খুলনা | মঙ্গলবার | ২৫ সেপ্টেম্বর ২০১৮ | ১০ আশ্বিন ১৪২৫ |

Shomoyer Khobor

গ্রামমুখী সাংবাদিকতা এবং ‘সময়ের খবর’

পারভেজ মোহাম্মদ   | প্রকাশিত ০৩ জুলাই, ২০১৮ ০১:৪৭:০০

গ্রামমুখী সাংবাদিকতা এবং ‘সময়ের খবর’

গণমাধ্যমের একজন সহযোদ্ধা হিসেবে উপলব্ধি করেছি, দেশের সংবাদপত্র শহরমুখী তথা রাজধানী কেন্দ্রীক কর্মকান্ড দ্বারাই প্রভাবিত। প্রতিটি ক্ষেত্রে স্ব-স্ব অবস্থান থেকে এক রকমের প্রতিযোগিতা বিদ্যমান। যে প্রতিযোগিতার সঙ্গে প্রান্তিক গণমানুষের কোন সম্পর্ক নেই বললেই চলে। যতদূর জানি, সামন্ত যুগে গণমানুষের মধ্যে রাজ্যের রাজস্বের আয়-ব্যয়ের খোঁজ খবর জানানোর জন্য ঢাক ঢোল পিটিয়ে প্রচার করার যে ব্যবস্থা প্রচলিত হয়, তা এক সময় হস্ত লিখিত সংবাদপত্রে রূপ লাভ করে। সেখানে দিন দিন যুক্ত হতে থাকে জন মানুষের সুখ-দুঃখের খবরা-খবর। সভ্যতার বিকাশে সংবাদপত্রও বিকশিত হয়েছে। যে সংবাদপত্র একসময় কোন মহৎপ্রাণ মানুষের সমাজ চিন্তা প্রকাশের তাড়না থেকে প্রকাশিত হয়েছে, দিনের পর দিন লোকসান দিয়ে মানুষকে জানান দেওয়ার এক অভিযান হিসেবে চালু থেকেছে, সেই সংবাদপত্র কালের বিবর্তনে অন্যতম এক বাণিজ্যিক প্রয়াস হিসেবেও দাঁড়িয়েছে বলা যায়। এক সময় পেশা হিসেবে সাংবাদিকতা সাধারণের কাছে বাউন্ডুলে পেশা হিসেবে গণ্য হতো, সাংবাদিক মানেই একটু ভিন্ন জগতের মানুষ। দিন-রাত এক করে সংবাদের নেশায় ছুটে চলা এক পেশার প্রতীক ছিল সাংবাদিকতা। একজন সাংবাদিক কখনও সংসারই গুছিয়ে উঠতে পারেননি, অর্থবিত্তের মালিক হওয়াতো দুরের কথা। আজ দিন বদলেছে। সাংবাদিকতা পেশায় থেকে অনেক মানুষই সুন্দর করে নিজের জীবন গুছিয়ে নিতে পারছেন। এর একটি শক্তিশালী প্রাতিষ্ঠানিক রূপ ও কাঠামোও দাঁড়িয়েছে। কিন্তু তার পরও বার-বারই মনে হয়, আমাদের সাংবাদিকতা কাঠামোর ভেতর দেশের পক্ষে ইতিবাচক পদক্ষেপ এবং প্রকৃত উন্নয়ন চিন্তার সত্যিই অভাব রয়েছে। কারণ সংবাদকে পন্য মেনে মানুষকে খাওয়ানোই শেষ কথা নয়, একটি সংবাদ কীভাবে পরিবারকে, সমাজকে বা জনপদকে আলোকিত করতে পারে, সে চিন্তা ভাবনার ঘাটতি দেখা যায় অহরহ। আমি একজন সংবাদকর্মী। খোদ রাজধানী কিংবা বিভাগীয় শহর কেন্দ্রীক কর্মকান্ডের সংবাদ প্রকাশের সুযোগ হয়েছে আমার। সময়ের প্রয়োজনে দেশপ্রেমের জায়গা থেকে, জনকল্যাণের জায়গা থেকে, বহু সম্ভাবনায় ভরপুর এ দেশটির মোট জনগোষ্ঠীর বারোআনা মানুষের বসবাসের যে জায়গাটি, সেই গ্রামবাংলার খবর তুলে ধরে যে আত্মতৃপ্তি পেয়েছি, সেটি যেন আমার এই পেশার সব থেকে বড় অর্জন। কৃষি প্রধান বাংলাদেশের সংবাদের খনিই হচ্ছে গ্রাম। অবশ্য বলা বাহুল্য, এর জন্য সংবাদ মাধ্যমগুলোর আন্তরিকতাও অত্যন্ত জরুরী। আর সে কাজটির গর্বিত দাবিদার খুলনার পাঠক নন্দিত ‘দৈনিক সময়ের খবর’। গত ৮ বছরে (নবম বর্ষে পদার্পন) প্রত্যন্ত গ্রামের মানুষের ছোট্ট খবরটি গুরুত্বের সাথে প্রকাশ করায় সে অঞ্চলের কৃষি কিংবা চিংড়ি চাষে বৈপ্লবিক বিকাশ ঘটেছে। দক্ষিণাঞ্চলের সড়কের জনদুর্ভোগ আর প্রতিদিনের মৃত্যুর হাতছানির (পাইকগাছা-খুলনা সড়ক) ধারাবাহিক সচিত্র প্রতিবেদন প্রকাশে খোদ সড়ক ও সেতুমন্ত্রীর সরেজমিন উপস্থিতির সুফল আজ দৃশ্যমান। কপোতাক্ষ পাড়ের মানুষের কান্না আর ঘর ছাড়া মানুষের সীমাহীন দুর্ভোগ এখন অনেকটাই স্মৃতি। সময়ের খবরের হৃদয়স্পর্শ সচিত্র সংবাদ এ অঞ্চলের ঘরছাড়া মানুষের ঘরে ফেরার পাঞ্জেরী। সময়ের খবর গ্রামের জনগোষ্ঠী, সাংবাদিক ও শহরের গণমাধ্যমের মধ্যে একটি সেতুবন্ধন তৈরি করেছে। আমাদের দেশের সংবাদপত্র গুলোতে মফস্বল সংবাদ বহুকাল ধরে উপেক্ষিত, তা বলা বালবাহুল্য। সময়ের খবর তার ব্যতিক্রম। শুধুমাত্র এ পত্রিকাটিতে রয়েছে গ্রামমুখী সাংবাদিকতার দীর্ঘ চর্চা। শহরের অসুস্থ প্রতিযোগিতা পরিহার করে গ্রামীণ সাংবাদিকতায় আত্মনিয়োগের যে সময়ের দাবি উঠেছে, “সময়ের খবর” অন্তর থেকে সেটি বিশ্বাস করে বলেই, পাঠক চায়ের কাপে মুখ দিয়ে খবরের কাগজটিতে চোখ বুলিয়ে আত্মতৃপ্তির ঢেঁকুর তোলে।


পাঠকের মন্তব্য (০)

লগইন করুন




আরো সংবাদ

বদলে যাবে মংলা বন্দর

বদলে যাবে মংলা বন্দর

০৩ জুলাই, ২০১৮ ০২:০১













ব্রেকিং নিউজ