খুলনা | সোমবার | ১৯ নভেম্বর ২০১৮ | ৪ অগ্রাহায়ণ ১৪২৫ |

Shomoyer Khobor

খুলনা অঞ্চলে শিক্ষা ব্যবস্থায় বাড়ছে প্রযুক্তির ব্যবহার

নিজস্ব প্রতিবেদক   | প্রকাশিত ০৩ জুলাই, ২০১৮ ০১:৪৯:০০

খুলনা অঞ্চলে শিক্ষা ব্যবস্থায় বাড়ছে প্রযুক্তির ব্যবহার

সোনাডাঙ্গা এলাকার করীম নগরের বাসিন্দা মোঃ মাসুদ বিশ্বাস-এর সাড়ে তিন বছরের ছেলে মোঃ মুজাহিদুল ইসলাম স্মার্ট মোবাাইল থেকে ইংরেজি বাংলা বর্ণমালা লিখতে পারে। একই পদ্ধতিতে ইংরেজি ও বাংলা বিভিন্ন কবিতাও মুখস্ত করেছে সে। আর এভাবে স্কুলে যাওয়ার আগেই এখন শিশুরা প্রযুক্তি ব্যবহার করে লেখাপড়া শিখছে। দিন দিন এ সংখ্যা বাড়ছে। যা সব ধরনের শিক্ষা ব্যবস্থায় আইসিটির অন্তর্ভুক্তি করে আইসিটি নির্ভর শিক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তুলতে সরকারের বিভিন্ন পদক্ষেপেরই ফসল। বর্তমানে এর ছোয়া লেগেছে খুলনা অঞ্চলেও। ইতোমধ্যে বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শিক্ষায় প্রযুক্তির ব্যবহার শুরুর পাশাপাশি প্রযুক্তি নির্ভর বিভিন্ন শিক্ষা ব্যবস্থা গড়ে উঠছে খুলনায়। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, আধুনিক বিশ্বের সাথে তাল মেলাতে প্রযুক্তি শিক্ষার বিকল্প নেই। তবে শিক্ষার্থীরা যাতে ইন্টারনেট এর ভালো দিকগুলোই ব্যবহার করে অভিভাবকদের গুরুত্বের সাথে সে দিকেও লক্ষ্য রাখতে হবে।
ইউনেসকো একটি প্রতিবেদনে একবিংশ শতাব্দির অত্যবশ্যকীয় দক্ষতা হিসেবে আইসিটিকে তুলে ধরেছে। ফলে পৃথিবীর সকল দেশের ন্যয় বাংলাদেশেও ২০১২ সালে শিক্ষা ব্যবস্থায় আবশ্যিক বিষয় হিসেবে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিষয় অন্তর্ভুক্ত করা হয়। পাশাপাশি তথ্য প্রযুক্তির জ্ঞান অর্জন করা, তথ্য প্রযুক্তি ব্যবহার করা, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি নির্ভর শিক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তোলার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়। এছাড়া ডিজিটাল শিক্ষা উপকরণ তৈরি করে শিক্ষার্থীদের পাঠগ্রহণ সহজ বোধগম্য এবং আনন্দদায়ক করার কাজও শুরু করা হয়। খুলনা জেলায় সরকারি ও বেসরকারি মিলে ১ হাজার শিক্ষা প্রতিষ্ঠান রয়েছে। যার অধিকাংশে সরকার ইতোমধ্যে ল্যাপটপ এবং মাল্টিমিডিয়া প্রজেক্টর বিনামূল্যে বিতরণ করেছে। সরকারের উদ্যোগ আর প্রযুক্তির এ ছোঁয়ায় খুলনায় গত দুই বছরের মধ্যে বিভিন্ন নামকরা বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে সকল ক্লাস মাল্টিমিডিয়ায় গ্রহণের ব্যবস্থা করেছে। বিভিন্ন কিন্ডারগার্টেন ও বিভিন্ন বেসরকারি স্কুলে ডিজিটাল পদ্ধতিতে শিক্ষাদান করা হচ্ছে। এছাড়া অনেক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে স্কুল ম্যানেজমেন্ট সফটয়ার ব্যবহার করা হচ্ছে। এর মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের শিক্ষার সাথে ডিজিটাল পদ্ধতিতে অভিভাবকদেরও সম্পৃক্ত করা হচ্ছে। 
তবে এত আশার মাঝে হতাশাও রয়েছে। কারণ সরকার তথ্য প্রযুক্তির উন্নয়নের লক্ষে বিপুল অর্থ ব্যয়ে স্কুলগুলোতে ল্যাপটপ এবং মাল্টিমিডিয়া প্রজেক্টর বিনামূল্যে বিতরণ করলেও এর সঠিক ব্যবহার হচ্ছে না। আর স্কুলগুলোতে মাল্টিমিডিয়া ক্লাসের রয়েছে শুভঙ্করের ফাঁকি। প্রত্যেকটি স্কুলে প্রতিদিন অন্তত দুু’টি ক্লাস মাল্টিমিডিয়া প্রজেক্টরে নিয়ে শিক্ষা অফিসের ওয়েবসাইটে প্রতিবেদন পাঠানোর বিধান রয়েছে। অথচ খুলনার ৯০ শতাংশ স্কুলে মাল্টিমিডিয়ায় সঠিকভাবে ক্লাস নেওয়া হয় না। অল্প সংখ্যক শিক্ষক ক্লাস নিলেও পর্যাপ্ত প্রশিক্ষণের অভাবে তা মানসম্মত হয় না। অথচ এসব শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নিয়মানুযায়ী শিক্ষা অফিসের ওয়েবসাইটে ভুয়া  প্রতিবেদন পাঠাচ্ছে। এতে সরকারের মহতি উদ্যোগ ভেস্তে যেতে বসেছে। 
অবশ্য ক্লাস না নিয়েও প্রতিবেদন প্রেরণের কথা স্বীকার করে প্রতিষ্ঠান প্রধানরা বলছেন, সরকারি ল্যাপটপ প্রজেক্টর অনেক আগেই নষ্ট হয়ে গেছে। তাই অনেকটা বাধ্য হয়েই মিথ্যা রিপোর্ট পাঠাচ্ছেন তারা। এদিকে মিথ্যা রিপোর্ট পাঠিয়ে বেতন ভাতা সচল রাখলেও প্রতারিত হচ্ছে সাধারণ শিক্ষার্থীরা। খুলনার নয় উপজেলার ৫০টি স্কুলের প্রধান ও অন্তত ৪০ শিক্ষার্থীর সাথে কথা বলে উঠে এসেছে খুলনার এ হালচিত্র। শহরের স্কুলগুলোতে মাঝে মাঝে কিছু ক্লাস হলেও গ্রামঞ্চলের অবস্থা অত্যন্ত নাজুক। এ অবস্থার উত্তরণ ঘটাতে পারলে জেলার শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে শিক্ষার্থীরা প্রকৃতভাবে ডিজিটাল শিক্ষা গ্রহণ করতে পারেব বলে সচেতন মহলের অভিমত।
শিক্ষা ব্যবস্থায় প্রযুক্তির ব্যবহার নিয়ে ক্যান্টনমেন্ট পাবলিক স্কুল এন্ড কলেজের প্রভাষক মোঃ তুহিন আহমেদ এ প্রতিবেদককে বলেন শিক্ষা ব্যবস্থায় প্রযুক্তির ব্যবহার দিন দিন বাড়ছে। জাতিয় শিক্ষাক্রম ২০১২ উন্নয়নের ক্ষেত্রে যে নীতিমালা অনুসরণ করা হয়েছে তার অন্যতম একটি নীতি হলো, “আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহারের যোগ্যতা অর্জনের সুযোগ সৃষ্টি করা” এবং সেখানে উল্লিখিত বৈশিষ্ট্যর একটি হলো “শ্রেণী কার্যক্রমে প্রযুক্তির ব্যবহার বৃদ্ধি করা”। শিক্ষার্থীদের তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তির অসীম সম্ভাবনা সম্পর্কে অবগত করে বিশ্বের জ্ঞান ও তথ্যভাণ্ডারে প্রবেশের দরজা উন্মুক্ত করে দেওয়া। তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তির ব্যবহার করে  দৈনন্দিন জীবনের বিভিন্ন সমস্যা সমাধানে ভাষাগত দক্ষতা বৃদ্ধি, মেধা ও সৃজনশীলতার বিকাশে, বেকারত্ব নিরসন, দারিদ্র্য বিমোচন এবং জীবনযাত্রার মান উন্নয়নে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে সুযোগ সৃষ্টি করতে পারাই মূল উদ্দেশ্য হবে বলে আশা করেন তিনি।


পাঠকের মন্তব্য (০)

লগইন করুন




আরো সংবাদ

বদলে যাবে মংলা বন্দর

বদলে যাবে মংলা বন্দর

০৩ জুলাই, ২০১৮ ০২:০১













ব্রেকিং নিউজ

খুলনায় মনোনয়নপত্র সংগ্রহ ৩ জনের

খুলনায় মনোনয়নপত্র সংগ্রহ ৩ জনের

১৯ নভেম্বর, ২০১৮ ০১:০০








খালেদা জিয়াকে  নিয়ে বই প্রকাশ

খালেদা জিয়াকে  নিয়ে বই প্রকাশ

১৯ নভেম্বর, ২০১৮ ০০:৫০



এইডস ঝুঁকিতে খুলনাসহ ২৩ জেলা

এইডস ঝুঁকিতে খুলনাসহ ২৩ জেলা

১৯ নভেম্বর, ২০১৮ ০০:৪৮