খুলনা | সোমবার | ১৬ জুলাই ২০১৮ | ১ শ্রাবণ ১৪২৫ |

Shomoyer Khobor

বিভিন্ন দপ্তরে ৮ মেম্বরের অভিযোগ

ডুমুরিয়ার সাহস ইউপি চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে স্বেচ্ছাচারিতা ও নানা অনিয়মের অভিযোগ

জাহাঙ্গীর আলম  | প্রকাশিত ২১ জুন, ২০১৮ ০১:০৮:০০

ডুমুরিয়ার সাহস ইউপি চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে স্বেচ্ছাচারিতা ও নানা অনিয়মের অভিযোগ

ডুমুরিয়ার সাহস ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান শেখ জয়নাল আবেদিনের বিরুদ্ধে উঠেছে নানা অভিযোগ। চেয়ারম্যান নির্বাচিত হওয়ার পর থেকে তিনি একই জায়গায় ভিন্ন নামে প্রকল্প প্রদান, হত দরিদ্রদের দিয়ে টিআর-কাবিখার কাজ করানো, ভুয়া বিল-ভাউচারে টাকা উত্তোলনসহ নানাবিধ অনিয়মে জড়িয়ে পড়েছেন। তাঁর এসব অনিয়ম রোধে খোদ সাহস ইউনিয়নের ৮ ইউপি সদস্য দুর্নীতি দমন কমিশন, জেলা প্রশাসকসহ বিভিন্ন দপ্তরে লিখিত অভিযোগ করেছেন। চেয়ারম্যানের অপসারণের দাবিতে সংবাদ সম্মেলনও করেছেন এসব ইউপি সদস্য। তবে চেয়ারম্যান জয়নাল আবেদীন এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।   
জেলা দুর্নীতি দমন কমিশনে সাহস ইউনিয়ন পরিষদের ৮ ইউপি সদস্যের করা লিখিত অভিযোগে সুনির্দিষ্ট ২২টি অভিযোগ উল্লেখ করা হয়েছে। অভিযোগ সূত্রে ও সরেজমিন যেয়ে দেখা যায়, ২০১৫-১৬ অর্থ বছরে ১ লাখ ২৭ হাজার টাকা ব্যয়ে ১নং ওয়ার্ডে কওছার মোড়লের বাড়ি হতে আমজাদ মোল্লার বাড়ি অভিমুখে রাস্তায় ইটের সোলিংযের প্রকল্প হাতে নেয়া হয়। ২০১৬-১৭ অর্থ বছরে ১ লাখ টাকা ব্যয়ে একই জায়গায় অনুরূপ প্রকল্প হাতে নেযা হয়। অথচ ওই কাজে আর এমপির শ্রমিকদের ব্যবহার করা হয়। ২০১৬-১৭ অর্থ বছরে এডবির অর্থায়নে জয়খালী বাবর আলীর পুকুরের পাশে ও অমেদ আলীর বাড়ির পাশে প্যানা সাইডিং পাইলিংয়ের জন্য ২ লাখ টাকার প্রকল্প হাতে নেয়া হয়। ওই কাজ রাস্তার ঠিকাদার সম্পন্ন করেন। ২০১৬-১৭ অর্থ বছরে টিআর প্রকল্প থেকে জয়খালী শ্মশান ঘাট ও আমজাদ মোড়লের বাড়ি অভিমুখি রাস্তা মাটি দ্বারা উন্নয়ন প্রকল্প ৪০ দিনের কর্মসূচির শ্রমিকদের দিয়ে সম্পন্ন করা হয়। ২০১৬-১৭ অর্থ বছরে উন্নয়ন তহবিল থেকে ২ লাখ টাকার প্রকল্প হাতে নেয়া হয় ভীমখালী বিলের জলাবদ্ধতা নিরসনে ইউ ড্রেন নির্মাণের জন্য। ওই প্রকল্প ১% এর টাকায় সম্পন্ন করা হয়েছে। ২০১৭-১৮ অর্থ বছরে টিআর প্রকল্প থেকে জয়খালী বাজারে ড্রেন নির্মাণ প্রকল্প হাতে নেয়া হয়। আগের অর্থ বছরের ১% এর টাকায় ওই প্রকল্প সম্পন্ন দেখানো হয়। ২০১৭-১৮ অর্থ বছরে জিওবি হতে সাহস জয়খালী মোমিন ফকিরের বাড়ি অভিমুখে ইটের সোলিং দ্বারা উন্নয়ন প্রকল্প বিআরডিবির অর্থ দিয়ে সম্পন্ন করা হয়েছে। ২০১৫-১৬ অর্থ বছরে জয়খালী সুনিল দাসের বাড়ি হতে সুধান্যর বাড়ি অভিমুখে ইটের সোলিং দ্বারা নির্মাণ প্রকল্প হাতে নেয়া হয়। একই স্থানে নাম পাল্টিয়ে ভগবান দাসের বাড়ি হতে সুধান্তর বাড়ি অভিমুখে রাস্তা নির্মাণ প্রকল্প গ্রহণ করা হয়। ২০১৬-১৭ অর্থ বছরে উন্নয়ন তহবিল থেকে রাজাপুর পিচের রাস্তা হতে মোবারক শেখের বাড়ি অভিমুখে কনসেডিং পাইলিং প্রকল্প হাতে নেযা হয়। ১ লাখ টাকার ওই প্রকল্পের কোন কাজ না করে ভুয়া বিল তৈরি করে টাকা উত্তোলন করা হয়েছে। ২০১৭-১৮ অর্থ বছরে রাজাপুর সবুর সরদারের দোকান হতে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের অভিমুখে ইটের সোলিং দ্বারা উন্নয়ন প্রকল্প হাতে নেয়া হয়। ৫০ হাজার টাকার ওই প্রকল্প ২৬শ’ টাকা ব্যয় করে সমুদয় টাকা তুলে নেয়া হয়েছে। ২০১৫-১৬ অর্থ বছরে পিবিজি হতে রাজাপুর করিম শেখের বাড়ি হতে মোস্তফা মাওলানার বাড়ির রাস্তা ইটের সোলিং দ্বারা উন্নয়ন প্রকল্প গ্রহণ করা হয়। পরের বছর ২০১৬-১৭ অর্থ বছরে উপজেলা পরিষদের উন্নয়ন তহবিল থেকে একই স্থানে দুই বার প্রকল্প গ্রহণ করা হয়। ২০১৫-১৬ অর্থ বছরে কাকিখা প্রকল্পে নজর শেখের বাড়ির সামনের ঈদগাহের মাঠে মাটি দ্বারা ভরাট ও ইটের সোলিং প্রকল্প হাতে নেয়া হয়। পরের বছর একই স্থানে ১% থেকে ৭৪ হাজার ৫৫০ টাকার প্রকল্প হাতে নেয়া হয়। ২০১৬-১৭ অর্থ বছরে ১% এর টাকায় রাজাপুর শেখপাড়া ত্রিমোহনী হতে বাজনদারপাড়া অভিমুখে রাস্তা মাটি দ্বা উন্নয়ন প্রকল্পে ৪০ দিনের কর্মসূচির শ্রমিক দিয়ে সম্পন্ন করা হয়েছে। ২০১৫-১৬ অর্থ বছরে ১% থেকে ৩৬ হাজার টাকার একটি প্রকল্প হাতে নেয়া হয় ভিক্ষুকদের পুনর্বাসনের জন্য। ৯ হাজার টাকায় ৬টি ছাগলের বাচ্চা কিনে ওই প্রকল্প শেস করা হয়। একই অর্থ বছরে এওলজিএসপি-২ প্রকল্পে ইউনয়নের বিভিন্ন ওয়ার্ডের দুস্থ ও বেকার মহিলাদের আর্থ সামাজিক উন্নয়নের জন্য ৮০ হাজার টাকার একটি প্রকল্প হাতে নেয়া হয়। ৪০ হাজার টাকা দিয়ে ৮টি সেলাই মেশিন দিয়ে বাকি টাকা আত্মসাৎ করা হয়। এছাড়াও একাধিক ভুয়া প্রকল্প গ্রহণ করে টাকা আত্মসাৎ করার অভিযোগ করা হয়েছে। 
অভিযোগে আরও উল্লেখ করা হয়েছে মাসিক সভাসহ বিভিন্ন সভায় এসব অনিয়মের কথা তুললে চেয়ারম্যান খারাপ আচরণ করেন। অভিযোগে স্বাক্ষরিত ৮ ইউপি সদস্য এ চেয়ারম্যানের অপসারণসহ তার বিরুদ্ধে অভিযোগ তদন্ত পূর্বক দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেছেন। 
এ ব্যাপারে ইউপি সদস্য খান শফিকুল ইসলাম বলেন, আমরা ৮ মেম্বর গত ৭ মে খুলনা প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে চেয়ারম্যানের অপসারণ দাবি করেছি। বিভিন্ন দপ্তরে লিখিত অভিযোগ দিয়েছি। এমনকি স্থানীয় সংসদ সদস্য মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী নারায়ণ চন্দ্র চন্দকেও বিষয়টি অবহিত করেছি। 
তবে অভিযুক্ত ইউপি চেয়ারম্যান শেখ জয়নাল আবেদীন এ সকল অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন,  ১% এর টাকা ভাগ করে না দেয়ায় ৮ মেম্বর আমার বিরুদ্ধে এসব ভুয়া অভিযোগ করেছেন।


পাঠকের মন্তব্য (০)

লগইন করুন




আরো সংবাদ










আটরা গিলাতলায়  গাঁজাসহ আটক ১

আটরা গিলাতলায়  গাঁজাসহ আটক ১

১৬ জুলাই, ২০১৮ ০১:২৫




ব্রেকিং নিউজ










আটরা গিলাতলায়  গাঁজাসহ আটক ১

আটরা গিলাতলায়  গাঁজাসহ আটক ১

১৬ জুলাই, ২০১৮ ০১:২৫