খুলনা | সোমবার | ১৯ নভেম্বর ২০১৮ | ৪ অগ্রাহায়ণ ১৪২৫ |

Shomoyer Khobor

পর্যটন সম্ভাবনায় সুন্দরবন অঞ্চল প্রয়োজন অবকাঠামো উন্নয়ন

নিজস্ব প্রতিবেদক  | প্রকাশিত ০৩ জুলাই, ২০১৮ ০১:৫১:০০

পর্যটন সম্ভাবনায় সুন্দরবন অঞ্চল প্রয়োজন অবকাঠামো উন্নয়ন


বিশ্বের সর্ববৃহৎ ম্যানগ্রোভ ফরেস্ট প্রকৃতির নৈসর্গিক অপরূপ ‘সুন্দরবন’ সৌন্দর্য্যরে আঁধার। সুন্দরবন সীমান্ত ঘেঁষা উপকূলীয় অঞ্চল পর্যটন শিল্পের অপার সম্ভাবনাময় হাতছানি। পার্শ্ববর্তী দেশের অনুকরণে নিরাপদ যাতায়াত ও আবাসন ব্যবস্থা, সুন্দরবনের উপর দিয়ে ক্যাবল কার চালুসহ বিনোদন ক্ষেত্র সৃষ্টি করলে দেশী-বিদেশী পর্যটকদের ব্যাপক সমাগম ঘটবে। এতে প্রতি বছর প্রচুর রাজস্ব আয় আসবে রাষ্ট্রীয় তহবিলে।
গেল ৩ মার্চ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার খুলনা সার্কিট হাউজের জনসভার পূর্বে সুন্দরবনকে ঘিরে পর্যটন শিল্পের বিকাশ, অবকাঠামো উন্নয়ন ও পাঁচ তারকা হোটেল-মোটেল নির্মাণসহ ১৪ দফা দাবি জানায় বৃহত্তর খুলনা উন্নয়ন সংগ্রাম সমন্বয় কমিটি।
বঙ্গোপসাগর উপকূলবর্তী সুন্দরবন বিশ্বের প্রাকৃতিক বিস্ময়াবলীর অন্যতম। অপরূপ বনভূমি খুলনা, সাতক্ষীরা, বাগেরহাট, পটুয়াখালী ও বরগুনা জেলা জুড়ে বিস্তৃত। দশ হাজার বর্গ কিলোমিটার জুড়ে গড়ে ওঠা সুন্দরবনের ৬ হাজার ১৭ বর্গ কিলোমিটার রয়েছে বাংলাদেশে। সুন্দরবন ১৯৯৭ সালে ইউনেস্কো বিশ্ব ঐতিহ্যবাহী স্থান হিসেবে স্বীকৃতি লাভ করে। সুন্দরবনকে জালের মত জড়িয়ে রয়েছে সামুদ্রিক স্রোতধারা, কাদা চর এবং ম্যানগ্রোভ বনভূমির লবণাক্ততাসহ ক্ষুদ্রায়তন দ্বীপমালা। সুন্দরবনে স্বনামে বিখ্যাত রয়েল বেঙ্গল টাইগার ছাড়াও নানান ধরনের পাখি, চিত্রা হরিণ ও সাপসহ অসংখ্য প্রজাতির প্রাণির আবাসস্থল হিসেবে পরিচিত। নদ-নদীতে রয়েছে কুমির, ডলফিনসহ অসংখ্য প্রজাতির মাছ। সুন্দরবনের মনোমুগ্ধকর প্রাকৃতিক দৃশ্য পর্যটকদের সামনে তুলে ধরতে পারলে প্রতি বছর বিপুল পরিমাণ রাজস্ব আয় সম্ভব বলে মনে উন্নয়ন কর্মীরা। উদাহরণ হিসেবে পার্শ্ববর্তী দেশগুলোর পর্যটন শিল্পের জয় জয়কারকে তুলে ধরছেন তারা।
সূত্রমতে, পর্যটনকে কেন্দ্র করে অর্থনীতির বিকাশ ঘটিয়ে পার্শ্ববর্তী দেশগুলো প্রমাণ করেছে ‘পর্যটন গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক শক্তি।’ বিশ্ব পর্যটন সংস্থার হিসাব মতে, সিঙ্গাপুরের জাতীয় আয়ের ৭৫ শতাংশই আসে পর্যটন খাত থেকে। তাইওয়ানের ক্ষেত্রে এর পরিমাণ জাতীয় আয়ের ৬৫ শতাংশ, হংকংয়ে ৫৫ শতাংশ, ফিলিপাইনে ৫০ শতাংশ ও থাইল্যান্ডে ৩০ শতাংশ। মালদ্বীপের অর্থনীতি প্রায় পুরোটাই পর্যটন খাতের ওপর নির্ভরশীল। ক্যারিবিয়ান দ্বীপগুলোও মূলত পর্যটন নির্ভর। মালয়েশিয়ার বার্ষিক অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির ৭ শতাংশই আসে পর্যটন খাত থেকে। ভারতে আছে প্রচুর ঐতিহাসিক ও দর্শনীয় স্থান। এশিয়ার সুইজারল্যান্ড নামে খ্যাত ভুটানও পর্যটনে এখন অনেক এগিয়ে। পর্যটন শিল্পে সুন্দরবনকে ঘিরে বাংলাদেশেরও রয়েছে অপার সম্ভাবনা। বাংলাদেশকে বিশ্বের দ্রুত বর্ধনশীল ১০টি পর্যটন কেন্দ্রের একটি হিসেবে ভাবছে বিশ্ব পর্যটন সংস্থা। এ শিল্পের যথাযথ সমৃদ্ধির জন্য যথাযথ সরকারি নীতি প্রণয়ন এবং জাতীয় বাজেটে বাস্তবসম্মত অর্থ বরাদ্দ প্রয়োজন।
এদিকে ২০১৫ সালের ১৯ মে খুলনার মুজগুন্নীতে ৪ দশমিক ৮৪ একর জমি হস্তান্তর করে পর্যটন করপোরেশনের অফিসের খুলনা জেলা প্রশাসন। এ বিষয়ে বাংলাদেশ পর্যটন করপোরেশনের ব্যবস্থাপক (পরিকল্পনা) খালিদ বিন মজিদ জানান, খুলনার মুজগুন্নীতে পাঁচতারা মোটেল ও পর্যটন কমপেক্স স্থাপনের পরিকল্পনা হাতে নেয়া হয়েছে। সেখানে কেমন স্থাপনা করা যেতে পারে, কত জনবল প্রয়োজন হতে পারে, তারই পরিকল্পনা করেছে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় (বুয়েট)। প্রতিবেদন যাচাই-বাছাই চলছে। পর্যটন করপোরেশনের ওই জমির চারদিকে বর্তমানে সীমানা প্রাচীর দেয়া হয়েছে। জায়গাটি দেখভালে একটি গার্ডরুম তৈরি করা হয়েছে এবং সেখানে একজন গার্ডও রয়েছে। নির্মাণ কাজ শেষ হলে খুলনা অঞ্চলের পর্যটন শিল্পে অভূতপূর্ব পরিবর্তন আসবে।
বৃহত্তর খুলনা উন্নয়ন সংগ্রাম সমন্বয় কমিটির মহাসচিব শেখ আশরাফ উজ জামান বলেন, সুন্দরবনকে ঘিরে পর্যটন শিল্প গড়ে তুলতে গুরুত্ব দিতে হবে। এতে বেকারত্ব বিমোচন ও অর্থনৈতিক সমৃদ্ধির ব্যাপক সুযোগ সৃষ্টি হবে। জাতীয় অর্থনীতিতে অবদান রাখা অন্যান্য খাতকে টপকে সর্বোচ্চ রাজস্ব আয় সম্ভব খুলনা অঞ্চলের পর্যটনখাত থেকে। প্রয়োজন শুধু সঠিক পরিকল্পনার সুষ্ঠু বাস্তবায়ন। বর্তমান সরকার প্রধানও খুলনা অঞ্চলের উন্নয়নে আন্তরিক বলে তিনি প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন।
খুলনা নাগরিক সমাজের সদস্য সচিব এড. বাবুল হাওলাদার বলেন, খুলনা অঞ্চলে পর্যটনের ব্যাপক সম্ভাবনা থাকলেও উদ্যোগের অভাবে সেগুলো নষ্ট হচ্ছে। শুধু খুলনা বা দেশের অভ্যন্তরেই নয়; সুন্দরবন, অভয়ারণ্য সৃষ্টি, সূর্যোদয় ও সূর্যাস্ত দেখার সুযোগ সৃষ্টি করতে পারলে বিদেশি পর্যটকরাও আকৃষ্ট হবে। পার্শ্ববর্তী দেশের ন্যায় বাগেরহাটের মংলা থেকে সুন্দরবনের উপর দিয়ে করমজল পর্যন্ত ‘ক্যাবল কার’ চালু করছে পর্যটক আকর্ষণ বৃদ্ধি পাবে সহস্রগুণে। এতে অর্থনৈতিক ভাবে লাভবান হওয়ারও সুযোগ রয়েছে।
প্রসঙ্গত, বিশ্বের অদ্বিতীয় ম্যানগ্রোভ ফরেস্ট নয়নাভিরাম সুন্দরবন ছাড়াও খুলনা অঞ্চলে এসে পর্যটকরা দেখতে পাবেন খাজা খানজাহান আলী (রহঃ) ও খান বাহাদুর আহসানউলাহ (রহঃ)-এর স্মৃতিবিজড়িত নির্দশনসমূহ, বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের স্মৃতি ধন্য দক্ষিণডিহিতে প্রস্তাবিত রবীন্দ্র কমপেক্স, দেশের অন্যতম আধুনিক শেখ রাসেল ইকোপার্ক, খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়, খুলনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, বাংলাদেশ সেনাবাহিনী পরিচালিত গিলাতলা বনবিলাস চিড়িয়াখানা ও পার্কসহ অন্যান্য দৃষ্টিনন্দন স্থাপনা।
 


পাঠকের মন্তব্য (০)

লগইন করুন




আরো সংবাদ

বদলে যাবে মংলা বন্দর

বদলে যাবে মংলা বন্দর

০৩ জুলাই, ২০১৮ ০২:০১













ব্রেকিং নিউজ

খুলনায় মনোনয়নপত্র সংগ্রহ ৩ জনের

খুলনায় মনোনয়নপত্র সংগ্রহ ৩ জনের

১৯ নভেম্বর, ২০১৮ ০১:০০








খালেদা জিয়াকে  নিয়ে বই প্রকাশ

খালেদা জিয়াকে  নিয়ে বই প্রকাশ

১৯ নভেম্বর, ২০১৮ ০০:৫০



এইডস ঝুঁকিতে খুলনাসহ ২৩ জেলা

এইডস ঝুঁকিতে খুলনাসহ ২৩ জেলা

১৯ নভেম্বর, ২০১৮ ০০:৪৮