খুলনা | বৃহস্পতিবার | ১৫ নভেম্বর ২০১৮ | ১ অগ্রাহায়ণ ১৪২৫ |

ক্ষুরারোগ নিয়ে সতর্ক থাকতে হবে

২১ জুন, ২০১৮ ০০:১০:০০

ক্ষুরারোগ নিয়ে সতর্ক থাকতে হবে


বাংলাদেশে গবাদিপশুর ক্ষেত্রে যেসব রোগ দেখা যায় তার মধ্যে ক্ষুরারোগটি সব থেকে মারাত্মক। পশুর ক্ষুরে এই রোগ বেশি হয় বলে তার নাম ক্ষুরারোগ। রোগটি ভাইরাসঘটিত। দ্বিখন্ডিত ক্ষুর আছে এমন যেকোনো প্রাণীর দ্বারাই রোগটি সংক্রমিত হয় সাধারণত। বর্ষা মৌসুম শুরু হতেই রোগটি ব্যাপক হারে ছড়িয়ে পড়ছে। অনেক গবাদি পশু ও বাছুর আক্রান্ত হয়ে মারা গেছে। এতে কমে গেছে দুধের উৎপাদন। কাজ করছে না কোনো ধরনের ভ্যাকসিনই। এ পরিস্থিতিতে দুর্ভাবনাগ্রস্ত খামারিরা। এটা একটি বড় দুঃসংবাদ, সন্দেহ নেই।
এই রোগ মুখে ও ক্ষুরে হয় ক্ষত। পশুরা প্রচুর জ্বর, লালা ঝরা আর খেতে না পারায় ক্রমশ মৃত্যুর পথে এগিয়ে যায়। এ রোগের কারণে বাংলাদেশে প্রতি বছর ডেইরি শিল্পে ব্যাপক ক্ষতি হয়। ক্ষুরা রোগের দ্বারা দেশে বার্ষিক ক্ষতির পরিমাণ প্রায় হাজার কোটি টাকা। বিশেষজ্ঞদের মতে, সাধারণত ক্ষুরা রোগে আক্রান্ত পশুর শরীরে ফোস্কার অভ্যন্তরে তরলের মধ্যে ভাইরাস বিকাশ লাভ করে। আর পশুর লালা, প্রস্রাব, গোবর, চামড়া, দুধ, ফোস্কা মধ্যস্থ তরল, শ্বাস ত্যাগ ইত্যাদির মাধ্যমে রোগটি অন্য পশুতেও ছড়ায়। খাবার এবং সংস্পর্শের মাধ্যমেও রোগটি অসুস্থ পশু থেকে সুস্থ পশুতে ছড়ায়। সংক্রমিত গরু দ্বারা সংবেদনশীল গরুর প্রজনন বা নিষিক্তকরণের সময়ও রোগটি ছড়ায়। এ অবস্থায় রোগটির ধরন ও প্রতিরোধ বিষয়ে জনগণকে সচেতন করার জোরালো উদ্যোগ থাকার জরুরী। একইসঙ্গে প্রয়োজনীয় পথ্যসহ সুচিকিৎসার বিষয়টিও সুনিশ্চিত করা দরকার। খুলনার দাকোপ, বটিয়াঘাটা, ডুমুরিয়াসহ পাশবর্তী গ্রামগুলোয় এ রোগ দেখা দেয়ায় বেশী আতঙ্কে রয়েছে আসন্ন কোরবানীর জন্য প্রস্তুত করা পশুর মালিকরা। সামনে মাত্র দু’টি মাস বাকি, এ সময় তাদের পোষা গরু এ মুহূর্তে আক্রান্ত হলে ব্যাপক ক্ষতির সম্মুখিন হতে হবে তাদের।
কোনো ভ্যাকসিনই কাজ না করার কারণ ও খতিয়ে দেখা দরকার। বলা হচ্ছে, ক্ষুরা রোগের জীবাণুর ধরন পাল্টে গেছে। ব্যাপারটিও আমলে নেয়া দরকার। সাধারণত ভারত ও মিয়ানমারের সীমান্তপথ দিয়ে আসা গরুগুলো ক্ষুরারোগের জীবাণু বহন করে নিয়ে আসে। এ ক্ষেত্রেও সজাগ দৃষ্টি দেয়া দরকার। উল্লেখ্য, এ রোগে বড় গরুর মৃত্যুর হার কম হলেও বাছুরের ক্ষেত্রে মৃত্যুর হার শতকরা ৭০ ভাগ পর্যন্ত দেখা গেছে। শঙ্কর জাতের গরুতে এ রোগের সংক্রমণ অত্যন্ত বেশি। প্রয়োজনীয় সাবধানতা অবলম্বন করা না হলে এ খাতে বিনিয়োগ ও জাত উন্নয়নের প্রচেষ্টাকে দারুণ ভাবে ব্যহত করতে পারে। আমরা মনে করি, ব্যাপক ক্ষতির হাত থেকে খামারিদের বাঁচাতে এবং জাতীয় অর্থনীতিকে ক্ষতির হাত থেকে রক্ষা করতে অবিলম্বে রোগটি নির্মূলে প্রয়োজনীয় সব পদক্ষেপই গ্রহণ করতে হবে।
 


পাঠকের মন্তব্য (০)

লগইন করুন




আরো সংবাদ




দখলমুক্ত হোক খুলনার সড়ক মহাসড়ক

দখলমুক্ত হোক খুলনার সড়ক মহাসড়ক

১১ নভেম্বর, ২০১৮ ০০:১০



ভেজাল থেকে পরিত্রান চায় মানুষ

ভেজাল থেকে পরিত্রান চায় মানুষ

০৮ নভেম্বর, ২০১৮ ০০:১০




দস্যুমুক্ত সুন্দরবন!

দস্যুমুক্ত সুন্দরবন!

০৪ নভেম্বর, ২০১৮ ০০:০৫



ব্রেকিং নিউজ