খুলনা | সোমবার | ২৩ জুলাই ২০১৮ | ৮ শ্রাবণ ১৪২৫ |

Shomoyer Khobor

নির্মাণ কাজ শেষ হয়নি ১১ বছরেও

খুলনা নার্সিং কলেজ এখন ভুতের বাড়ি বখাটের আড্ডা ও গবাদি পশুর চরণভূমি

বশির হোসেন | প্রকাশিত ২২ জুন, ২০১৮ ০০:৪০:০০


শিশুদের কাছে সুবিশাল এ ভবনটি ভুতের বাড়ি হিসেবে পরিচিতি পাচ্ছে। সীমানা প্রাচীর না থাকায় প্রশস্ত মাঠ এখন গবাদিপশুর চরণভূমিতে পরিণত হয়েছে। বিকেল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত উঠতি বখাটে আর মাদকসেবীদের আড্ডাস্থল এখন খুলনা নার্সিং কলেজ ক্যাম্পাস।  বাউন্ডারী ওয়ালসহ অসমাপ্ত কাজে পুনঃ টেন্ডারেই আটকে আছে সবকিছু। ১১ বছর পার তবে চালু হচ্ছে না নার্সিং কলেজটি। অথচ শিক্ষা কার্যক্রম এই সেশনেই চালুর কথা থাকলেও ভর্তির প্রস্তুতি নেই।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, নার্সিং পেশায় উচ্চ শিক্ষার লক্ষ্য নিয়ে ২০০৭ সালের জানুয়ারি মাসে ঢাকা, চট্টগ্রাম ও বগুড়ার সাথে খুলনায়ও প্রতিষ্ঠা হয় খুলনা নার্সিং কলেজ। বয়রার কলাবাগান এলাকায় খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সামনে ১০ একর জমির উপর ১৬ কোটি ৫৬ লক্ষ টাকা ব্যয়ে এ কলেজটির নির্মাণ কাজ থেমে যায় ২০০৯ সালে। সরকারের সাথে নির্মাণকারী প্রতিষ্ঠানের বনিবনা না হওয়ায় দু’বছরের মাথায় কাজ বন্ধ করে দেয় ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মুন কনস্ট্রাকশন। তখন একটি একাডেমিক ভবন, একটি গেস্ট হাউজ, দুইটি হোস্টেল, ও তিনটি স্টাফ কোয়ার্টার নির্মাণ কাজের অধিকাংশ স¤পন্ন হয়। দীর্ঘ চার বছর পর ২০১১ সালে একাডেমিক কার্যক্রম চালুর উদ্যোগে নিয়ে ৫ জন শিক্ষক পদায়ন করা হলেও বর্তমানে মাত্র ৭ জন শিক্ষক রয়েছেন কাগজে-কলমে। আর বর্তমানে স্বাস্থ্য পরিচালকের দপ্তরের সহকারী পরিচালক (সেবা) হিসেবে কর্মরত খালেদা আক্তার এখন অতিরিক্ত দায়িত্বে  অধ্যক্ষ ও একজন মাত্র প্রভাষক রয়েছেন। এছাড়া দু’জন কম্পিউটার অপারেটর, ক্যাশিয়ার, স্টোর কীপার ও ল্যাব সহকারী পদে একজন করে পদায়ন থাকলেও তারা প্রেষণে অন্যত্র কর্মরত। এসবের মধ্যে গত সেশনে দেশের অন্য তিনটি নার্সিং কলেজে ভর্তিচ্ছু শিক্ষার্থীদের অপেক্ষমাণ তালিকা থেকে ৬০ জনকে খুলনা নার্সিং কলেজে ভর্তির জন্য মনোনীত করা হলেও পরবর্তীতে তা বাতিল করে ডিজি নার্সিং-এর কার্যালয়। 
সম্প্রতি কলেজ চালুর জন্য শিক্ষার্থীদের আবাসিক ও প্রশাসনিক কাজের প্রয়োজনীয় ফার্নিচার নিয়ে আসে। কার্যত গত ৫ বছরের অগ্রগতি এতটুকুই। তবে কলেজ কর্তৃপক্ষ বলছে বাউন্ডারী ওয়াল ও পানির লাইন স্থাপন করা সম্ভব হলে আগামী সেশনেই কলেজের কার্যক্রম চালু করা হবে।
এদিকে সরেজমিন দেখা গেছে, কলেজের জানালা দরজা খসে পড়েছে। গ্রিল কেটে বেসিনসহ অন্যান্য সামগ্রী চুরি হচ্ছে নিয়মিত। ছাদসহ বিভিন্ন যায়গায় প¬াস্টার খসে পড়ছে। সন্ধ্যা হলে মাদকসেবী ও এলাকার উঠতি বখাটেদের আড্ডাস্থলে পরিণত হয় পুরো এলাকাটি। 
স্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর খুলনার নির্বাহী প্রকৌশলী মোঃ নজরুল ইসলাম এ প্রতিবেদককে বলেন, অতি দ্রুত নার্সিং কলেজের পুনঃ টেন্ডার প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হবে এবং পরিকল্পনা অনুযায়ী অসমাপ্ত কাজ সম্পন্ন করা হবে।
নার্সিং কলেজের অধ্যক্ষ খালেদা বেগম বলেন, বিগত কয়েক বছর ধরে বার বার পুনঃনির্মাণ প্রক্রিয়া থমকে যাওয়ায় শিক্ষার্থী ভর্তিও পিছিয়ে যাচ্ছে। এতে এ অঞ্চলের নার্সিং পেশায় নিয়োজিত শত শত নার্স উচ্চশিক্ষা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। বাউন্ডারী ওয়াল এবং প্রশাসনিক ভবন নির্মাণ হলেই এখানে কার্যক্রম শুরু করা সম্ভব হবে বলে তিনি মনে করেন। 
স্বাধীনতা নার্সেস পরিষদ (স্বানাপ) খুলনা বিভাগীয় সভানেত্রী শীলা রাণী দাস জানান, খুলনায় কলেজটি চালু না হওয়ায় এ অঞ্চলের কর্মরত নার্সদের ঢাকা, চট্টগ্রাম, বগুড়ায় গিয়ে বিএসসি কোর্স করতে হচ্ছে। এতে অনেকে সংসার, স্বামী-সন্তান রেখে দু’বছর ধরে দূরে অবস্থান করতে বাধ্য হচ্ছেন। অথচ খুলনা নার্সিং কলেজটি চালু থাকলে বাড়িতে বসেই অনেকে উচ্চ শিক্ষা গ্রহণের সুযোগ পেতেন।


পাঠকের মন্তব্য (০)

লগইন করুন




আরো সংবাদ














ব্রেকিং নিউজ