে বলে আশা সকলের। সব মিলিয়ে এখন পূর্ণাঙ্গ একটি জেলা স্টেডিয়ামের অপেক্ষায় সবাই। 
ইতিহাস ও ঐতিহ্যে খুলনা জেলা স্টেডিয়াম শুধু পদ্মার এপারই নয় সারা দেশেই গুরুত্ব বহন করে। এই স্টেডিয়াম থেকে খেলেই দেশসেরা তারকা হয়েছেন ফুটবলের সালাম মুর্শেদী, আসলাম, জোসী, রাজের মতো খেলোয়াড়। ১৯৫৮ সালে প্রতিষ্ঠা হওয়ার পর এই স্টেডিয়ামেই অনুষ্ঠিত হয়েছে দেশের অনেক বড় বড় ফুটবল টুর্নামেন্ট। এর মধ্যে ৮০ এবং ৯০ এর দশক অন্যতম। বিশেষ করে শের এ বাংলা ফুটবল, নিটল টাটা ফুটবল নিয়ে এখনও গর্ব করতে পারে স্টেডিয়ামটি। তবে স্টেডিয়ামের এত ঐতিহ্য থাকার পরেও এই অঞ্চলের দুঃখের নাম এই খুলনা জেলা স্টেডিয়ামই। গত এক দশকে বড় কোন আয়োজন করতে পারেনি স্টেডিয়ামটি। সর্বশেষ চার বছর তো সংস্কারের কারণে স্থানীয় খেলাধুলাও বন্ধ ছিলো। 
স্টেডিয়ামটির অবকাঠামো নষ্ট হয়ে যাওয়ায় দীর্ঘদিন পরিত্যক্ত থাকার পর ২০১৪ সালের শেষ দিকে এর সংস্কার কাজ শুরু হয়। জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ এ কাজে মোট ১১ কোটি ১৪ লাখ টাকা বরাদ্দ হয়। প্রায় সোয়া ১১ কোটি টাকা ব্যয়ে ২০১৫ সালে জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ খুলনা জেলা স্টেডিয়ামের পুনঃনির্মাণ কাজ শুরু করে। এর মধ্যে গ্যালারি ও প্যাভিলিয়ান ভবন নির্মাণ সম্পন্ন করে ২০১৭ সালের মাঝামাঝি সময়ে। আধুনিক প্লেয়ার ড্রেসিং রুম, সুসজ্জিত গ্যালারি ও অফিস ভবন নির্মাণও শেষ হয়। জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের এই অর্থায়নেই মাঠ সংস্কারের কথা ছিল। কিন্তু সংশি¬ষ্ট ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান কাজটি করতে গড়িমসি করে। পরবর্তীতে খুলনা জেলা ক্রীড়া সংস্থা নিজস্ব অর্থায়নে মাঠ সংস্কারের উদ্যেগ। সর্বশেষ মাঠ সংস্কারের কাজ চলছে। জেলা ক্রীড়া সংস্থার সূত্রের খবর, আগামী তিন মাসের মধ্যেই স্টেডিয়ামের মাঠও সংস্কার হয়ে যাবে। মাঠে বিসিবির সৌজন্যে উইকেটও তৈরি করা হবে। জেলা স্টেডিয়ামের মাঠ সংস্কার কমিটির সম্পাদক সুজন আহম্মেদ জানিয়েছেন, বাইরে থেকে মাটি আনিয়ে মাঠ ভরাট করা হয়েছে, এরপর স্কেভেটর দিয়ে পুরো মাঠ সমান করা হচ্ছে। আগামী তিন মাসের মধ্যেই এ মাঠ খেলার উপযুক্ত হয়ে যাবে। মাঠ তৈরি হলেই স্টেডিয়াম সব ধরনের খেলার উপযোগী হয়ে যাবে বলেও জানান তিনি। বলেন, মাঠ তৈরি হওয়ার পরপরই এখানে সব ধরনের খেলা শুরু হয়ে যাবে। গত কয়েক বছরে খেলা না হওয়ার যে খড়া গিয়েছে তা রিকভার হয়ে যাবে। 
তবে পূর্ণাঙ্গ জেলা স্টেডিয়ামের জন্য গ্যালারির একটি অংশ এখনও বাকি রয়েছে। জেলা ক্রীড়া সংস্থার সাধারণ সম্পাদক কাজী শামীম আহসান জানিয়েছেন, গ্যালারির যে অংশ বাকি আছে, সেটি পূর্ণ করতে গেলে পার্শ্ববর্তী টিএন্ডটি’র জায়গায় চলে যাবে। যে জায়গাটি টিএন্ডটি ব্যবহার করে না, পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে রয়েছে। এই জায়গাটুকু স্টেডিয়ামের নামে বরাদ্দ পাওয়ার জন্য আমরা চেষ্টা করেছি। ইতিমধ্যে ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রনালয়ে যোগাযোগ করেছি। সেখান থেকেও ইতিবাচক সাড়া পেয়েছি। আশা করি খুব শিগগিরই জায়গাটি বরাদ্দ পেয়ে যাবো। এবং পূর্ণাঙ্গ জেলা  স্টেডিয়াম নির্মাণ সম্ভব হবে। 
জেলা ক্রীড়া সংস্থার সহ-সভাপতি ও জেলা ফুটবল এসোসিয়েশনের সভাপতি এড. সাইফুল ইসলাম মনে করেন, খুলনা জেলা স্টেডিয়ামকে ঘিরে এই অঞ্চলে বড় ধরনের অর্থনৈতিক প্রভাবও পড়বে। বড় খেলা যে অঞ্চলে হয় সেই অঞ্চলের অর্থনৈতিক সমৃদ্ধিও ঘটে ওই খেলাকে ঘিরে। জেলা স্টেডিয়াম ঘিরেও তেমন প্রত্যাশা এই ক্রীড়া সংগঠকের। তিনি বলেন, মাঠ প্রস্তুত হওয়ার পরপরই এখানে বাংলাদেশের ঘরোয়া ফুটবলের সবথেকে বড় আসর বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লীগ যেটি বি লীগ নামে পরিচিত সেটি এই স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত হবে। বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের কর্মকর্তারা আমাদের সেরকমই আশ্বাস দিয়েছেন। এছাড়া আগামী অক্টোবরে বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশন প্রথমবারের মতো যুব বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক ফুটবল আয়োজন করবে। আমাদের মাঠ প্রস্তুত হলে এই খেলাও জেলা স্টেডিয়ামে হতে পারে। আমাদেরও সেরকম প্রস্তুতি রয়েছে। এছাড়া স্থানীয়ভাবেও মেয়র গোল্ডকাপ, জেলা প্রশামক গোল্ডকাপসহ আন্তর্জাতিক মানের ফুটবল টুর্নামেন্ট আয়োজনেরও পরিকল্পনা রয়েছে। 
খুলনা জেলা ক্রীড়া সংস্থার সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও অধ্যক্ষ জাফর ইমামও এই স্টেডিয়াম ঘিরে অনেক প্রত্যাশা করছেন। তিনি বলেন, জেলা স্টেডিয়ামে বেশ কয়েক বছর ধরে কোন খেলাধুলা নেই। জাতীয় পর্যায়ে এক সময় সবথেকে বেশী অংশ গ্রহণ ছিল এই অঞ্চল থেকে। এখন জাতীয় পর্যায়ে আমাদের এই অঞ্চলের অংশ গ্রহণ অনেকটাই কমে গেছে। তবে স্টেডিয়াম শেষে পুনরায় খেলাধুলা শুরু হলে আবারও খুলনা জাতীয় পর্যায়ে তার ঐতিহ্য ফিরে পাবে। সবথেকে বড় কথা স্টেডিয়াম নির্মান সম্পন্ন হলে নিয়মিত খেলাধুলা হবে, এটা সুস্থ বিনোদনের সবথেকে বড় মাধ্যম। এই অঞ্চলের অপরাধ প্রবনতা কমে যাবে। শিশু কিশোরদের মধ্যে মাদকাসক্তিও অনেকটা নির্মূল হবে। সব মিলিয়ে জেলা স্টেডিয়াম ঘিরে আমাদের প্রত্যাশা অনেক। 

বার পঠিত

পাঠকের মন্তব্য (০)

লগইন করুন




আরো সংবাদ

বদলে যাবে মংলা বন্দর

বদলে যাবে মংলা বন্দর

০৩ জুলাই, ২০১৮ ০২:০১













ব্রেকিং নিউজ




আজ ১০ মহররম পবিত্র আশুরা 

আজ ১০ মহররম পবিত্র আশুরা 

২১ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ০০:৫৮

কেসিসিতে আজ ও কাল সাপ্তাহিক ছুটি বাতিল

কেসিসিতে আজ ও কাল সাপ্তাহিক ছুটি বাতিল

২১ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ০০:৫৭





খুলনায় সেঞ্চুরিতে নজর কাড়লেন সোহান

খুলনায় সেঞ্চুরিতে নজর কাড়লেন সোহান

২১ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ০০:৫০


অভিষেকেই আবু হায়দার রনির চমক

অভিষেকেই আবু হায়দার রনির চমক

২১ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ০০:৪৫