খুলনা | সোমবার | ১৯ নভেম্বর ২০১৮ | ৪ অগ্রাহায়ণ ১৪২৫ |

Shomoyer Khobor

আশা-হতাশায় কেডিএ’র চলমান ও ভবিষ্যৎ প্রকল্প

নিজস্ব প্রতিবেদক  | প্রকাশিত ০৩ জুলাই, ২০১৮ ০১:৫৮:০০

নানা জটিলতা চড়াই-উৎরাই পেরিয়ে খুলনা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (কেডিএ)’র ময়ূরী ও রেস্ট হাউজ নির্মাণ প্রকল্প বাস্তবায়ন কাজ শুরু হলেও শিপইয়ার্ড সড়ক প্রশস্তকরণ ও উন্নয়ন আলোর মুখ দেখছে না। অপর দিকে তিনটি সংযোগ সড়ক প্রকল্প সম্প্রতি একনেকে অনুমোদনে খুলনাবাসীর মুখে হাসি ফুটলেও ফুলবাড়ীগেট রেল ক্রসিং-এ ওভারপাস, বারাকপুর-চন্দনীমহল পর্যন্ত সড়ক নির্মাণ, শেখ রাসেল সিভিক সেন্টার নির্মাণ, রূপসা নদীর পূর্ব তীরে শিল্প নগরী স্থাপন ও মংলা রিং রোড দীর্ঘদিনেও অনুমোদন না মেলায় সেই হাসি ম্লান করছে।  
কেডিএ সূত্রে জানা গেছে, ২০১২ সালে মহানগরীর পশ্চিম প্রান্তে সিটি বাইপাস সড়ক সংলগ্ন আহসানাবাদ মৌজায় ‘ময়ুরী’ নামে নতুন একটি আবাসিক এলাকা নির্মাণের উদ্যোগ নেয় সংস্থাটি। ডুমুরিয়া ও বটিয়াঘাটা উপজেলার ৯০ একর জমির উপর এ আবাসিক এলাকাটি নির্মাণ করা হচ্ছে। কেডিএ’র গ্রহণ করা ওই প্রকল্পটি একনেক সভায় অনুমোদন পায় বিগত ২০১৩ সালে। প্রাথমিকভাবে প্রকল্পটির বাস্তবায়ন ব্যয় ছিল ১২৫ কোটি ১১ লাখ টাকা। কিন্তু জমির দাম বেড়ে যাওয়ায় প্রকল্পের সংশোধিত ডেভেলপমেন্ট প্রজেক্ট প্রপোজল (ডিপিপি) মন্ত্রণালয়ে প্রেরণ করে কেডিএ। ২০১৫ সালে সংশোধিত প্রকল্পে ২৩৪ কোটি ৮২ লাখ টাকা ব্যয়ের অনুমোদন দেয় মন্ত্রণালয়। যার বাস্তবায়ন কাল ধরা হয় ২০১৭ সাল পর্যন্ত। ওই মেয়াদে প্রকল্পের প¬¬ট বরাদ্দের কাজ শেষ হয়। তবে ফের প্রকল্প ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় গত বছরের মার্চে পুনরায় ২৭৯ কোটি ৭৬ লাখ টাকার সংশোধিত ডেভেলপমেন্ট প্রজেক্ট প্রপোজল (ডিপিপি) গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রালয়ে প্রেরণ করা হয়। মন্ত্রণালয়ে অনুমোদন শেষে ইতোমধ্যে প্রকল্পের ভূমি উন্নয়ন ও ঠিকাদারী নিয়োগের লক্ষে টেন্ডার প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে। বেড়েছে বাস্তবায়ন মেয়াদও। আর মাঠ পর্যায়ের কাজও শুরু হয়েছে। ফলে অনেক বাধা-বিপত্তি চড়াই-উৎরাই পেরিয়ে আলোর মুখ দেখেছে এ প্রকল্পটি। 
২০১৩ সালে সরকারি অর্থায়নে ৯৮ কোটি ৯০ লাখ টাকা ব্যয়ে খুলনা শিপইয়ার্ড সড়ক প্রশস্তকরণ ও উন্নয়ন প্রকল্প গ্রহণ করে সংস্থাটি। প্রকল্প রয়েছে, সড়ক প্রশস্তকরণের মাধ্যমে চার লেনে উন্নীতকরণ, ডিভাইডার, লাইট ও ৩টি কালভার্ট নির্মাণ। ওই বছর ৩০ জুলাই প্রকল্পটি একনেকে অনুমোদন মেলে। যার বাস্তবায়নকাল ধরা হয় ২০১৬ সালের জুন মাস পর্যন্ত। কিন্তু নানা জটিলতায় বাস্তবায়নের মেয়াদ উত্তীর্ণ হলেও দৃশ্যমান কোন অগ্রগতি হয়নি। এরপর কেডিএ মন্ত্রণালয়ে বাস্তবায়ন মেয়াদ ও ব্যয় বৃদ্ধির প্রস্তাব প্রেরণ করে। এর প্রেক্ষিতে প্রকল্পটির ব্যয় বেড়ে দাঁড়ায় ১২৬ কোটি টাকা, আর বাস্তবায়নকাল নির্ধারণ করা হয় ২০১৭ সালের জুন মাস পর্যন্ত। কিন্তু এ মেয়াদেও প্রকল্প বাস্তবায়ন করা সম্ভব হয়নি। শুধুমাত্র পরামর্শক প্রতিষ্ঠান ও ভূমি হুকুম দখল কার্যক্রমের মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল। এখন পুনরায় মেয়াদ বৃদ্ধির প্রস্তাব প্রেরণ করা হয়েছে। এভাবে দীর্ঘ প্রায় ৫ বছরেও প্রকল্পটি বাস্তবায়ন না হওয়ায় এর সুফল থেকে বঞ্চিত হচ্ছে নগরবাসী।
রেস্ট হাউজ নির্মাণে ২০১৩ সালের একটি প্রকল্প গ্রহণ করে কেডিএ। ওই বছরই প্রকল্পটি একনেকে অনুমোদন মেলে। এরপর পরামর্শক নিয়োগ ও টেন্ডার শেষে চলতি বছর ফাউন্ডেশনের কাজ শুরু হয়েছে।
খুলনা নিরালা থেকে সিটি বাইপাস, খুলনা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে রায়ের মহল এবং দৌলতপুর কৃষি কলেজ (পুরাতন সাতক্ষীরা রোড) থেকে বাস্তুহারা পর্যন্ত তিনটি সংযোগ সড়ক নির্মাণে পরিকল্পনা গ্রহণ করে সংস্থাটি। এর মধ্যে প্রথম সড়কটি নিরালা ১নং সড়ক হয়ে দীঘির পাশ দিয়ে সোজা বাইপাসে গিয়ে মিশবে। এ সড়কটি হবে আড়াই কিলোমিটার। দ্বিতীয় সড়কটি খুলনা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে রায়ের মহল পর্যন্ত ৪ দশমিক ৬ কিলোমিটার এবং তৃতীয় দৌলতপুর কৃষি কলেজ (পুরাতন সাতক্ষীরা রোড) থেকে বাস্তুহারা পর্যন্ত ২ দশমিক ৭ কিলোমিটার। এই তিনটি সড়কের ব্যয় ছিল ৩০১ কোটি টাকা। কিন্তু পরিকল্পনা কমিশন তিন সংযোগ সড়কের মধ্যে নিরালা সড়কের পুরোটা এবং বিশ্ববিদ্যালয় সড়কটি ময়ূর ব্রীজ পর্যন্ত অর্থ্যাৎ ১ দশমিক ৬০ কিলোমিটার রেখে বাকিটা বাদ দিয়ে দেয়। ফলে দু’টি সংযোগ সড়ক নির্মাণের জন্য ১২৮ কোটি টাকার একটি প্রকল্প একনেকে উত্থাপন করে কেডিএ।
সূত্রটি জানায়, চলতি বছরের ৭ ফেব্র“য়ারি একনেক  বৈঠকে ১২৮ কোটি টাকা ব্যয়ে কেডিএ’র দু’টি সংযোগ সড়ক প্রকল্প উত্থাপন করা হয়। তখন বৈঠকের মধ্যে প্রধানমন্ত্রী জানতে চান প্রকল্প কেন এতো ছোট করা হলো? তখন তৎকালীন কেডিএ চেয়ারম্যান উল্লেখ করেন প্রকল্পে তিনটি সংযোগ সড়ক প্রকল্পের নির্মাণের কথা ছিলো। কিন্তু পরিকল্পনা কমিশন প্রকল্পটি ছোট করে ১২৮ কোটি টাকা করেছে। তখন প্রধানমন্ত্রী একনেক সভায় ৩০১ কোটি টাকার আগে পাঠানো তিনটি সংযোগ সড়ক প্রকল্পের পুরোটাই অনুমোদনের ঘোষণা দেন এবং ব্যবস্থা নেয়ার জন্য পূর্ত মন্ত্রণালয়কে নির্দেশ দেন। এরপর একনেকের সভায় সিদ্ধান্ত হয় প্রথম প্রকল্পের তিনটি সংযোগ সড়ক নির্মাণের প্রস্তাব অনুমোদনের সঙ্গে অবশ্যই বাড়তি ব্যয় সংযুক্ত করতে হবে। 
এরপরও নিরালা সড়কটি নিরালা সড়কটি ৪ লেনের পরিবর্তে দুই লেন নির্মাণ করতে হবে বলে জানায় পরিকল্পনা কমিশন। কিন্তু এতে আপত্তি জানায় কেডিএ। ওই আপত্তির প্রেক্ষিতে বিষয়টি সমাধানে জন্য একটি কমিটি গঠন করা হয়। পরিকল্পনা কমিশনের সাব কমিটির ওই বৈঠকে একনেকে ঘোষণা অনুযায়ী তিনটি সংযোগ সড়ক অর্থাৎ ১০ কিলোমিটার সড়ক নির্মাণ এবং সার্বিক উন্নয়নের স্বার্থে অনেক যুক্তির প্রেক্ষিতে পরিকল্পনা কমিশন নিরালা সড়কটি ৪ লেনে নির্মাণে সম্মতি দেয়। সে অনুযায়ী প্রকল্প রিভাইস করে ফের ডেভেলপমেন্ট প্রজেক্ট প্রফোজল (ডিপিপি) পাঠানো হয় পরিকল্পনা কমিশনে। এতে ব্যয় বেড়ে দাঁড়ায় ৪০৩ কোটি টাকা। কিন্তু সর্বশেষ অনুষ্ঠিত একনেক সভায় তিন কোটি ৯৫ লাখ টাকা ব্যয়ে ওই প্রকল্প চূড়ান্ত অনুমোদন মিলেছে।
এছাড়া সংস্থাটির তিনটি ভবিষ্যৎ প্রকল্প হিসেবে ফুলবাড়ীগেট রেল ক্রসিং-এ ওভারপাস, বারাকপুর-চন্দনীমহল পর্যন্ত সড়ক নির্মাণ, শেখ রাসেল সিভিক সেন্টার নির্মাণ, রূপসা নদীর পূর্ব তীরে শিল্প নগরী স্থাপনের লক্ষে সম্ভাব্যতা যাচাই ও মংলা রিং রোড নির্মাণ অনুমোদনের আপেক্ষায় রয়েছে।
তবে কেডিএ’র কর্মকর্তারা বলেন, শিপইয়ার্ড সড়কের অধিগ্রহণকৃত জমির উপর বিভিন্ন স্থাপনা নিলামের জন্য বৈষয়িক শাখা টেন্ডার আহ্বান করেছে। নিলাম প্রক্রিয়া শেষ হলে ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান স্থাপনা অপসারণ করবে। তখন মাঠ পর্যায়ের কাজ শুরু করা হবে। আর ময়ুরী ও রেস্ট হাউজ নির্মাণ প্রকল্পের বাস্তবায়ন কাজ শুরু হয়েছে। আর ভবিষ্যৎ প্রকল্প গুলো অনুমোদনের চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে। তবে প্রকল্পগুলো বাস্তবায়ন হলে শহর সম্প্রসারিত হবে, ইন্ডাস্ট্রি গড়ে উঠবে, শহরের উপর চাপ কমবে আবাসন ব্যবস্থা এবং পর্যাপ্ত কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে।


পাঠকের মন্তব্য (০)

লগইন করুন




আরো সংবাদ

বদলে যাবে মংলা বন্দর

বদলে যাবে মংলা বন্দর

০৩ জুলাই, ২০১৮ ০২:০১













ব্রেকিং নিউজ

খুলনায় মনোনয়নপত্র সংগ্রহ ৩ জনের

খুলনায় মনোনয়নপত্র সংগ্রহ ৩ জনের

১৯ নভেম্বর, ২০১৮ ০১:০০








খালেদা জিয়াকে  নিয়ে বই প্রকাশ

খালেদা জিয়াকে  নিয়ে বই প্রকাশ

১৯ নভেম্বর, ২০১৮ ০০:৫০



এইডস ঝুঁকিতে খুলনাসহ ২৩ জেলা

এইডস ঝুঁকিতে খুলনাসহ ২৩ জেলা

১৯ নভেম্বর, ২০১৮ ০০:৪৮