খুলনা | শুক্রবার | ১৭ অগাস্ট ২০১৮ | ২ ভাদ্র ১৪২৫ |

Shomoyer Khobor

বিশ্বকাপ ফুটবলের আসরে  আমরা আছি-আমরা নেই 

এম শামিমুজ্জামান | প্রকাশিত ১৪ জুন, ২০১৮ ০১:৪০:০০

চায়ের দোকানে বসে কয়েকজন বন্ধু সাথে গল্প করছিলনাম। পাশে বসা কয়েকজনে হৈ হট্টগোলে নজরটা ওই দিকেই চলে গেল। তাদের আলোচনার বিষয় বিশ্বকাপ ফুটবল নিয়ে। দুইপক্ষ তাদের প্রিয়  দল, খেলোয়াড়ের  পক্ষে সরব আলোচনা মত্ত। এই চিত্র এখন বাংলাদেশের সবখানে। খেলা কিভাবে দেখবে, প্রিয় দলের পক্ষে কারা কতো বেশী আয়োজন করতে পারে তারই চলছে প্রস্তুতি।  সারা বিশ্ব যে উন্মাদনায় কাপছে, পিছিয়ে নেই  আমরাও। 
ফুটবল বিশ্বকাপের সাথে অনেকটা আত্মার। যদিও এর চূড়ান্ত পর্বে আমাদের খেলা দুঃস্বপ্নের মতো। ওই স্বপ্ন কোন দিন পূরণ হবে কিনা তা ভবিষ্যাতই বলতে পারে। কিন্তু তাই বলে এই মহাযজ্ঞের বাইরে নেই আমরা। বাংলাদেশ নেই তাতে কি? তাই বলে কি বিশ্বকাপ আসর নেই আগ্রহ থাকবে না? অন্যকোন দলকে সমর্থন করতে নিষেধতো নেই। প্রিয় দলের ভিনদেশী প্রিয় দলের সমর্থনে কতো প্রস্তুতি। কোন দল চ্যাপিম্পয়ন হবে। প্রিয় খেলোয়াড়রা কেমন করবে। চলছে পাড়া মহল্লা, চায়ের দোকান, অফিস পাড়ায় চলঠে তার আলোচনা সমারোচনা। প্রিয় দলের সমর্থনে কতো বড়া পতাকা বানাতে পারে, কতো বৃহৎ পরিসরে খেলা দেখা যাবে, আবার ভোজন রসিক চলছে তার আয়োজন। 
অন্য দেশের খেলোয়াড়দের আদিপত্ত মুখস্ত আমদের দেশের সমর্থকদের।  তাদের নিয়ে যে উন্মাদনা তা আমাদের ফুটবল কিম্বা খেলোয়াড়দের নিয়ে শূন্যর কোটায়। জাতীয় দলের তারকা খেলোয়াড়দের নাম বলতে বললে অনেককে ভাবতে হবে দীর্ঘ সময়। কিন্তু এক সময় বাংলাদেশে ফুটবল নিয়ে মানুষের মাতামাতি ছিল আকাশ ছোঁয়া। প্রিয় দলের খেলা হলে পাড়া মহল্লায় চলতো সমর্থকদের আয়োজন। খেলার মাঠে নিরাপত্তার জন্য মোতায়েন হতো পুলিশ। বাংলাদেশের তারাকা খেলোয়াড়দের নাম ছিল ঠোটের আগায়। কিন্ত ফুটবলের ক্রম ব্যর্থতায় সমর্থকরা হয়েছে হতাশ। সেই হতাশা থেকেই ফুটবল প্রিয় মানুগুলো আস্তে আস্তে  মাঠ বিমুখ হয়েছেন।  
১৯৭৩ সালে বাংলাদেশ প্রথম আন্তর্জাতিক ফুটবল আসরে খেলার সুযোগ পায়। ১৯৮৬ সালে ফুটবল বিশ্বকাপের বাছাই পর্ব/প্রাক বাছাই পর্বে অংশ নেয়। গত ৩২ বছরে ওই পর্বে বাংলাদেশ খেলেছে। ওই সময়ে বাংলাদেশ ৪৮টি ম্যাচ খেলেছে । ৪৮ ম্যাচের মধ্যে ৯ ম্যাচ জিতে, ৫ ম্যাচ ড্র করে ৩৪ টিতেই হেরেছে। বাংলাদেশ ৩৩টি গোল করেছে। আর খেয়েছে ১২৩টি। দীর্ঘ সময়ের মধ্যে বাংলাদেশ ফুটবলেতো এগোয়নি। বরং পিছিয়েছে জ্যামিতিক ভাবে। আন্তর্জাতিক ফুঠবলে ক্রম ব্যর্থতার পাশাপশি ঘরোয়া ফুটবল আয়োজন কিম্বা আকর্ষণ বাড়াতেও ব্যর্থ হয়েছে দায়িত্বশীলরা। আর তার প্রতিফলন ঘটেছে দর্শকদের মাঝেও। এখন আর ফুটবল নিয়ে দর্শক সমর্থকরা স্বপ্ন দেখে না। নেই উন্মাদনাও। কেননা সমর্থকরা চায় ভাল ফল, ভাল খেলা। আর তাতে ব্যর্থ হওয়ায় মুখ ফিরিয়ে নিয়েছেন। তবে আশার কথা মুখ ফিরিয়ে নিলেও মন ফিরিয়ে নেননি। ঠিকই মনের গভীরে ফুটবলের জন্য আছে প্রেম ভালবাসা। মাঠে দর্শক ফিরিয়ে আনতে নিজ দল নিয়ে উন্মাদনার বহিঃপ্রকাশ ঘটাতে প্রয়োজন শুধু আন্তর্জাতিক অঙ্গনে কয়েকটি ভাল ফল। খেলোয়াড়রা যদি তা দিতে পারে আবারও সমর্থকরা মাঠে ফিরবে। আবারও স্বপ্ন দেখবে। 
বাংলাদেশের ফুটবলের এই কঙ্কালসার অবস্থা এই জন্য খেলোয়াড়দের যেমন দায় রয়েছে। তার চেয়ে অনেক বেশী দায় সংগঠক কর্মকর্তাদের। কোন কিছুর উন্নতির জন্য প্রয়োজন স্বপ্ন দেখা, স্বপ্ন দেখানো, লক্ষ্য নির্ধারণ আর  দৃঢ় সংকল্প। সেই ভাবে কাজ করা। যারা বিগত কিম্বা বর্তমানে বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের সাথে জড়িত রয়েছে তারা প্রত্যেকেই ওই কাজটুকু করতে ব্যর্থ হয়েছেন। 
আগামী ১০ বছরের মধ্যে বাংলাদেশ ফুটবলে কোন পর্যায়ে যেতে চায়। দীর্ঘ এবং স্বল্প মেয়াদী দুই ধরনের পরিকল্পনা নিয়ে এগুতে পারলে আমাদের ফুটবল ঘুরে দাঁড়াবে।  আর সেই জন্য এখন থেকেই পরিকল্পনা গ্রহণ করা উচিত।  তবে তা শুধু কথা কিম্বা কাগজে কলমে নয় হতে হবে বাস্তবে। আর তা করতে পারলে  হয়তো একদিন বিশ্ব ফুটবল অঙ্গনে আমাদের লাল সবুজ পতাকা উড়বে। বাজবে আমাদের প্রিয় জাতীয় সঙ্গীত। হয়তোবা আমরা দেখতে পারবোনা, আমাদের আগামী প্রজন্ম ওই সাফল্যর অংশীদার হতে পারবে।  সেই অপেক্ষায় থাকলাম।   


পাঠকের মন্তব্য (০)

লগইন করুন




আরো সংবাদ

বদলে যাবে মংলা বন্দর

বদলে যাবে মংলা বন্দর

০৩ জুলাই, ২০১৮ ০২:০১













ব্রেকিং নিউজ











ফাইনালে বাংলাদেশের মেয়েরা

ফাইনালে বাংলাদেশের মেয়েরা

১৭ অগাস্ট, ২০১৮ ০১:০২