খুলনা | সোমবার | ২২ অক্টোবর ২০১৮ | ৭ কার্তিক ১৪২৫ |

Shomoyer Khobor

চলমান ফুটবল আর প্রাচীন ফুটবল

জি.এম. আব্দুল্লাহ | প্রকাশিত ১৪ জুন, ২০১৮ ০১:২৬:০০

চলমান ফুটবল আর প্রাচীন ফুটবল

গোলাকার অথচ লাথি মারতে আরামদায়ক একটি বস্তু যার নাম ফুটবল। ফুটবল দেখতে বড় না হলে কি হবে এর কাজটা কিন্তু ছোট নয়। এই বলের রয়েছে এক অলৌকিক শক্তির মত কি এক মোহনীয় শক্তি। ছোট গোলাকার এই বস্তুটি এক মুহুর্তে বিশ্বের প্রায় ছয়শত কোটি মানুষকে আনন্দের জোয়ারে ভাসিয়ে নিয়ে যেতে পারে। পারে হানাহানি, হিংসা, বিদ্বেষ, জাতি, ধর্ম, বর্ণ, ছোট-বড় ভেদাভেদ ভুলিয়ে বিশ্ব ভ্রাতৃত্বে আবদ্ধ করতে। ফুটবলের এই স্বমোহনীয় শক্তি পারে বিশ্ব যুব সমাজের অবক্ষয় রোধ করে সোনালী সকালের সূচনা করতে। ভুলিয়ে দিতে পারে সমস্যাময় ও কর্মময় জীবনের জটিল যন্ত্রনা। হৃদয়কে ভরিয়ে দিতে পারে বিশাল প্রশান্তির শীতল পরশে। আধুনিক ফুটবল আর প্রাচীন কালের ফুটবলের মধ্যে রয়েছে ব্যাপক পার্থক্য। আধুনিক ফুটবলের লালন ক্রীড়া হয়েছে ইংল্যান্ডে। তবে এর অতীত ইতিহাস বলে প্রাচীন চিনে এই বিশ্বকাপানো ফুটবলের প্রথম সূচনা হয়েছিল। চীনা ভাষার তখন এই খেলাটির নাম ছিল ‘টুসুছু’। ‘টু’ মানে লাথি মারা আর ‘ছু’ মানে চামড়ার তৈরী বল। তখন এ খেলাটি ছিল মূলত রাজা-বাদশাদের মনরঞ্জনের খেলা। বর্তমানের মত তখনও গোল মাধ্যমে জয়-পরাজয় নির্ধারন করা হতো। অর্থাৎ গোলের মাধ্যমে জয়-পরাজয়ের রেওয়াজ প্রচলিত ছিল। তখনকার মাঠের গোলপোষ্টগুলো ছিল অনেক বড়। কখনও কখনো এক বা দু’জন নিয়ে একটি দল আবার ৩০-৪০ জন নিয়ে একটি দল গঠন করা হতো। চীনা সংস্কৃতির বহু কিছু নিয়েছে জাপানিরা। তাদের খেলাধুলায় চীনা খেলাধুলায় প্রভাব লক্ষ্য করা যায়। জাপান তখন ফুটবলের মতো একটি খেলা প্রচলন করে (চীনাদের আদলে)। জাপানী ভাষায় তার নাম দেওয়া হয় কেরামি (ফুটবল)। এই খেলাটি জাপানীদের মধ্যে বেশ জনপ্রিয়তা লাভ করে। জাপানীরা এই খেলাটি শুধু নির্দ্দিষ্ট ব্যক্তিদের মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে বিভিন্ন উৎসব অনুষ্ঠান উপলক্ষে এ খেলাটির আয়োজন করতো। গোলপোষ্ট হিসেবে ব্যবহার করা হতো বড় বড় গাছ। খেলোয়াড় সংখ্যা থাকতো প্রতিদলে ৮ জন। তারাই একজন আরেকজনকে পাস দেওয়ায় যে কৌশল সেটা শুরু করে। পরবর্তীতে ইউরোপে এ খেলায় প্রচলন শুরু হতে থাকে। গ্রীক নাট্যকার ‘এন্টিকেইন্স’ তার লেখনীয় মাধ্যমে ফুটবলের ধারা বর্ণনার কথা উল্লেখ করেন। তিনি লেখেন জোরে মার, ওকে কাটাও, নীচে নামো, উপরের দিকে উঠে যাও, ছোট করে পাস দাও। রোমান যোদ্ধারাও এই রকম এক খেলাকে নিজেদের মধ্যে জনপ্রিয় করে তোলে। তাদের ভাষায় এর নাম দেওয়া হয় ‘হারপাসটামও’ তারা এই খেলাটি ইউরোপে নিয়ে জনপ্রিয় করে তোলে। ইংল্যান্ডে ফুটবল চালু হয় ১০৬৬ খ্রিস্টাব্দে। কখনও কখনও এই খেলাটি বিপদজনক হওয়ার কারণে নিষিদ্ধ হয়েছে। তবে ইতালিতে তখন এ খেলাটির চিত্র ছিল ভিন্ন। সেখানে গিয়ে ইংল্যান্ডের একজন শিক্ষক ‘রিচার্ডসুর ক্যাষ্টার, স্বাস্থ্যগঠন শক্তি ও চরিত্রানুশীলন এবং সুস্থ’ বিনোদনের উপায় হিসেবে তিনি তার ও ইংল্যান্ডের অন্যান্য স্কুলে ইতালিয় আদলে ফুটবল নতুন করে ঢেলে সাজান। মারদাঙ্গা ফুটবল হয়ে উঠলো উৎজ্জীবিত। এরপর শুরু হলো এ খেলায় আইন-কানুন লেখার কাজ। ১৮৪৮ সালে প্রথম ফুটবলের আইন প্রণয়ন করা হয় যা ‘কেম্ব্রিজ রুলস্’ নামে খ্যাতি লাভ করে। এরপর চলে ক্লাব গঠনের প্রক্রিয়া। ১৮৫৫ সালে গড়ে উঠে প্রথম ক্লাব ‘শেফিল্ড ইউনাইটেড ক্লাব’। ১৮৬৩ তে গড়ে উঠে ইংল্যান্ডে ফুটবল এ্যাসোসিয়েশন। ১৮৬৬ সাল থেকে প্রতিদলে ১১ জন করে ও ১২০ গজ-৮০ গজের মাঠ থাকার বিধান চালু হয়। পর্যায়ক্রমে এ খেলাটি ছড়িয়ে পড়েছে পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে। ১৯০২ সালে অস্ট্রিয়া ও হাঙ্গেরীর মধ্যে প্রথম আন্তর্জাতিক ফুটবল ম্যাচ অনুষ্ঠিত হয়। ১৯০৪ সালের ২১ মে ফিফা গঠিত হয়। সূচনাতে এর সদস্য ছিল, বেলজিয়াম, ডেনমার্ক, ফ্রান্স, হল্যান্ড, স্পেন, সুইডেন ও সুইজারল্যান্ড। ১৯২৪ সালের অলিম্পিকে ফুটবল অন্তর্ভুক্ত এবং এর সফলতার কারণে ফিফা ১৯৩০ সালে প্রথম বিশ্বকাপের আয়োজন। এতে অংশ নেয় ১৩টি দেশ। এর মধ্যে চ্যাম্পিয়ন হয় উরুগুয়ে এবং রানার আপ হয় আর্জেন্টিনা। বর্তমান বিশ্বে আকাশ ছোঁয়া জনপ্রিয় খেলার নাম ফুটবল। প্রতি চার বছর পরপর বিশ্বকাপের আসর বসে। এবার ২১তম বিশ্বকাপের মহোউৎসব শুরু হবে আগামী ১৪ই জুন রাশিয়াতে। ৩২টি দলের এ মহাযুদ্ধ চলবে ১ মাস ধরে। বিশ্বে ফুটবল প্রেমীরা মাস জুড়ে ভাসবে ফুটবলের উনমাদনায়। প্রস্তুত রাশিয়া, প্রস্তুত বিশ্বের ৬ শত কোটি মানুষ। আর একটি ফুটবল মহাযুদ্ধ দেখার অপেক্ষায়।

লেখক: সহকারী শিক্ষক (ক্রীড়া)
বাংলাদেশ নৌ-বাহিনী স্কুল এন্ড কলেজ, খুলনা
 


পাঠকের মন্তব্য (০)

লগইন করুন




আরো সংবাদ

বদলে যাবে মংলা বন্দর

বদলে যাবে মংলা বন্দর

০৩ জুলাই, ২০১৮ ০২:০১













ব্রেকিং নিউজ


সাড়ে ৫শ’ পিস ইয়াবাসহ গ্রেফতার ৩

সাড়ে ৫শ’ পিস ইয়াবাসহ গ্রেফতার ৩

২২ অক্টোবর, ২০১৮ ০১:২০