খুলনা | সোমবার | ২৩ জুলাই ২০১৮ | ৮ শ্রাবণ ১৪২৫ |

Shomoyer Khobor

দখলদারদের বাধা : খুলনায় নৌযান  মেরামত কারখানা নির্মাণে অনিশ্চিত

নিজস্ব প্রতিবেদক | প্রকাশিত ২১ জুন, ২০১৮ ০১:০১:০০

খুলনার রূপসার পাড়ে তিন একর জায়গা জুড়ে নির্মাণ হবে দেশের সর্ববৃহৎ নৌযান মেরামত কারখানা ও নৌযান ট্রেনিং ইনস্টিটিউট। জেলা প্রশাসন গেল বছরের ১৭ এপ্রিল ওই জায়গা যানবাহন অধিদপ্তরের নামে ইজারাও দিয়েছে। কারখানার নির্মাণে চলতি বাজেটে বরাদ্দ রয়েছে। গেল বাজেটের বরাদ্দকৃত অর্থ খরচ করতে না পারায় গত ১৪ মাসেও প্রাথমিকভাবে আলোর মুখ দেখেনি প্রকল্পটি। কারণ অনুসন্ধানে দেখা গেছে শুধুমাত্র প্রভাবশালীদের জবর দখলের কারণেই খুলনা অঞ্চলের অপার সম্ভাবনাময় এ প্রকল্পটি মুখ থুবড়ে পড়ছে।
খুলনা জেলা প্রশাসন সূত্র জানায়, নগরীর ১নং কাস্টমঘাট এলাকার ওই জায়গা বিভিন্ন ব্যক্তির নামে ইজারা দেয়া ছিল। জেলা প্রশাসনের কাছ থেকে নামমাত্র মূল্যে ওই জায়গা ব্যবসায়ীদের কাছে লাখ লাখ টাকায় ভাড়া দেয় ইজারাদাররা। এছাড়া অল্প জায়গা ভাড়া নিয়ে নদীর অভ্যন্তরের জায়গাও দখল করে বসে আসেন প্রভাবশালীরা। এ অবস্থায় ২০১৫ সালে ইজারা দেয়া বন্ধ করে দেয় প্রশাসন।
এ প্রসঙ্গে খুলনা জেলা প্রশাসক মোঃ আমিন উল আহসান বলেন, জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে জমি তাদের বুঝিয়ে দিয়েছি। বাকি কাজ এখন যানবাহন অধিদপ্তরের।
সূত্র জানায়, দীর্ঘদিন ধরেই নৌযান মেরামত কারখানা ও একটি আধুনিক নৌযান প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউট নির্মাণের জন্য জায়গা খুঁজছিল সরকার। ২০১৬ সালে খুলনা সফরকালে কাস্টমঘাট এলাকার খাস জমিতে প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউট নির্মাণের প্রস্তাব দেন যানবাহন অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা। জেলা প্রশাসন এ বিষয়ে ইতিবাচক সাড়া দিলে ওই এলাকার তিন একর জায়গা যানবাহন অধিদপ্তরের নামে বরাদ্দ দেয়ার প্রস্তাব দেয়া হয়। ২০১৬ সালের ৩০ নভেম্বর ভূমি মন্ত্রণালয় অকৃষি খাস জমি ব্যবস্থাপনা ও বন্দোবস্ত নীতিমালা মোতাবেক কেন্দ্রীয় কারখানা নির্মাণের লক্ষে সরকারি যানবাহন অধিদপ্তরের অনুকূলে বরাদ্দ দেয়। অনুমোদনের পর এই জমি গ্রহণের তৎপরতা শুরু করে সরকারি যানবাহন অধিদপ্তর। ভৈরব নদের পাড়ে অবস্থিত টুটপাড়া মৌজার তিন একর জায়গার মূল্য ৫৭ কোটি ৩২ লাখ ৭৩ হাজার টাকা। ২০১৭ সালের ১৭ এপ্রিল মাত্র এক লাখ এক হাজার টাকা প্রতীকী মূল্যে সরকারি যানবাহন অধিদপ্তরের অনুকূলে জমি হস্তান্তর করে জেলা প্রশাসন। এই সংবাদ প্রকাশের পর আন্দোলন শুরু করেন ওইসব সুবিধাভোগীরা।
স্থানীয়রা জানান, ৬০০ ফুট দৈর্ঘ্যরে ওই স্থানে এখন ইট-বালু সরবরাহসহ বিভিন্ন ধরনের ব্যবসা পরিচালনা ও ভাড়া দিয়েছেন ২৫ থেকে ৩০ জন ব্যক্তি। এর মধ্যে কয়েকজন রয়েছেন ক্ষমতাসীন দলের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতা। মূলতঃ তাদের বাধার কারণেই ওই জমি পরিবহন অধিদপ্তর বুঝে নিতে পারছে না। জমির দলিল হস্তান্তরের পরই স্মারকলিপি, মানববন্ধনসহ আন্দোলন শুরু করেন তারা। ওই আন্দোলনে সরকারি দলের স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরাও সম্পৃক্ত হন।
বৃহত্তর খুলনা উন্নয়ন সংগ্রাম সমন্বয় কমিটির মহাসচিব শেখ আশরাফ উজ জামান বলেন, সস্তা শ্রম, ভূমি-নদীসহ সকল সুযোগ-সুবিধায় অপার সম্ভাবনাময় নিয়ে খুলনায় দেশের সর্ববৃহৎ নৌযান মেরামত কারখানা নির্মাণ হবে এটা এ অঞ্চলের মানুষের প্রাণের দাবি। সেখানে হাজারো মানুষের কর্মসংস্থান হবে। মেরিন একাডেমী না থাকায়, আপাতত নৌযান ট্রেনিং ইনস্টিটিউট থেকে খুলনার হাজার হাজার ছেলে প্রশিক্ষণ নিয়ে দেশ-বিদেশে কর্মস্থলে যোগ দিতে পারবে। কারখানা ও ট্রেনিং ইনস্টিটিউটের গুরুত্ব বোঝার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।
যানবাহন অধিদপ্তরের প্রধান পরিবহন কমিশনার মুন্সি শাহাবুদ্দীন আহমেদ জানান, কারখানা ও ট্রেনিং ইনস্টিটিউটের কাজ শুরুর জন্য গত বাজেটে অর্থ বরাদ্দ ছিল। কিন্তু সেই টাকা আমরা খরচ করতে পারিনি। এই বাজেটেও অর্থ বরাদ্দ আছে। এখন স্থানীয়রা সম্মতি দিলে অল্প সময়ের মধ্যেই সীমানা প্রাচীর নির্মাণ করা হবে বলে জানান তিনি।
 


পাঠকের মন্তব্য (০)

লগইন করুন




আরো সংবাদ














ব্রেকিং নিউজ