খুলনা | শুক্রবার | ২২ জুন ২০১৮ | ৮ আষাঢ় ১৪২৫ |

Shomoyer Khobor

এলো খুশির ঈদ

মোঃ সোহানুর রহমান | প্রকাশিত ১৪ জুন, ২০১৮ ০০:৩০:০০

    ‘ঈদ’ অর্থ আনন্দ বা উৎসব। ঈদ মুসলিম নারী-পুরুষ, ধনী-গরিব সকলের জন্য সুখবার্তা ও অনাবিল আনন্দ বয়ে নিয়ে আসে। এই ঈদ উৎসব পালনের মাধ্যমেই সৌভ্রাতৃত্ব ও ত্যাগের অনুপম তাৎপর্য উপলব্ধি করা যায়। এই উৎসবটি মুসলমানদের খুব প্রত্যাশিত ও কাঙ্খিত। বস্তুত ঈদের আনন্দ হৃদয়ে যে অনুভূতির সঞ্চার করে তার কোন তুলনা নেই। 
    ঈদের এই পরমানন্দকে কবি এভাবে উপভোগ করেছেন- “পথে পথে আজ হাকিব, বন্ধু ঈদ মোবারক! আস্সালাম।” ঈদ-উল-ফিতর শাওয়াল মাসের প্রথম তারিখে পালন করা হয়। ঈদ-উল-ফিতরের সময় ফিতরা দান করা হয় বলে এর নাম ঈদ-উল-ফিতর। এই ঈদের আরেকটি জনপ্রিয় নাম আছে সেটা হল রোজার ঈদ। ঈদ-উল-ফিতর উৎসব হিসাবে যেমন অপরিসীম আনন্দের, তেমন তাৎপর্যের  দিক দিয়েও বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ। দীর্ঘ ত্রিশ দিন কঠোর সংযম ও র্ধৈযের সাথে রমজানে অবশ্য পালনীয় রোজা অতিক্রম করে ঈদের মাধ্যমে তা সমাপ্ত করা হয়। রমজান সিয়াম সাধনার মাস, নুজুলে কুরআনের মাস, লাইলাতুল ক্বদরের মাস, তারাবিহ্-তসবিহ্, ইবাদত-বন্দেগীর  মাস। এই কারণে এই মাসটি খুবই মহিমান্বিত ও তাৎপর্যপূর্ণ। এটি মুসলমানদের জন্য ত্যাগ ও তিতিক্ষার মহা পরীক্ষা স্বরুপ। এই এক মাসে প্রচুর সাধনা, ত্যাগ-তিতিক্ষার মাধ্যমে মানুষ আল্লাহর রহমতের নুরে পবিত্র হয়। নিজেকে সৎকাজে নিয়োজিত করতে শেখে। পরিশেষে সকল কষ্টের অবসান ঘটে পশ্চিম আকাশে শাওয়াল মাসের চাঁদ দেখার মাধ্যমে। তখন হৃদয়ের সকল গ্লানি মুছে যায় মহিমান্বিত আনন্দের জোয়ারে। তাই কবি কাজী নজরুল ইসলাম এই অনুভূতির এক অনুপম সুন্দর বর্ণনা তুলে ধরেছে এভাবে ঃ- ও মন রমজানের এই রোজার শেষে / এল খুশির ঈদ তুই আপনাকে আজ বিলিয়ে দে / শোন আসমানি তাগিদ/ আজ ভুলে যা তোর দোস্ত দুশমন/হাত মিলাও হাতে/তোর প্রেম দিয়ে কর বিশ্ব নিখিল/ইসলামে মুরীদ।” এ ঈদের আনন্দের দিনে মুসলমানদের ঘরে ঘরে আনন্দের স্রোত বয়ে যায়। এ দিন ধনী-গরিব, মনিব-ভৃত্য, পাড়া-প্রতিবেশী সকলে হিংসা-বিদ্বেষ ভুলে ভ্রাতৃত্বের নিবিড় বন্ধনে আবদ্ধ হয়। বিশ্ব ভ্রাতৃত্ব এবং সাম্য মৈত্রীর এক উজ্জ¦ল আদর্শ এই উৎসবে ফুটে উঠে। এ শুভ দিনে গরিব, আত্মীয়, প্রতিবেশি ও ফকির মিসকিনদের মধ্যে দান-খয়রাত ও ফিতরা বিতরণ করা হয়। সকাল বেলা পাক-পবিত্র হয়ে নতুন পোশাক পরে সবাই জামাতে নামাজ পড়ার জন্য ঈদগাহ্ েযায়। ছোট-বড়, ধনী-দরিদ্র, আত্মীয়-অনাত্মীয় ভেদাভেদ ভুলে তারা এক কাঁতারে দাঁড়িয়ে নামাজ পড়ে। তারপর মুনাজাত শেষে সবাই পরস্পর ভাব-বিনিময় ও কোলাকুলি করে। এদিন বাড়িতে বাড়িতে হরেক রকমের সুস্বাদু খাবার রান্না হয়। মুসলমানরা পরস্পর পরস্পরের বাড়িতে ঘুরে বেড়িয়ে আনন্দ উপভোগ করে। ঈদ-উল-ফিতর প্রত্যেক মুসলমানের শান্তির সওগাত বয়ে আনে। প্রত্যেকের মনে অপার মহিমা ছড়ায়। 
    ঈদ শুধু আনন্দের জন্য আসে না, তা মানুষে মানুষে ভেদাভেদ দূর করে, কর্তব্যবোধ, সহমমির্তা ও ভ্রাতৃত্ববোধ জাগ্রত করে। সকলের প্রতি সম্প্রীতি ভাবটাও এখানে তাৎপর্যপূর্ণ। মুসলমাদের জীবনে ঈদের বিশেষ প্রভাব বিদ্যমান। কঠোর সংযম ও ত্যাগের আদর্শের সঙ্গে ঈদ বিজড়িত। ঈদ কেবল একার আনন্দের মধ্যে সীমাবন্ধ নয়। এই আনন্দ যদি একে অন্যের সঙ্গে ভাগ আদায় করা হয় তবেই তা যথার্থ আনন্দ বলে বিবেচিত। যাকাত-ফিতরা বিতরণের মাধ্যমে গরিবদের প্রতি সহানুভূতি প্রকাশিত হয়। 
ঈদ উৎসব মুসলমানদের পরস্পর মিলনের এক মহান ক্ষেত্র। ঈদ মানুষের জীবনে নিয়ে আসে পরম আনন্দ। বেগম রোকেয়া বলেছেন, “রোজা আমাদের সংযম শিক্ষা দেয়, আর ঈদ হৃদয়কে আনন্দে পরিপূর্ণ করে।” তাই ঈদ উৎসব থেকে হিংসা-বিদ্বেষ, কলহ-বিবাদ-ভুলে ভ্রাতৃত্বের আদর্শে উদ্ধুদ্ধ হওয়ার শিক্ষা সকলের গ্রহণ করা উচিত। পরিত্র ঈদ-উল ফিতরকে সামনে রেখে মহান আল্লাহ পাকের দরবারে প্রার্থনা করি বিশ্বের সকল মানুষের সুখ, শান্তি ও সমৃদ্ধি। অবসান ঘটুক  আমাদের দেশ ও সমাজের সকল অসঙ্গতির। হাসি-খুশি ও আনন্দে ভরে উঠুক আমাদের সবার জীবন। আমাদের জীবনে পূর্ণতায় উজ্জ্বল হোক ঈদের আনন্দ। একটি সুখী ও সমৃদ্ধশালী দেশ হিসাবে গড়ে উঠুক আমাদের প্রিয় জন্মভূমি, আমাদের বাংলাদেশ। 

লেখক ছাত্র বি.এ (অনার্স) ইংরেজি শেষ বর্ষ, খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়, খুলনা। 
 


পাঠকের মন্তব্য (০)

লগইন করুন




আরো সংবাদ




বিশ্বকাপ জিতবে কোন দেশ?  

বিশ্বকাপ জিতবে কোন দেশ?  

১৪ জুন, ২০১৮ ০১:৩৮

ইতিহাসে ফুটবল বিশ্বকাপ

ইতিহাসে ফুটবল বিশ্বকাপ

১৪ জুন, ২০১৮ ০১:৩৯

বিশ্বকাপের বল টেলস্টার -১৮

বিশ্বকাপের বল টেলস্টার -১৮

১৪ জুন, ২০১৮ ০১:৩৮








ব্রেকিং নিউজ












বিশ্বকাপে আজকের খেলা

বিশ্বকাপে আজকের খেলা

২২ জুন, ২০১৮ ০০:৪৫