খুলনা | বৃহস্পতিবার | ১৮ অক্টোবর ২০১৮ | ২ কার্তিক ১৪২৫ |

Shomoyer Khobor

উৎসব-উম্মাদনায় বিশ্বকাপ ফুটবল

আব্দুল্লাহ এম রুবেল | প্রকাশিত ১৪ জুন, ২০১৮ ০১:৪১:০০

চার বছর অপেক্ষার অবসান হলো। আবারও শুরু হয়েছে উম্মাদনার বিশ্বকাপ ফুটবল। শুরু হলো ফুটবলের উম্মাদনাও। কোটি ফুটবল প্রেমীর চোখ এখন রাশিয়ায়। প্রস্তুত আয়োজক রাশিয়া। বিশ্ব ক্রীড়াঙ্গনের অন্যতম আকর্ষনীয় আর সব থেকে জনপ্রিয় আসর এই বিশ্বকাপ ফুটবল। বলা হয়ে থাকে ‘দ্যা গ্রেটেস্ট শো অন আর্থ’। মাঠের লড়াইয়ে ৩২ দল অংশ গ্রহণ করলেও উম্মাদনার এই বিশ্বকাপে চোখ থাকে প্রতিটি দেশেরই। রাশিয়ার ১২টি শহরের ১২টি আকর্ষনীয় ভেন্যুতে মাসব্যাপী চলবে এই ফুটবল উৎসব। সেই উম্মাদনা ১২ শহর ছাড়িয়ে বিশ্বের প্রায় প্রতিটি শহরেই ছড়িয়ে পড়বে। ১৯৩০ সাল থেকে শুরু হয়ে ঐতিহ্য ধরে রেখে এবার রাশিয়ায় বসতে যাচ্ছে প্রতিযোগিতার ২১তম আসর। 
বিশ্বের অন্যতম সৌন্দর্যের লীলাভূমি রাশিয়া। পর্যটক দেশ হিসেবে এমনিতেই সুখ্যাতি রয়েছে দেশটির। এবার বিশ্বকাপকে সামনে রেখে নিজেদের পর্যটন শিল্পকে আরও এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার প্রত্যাশা তাদের। আরও ৪টি দেশের সাথে লড়াই করে ২০১৮ এর স্বাগতিক হিসেবে স্বীকৃতি পায় রশিয়া। যদিও প্রাথমিক ভাবে এই আয়োজনে আগ্রহী ছিলো ৯টি দেশ। পরবর্তীতে নাম প্রত্যাহার ও বাতিল হওয়া থেকে বাছাই আর ভোটিং শেষে ২০১০ সালে ডিসেম্বর মাসে ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফিফা আনুষ্ঠনিকভাবে ২০১৮ বিশ্বকাপের আয়োজক হিসেবে রাশিয়ার নাম ঘোষণা করে। এরপর থেকেই শুরু হয়ে যায় তাদরে প্রস্তুতি। গত ৮ বছর ধরেই প্রস্তুতি নিয়েছে রাশিয়া। এর মধ্যে নতুন করে সাজানো হয়েছে ১২টি স্টেডিয়াম। বিভিন্ন শহরে লেগেছে রঙের ছোয়া।
আয়োজক হিসেবে চমক দিতে চায় রাশিয়া। তার জন্যই এত এত আয়োজন রাশিয়ার। পুরো বিশ্বকে তাক লাগিয়ে চমক দেখানোর কথা বিভিন্ন সময়ে বলেছেন আয়োজক দেশটির সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন কর্মকর্তা। আর এই আয়োজনে বিশাল অংকের অর্থ ব্যয় করছে রাশিয়া। শুধুমাত্র ১২টি ভেন্যু নির্মান ও সংস্কার মিলিয়ে প্রায় আড়াই বিলিয়ন ডলার। বাংলাদেশী টাকায় ২১ হাজার কোটি টাকারও বেশী। শুধু ভেন্যু বা স্থাপনা নির্মাণই না, বিশ্বকাপ উপলক্ষে নতুন নতুন রাস্তা তৈরী করেছে রাশিয়া, বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কর্মকান্ড, রাশিয়াতে যারা খেলা দেখতে আসবেন তাদের জন্য বিভিন্ন আয়োজন সব মিলিয়ে এলাহী কান্ড। সব মিলিয়ে এই বিশ্বকাপকে সামনে রেখে আয়োজক রাশিয়া প্রায় ৬৭০ কোটি ডলার ব্যায় করছে। যা বাংলাদেশী টাকায় ৫৫ হাজার কোটি টাকারও বেশী।
চমকে দেয়ার এ আয়োজনে দেশী বিদেশী পর্যটক, দর্শক, খেলা কভার করতে আসা বিভিন্ন দেশের সাংবাদিকদের জন্য প্রায় ১৭ হাজার স্বেচ্ছাসেবক নিয়োগ দিয়েছে। বিশ্বকাপে ভেন্যু, টিম হোটেল, প্র্যাকটিস ভেন্যু থেকে শুরু করে প্রয়োজনীয় সব স্থানে দর্শনার্থী ও খেলোয়াড়দের কাজকে সহজ করতে সাহায্য করবে এসব স্বেচ্ছাসেবীরা।
তবে বিশ্বকাপ শুরুর আগেই রাশিয়া যে চমক দেখিয়েছে সেটাই বা কম কিসে? ভিসা ছাড়াই খেলা দেখতে যাওয়ার ব্যবস্থা করেছে। এর জন্য অবশ্য বিশ্বকাপের টিকিট অথবা যে কোন ধরনের এক্রিডেশন থাকতে হবে তার।
আয়োজক রাশিয়া বিশ্বকাপ উপলক্ষে নিরাপত্তা ব্যবস্থাও জোরদার করেছে। বিশ্বকাপ শুরুর মাসখানেক আগেও আইএসের হুমকির মুখে পড়েছিলো রাশিয়া। তবে এসব উপেক্ষা করে স্মরণকালের সব থেকে জোরদার নিরাপত্তা ব্যবস্থা করেছে রাশিয়া। টেকনোলজীর সর্বোচ্চ ব্যবহারও থাকবে এই নিরাপত্তা ব্যবস্থায়। 
তবে এসব উপেক্ষা করে রাশিয়া এখন উম্মাদনা আর উৎসবে মেতে উঠেছে। শুধু কি রাশিয়া? সারা বিশ্ব¦ই মেতে উঠেছে ফুটবলের এই জাগরনী উৎসবে। সেই উম্মাদনা আর উচ্ছ্বাসে পিছিয়ে নেই বাংলাদেশও। বিশ্বকাপের সময় এননিতেই উৎসব লেগে থাকে বাংলাদেশে। এবার যেন সব মাত্রা ছাড়িয়ে গেছে। প্রিয় দেশের পতাকা উত্তোলন, জার্সি কেনা, একসাথে খেলা দেখা এসব উম্মাদনায় বিশ্বের যে কোন দেশের থেকে এগিয়ে থাকবে বাংলাদেশ। প্রিয় দলের জন্য পাগলামির তো এটাই উপযুক্ত সময়। 
প্রিয় দল জার্মানীর জন্য পাঁচ কিলোমিটার পতাকা বানিয়ে হৈ চৈ ফেলে দিয়েছেন মাগুরার আমজাদ হোসেন। এর মধ্যে একাধিকবার পতাকা প্রদর্শনও করেছেন তিনি। আর তাতেই চোখ পড়ে গেছে বাংলাদেশে জার্মানী হাই কমিশনের। জার্মানী ঘুরতে যাওয়ার প্রস্তাব পেয়ে গেছেন এই ভালোবাসায়। এমনিতেই এবারের বিশ্বকাপে জার্মানী অন্যতম ফেভারিট। আমজাদও মনে করছেন গতবারের মতো এবারও বিশ্বকাপ জিতবে জার্মানি। তবে বাংলাদেশী সবথেকে বেশী উম্মদনা হয় আর্জেন্টিনা ও ব্রাজিল সমর্থকদের মধ্যে। মূলত এ দু’টি দলেই বিভক্ত হয়ে যান এদেশের ফুটবল ভক্তরা। ইতোমধ্যে নারায়নগঞ্জে ব্রাজিল বাড়ি নামে আলোচিত হয়েছে একটি বাড়ি। ৬ তলা  বিশিষ্ট বাড়িটি ব্রাজিলের পতাকার রঙয়ে সাজানো। বরিশালে রয়েছে এমন একটি আর্জেন্টিনা বাড়ি। বাগেরহাটে সাড়ে ৮০০ ফুট আর্জেন্টনা পতাকা নিয়ে র‌্যালি বের হয়েছে। সারা দেশে বিভিন্ন দেশের ছাদে এ দু’টি দেশের পতাকায় ছেয়ে গেছে। এছাড়া বড় পর্দায় খেলা দেখার আয়োজন হচ্ছে বিভিন্নস্থানে। এজন্য প্রজেক্টর কেনার ধুম পড়েছে। 
উৎসব আর উচ্ছ্বাস থাকবে পুরো এক মাসব্যাপী। মস্কো থেকে ঢাকা সব জায়গায় থাকবে এই উৎসব। লিওনেল মেসি, ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো, সুয়ারেজ, মোঃ সালাহসহ নামী দামি খেলোয়াড়দের পায়ের জাদুতেও থাকবে উচ্ছ্বাস। শেষ পর্যন্ত যে দলই জিতুক বিশ্বকাপ, জয় হবে এই উৎসবের-ই, এই উম্মাদনার-ই।
 


পাঠকের মন্তব্য (০)

লগইন করুন




আরো সংবাদ

বদলে যাবে মংলা বন্দর

বদলে যাবে মংলা বন্দর

০৩ জুলাই, ২০১৮ ০২:০১













ব্রেকিং নিউজ

নগরীতে ইজিবাইক নিয়ন্ত্রণহীন 

নগরীতে ইজিবাইক নিয়ন্ত্রণহীন 

১৮ অক্টোবর, ২০১৮ ০০:০৫

ইসিতে মতবিরোধ স্পষ্ট

ইসিতে মতবিরোধ স্পষ্ট

১৮ অক্টোবর, ২০১৮ ০০:০৬

ক্রিমিয়ার কলেজে হামলায় নিহত ১৮

ক্রিমিয়ার কলেজে হামলায় নিহত ১৮

১৮ অক্টোবর, ২০১৮ ০০:০৪



শেখ রাসেলের ৫৪তম জন্মদিন আজ

শেখ রাসেলের ৫৪তম জন্মদিন আজ

১৮ অক্টোবর, ২০১৮ ০০:০৩