খুলনা | বুধবার | ২১ নভেম্বর ২০১৮ | ৭ অগ্রাহায়ণ ১৪২৫ |

সড়ক দুর্ঘটনা রোধে কার্যকর উদ্যোগ নিন

২৪ জুন, ২০১৮ ০০:১০:০০

সড়ক দুর্ঘটনা রোধে কার্যকর উদ্যোগ নিন


ঈদ যাত্রায় এবার সড়কে ঝরে গেল ৩২টি প্রাণ। এতে ঈদের আনন্দ বিষাদে পরিনত হলো এসব পরিবারে। ঈদের আনন্দকে একটু অন্যভাবে উপভোগ করতে ২৮ জন তরুণের যে দলটি দিনাজপুরের স্বপ্নপুরী ভ্রমণে গিয়েছিল, ফেরার পথে তাদেরই কয়েকজন লাশ হয়ে গেল। আহত হলো কেউ কেউ। ১৫-২০ বছরের এই তারুণ্যের ধর্মই নতুনভাবে সব কিছু বিবেচনা করা। নতুন করে সব কিছু উপভোগ করা। কিন্তু সড়ক তাদের আনন্দে বাদ সাধল।
প্রতিদিনের সড়কে দুর্ঘটনা রয়েছেই। পত্র পত্রিকা খুললেই তার প্রমান মেলে। তবে তা কয়েকগুণ বেড়ে যায় ঈদের সময়ে। কারণ এই সময়ে সারাদেশে যান চলাচল এবং ঈদে ঘরে ফেরা মানুষের ঢল নামে। যে কারণে বাড়তি সতর্কতারও প্রয়োজন রয়েছে। কিন্তু তা সর্বতোভাবে কেউ মনে রাখে বা অনুসরণ করে এমনটি বলা কঠিন। সড়কে যে সব প্রাণের অকাল প্রয়াণ ঘটে তা সহজে মেনে নেয়া সম্ভব নয়। কারণ এদের কাছ থেকে দেশ ও জাতির হয়তো আরো অনেক কিছু পাওয়ার ছিল। এমন অনেক পরিবার রয়েছে যাদের জন্য নিহত ব্যক্তিটিই ছিলেন একমাত্র উপার্জনক্ষম সদস্য। এই ধরনের পরিবারকে সারাজীবন লড়াই করে অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখতে হয়। সবাই যে তা পারেন তাও নয়। সামাজিক যে অবক্ষয় এর পেছনে এমন সব পরিবারের টানাপড়েনও অনেকটা দায়ী। কারণ জীবনযুদ্ধের লড়াইয়ে জেতার জন্য অনেকেই অনৈতিক পথে নামতে বাধ্য হন। অন্যের হাতের পুতুল হয়ে পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্রের জন্য ক্ষতিকারক নানা ধরনের অপকর্ম করে যান।
রাতে যে সব গাড়ি সড়ক-মহাসড়কে চলাচল করে সেসব গাড়ির চালকদের বাড়তি সতর্কতা অবলম্বন জরুরী। ২৮ জন তরুণের যে দলটি দিনাজপুর ভ্রমণ শেষে বাড়ি ফিরছিল তাদের মাইক্রোবাসের সঙ্গে ঢাকাগামী যে বাসটির সংঘর্ষ ঘটে সেই বাসের চালক কতটা সতর্ক হয়ে গাড়ি চালাচ্ছিলেন এমন প্রশ্ন ওঠা অস্বাভাবিক নয়। কারণ ঈদে নাড়ির টানে বাড়ি ফেরা মানুষদের বারবার আনা-নেয়ার ক্রমাগত চাপে মনোসংযোগে ব্যাঘাত ঘটতেই পারে। সে ক্ষেত্রে কর্তৃপক্ষ কতটা প্রয়োজনীয় বিকল্প ব্যবস্থা নিয়েছিল তা জানা দরকার। তবে এ ক্ষেত্রে যথাযথ কর্তৃপক্ষ সচেতন নন অতীতে এমন প্রমাণ বহুবার মিলেছে। সারাদেশে একাধিক জেলায় সড়ক দুর্ঘটনায় যে ৩২টি প্রাণ ঝরে গেল এদের ক্ষতির পূরণ কোনোভাবেই সম্ভব নয়। তবে বারবার একই ধরনের ঘটনা ঘটায় স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন জাগে, তবে কর্তৃপক্ষের নেয়া নানা ধরনের উদ্যোগ কী কালিকলমেই শুধু?
ভাঙা ও অপ্রশস্ত সড়ক-মহাসড়ক, অদক্ষ চালক, ফিটনেসবিহীন যান, অসম প্রতিযোগিতার কারণেই মূলত দুর্ঘটনাগুলো ঘটে। বছরের পর বছর এই সমস্যাগুলোর সমাধান করা সম্ভব হচ্ছে না। অথচ এগুলো চিহ্নিত সমস্যা। একটি ধারাবাহিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে এই সব সমস্যার সমাধান হওয়ার কথা থাকলেও তা হয় না বা হচ্ছে না। কারণ প্রক্রিয়াটি সুসম্পন্ন করার দায়িত্ব যাদের ওপর তারা সচেতন নন। অর্থের বিনিময়ে রুট পারমিট ও ড্রাইভিং লাইসেন্স দেয়াই তাদের মধ্যে অনেকের নিয়মিত কাজ- এমন অভিযোগ জোরালোভাবেই রয়েছে।
সড়ক দুর্ঘটনা সমূলে নির্মূল করা হয়তো সম্ভব নয়-এমন বাস্তবতা মেনে নিয়েও বলা যায় এটি নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব। সে ক্ষেত্রে চালক এবং যাত্রীদের সতর্ক ও সচেতন আচরণ যেমন জরুরী তেমনি সড়কে যান চলাচলের জন্য প্রয়োজনীয় এবং প্রশস্ত ও বিকল্প সড়ক থাকাটাও আরো বেশি জরুরী। একইসঙ্গে কারো অসতর্কতার কারণে দুর্ঘটনা ঘটলে কঠোর আইনি শাস্তিও নিশ্চিত করতে হবে। আমরা চাই, শুধু ঈদ মৌসুম নয়, সারা বছর যেন পথের যাত্রীরা নিরাপদ থাকেন। এজন্য প্রকৃত অর্থেই কর্তৃপক্ষের কার্যকর উদ্যোগ নিতে হবে।
 


পাঠকের মন্তব্য (০)

লগইন করুন




আরো সংবাদ

সিরাতুন্নবী (সাঃ) আজ

সিরাতুন্নবী (সাঃ) আজ

২১ নভেম্বর, ২০১৮ ০০:১০







দখলমুক্ত হোক খুলনার সড়ক মহাসড়ক

দখলমুক্ত হোক খুলনার সড়ক মহাসড়ক

১১ নভেম্বর, ২০১৮ ০০:১০



ভেজাল থেকে পরিত্রান চায় মানুষ

ভেজাল থেকে পরিত্রান চায় মানুষ

০৮ নভেম্বর, ২০১৮ ০০:১০



ব্রেকিং নিউজ






পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সাঃ) আজ

পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সাঃ) আজ

২১ নভেম্বর, ২০১৮ ০১:২৩


নগরীতে মাদ্রাসা ছাত্র নিখোঁজ

নগরীতে মাদ্রাসা ছাত্র নিখোঁজ

২১ নভেম্বর, ২০১৮ ০১:২০