খুলনা | শুক্রবার | ২২ জুন ২০১৮ | ৮ আষাঢ় ১৪২৫ |

Shomoyer Khobor

ধর্ম-নিরপেক্ষতা ও ইসলামের অবস্থান 

মুফতি মাহফুজুর রহমান | প্রকাশিত ১৪ জুন, ২০১৮ ০০:২৭:০০

ধর্ম-নিরপেক্ষতা বর্তমান পৃথিবীতে অধিক প্রচলিত রাষ্ট্র পরিচালনার এক নীতির নাম। এটা এখন মুসলিম, অমুসলিম বহু রাষ্ট্রের রাষ্ট্র পরিচালনার মূলনীতিগুলোর একটি। একজন মুসলিমের জীবনের সব ক্ষেত্রে প্রথম ও প্রধান কর্তব্য হল এক্ষেত্রে তার ধর্মের নির্দেশ জেনে নেয়া এবং ধর্মের সাথে সাংঘর্ষিক বিষয়গুলো থেকে বেঁচে থাকা। কিন্তু আজ মুসলিম জাতি যেটাকে আদর্শ রাষ্ট্র পরিচালনার মূলনীতি মনে করছে সেটাই এ যুগের সব থেকে বড় ফেৎনা এবং মুসলমানদের অধঃপতনের অন্যতম কারণ। এটি এমনই একটি মতবাদ যা কোন মুসলমান বিশ্বাস করলে তার ঈমান চলে যায়। এর পুরোটাই ইসলামের সাথে সাংঘর্ষিক তাই এ বিষয়ে আমাদের প্রকৃত জ্ঞান থাকা অতিব জরুরী। আমাদের নবী (সাঃ) এ প্রসঙ্গে পরিস্কারভাবে ব্যাখ্যা করে গেছেন ও অন্য ধর্মকে কটাক্ষ না করা বা অবমাননা হয় এমন কিছু থেকে বিরত থাকার জন্য বলেছেন। কিন্তু মুসলমান দাবি করি আমাদের মধ্যে একটি গ্র“প এ নিয়ে বিবাদ বা বিতর্ক সৃষ্টিতে এখন লিপ্ত হয়ে গেছে।
সেকুলারিজম নামকরণের প্রথম উদ্যোক্তা ঐড়ষুড়ধশব যিনি প্রথম ঝবপঁষধৎ ঝড়পরবঃু গঠন করে এর পক্ষে প্রথম আন্দোলন শুরু করেন। তার লিখিত ঊহমষরংয ঝবপঁষধৎরংস অ ঈড়হভবংংরড়হ ড়ভ ইবষরবভ বইতে সেকুলারিজম এর সংজ্ঞা দিতে গিয়ে বলেন “সেকুলারিজম এমন একটি কর্তব্য পালন-পদ্ধতি, যা শুধু ইহজীবনের সাথে সম্পৃক্ত এবং কেবলমাত্র মানবীয় বিবেচনার উপর প্রতিষ্ঠিত এবং এটা তাদের জন্য যারা ধর্মকে অস্পষ্ট, অসম্পূর্ণ, অনির্ভরযোগ্য ও অবিশ্বাসযোগ্য মনে করে”। ইংল্যান্ডের ঘধঃরড়হধষ ঝবপঁষধৎ ঝড়পরবঃু এর সভাপতি ঈযধৎষবং ইৎধফষধঁময রচিত অঁঃড়নরড়মৎধঢ়যু তে ব্যাখ্যা করেন, সেকুলারিজম ও আস্তিকতা পাশাপাশি চলতে পারেনা। তাই আস্তিকবাদী বিশ্বাসের সাথে লড়াই করা “সেকুলারিজম” এর জন্য অপরিহার্য। অদৃশ্য বিশ্বাস ও মানব প্রগতি পাশাপাশি চলতে পারে না, তাই মূলত ধর্মীয় বিশ্বাস প্রতিহত করাটাই সেকুলারিজদের কর্তব্য। কেননা, এসব কু-সংস্কারমূলক ধারণা বিশ্বাস যতদিন পর্যন্ত পূর্ণ শক্তিতে বিরাজমান থাকবে ততদিন পর্যন্ত বস্তুগত উন্নতি লাভ করা সম্ভব নয় বরং তা কল্পনাতীত। ধর্ম অজানা জগত নিয়ে কথা বলে। ফলে ইহজগত নিয়ে ধর্মের কোন স্থান নেই। যেমন পরকালের ব্যাপারে “সেকুলারিজম” এর কোন বক্তব্য নেই। ঙীভড়ৎফ উরপঃরড়হধৎু অনুসারে, সেকুলারিজম এমন একটি মতবাদ, যে মতবাদ মানবজাতীর ইহজগতের কল্যাণ চিন্তার উপরে গড়ে উঠবে, এমন এক নৈতিক ব্যবস্থা যেখানে থাকবে না সৃষ্টিকর্তা ও পরকাল ভিত্তিক কোন ধরণের বিবেচনা। এনসাইক্লোপিডিয়াতে এসেছে, সেকুলারিজম হচ্ছে এমন রাজনৈতিক ও সামাজিক দর্শন যা সকল ধর্মবিশ্বাস কে প্রত্যাখান করে। এটি এমন একটি ব্যবস্থা যেখানে সাধারণ শিক্ষা ও সামাজিক সংস্থা পরিচালনায় কোন ধরণের ধর্মীয় উপাদান অর্ন্তভূক্ত হবে না। জধহফড়স ঐড়ঁংব উরপঃরড়হধৎু ড়ভ ঊহমষরংয খধহমঁধমব-এর সংজ্ঞায় সেকুলারিজম এমন একটি মতবাদ যা ধর্মীয় বা আধ্যাত্মিক ভাবে পবিত্র বলে বিবেচিত নয়, যা কোন ভাবেই কোন ধর্মের সাথে সম্পর্কিত নয়। এটি ধর্মের আইন-কানুন বহির্ভূত একটি ব্যবস্থা। ঞযব অফাধহপবফ খবধৎহবৎ'ং উরপঃরড়হধৎু ড়ভ ঈঁৎৎবহঃ ঊহমষরংয বলছে, সেকুলারিজম এমন একটি ব্যবস্থা যার অধীনে নৈতিকতা বা শিক্ষাব্যবস্থা ধর্মের উপর ভিত্তি করে হবে না। এটি ইহজাগতিক, পার্থিব, ধর্মীয় কিংবা আধ্যাত্মিক নয়। বাংলা একাডেমি কর্তৃক সংকলিত-ঊহমষরংয ইধহমষধ উরপঃরড়হধৎু তে বলা হয়েছে, সেকুলারিজম বলতে বোঝায় নৈতিকতা ও শিক্ষা, ধর্মকেন্দ্রীক হওয়া উচিত নয়, এই মতবাদ। পক্ষান্তরে অক্সফোর্ড ইংরেজি-উর্দু ডিকশনারীতে সেকুলারিজমকে ধর্মহীনতা হিসেবে অনুবাদ করা হয়েছে। উইকিপিডিয়াতে সেকুলারিজমের ব্যাখ্যা করা হয়েছে অহঃর ওংষধস দিয়ে।
সুতরাং, সেকুলারিজম আর নাস্তিকতা যে একই মুদ্রার এপিট আর ওপিট, উপরের আলোচনার পর এ ব্যপারে কোন ধরণের সন্দেহের আর বিন্দুমাত্র অবকাশ থাকে না।
মুসলিম বিশ্বে ইসলাম বিদ্বেষী কিছু কর্মের ফিরিস্তি
মুসলিম বিশ্বে আদর্শ সেকুলার রাষ্ট্র ছিল কামাল আতাতুর্কের প্রতিষ্ঠিত সেকুলার তুরস্ক। সেখানে ১৯ শতকের শুরুতে ধর্ম নিরপেক্ষতাকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেয়া হয়েছিল। কামাল আতাতুর্কের ক্ষমতার মেয়াদ ছিল ১৯২৩-১৯৩৮ সাল পর্যন্ত। সে ধর্মনিরপেক্ষতার নীতিকে বাস্তবায়ন করতে গিয়ে যা করেছিল তা ভাবলেও গা শিউরে উঠে। যে তুরস্ক ছিল মুসলমানদের খেলাফাতের সর্বশেষ কেন্দ্রবিন্দু, সেখানে আযানের ভাষা পরিবর্তন করে দেয়া হয়েছিল, মাইকে আযান দেওয়া নিষিদ্ধ ছিল। তুর্কি ভাষায় আযান দেয়া বাধ্যতামূলক করা হয়েছিল। দারুল খেলাফাত হওয়ার কারণে সেখানে অসংখ্য মাদরাসা ছিল, সেগুলো সব বন্ধ করে দেয়া হয়েছিল। মানুষ গর্তের ভিতরে থেকে থেকে কুরআন শিক্ষা চালু রেখেছিল। তুর্কীদের বর্ণমালা ঠিক আরবীর মতই ছিল। কিন্তু আতাতুর্ক তা নিষিদ্ধ করে রোমান অক্ষর চালু করেছিল অর্থাৎ ইংরেজি অক্ষরে তুর্কি ভাষা লেখা হয় সর্বক্ষেত্রে। ইসলামী আইন রহিত করে সুইস আইন, জার্মান ট্রেড ও কমার্শিয়াল আইন এবং ইতালীয় ফৌজদারী আইন, প্রবর্তন করা হয়। মেয়েদের বোরকা ও হিজাব ব্যবহার নিষিদ্ধ করা হয়। ইউরোপিও হ্যাট ব্যবহার করতে বাধ্য করা হয়। টুপি পরা দাড়ি রাখার অপরাধে শতশত মুসলিমকে হত্যা করা হয়েছে। সকল ইসলামী দল ও সংঘ সমিতিকে নিষিদ্ধ করা হয়েছে। সেকুলারিজমের ইতিহাস ধর্মপ্রাণ মানুষের রক্তের স্র্রোত ও চোখের অশ্র“তে ভরপুর যা ইতিহাসের পাঠক মাত্রেরই জানা আছে।
মিশরেও আমরা ধর্মনিরপেক্ষতার বিষবাষ্প দেখতে পাই। মিশরের মোহাম্মাদ আলী পাশা ১৯২৩ সালে সেকুলার আদর্শ নিজ দেশে বাস্তবায়ন করার উদ্যোগ নেন এবং বিরোধীদের নির্মমভাবে নিমর্ূূল করেন, মোহাম্মাদ আলী পাশার পর জামাল আব্দুল নাসের সেকুলার মতবাদের পক্ষে কঠোর নীতি গ্রহণ করেন। সে আলেম উলামা ও হাজার হাজার ইখওয়ান কর্মীর উপর অমানবিক জুলুম নির্যাতন চালায়। মিসরের সর্বপ্রথম নির্বাচিত প্রেসিডেন্ট হলেন মুরসী। ড. মুহাম্মাদ মুরসী পশ্চিমাদের আস্থাভাজন নোবেল পুরস্কারপ্রাপ্ত বড় ব্যক্তিদের মোকাবেলা করে বিজয়ী হয়েছেন। ক্ষমতায় আসার পর একটি দিনও তাকে সেকুলার তথাকথিত সুশিলরা শান্তিতে রাষ্ট্র চালাতে দেয়নি, নানা প্রকার ষড়যন্ত্র চলিয়েছে সমান্তরালে এবং শেষ পর্যন্ত বন্দুকের জোরে অন্ধকার কারাবাসে পাঠানো হয়েছে। এসব হলো সেকুলারিজমের বাস্তব অবস্থা।
কোমলমতি শিশুদের অজান্তেই তাদেরকে সেকুলার বানাতে গিয়ে ধর্মদ্রোহী বানানো হচ্ছে। এই বইগুলোতে শিরকের যথেষ্ট উপাদান বিদ্যমান রয়েছে। উচ্চ আদালত সেকুলারিজম সংবিধানে স্থাপন করার কিছুদিনের মধ্যে রুল জারি করলেন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে মেয়েদের বোরকা পরতে বাধ্য করা যাবে না, বিচারক কারণ দর্শালেন আমাদের রাষ্ট্র ধর্ম নিরপেক্ষ কিন্তু অনেক প্রতিষ্ঠানে বোরকা নিষিদ্ধ থাকলেও রাষ্ট্র ধর্ম নিরপেক্ষ, তাই যে যার ধর্ম পালন করবে, এ ব্যাখ্যা দিয়ে মাননীয় আদালত বোরকা পড়তে বাঁধা দেয়া যাবেনা মর্মে রুল জারি করলেন না। ধর্ম নিরপেক্ষতা অর্থ ধর্মহীনতা বুঝতে কারো অসুবিধা হলে এ ‘দু-চারটা’ কথা মনে রাখলে চলবে।
ইসলামে ধর্মনিরপেক্ষতার অবস্থান
পূবোক্ত বর্ণনার মাধ্যমেই ধর্ম নিরপেক্ষতার বিধানটি স্পষ্ট হয়ে গেছে। সংক্ষিপ্ত ভাবে বলা যায় এটি একটি তাগুতি রাষ্ট্র পরিচালনার নীতি যা অসংখ্য আয়াত ও হাদীসকে অস্বীকার করতে মানুষকে বাধ্য করে। এছাড়া এটি কালেমায়ে তাইয়্যেবা লা-ইলাহা-ইল্লাল্লাহ-এর ও মৌলিক ভাবে সম্পূর্ণ পরিপন্থি। এটি কুরআনের আয়াতের পরিপন্থি বিধান ব্যবস্থা। এটি তাওহীদ ফিল উলুহিইয়া ও ইবাদাতের মধ্যে আল্লাহর সাথে গাইরুল্লাহকে শিরক করার মতবাদ। সেকুলারিজম আল্লাহ তায়ালা কর্তৃক অবতীর্ণ বিধান ব্যবস্থার পরিপন্থি এক বিধান ব্যবস্থা হওয়ার কারণে, এটি যে একটি কুফরী মতবাদ তা কুরআনের বহু আয়াত ও হাদীস দ্বারা প্রমাণিত। আল-কুরআনুল কারীমে এসেছে- বিধান তো একমাত্র আল্লাহরই (সূরা আন’আম, আয়াত-৫৭)। সেকুলারিজম ব্যবস্থায় বিধান প্রণয়নের ক্ষমতা মানুষেরই, এতে আসমানী বিধান অনুসরণের কোন সুযোগ নেই। সেকুলারিজম যেহেতু বিধান প্রণয়নের ক্ষমতা মানুষকে প্রদান করেছে তাই সেকুলারিজমে বিশ্বাস করা আল্লাহর সাথে কুফরী করা। মুমিনদের জন্য বিধানদানে আল্লাহ অপেক্ষা কে শ্রেষ্ঠ? (সূরা: মায়েদা আয়াত নং- ৫০)। যারা নিজেদেরকে মুমিন ধারণা করা সত্ত্বেও নিজ মতবাদ দ্বারা পরিচালিত হতে চায় তাদের সম্পর্কে আল্লাহ তা’য়ালা বলেন, হে মুমিনরা, তোমরা আল্লাহ, রাসূল ও তোমাদের উলূল আমরের অনুসরণ কর। আর যদি তোমরা আল্লাহ ও আখেরাতে বিশ্বাসী হও, তাহলে তোমাদের মধ্যে মতভেদ হলে তা আল্লাহ ও রাসূলের নিকট উপস্থাপন কর। এটাই উত্তম ও পরিণামে প্রকৃষ্টতর। আপনি কি তাদেরকে দেখেননি, যারা দাবি করে যে আপনার প্রতি যা অবতীর্ণ হয়েছে এবং আপনার পূর্বে যা অবতীর্ণ হয়েছে, তা তারা বিশ্বাস করে অথচ তারা তাগুতের কাছে বিচারপ্রার্থী হতে চায়, যদিও তা প্রত্যাখান করার জন্য তাদেরকে নির্দেশ দেয়া হয়েছে। শয়তান তাদেরকে পরিপূর্ণভাবে পথভ্রষ্ট করতে চায়। যখন তাদেরকে বলা হয় আল্লাহ যা অবতীর্ণ করেছেন সেদিকে ও রাসূলের দিকে আসো, তখন আপনি মুনাফেকদেরকে আপনার থেকে একেবারেই মুখ ফিরিয়ে নিতে দেখবেন (সূরা নিসা, আয়াত: ৫৯-৬১)। অন্য আয়াতে আল্লাহ তা’য়ালা বলেন, যারা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের ফয়সালাকে মানবে না তাদের সম্পর্কে কসম করে বলেছেন, তারা  মুমিন না। আল্লাহ তা’য়ালা বলেন, আপনার রবের কসম, তারা মুমিন হবেনা যাবৎনা তারা নিজেদের মধ্যকার মতবিরোধের বিষয়ে আপনি যে ফয়সালা করেছেন, সে বিষয়ে তারা তাদের অন্তরে কোন দ্বিধা বোধ করবে না এবং তাতে পরিপূর্ণ আত্মসমার্পন করবে (সূরা নিসা, আয়াত: ৬৫)। সূরা নূরে আল্লাহ তা’য়ালা বলেন, তারা বলে, আমরা আল্লাহর অনুসরণ করছি, এরপর তাদেরই একদল মুখ ফিরিয়ে নেয়, তারা মুমিন নয়। যখন তাদেরকে আল্লাহ ও তার রাসূলের দিকে তাদের মাঝে বিচার করার জন্য ডাকা হয় তাদের একটি দল মুখ ফিরিয়ে নেয়।
যারা কুরআন সুন্নাহর বিচার ব্যবস্থা থেকে মুখ ফিরিয়ে নেয় ও তা প্রত্যাখান করে তাদের সম্পর্কে আল্লাহ তায়ালা সুস্পষ্ট ঘোষণা দিয়েছেন যে, তারা মুমিন নয়। আর মুমিনদের বৈশিষ্ট ঘোষণা করেছেন, নিশ্চয় যখন মুমিনদেরকে আল্লাহ ও তার রাসূলের দিকে তাদের মাঝে বিচার করার জন্য ডাকা হয়, তারা বলে আমরা শুনলাম ও মানলাম তারাই সফলকাম (সূরা: নূর- আয়াত: ৫১)। 
সেকুলারিজম যে একটি কুফরী মতবাদ তা পূর্বের আয়াতগুলো থেকে সুস্পষ্টভাবে বুঝা যায়। দ্বিতীয়ত সেকুলারিজম মতবাদটি বিশ্বাস করলে তাওহীদ ফিল উলুহিয়্যাহ ও ইবাদতের মধ্যে আল্লাহর সাথে শিরক করা হয়। তার সূস্পষ্ট প্রমাণ হল, হযরত আদি বিন হাতেম রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কাছে প্রবেশ করলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তখন এ আয়াত তিলাওয়াত করতে ছিলেন, তারা তাদের পন্ডিত ও সন্ন্যাসিদেরকে আল্লাহ ব্যতিত রব বানিয়েছে (আল কুরআন)।  আদি তখন বললেন (তিনি পূর্বে খৃষ্টান ছিলেন), হে আল্লাহর রাসূল আমরা তো তাদের ইবাদত করতাম না। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, আল্লাহ যা হারাম করেছেন তারা তা তোমাদের জন্য হালাল করলে তোমরা কি তা  হালাল মনে করতে না? আল্লাহ যা হালাল করেছেন তা তারা হারাম করলে তোমরা কি তা হারাম মনে করতে না? তিনি বললেন, অবশ্যই মনে করতাম, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন এটাই তাদের ইবাদত করা। ইবনে তাইমিয়া (রহঃ) বলেন- এই হাদীসে আল্লাহ ও তার রাসূল অন্যকে বৈধ, অবৈধ প্রণয়নের ক্ষমতা দেয়াকে তার ইবাদত করা সাব্যস্ত করেছেন যদিও তারা তার জন্য নামাজ পড়ে না ও তাকে সিজদাহ করে না। 
পাঠক, একটু গভিরভাবে চিন্তা করুন, যে মতবাদ মানুষের বিশ্বাস, পারিবারিক, সামাজিক, অর্থনৈতিক, রাষ্ট্রীয় ও আন্তর্জাতিক জীবনকে ধর্ম থেকে ছিন্ন করে, সে মতবাদে বিশ্বাসী ব্যক্তির ঈমান থাকে কি করে? এটা যে সম্পূর্ণ কুফর ও শিরকী মতবাদ এতে সন্দেহের অবকাশ আছে কি? কুরাইশদের এই কথা, হে মুহাম্মাদ (সাঃ) এক বছর আমাদের রবের ইবাদত করি, এক বছর তোমার রবের ইবাদাত করি, আর ধর্ম নিরপেক্ষতা বাদীদের এই কথা “মসজিদে আল্লাহর ইবাদত করি, অন্য সব জায়গা অন্যের অনুসরণ করি”। এ দু’ কথার মধ্যে পার্থক্য কি? একজন বলছে একটা সময়ে ইবাদত করার কথা আরেকজন বলছে একটা জায়গায় ইবাদত করার কথা। আল্লাহ আমাদের সবাইকে হেফাজত করুন।

(লেখক: মুফতি ও মুহাদ্দিস, খুলনা দারুল উলূম এবং ইমাম ও খতীব, নিরালা জামে মসজিদ, খুলনা)


পাঠকের মন্তব্য (০)

লগইন করুন




আরো সংবাদ




বিশ্বকাপ জিতবে কোন দেশ?  

বিশ্বকাপ জিতবে কোন দেশ?  

১৪ জুন, ২০১৮ ০১:৩৮

ইতিহাসে ফুটবল বিশ্বকাপ

ইতিহাসে ফুটবল বিশ্বকাপ

১৪ জুন, ২০১৮ ০১:৩৯

বিশ্বকাপের বল টেলস্টার -১৮

বিশ্বকাপের বল টেলস্টার -১৮

১৪ জুন, ২০১৮ ০১:৩৮








ব্রেকিং নিউজ












বিশ্বকাপে আজকের খেলা

বিশ্বকাপে আজকের খেলা

২২ জুন, ২০১৮ ০০:৪৫