খুলনা | সোমবার | ১৬ জুলাই ২০১৮ | ১ শ্রাবণ ১৪২৫ |

Shomoyer Khobor

খুলনায় জিবিএস আক্রান্তের সংখ্যা বাড়ছে এক মাসে দু’জন শনাক্ত : একজনের মৃত্যু

বশির হোসেন | প্রকাশিত ৩০ জুন, ২০১৮ ০১:০০:০০


খুলনায় হঠাৎ করে গুইলেন বারি সিন্ড্রোম (জিবিএস) ভাইরাসে আক্রান্তের সংখ্যা বাড়ছে। এক মাসে নগরীর দৌলতপুরে ও খালিশপুরে এ রোগে দুইজন আক্রান্ত হয়েছে। একজনের মৃত্যু হয়েছে। অন্যজন ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে। এর আগেও এ রোগে আক্রান্ত হয়েছে বেশ কয়েকজন। এর চিকিৎসা অত্যন্ত ব্যয়বহুল। এ রোগে আক্রান্ত কারও কারও সেরে ওঠার সম্ভাবনা থাকলেও আর্থিক স্বচ্ছলতা না থাকলে তা সম্ভব না।
খোঁজ নিয়ে দেখা গেছে, নগরীর দৌলতপুরের ২ নং ক্রস রোডের বাসিন্দা নিরোদ মন্ডলের পুত্র প্রদীপ কুমার মন্ডল গত মাসে শরীরে জ্বর জ্বর অনুভব করে হঠাৎ সারা শরীর অবস হয়ে যায়। প্যারালাইসড ধারণা করে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে সেখান থেকে ঢাকায় স্থানান্তর করা হয়। পড়ে পরীক্ষা-নীরিক্ষা শেষে গুইলেন বারি সিন্ড্রোম (জিবিএস) ধরা পরে। অত্যন্ত ব্যয় বহুল এ রোগে আক্রান্ত হয়ে গত বুধবার ঢামেক হাসপাতালে মৃত্যুবরণ করে সে। নগরীর খালিশপুরে ফররুখ একাডেমির সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক মোঃ মনিরুল ইসলাম গত পাঁচ দিন আগে একই রোগে আক্রান্ত হয়ে বর্তমানে ঢাকা মেডিকেলে আশঙ্কাজনক অবস্থায় চিকিৎসাধীন অবস্থায় রয়েছে। গত বছরে নগরীর সোনাডাঙ্গা বাবলু নামে এক শিক্ষার্থী একই রোগে আক্রান্ত হলে ঢাকা এ্যাপোলো হাসপাতাল পরে সাভারে জাতীয় পক্ষাঘাত পুনর্বাসন কেন্দ্রে দীর্ঘদিন চিকিৎসার পরে সুস্থ হয়। আর্থিক সামর্থ্য থাকায় প্রায় ২৫ লক্ষ টাকা ব্যয়ে সুস্থ হয় সে।
বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা জানান, শরীরে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা ব্যাপক হারে হ্রাস পেলে গুইলেন বারি সিন্ড্রোম (জিবিএস) ভাইরাস আক্রমণ করতে পারে। এটি ভাইরাস হলেও অন্যান্য ভাইরাসের মত সংক্রামক নয়। তাই একজনের শরীর থেকে অন্যের শরীরে ছড়িয়ে পড়ার সম্ভাবনা নেই। প্রথমে জ্বর জ্বর অনুভব হয় এবং পরে সারা শরীর অবস হয়ে যায়। বাইরে দেখে দেখে প্যারালাইসড হয়ে যায়। এ রোগে আক্রান্ত হয়ে প্রায় ২০ ভাগ রোগী সারা জীবনের জন্য পঙ্গুত্ববরণ করেন। তবে সু চিকিৎসা ও যথাযথ ফিজিও থেরাপি পেলে ৮০ ভাগ মানুষ আবার আগের স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে আসে।
খুলনা মেডিকেল কলেজ-এর অধ্যক্ষ অধ্যাপক ডাঃ আব্দুল আহাদ বলেন গুইলেন বারি সিন্ড্রোম একটি ভাইরাস যা শরীরকে প্যারালাইসড করে। প্রথমে পা থেকে শুরু করে আস্তে আস্তে উপরে ওঠে সারা শরীর অবস হয়। একপর্যায়ে শ্বাস প্রশ্বাসে কষ্ট হয়ে রোগী মারা যায়। এ সময় রোগীর কৃত্তিম শ্বাস প্রশ্বাস বা আইসিওতে ভেন্টিলেটর এর প্রয়োজন হয়। এ রোগের চিকিৎসা বেশ ব্যয় ব্যয়বহুল। ইউমোনোগ্লুমিন ইনজেন্কশন প্রয়োজন হয় যা প্রতিটি ১ লক্ষ টাকার উপরে। এ ইনজেনকশন এর সাথে ফিজিও থেরাপি এ রোগের বড় চিকিৎসা।

বার পঠিত

পাঠকের মন্তব্য (০)

লগইন করুন




আরো সংবাদ










আটরা গিলাতলায়  গাঁজাসহ আটক ১

আটরা গিলাতলায়  গাঁজাসহ আটক ১

১৬ জুলাই, ২০১৮ ০১:২৫




ব্রেকিং নিউজ










আটরা গিলাতলায়  গাঁজাসহ আটক ১

আটরা গিলাতলায়  গাঁজাসহ আটক ১

১৬ জুলাই, ২০১৮ ০১:২৫