খুলনা | শুক্রবার | ২২ জুন ২০১৮ | ৯ আষাঢ় ১৪২৫ |

Shomoyer Khobor

দু’দফা বিল নিতে এসে খালি হাতে ফিরলো শ্রমিকরা

জুট স্পিনার্সের শ্রমিকদের বকেয়া পরিশোধ নিয়ে মালিকের বিরুদ্ধে প্রতারণার অভিযোগ

ফুলবাড়ীগেট প্রতিনিধি   | প্রকাশিত ১৪ জুন, ২০১৮ ০১:১৮:০০

ঈদের বাকি মাত্র একদিন। অথচ শ্রমিকদের দাবি এবং শ্রম অধিদপ্তরের নির্দেশ থাকা শর্তেও পরিশোধ করা হয়নি শিরোমনি শিল্পাঞ্চালের অঘোষিত বন্ধকৃত ব্যক্তিমালিকানা জুট স্পিনার্স মিলের শ্রমিকদের বকেয়া পাওনা। দুই দফায় বকেয়া পাওনা বিল পরিশোধের নোটিশ দিয়েও শ্রমিকদের বকেয়া পরিশোধ করা হয়নি। নোটিশ পেয়ে শ্রমিকরা মিলগেটে গিয়ে মিলের প্রধান ফটক বন্ধ থাকায় খালিহাতে ফিরতে হয়েছে। অসহায় শ্রমিকদের নিয়ে মালিকের এ ধরনের প্রতারণা এবং মিলের সিবিএ ও দাবি আদায় কমিটির রহস্যময় ভূমিকায় শ্রমিকদের মাঝে চরম অসন্তোষ বিরাজ করছে। 
জানা গেছে, গত মঙ্গলবার বন্ধকৃত জুট স্পিনার্স মিলের শ্রমিকদের বকেয়া পাওনা থেকে শ্রমিকদের দ্ইু সপ্তাহের এবং কর্মচারী ও কর্মকর্তাদের ১ মাসের পরিশোধের কথা ছিলো। মালিক পক্ষের দেওয়া নোটিশ পেয়ে কিছুটা স্বস্থি ফেরে শ্রমিক ও তাদের পরিবারের মাঝে। আর সে কারণেই বৈরী আবহওয়াকে উপেক্ষা করে ঈদ উৎযাপনের স্বপ্ন নিয়ে জড়ো হতে থাকে মিলগেটে। কিন্তু মিলগেটে এসে মিলের প্রধান ফটক বন্ধ এবং বকেয়া পরিশোধের কোন আয়োজন না দেখে শ্রকিদের মাঝে ক্ষোভ সৃষ্টি হয়। অনেকে কেঁদে ফেলেন। সারাদিন অপেক্ষা শেষে বিল না পেয়ে খালি হাতে ফিরতে হয় তাদেরকে। 
মিলগেটে গিয়ে দেখা যায়, মিলের প্রধান ফটকে মিল কর্তৃপক্ষের দেওয়া একাধিক নোটিশ ও সর্বশেষ দেওয়া কোম্পানীর ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও সিইও মোহাম্মদ শামস-উজ জোহা স্বাক্ষরিত নোটিশে জানানো হয়েছে, খুলনা শ্রম পরিচালকের সভার সিদ্ধান্ত অবগত হয়ে আসন্ন ঈদুল ফিতরের পুর্বে শ্রমিকদের বকেয়া দু’টি সপ্তাহিক মজুরি ও কর্মচারীদের এক মাসের বেতন ১২ জুন বা তার পুর্বে প্রদান করা হবে।অথচ মালিকের নোটিশ অনুযায়ী শ্রমিকদের বকেয়া পরিশোধের কোন আয়োজন ছিলো না। এর আগে ১১ মে মিল মালিকের বাড়ি ঘেরাও কর্মসুচি থাকলেও ওইদিন মিলের দাবি আদায় কমিটির নেতৃবৃন্দ ঢাকাস্থ মিলের প্রধান কার্যালয়ে রাতভর মালিকের সাথে বৈঠক করেন। বৈঠকের পর গত ১৬ মে বুধবার শ্রমিকদের দুই সপ্তাহের মজুরি ও ষ্টাফ-অফিসারদের ১ মাসের বেতন প্রদান, ২৬ জুন শনিবার মিলের বিদ্যুৎ সংযোগ, যন্ত্রপাতি মেরামত ও রক্ষনাবেক্ষনের কাজ শুরু করা হবে এবং পবিত্র রমজান মাসের ২৪ তারিখের মধ্যে ২০১৬ সালের পবিত্র ঈদ উল আযহার বোনাস ও শ্রমিকদের এক সপ্তাহের মজুরি এবং ষ্টাফ ও কর্মচারীদের এক মাসের বেতন প্রদান করা হবে বলে নোটিশে জানানো হয়েছিলো। ওই বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন আহবায়ক আবুল কালাম আজাদ, সদস্য সচিব মনিরুল ইসলাম, সদস্য নুরুল ইসলাম, আসাদুজ্জামান, শেখ ইকবাল হোসেন, মোঃ আরিফুল ইসলাম এবং সিপিবি নেতা মোল্যা আঃ সাত্তার। অথচ খুলনা জেলা প্রশাসক এবং শ্রম অধিদ্প্তর আদেশ অমান্য করে মালিক কর্তৃপক্ষের দুই দফা বকেয়া পাওনা পরিশোধের নোটিশ দিয়েও শ্রমিকদের বকেয়া পাওনা পরিশোধ না করায় এবং মিলের সিবিএ এবং দাবি আদায় কমিটির নিরব ও রহস্যময় ভূমিকায় শ্রমিকদের মাঝে ক্ষোভ বিরাজ করছে। 
মিলে বিশ বছর যাবত কাজ করা শ্রমিক নাসির উদ্দিন বলেন, সংসার চালাতে মিলে জীবন যৌবন সব দিয়ে কাজ করে শেখ পর্যন্ত টাকার জন্য ভ্যান চালিয়ে আন্দোলন সংগ্রাম চালাতে সামান্য অর্থ দিয়েছি দাবি আদায় কমিটির কাছে। কিন্তু ঈদ সমাগত সেই নেতাদের নিরব ভুমিকায় কাদের পিছনে দৌড়ালাম ভাবতে কষ্ট লাগে। এদিকে মিলগেটে কোন শ্রমিক নেতাদেরকে পাওয়া যায়নি। শ্রমিকরা জানান, ঈদের পুর্বে তাদের বকেয়া পরিশোধ করা না হলে ঈদের নামাজ খুলনা যশোর মহাসড়কে আদায় করা হবে এবং ঈদের পরে শ্রমিকরা নেতৃবৃন্দ ছাড়াই রাজপথে আন্দোলনে নামবেন।
উল্লেখ্য, শিরোমণির লাভজনক এই প্রতিষ্ঠানটি গত ২০১৬ সালের  ১ জুন মালিনা জটিলতায় উৎপাদন কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যায়। মিলটি বন্ধের পর গত ৪ এপ্রিল ২০১৭ সালে প্রায় ৮ লাখ টাকা বকেয়ার দায়ে মিলটির বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হয়। যা আজ পর্যন্ত সংযোগ দেওয়া হয়নি। মিলটির বর্তমানে শ্রমিকদের ৮৬ সপ্তাহের মজুরি, কর্মচারীদের ২৬ মাসের বেতন, কর্মকর্তাদের ২৭ মাসের বেতন, শ্রমিক কর্মকর্তাদের ৩টি বোনাস, পদত্যাগকৃত শ্রমিকদের বীমার টাকা, মজুরি কমিশনের এরিয়ার টাকা, ইনক্রিমেন্ট এরিয়ার, গ্রাইচ্যুটিসহ বিভিন্ন বকেয়া বাবদ প্রায়  ১৩ কোটি টাকা বকেয়া রয়েছে। 


পাঠকের মন্তব্য (০)

লগইন করুন




আরো সংবাদ














ব্রেকিং নিউজ












বিশ্বকাপে আজকের খেলা

বিশ্বকাপে আজকের খেলা

২২ জুন, ২০১৮ ০০:৪৫