খুলনা | সোমবার | ২৩ জুলাই ২০১৮ | ৮ শ্রাবণ ১৪২৫ |

Shomoyer Khobor

ডিসেম্বরেই চালু হচ্ছে স্বপ্নের ভৈরব সেতু রাজধানীতে পৌছানো যাবে চার ঘন্টায়

অভয়নগর প্রতিনিধি  | প্রকাশিত ০৩ জুলাই, ২০১৮ ০০:২৮:০০

ডিসেম্বরেই চালু হচ্ছে স্বপ্নের ভৈরব সেতু রাজধানীতে পৌছানো যাবে চার ঘন্টায়

যশোরের অভয়নগর শিল্প ও বাণিজ্য শহর নওয়াপাড়াবাসীর স্বপ্নের সেতু ভৈরব চলতি বছরের ডিসেম্বর মাসেই চালু হতে যাচ্ছে। এর আগের এ বছর জানুয়ারী মাসে চালু হওয়ার কথা থাকলে ও আবার চলতি বছরের ডিসেম্বর মাসেই চালু হতে যাচ্ছে বলে জানান সেতু কর্তৃপক্ষ। 
সেতু কর্তৃপক্ষ সূত্রে জানা গেছে, ডিসেম্বরের মধ্যেই সেতুটির ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন পূর্বক তা সর্বসাধারণের চলাচলের জন্য খুলে দেয়া হবে। এ লক্ষ্যে সেতুটির বাকি ৫ ভাগ কাজসহ দুই পাড়ে চলছে রাস্তা নির্মাণের কাজ। উভয়পাড়ের ৩ কিলোমিটার দৈর্ঘ্যরে এই রাস্তা নির্মাণের লক্ষ্যে সরকারের ব্যয় আর বাড়ছে ৭ কোটি টাকা। সেতু পাড়ের গাছ-গাছালি, বাড়ি-ঘর সরানোর ব্যবস্থা ইতোমধ্যে করা হয়েছে। আশা করা যাচ্ছে, এ বছরেই চলাচল করতে পারবে যানবাহনসহ সাধারণ জনগণ। ইতোমধ্যে সেতুটির নির্মাণ কাজ ৯৫ ভাগ সম্পন্ন হয়েছে। সরেজমিন দেখা যায়, কাজ বাকি ৫ ভাগ কাজ আগামী জুলাই মাসের মধ্যেই সমাপ্ত করার লক্ষ্যে অবিরাম গতিতে কাজ করে চলেছে ব্রীজ নির্মাণ কর্তৃপক্ষ। সেতুর কাজ প্রায় শেষ দুই পাশের রাস্তার কাজ চলছে ব্রীজের পূর্বপাশে পাশে রাস্তার জন্য জমি অধিগ্রহণ করে যে সমস্থ গাছপালা ছিল সে গুলো কেটে রাস্তা বানানো হচ্ছে। সেখানে অনেক শ্রমিক কাজ করছে। কয়েকজন শ্রমিকের সাথে কথা বললে জানান, দূর থেকে রাস্তার জন্য মাটি এনে ভরাট করে সমান করা হচ্ছে। যেহেতু জমি অধিগ্রহণ করতে অনেক সময় লেগে গেছে। তাই রাস্তার কাজ ও একটু দেরি হচ্ছে। আবার মশরহাটি ভাঙ্গাগেট ব্রীজের কাছে দেখা গেছে, ব্রীজের প্রথম পিলারের পাশ থেকে মাটি ভারাট করে রাস্তার কাজ করছে কর্তৃপক্ষ। দেখা যায়, নওয়াপাড়া পৌরসভার ২নং ওয়ার্ডের মশরহাটি এবং শ্রীধরপুর ইউনিয়নের দেয়াপাড়া এলাকায় নির্মিত হচ্ছে অভয়নগরবাসীর স্বপ্নের এই ভৈরব সেতু। বর্তমান সরকারের এলজিইডি মন্ত্রণালয় ভৈরব সেতু নির্মাণে ৭৮ কোটি ৩৯ লাখ টাকা ব্যয়ে নির্মাণ করছে এই সেতু। ৭০২.৫৫ মিটার দৈর্ঘ্য এবং এই সেতুর প্রস্থ হচ্ছে ৮.১ মিটার। ১৫টি পিলারে দাড়িয়ে থাকবে এ সেতুটি। ভৈরব সেতুটি নির্মাণ কাজে নিয়োজিত ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের ইঞ্জিনিয়ার মোঃ আরিফুল ইসলাম জানান, এ বছরের জুলাই মাসের মধ্যেই শেষ হবে সেতুটির নির্মাণ কাজ। সেতুটির দুই পাড়ে ৩ কিলোমিটারের রাস্তার কাজ চলছে দ্রুত গতিতে। ইতোমধ্যে রাস্তা নির্মাণে সরকার বরাদ্দ দিয়েছে ৭ কোটি টাকা। তাই আশা করছি, এ বছরের ডিসেম্বর মাসের মধ্যেই সেতুতে যানবাহন চলাচলের জন্য উন্মুক্ত করা যাবে। তিনি জানান, ২০১৫ সালের জুন মাসে শুরু হয় এই সেতুর নির্মাণ কাজ। মাঝপথে জমি অধিগ্রহণের জন্য কিছুটা কালবিলম্ব ঘটে। তিনি আরও জানান, ইতোমধ্যে ভৈরব সেতুর ৯৫ ভাগ কাজ সম্পন্ন করা হয়েছে। ১৫টি পিয়ারের (কলাম) উপর দাঁড়িয়ে থাকবে স্বপ্নের এই সেতুটি। সেতুটি নির্মাণের ফলে লাখ লাখ মানুষ উপকৃত হবে। সেতুর পশ্চিমপাড়ের বাসিন্দা, পৌর কাউন্সিলর শেখ আবদুল ওয়াদুদ জানান- ‘আমাদের স্বপ্নের ভৈরব সেতুটি নির্মিত হলে আমাদের পশ্চিম পাড়সহ পূর্ব পাড়ের লাখ লাখ মানুষের দুঃখ লাঘব হবে।’ উপজেলার শংকরপাশা গ্রামের বাসিন্দা সাবেক চেয়ারম্যান বাপ্পি হোসেন বিশিষ্ট সমাজসেবক আলী আকবর বিশ্বাস ও বাবলু রায় বলেন, সেতুটি চালু হলে রাজধানী ঢাকায় যেতে লাগবে আমাদের ৩ থেকে ৪ ঘন্টা। তাছাড়া সেতুটি চালু হওয়ার সাথে সাথে বাণিজ্য শহর নওয়াপাড়াসহ নড়াইল, যশোর, খুলনা, সাতক্ষীরা জেলার ব্যবসা বাণিজ্যের প্রসার ঘটবে।


 


পাঠকের মন্তব্য (০)

লগইন করুন




আরো সংবাদ

বদলে যাবে মংলা বন্দর

বদলে যাবে মংলা বন্দর

০৩ জুলাই, ২০১৮ ০২:০১













ব্রেকিং নিউজ